মেঘ আর মেঘের মেয়ে...মেঘবালিকাকে নিয়ে আজকের আসর।
জানালার ফাঁকে বসে কাঁচের আড়াল থেকে তাকে দেখে মনে হয়েছিল, এই তো সব, আমার সব এখানে। এখানে রঙ, এখানে জীবন, এখানে যৌবন এখানে আমার ভবিতব্য।
সাজানো গোছানো এক সময়ের সংসার। জানালার এইপাশে আমি, আর ঐপাশে ও। দেখা না দেখার মাঝে কত অলীক কল্পনা। আমাকে স্নেহ করে দুটি কথা বলার মানুষটিকে আমি চিনতে পারিনি যে। সময়ের অবক্ষয়ে হারিয়ে চলেছিলাম নিজেকে। নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি, কোন রাত স্বপ্ন থেকে ওকে মুছে ফেলতে।
জীবনান্দ দাশের মত কেউ প্রিয় মানুষটির ছবি আঁকতে পেরেছে? আমি যদি চেষ্টা করি, তাহলে সে যে গল্প বনে যাবে। কখনই তার ছেড়া কবিতার মত হবে না। আমি যদি জলাঞ্জলি দিয়ে নিজের সমস্তকে সুবিন্যস্ত তার স্বপ্ন বালক হই, সে হয় আমার হাতের পরশে এক অলিখিত পরীর মত।
আমি রাত স্বপ্নে তাকে পেয়েছিলাম। অনেক কাছে, অনেক আদরের। রাত স্বপ্নে সে আমার গায়ে গা লাগিয়ে বসে গল্প করেছে কত। আমাকে স্বপ্ন দিয়েছে, ঘাড়ে হাত রেখে বলেছিল, কেমন আছো?
আমি বলেছিলাম, আমি তো ভালো নেই, আমার সব কিছুই আছে, শুধু তোমার অভাবটা পূরণ হচ্ছে না। স্কুলের বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে মেয়েদের বিশেষ অঙ্গের দিকে চোখ চলে যেত। কে কখন, কিভাবে ওড়না পড়েছে, কার ওড়নার নিচে কতখানি দেখা যাচ্ছে...কি বিচ্ছিরি হয়ে আমার যৌনতা কতবার প্রকাশ পেয়েছে আমার বন্ধুদের সামনে। সে কথা আজ গোপন করি না।
জানালার ওপাশের মেয়েটিকে আবছা লাগতো। ভয় হতো, এই জানালায় যে কেউ দাঁড়িয়ে তাকে অবাদে দেখে স্বপ্ন বুনছে মনের নকশীকাথায় সে কথা যদি সে বুঝে ফেলে! এই অনিন্দিতাই (নাম জানি নাই তার আজো, তাই দিয়ে ফেললাম একটা) আমাকে শেখালো মেয়েদের দিকে তাকানোর ঢং।
মেয়েটার চুল ছিল বাঁধনছাড়া, অসাধারণ বিন্যস্ত, যেন রাতের ঘন আঁধার। অনিন্দিতাকে চিঠিতে বলেছিলাম, ও কি তুমি জানালার ওপাশে, ঝাপসা ভীষণ। আমি তো তোমাকে দেখতে পাই না, শুধু তোমার দোল খাওয়া চুলগুলো আমাকে কেটে দিয়ে দাও। আমি সেটার গন্ধ নিয়ে প্রতিরাতে ঘুমোতে যাবো। একবার করে চুমু খাবো তোমার চুলে।
তারপর হলো ইতিহাস। আমাদের চলে যাবার পালা। বাসা বদলে ফেলতে হলো। অনিন্দিতার সাথে দেখা হয়নি আর। সে পাড়ার মধ্যে কতবার গেছি, সেই জানালার ঝাপসা হয়ে যাওয়া অনিন্দিতাকে দেখার জন্য।
অনিন্দিতা তবু আমার স্বপ্নমঞ্চে যেন রক্তকরবীর মালা পড়ে প্রতিদিন আসতে থাকে। আমাকে ভালোবাসতে শেখায়। কতবার তার কাছে গিয়েছি, কতবার তাকে বলেছি ভালোবাসি। তবু তার হাতটা ধরতে পারিনি ভয়ে। কারণ স্বপ্নের মধ্যে জানি, এটা যে স্বপ্ন, যদি ভেঙ্গে যায়?
একদিন জেনেও তো ধরে ফেলেছিলাম তার হাত, কি নরম...অথচ কত কঠিন। কত ঠান্ডা...অনিন্দিতা তুমি কি আছো?
আমার প্রশ্ন স্বপ্নের এপাড়ে চলে আসে। চলে যায় আমার সব ঘোর। নতুন বাড়ির জানালায় বসে আমি ভাবতে থাকি, অনিন্দিতা কই, আর কবে পাবো তোমাকে?
জানি, আমি এমন কেউ নই, যে যাকে ভালোবাসবো তাকেই পেতে পারি। আমি এজন্য কাউকে ভালোবাসার জালে জড়িয়ে ধরে রাখতে পারিনি। অনিন্দিতাও একদিন আমার স্বপ্ন থেকে চলে গেল। দূরে বহুদূরে। আমি তাকে কখনও দেখিনি, শুধু জানালার ওপাশে আবছা শরীরটা আমাকে ভালোবাসার অর্থ শিখিয়ে দিয়েছিল। তাইতো আজও প্রত্যেকটা মেয়েকে আমি অনিন্দিতা বলে ভুল করি। যতই আমার বন্ধুরা তাকাক, যতই তারা বলুক, ঐ মেয়েটার বুক সুন্দর...আমি তখন তার চেহারা আর চুলের সাথে অনিন্দিতার অবয়ব মিলাই।
আর আমার স্বপ্নগুলো ধূসর থেকে ধূসর হতে থাকে। আমি কখনই তার দিকে আমার যৌনতা নিয়ে তাকাই নাই। শুধু শুনেছি, মানুষ বলে, যৌনতা ছাড়া ভালোবাসা অর্থহীন।
আমার ভালোবাসা এরকমই অর্থহীন হয়ে দাঁড়াক আমি সেটাই কামনা করেছিলাম। আমি চেষ্টা করেও অনিন্দিতাকে স্বপ্ন দেখি না আর। কেউ আমার কাঁধে একটি বারের মতও হাত রেখে বলেনা, তুমি কেমন আছো? যেমনটি করে অনিন্দিতা বলে যেত।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


