মধ্যযুগ থেকে এখন পর্যন্ত হাতেগোনা কয়েকজন মানুষ হরমোনের ত্রুটির কারণে অ্যাম্ব্রাস সিনড্রোম নামের বিরল এ সমস্যায় পড়েছে। অদ্ভুত হলেও এর বৈজ্ঞানিক কারণ জানার আগ পর্যন্ত এ ধরনের মানুষকে ওয়্যারউলফ বা নেকড়ে মানব মনে করত লোকেরা। এ রোগে আক্রান্ত বেশির ভাগ মানুষকে লাঞ্ছনা-গঞ্জনার মধ্য দিয়ে জীবন কাটাতে হলেও সুপাত্রাকে এখন নিজেদের একজন হিসেবেই মেনে নিয়েছে সবাই। ইতিমধ্যে বেশ জনপ্রিয়ও হয়ে উঠেছে সে। 'আগে বাঁদরমুখো বলে খেপালেও এখন আর কেউ খেপায় না। এ অস্থায়ই থাকতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি। লোমের কারণেও আর কোনো সমস্যা হয় না। তবে বড় হয়ে গেলে দেখতে খুব খারাপ লাগে। আমার আশা, একদিন আমি ভালো হয়ে যাব।'_বলে সুপাত্রা।
তার বয়সী অন্য শিশুদের মতোই নাচতে আর সাঁতার কাটতে ভালোবাসে সে। গান আর বন্ধুদের সঙ্গে খেলাটাও দারুণ উপভোগ করে। তবে সবচেয়ে ভালোবাসে টেলিভিশনে কার্টুন দেখতে। আর সুযোগ পেলেই মেতে ওঠে অঙ্ক নিয়ে। অন্যকে অঙ্ক শেখানোর জন্যই এটি খুব ভালোভাবে রপ্ত করতে চাইছে ও। তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ডাক্তার হওয়া। ডাক্তার হয়ে অসুস্থদের সেবা করতে চায় সে। তবে সুপাত্রার ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে তা বলা মুশকিল। কেননা জন্মের পর পরই শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক করার জন্য দু-দুবার অপারেশন টেবিলে যেতে হয়েছে তাকে।
সুপাত্রার বাবা সামরুয়েং জানান, জন্মের পর পরই তার শরীরে অস্বাভাবিকতা চোখে পড়ে। হাসপাতাল থেকে বাড়িতে আনার পর মেয়েকে নিয়ে নতুন করে আবার সমস্যায় পড়েন। দুই বছর বয়সে চিকিৎসকরা লেজার ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে সুপাত্রার লোম পরিষ্কার করার চেষ্টা করে, কিন্তু লোম পরিষ্কার করার পর পরই দ্রুত আরো ঘন হয়ে গজিয়ে ওঠে। লোম বেশি লম্বা হয়ে গেলে মা সাম্ফনই সেগুলো ছেঁটে ছোট করে দেন। বড়দের শ্যাম্পু সহ্য না হওয়ায় ছোটদের শ্যাম্পু ব্যবহার করে সুপাত্রা তার লোম পরিষ্কার করে।
সামেরুয়েংর আশা, একদিন সুপাত্রা ভালো হয়ে উঠবে। আমরাও চাই সুস্থ-সুন্দর জীবনে ফিরে যাক ছোট্ট মেয়ে সুপাত্রা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

