সময় নিয়ে গবেষণা আমার একপ্রকার কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। অতীত আর বর্তমান নিয়ে ভাবতে ভাবতে ভবিষ্যৎ কেমন থিমিয়ে পড়েছে। তাই ভবিতব্যের দিকে মন নেই। সিগারেটের প্রতিটানে ভবিতব্যকে ক্যান্সারের দিকে ধাবিত করে দিচ্ছি। মনে হয় এ জীবনে তো আর কিছু চাওয়ার নেই।
এখনও সন্ধ্যা নামেনি। চারুকলার উলটো দিকের এই অজাচিত স্থানটি আমার ঘরে পরিণত হয়ে গেছে যেন। এখানটাকেই বেছে নিলাম কি কারণে? সম্ভবত এখানে নান্দনিক মানুষের অনেক ভীড়। নানন্দিক বলতে বোঝাচ্ছি এই গাঞ্জা খোরেদের। গাঞ্জার টানে টানে যারা জীবনের মানে খুজে বের করছেন।
আমি যেবার প্রথম এই জিনিস ধরে দেখেছিলাম, আমার সেবার বেশ ভালো লেগেছিল। মনটা কেমন যেন অস্থির অথচ শান্ত ছিল। চিন্তাগুলো সব অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ঘুরপাক খাচ্ছিল মাথার ভেতর। ঠিক তখনই চিন্তা করে ফেললাম, একাকী বসে বসে, এই জিনিস চেখে দেখা খুব দরকার।
চেখে দেখার কথা যখন বললামই, তাহলে আসল কাহিনীটাই বলে ফেলি। খুজে খুজে আমার এক বন্ধু বের করলাম, যার কাছে গাঞ্জা পাওয়া যায়। গাঞ্জা জিনিসটা শুকনো পাতার মত। হাতে দিয়ে মিহি করে সিগারেটের খোলের ভেতর ভরে টানে অনেকে। আমার বন্ধুটি অবশ্য সেটা করে না। সে সিগারেটের কোন অংশই রাখে না। পিউর গাঁজা, সেখানে কোন সিগারেটের সুগার নেই।
আমি একদিন সেই পিউর গাঁজার খোজ পেলাম। আমার বন্ধুর এক পরিচিত লোক সেটা তৈরী করে। তিনজন মিলে গেলাম বুয়েটের নতুন ক্যাম্পাসের নিচে একটা ময়লাপূর্ণ জায়গায়। সেখানে গিয়ে টানের পর টান। সেখান থেকে ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে কোন একটি হলের মাঠের মধ্যে গিয়ে বসলাম।
অবাক হয়ে চারপাশটা দেখছি। যেন মনে হচ্ছিল সমস্তই চলন্ত। কিছুই থেমে নেই। পৃথিবীটা যে বন বন করে ঘুরছে সেটা গাঁজা খেলে হাড়ে হাড়ে টের পাওয়া যায়। এজিনিস খেলে মানুষের জীবনে নাকি মিরাকেল ঘটে। আমার জীবনেও সেদিন ঘটেছিল। আমরা বিকেলের কোন এক সময় নেশারত অবস্থায় মাঠে বসে ছিলাম। স্বভাবতই সূর্য পশ্চিম দিকে হেলে পড়েছিল।
সূর্য পশ্চিম দিকে হেলে থাকার মানে রোদের আভা পূর্ব দিকের বিল্ডিংগুলোতে পড়বে। কিন্তু না, রোদের আলো পশ্চিম দিকেই আচড়ে পড়ছিল। ভাবলাম, এই অভবানীয় জিনিসের একটা ছবি তুলে রাখা তো দরকার।
কিন্তু ছবি তুলে রাখার পরে, সেই ছবিতে বোঝাই গেল না কোনটা পূর্ব আর কোনটাই বা পশ্চিম। সূর্য বিল্ডিং গুলোর আড়ালে থাকায় ক্যামেরায় তেমন কিছুই ধরা পড়ল না।
তারপর সেখানে সন্ধ্যা নামলো। আকাশে তারা ফুটলো। আর আমি জোড় গলায় গান ধরলাম,
"আকাশ ভরা, সূর্য তারা, বিশ্বভরা প্রাণ
তাহারই মাঝখানে...আমি পেয়েছি মোর স্থান
বিস্ময় তাই জাগে...জাগে আমার প্রাণ"
গানের গলা ভালো নয়। আমাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটা গাড়ি এসে উঠিয়ে দিলো। হেলতে দুলতে আমরা পৌছে গেলাম হাকিম চত্বরে। গাঁজা খেলে তার ক্ষাণিক পর প্রচুর ক্ষুধা পায়। আমারও পেয়েছিল। মনে হচ্ছিল দোকানের সমস্ত ভাজাপোড়াই শেষ করে ফেলব।
খেলামও জম্পেশ। তারপর বাসায় ফিরে গিয়ে ঘুম...
গাঁজা কোন এডিকশন নয় অনেকে বলে। আমি নিজে সেটা বুঝি, তবে একবার সেজিনিস খেলে বার বার খেতে ইচ্ছে করতে শুরু করলো। মনে হলো, এর থেকে শান্তির কিছু তো নেই। অনেক চেষ্টা করেও আমি গাঁজার সেই অনুভূতির কথা ভুলতে পারলাম না।
ফলশ্রুতিতে আমাকে এই জিনিস আকর্ষণ করে রাখলো। আমি খেলাম আবারও। তবে এবার আমার নিজের বাসার বারান্দায়, রাতের আঁধারে।
তবে, নার্ভাস সিস্টেমকে অস্বাভাবিক হতে দেওয়া ঠিক না। এই মনে উদয় হতেই, আর সে জিনিস ছুয়ে দেখলাম না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


