somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনুবাদ গল্প

০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনুবাদ
বাইবেলের গল্প
ভাষান্তর : ইবসেন পার্থ


ঈশ্বর পৃথিবী সৃষ্টি করলেন
অল্ড টেস্টামেন্ট, পর্ব ১


আদিতে পৃথিবী বলে কিছু ছিল না। একমাত্র ঈশ্বর ছাড়া না ছিল পাখি, না তাদের গান, না ক্রীড়ারত শিশু, না ফুল। ছিল মধ্যরাতের মত নিকষ অন্ধকার। ঈশ্বর তখন পৃথিবী সৃষ্টি করতে লাগলেন। ‘লেট দেয়ার বি লাইট’, বললেন তিনি, ‘আলো আসতে দাও’। পৃথিবী আলোয় ভরে গেল। ঈশ্বর সৃষ্টি করলেন উজ্জ্বল সূর্যালোক। দিবস দিপ্তিময় হল। অতঃপর তিনি হলুদাভ চাঁদ আর তারকামণ্ডল সৃষ্টি করলেন, রাতের আকাশ ঝলবে বলে। যাকে আমরা নাম দিয়েছি সময়, ঈশ্বর যেদিন পৃথিবীকে আকৃতি দিলেন, তখনই সময়ের জন্ম হল।
দিন আর রাত্রি সৃষ্টির পর ভারী মেঘ ঝুলে রইল তাদের ওপর। ঈশ্বর বললেন, সমস্ত জলকে আমি একত্রিত করে দিলাম, যাতে তার বুক থেকে জেগে ওঠে শুকনো ডাঙা। তিনি ডাঙাকে বললেন স্থল আর জলাঞ্চলকে বললেন সমুদ্র।
অতঃপর ঈশ্বর পৃথিবীর দিকে তাকালেন এবং ভাবলেন : সুন্দর। কিন্তু আরো সুন্দর দেখতে চাইলেন তার সৃষ্টিকে। বললেন, উদ্গম হোক তৃণলতা, জন্ম হোক বৃক্ষের।
তারপর ভাবলেন, আকাশে উড়ে উড়েও কিছু প্রাণি বেঁচে থাকতে পারবে। উড়ে বেড়াবার জন্য অতঃপর সৃষ্টি হল পাখি। লাল, নীল আর হলুদ রঙের পাখিরা ডানা মেলে উড়তে লাগল আকাশে। তারা ঘর বাঁধল গাছে গাছে। গাইল তাদের গান।
জলে বাস করতে পারবে এমন প্রাণির কথা ভাবলেন তিনি। সৃষ্টি হল মাছ। জলের ভেতর নাচতে লাগল তারা। সেইসঙ্গে সৃষ্টি হল আরো কিছু প্রাণ, যারা সাঁতার কাটবে জলে। যারা তাদের ঘর বাঁধবে জলের নীড়ে।
স্থলে বাস করবার মত তখনও কোনো প্রাণি সৃষ্টি হয়নি। সুতরাং, স্থলের জন্য প্রাণি সৃষ্টির কথা ভাবা হল। সৃষ্টি হল গৃহপালিত পশু আর অন্যান্য চতুষ্পদ। তারা হেঁটে বেড়ায় মাটিতে, ঘাস আর ফল খেয়ে বাঁচে আর সূর্যালোকে উপভোগ করে আনন্দ।
(জেনেসিস ১:১-২৫)

প্রথম পুরুষ, প্রথম নারী
অল্ড টেস্টামেন্ট, পর্ব ২


যে-সুন্দর তিনি সৃষ্টি করেছেন, তা নিয়ে ঈশ্বর ছিলেন আনন্দিত। তবে অবশ্যই এই সৌন্দর্য সৃষ্টির কাজ তখনও শেষ হয়নি। মহান পরিকল্পনায় তখনও বাকী ছিল বিশেষ এক সৃষ্টির, যা হবে অন্য সকলের চেয়ে ভিন্নতর। ঈশ্বর বললেন, মানুষ সৃষ্টি হও। সৃষ্টি হও আমারই আদলে। আমারই মত শাসন করে বেড়াও পৃথিবী। জীবিত সকল প্রাণিকে দেখাও তোমার শ্রেষ্ঠত্ব। অতঃপর ঈশ্বর মাটি থেকে তুলে নিলেন ধূলো। সৃষ্টি হল প্রথম মানুষ। তিনি তার নাম দিলেন এ্যাডাম। এ্যাডামকে নন্দনকাননে স্বাধীন করে দিলেন তিনি। ঈশ্বরের ইচ্ছায় স্বর্গের উদ্যান শোভিত হল আশ্চর্য সুন্দর সব ফুল আর বৃক্ষলতায়। বৃক্ষের ফলগুলো ছিল অতীব সুস্বাদু। নন্দনকাননের মধ্যিখানে মাথা তুলল জ্ঞানবৃক্ষ- দ্য ট্রি অব নলেজ। এ্যাডামকে বলা হল- কোনো ফল খেতে তার অসুবিধা নেই, শুধু জ্ঞানবৃক্ষের ফল খাওয়া তার জন্য নিষিদ্ধ। এই বৃক্ষের ফল খেলে মৃত্যু সুনিশ্চিত।
এ্যাডাম আনন্দিত হলেন। ঈশ্বরকে ভালোবাসলেন তিনি, কিন্তু বোধ করতে লাগলেন ভয়াবহ নিঃসঙ্গতা। প্রয়োজন অনুভব করলেন একজন সঙ্গীর। ঈশ্বরও অনুভব করলেন এ্যাডামের নিঃসঙ্গতা। একাকীত্ব মানুষের জন্য ভালো নয়। তাই, একদিন এ্যডামকে বলা হল গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে থাকতে। এ্যাডাম তাই করলেন। তখন, ঈশ্বর তার পাঁজর থেকে একটি হাড় নিলেন। সৃষ্টি হল নারী। তার নাম রাখা হল ইভ্। উদ্যানের একাকীত্ব ভরে উঠল অপার আনন্দে। তারা ভালোবাসলেন ঈশ্বরকে, ঈশ্বরও তাদের।
অতঃপর ঈশ্বর আবার দেখলেন পৃথিবীকে। দেখলেন সবকিছু কী নিখুঁতভাবেই না সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আনন্দিত হলেন এবং ভাবলেন-এবার তবে বিশ্রাম নেয়া যাক।
(জেনেসিস ১:২৬-৩১;২)
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৩৪
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×