সৈয়দ আফসার
অন্ধশিকারী
এ-রকম বৃষ্টির দিনে ফেরবার পথ খোলা নেই
পতনমুখে ঘূর্ণিবাতাস মাঝখানে শুয়ে থাকা
প্রচলনরীতিসহ লাফিয়ে উঠা শেষ বিকেল বেলা
প্রতিরোধ ছিল আগলে রাখা নরম-চরম বুকে
পালাতে পারিনি চিবুকের পাশে হামাগুড়ি দিয়ে
চক্ররেখায় ঘুরতে ঘুরতে পালতোলা নৌকার
গলুইয়ে নুয়ে পড়ছে দেহ, নুন-ঘামে নুয়েছো তুমি
নির্ঘাত ভয়ে
২.
না-ছুঁলে যা হয়, তীব্রঘৃণায় স্পষ্টজিজ্ঞাসা… গুছিয়ে
রাখছো রান্নাঘরে আনাজের ঘ্রাণে, কাছে দাঁড়াইনি বলে
দাওনি সুগন্ধি!… ঠকাতে চাইনি বলে দশ নোখের আঁচড়
আরো কিছু দিন থাক নিজস্ব রেখায় রোমকুপে চুপচাপ
আমিও দেখে নেই আঙুল ফোটাতে কেনো ক্লান্তি লাগে
৩.
শীর্তাত বুকে বরফ গলে না ফুলে-ফেঁপে ওঠে তত্ত্বকথা
নিজেই নিজের কাছে দণ্ডিত তোমার কাছে এর ফলাফল
সাদাসিদা
কাউকে দোষ দেবো না জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য অন্যের
হাতে গড়া, চোখ-জলে কাউকে পোড়াবো না বলে বৃথা
গেল জমানো কাঠকয়লা
৪.
কার তালাশে বৃষ্টি জমছিল গাছের বাকলে
বিন্দু বিন্দু জল কাঁপছিল ডালে, পাতার আড়ালে
কয়েক খণ্ড পিছুটান একদিন দরকারি হবে
তুমি তার ব্যাখ্যা অন্য ভাবে দেবে, কারণ--
ঘুমের জন্য সব সময় খোলে রাখো চোখ, চোখেরপাতা
৫.
দৃষ্টি ধুয়ে নেবে কে? কে মেখে নেবে অর্ধেক লাজসহ
জমানো আবেগ
কেউ কি জানে? কোন হাত মেপে জমেছে কলঙ্ক
জলভেজা তোয়াল থেকে কে খুঁটবে জল মাঝরাতে
কেউ তো জানে না নারীর অসহায়ত্ব কোথায় পুড়ে
বৃষ্টি এলে আমিও অনলজলে পুড়ি নিরবতার ছলে
৬.
এরকম বৃষ্টির দিনে সে কিছু বলল না-
শুধু থম ধরে বসে থাকা শোবার ঘরে
চাওয়াতে সম্মতি ছিল না বলে দুর্বলতা ভেবো না
কেননা আন্ধ্যার রাতে তুমি একাই পেয়েছো সার্থক
ঘুমের স্বাধীনতা!
এ স্বাধীনতার ভেতর যেন হাঁপিয়ে মরা আর বাঁচা
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুন, ২০০৯ রাত ২:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


