বিদ্যমান ‘ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১’ অনুযায়ী ‘ডেসটিনি’র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে বিতর্কিত এই মাল্টি লেভেল কোম্পানিটির কর্মকাণ্ডকে ‘প্রতারণামূলক’ ও ‘জনস্বার্থ হানিকর’ বলে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সুপারিশও করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ডেসিটিনির অবৈধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া যায় কিনা সে বিষয়ে মতামত চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রণালয়কে এ কথা জানানো হয় বলে সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এই মতামত পাওয়ার পর অর্থমন্ত্রণালয় থেকে ‘ডেসিটিনি-২০০০ লিমিটেড’র অবৈধ কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখার জন্য একটি কমিটি গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রণালয় থেকে বাণিজ্য ও স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে আজ বুধবার পাঠানো পৃথক পৃথক দুইটি চিঠি চিঠিতে বলা হয়েছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে এই মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করতে পারে। পরবর্তীতে এই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ডেসটিনির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো পত্রে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির অবৈধ কর্মকাণ্ড সম্পর্কিত অভিযোগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।
অর্থমন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, প্রায় দশ বছর ধরেই ডেসিটিনির বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহল থেকে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হচ্ছে। কিন্তু তারপরও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া তো দূরে থাক, কোনো তদন্ত কমিটিই গঠন করা সম্ভব হয়নি। এবারও তা সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। দেখা গেছে, সব সরকারের সময়ই প্রতিষ্ঠানটি সেই সরকারের ঘনিষ্ঠভাজন হিসেবে কাজ করেছে। এবারও তার কোনো ব্যতিক্রম হয়নি। ফলে ডেসটিনির অবৈধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ বিষয়ে কোনো তদন্ত কাজই করা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে, বিতর্কিত এমএলএম কোম্পানি ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেডের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ২০০৪ সালেও চেষ্টা করা হয়েছিল। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক নব গোপাল বণিক ২০০৪ সালে ২৩ ডিসেম্বর অর্থসচিবের কাছে একটি পত্র পাঠিয়েছিলেন। সেই পত্রে উল্লেখ করা হয়, “বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন ব্যক্তি কর্তৃক অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রতীয়মান হয় যে, ডেসটিনি-২০০০’র কার্যক্রম বা ব্যবসা প্রতারণামূলক। এ বিষয়ে বিভিন্ন সময় আপনাদের অবহিতকরণসহ অত্র বিভাগের ০৯-০৯-২০০৪ তারিখের একটি সাকর্ুুলারে ‘নিউওয়ে’ ও ‘ডেসিটিনি-২০০০’র বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়।” বাংলাদেশ ব্যাংকের সেই চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, “এ সকল প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম প্রতারণামূলক ও দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হলেও উক্ত কার্যক্রমকে ব্যাংকিং কার্যক্রম হিসেবে গণ্য করা যায় না। তাই এদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো অবকাশ নেই। ইতিপূর্বে বিনিয়োগ বোর্ড কর্তৃক নেটওয়ার্ক ব্যবসার বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছিল। উক্ত সুপারিশমালার ভিত্তিতে কার্যক্রম গ্রহণ করার বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনাদের পুনরায় সুপারিশ করা হল।”
অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
নয়া দিগন্ত

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

