somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যুদ্ধাপরাধী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদি কি করেছিলেন

০৬ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ২:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছবি : রাজাকারদের ট্রেনিং (সূত্র ১ )।

জামাতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা এবং কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী আমাদের সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আলী আহসান মুজাহিদ সাহেব বলেছিল -- "দেশে কোন স্বাধীনতাবিরোধী কখনও ছিলো না, এখনও নেই" ।

তারে জিজ্ঞাস করা হয়েছে ১৯৭১ সালে জামায়াতের ভূমিকা কি ছিল। উনার জবাব-" সেটা আপনারা খোজ করে দেখুন, মূল্যায়ন করুন।"

আজ আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদির ভূমিকা কি ছিল সেটা নিয়েই আমার আলোচনা


মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদারদের সহযোগিতা, বুদ্ধিজীবী হত্যা ও গণহত্যার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে অভিযুক্ত জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ একজন ,জামায়াতে এখনো আছেন ।তার বিরুদ্ধেও স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বাঙালি হত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহায়তা, রাজাকার বাহিনীর নেতৃত্ব দান এবং ধর্ষণ-নির্যাতনসহ নানা অপকর্ম চালানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজাহিদের স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার কথা বহু দলিলে উল্লেখ রয়েছে।

ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয়, ১৯৭১ সালে হানাদার পাকিস্তানী বাহিনীর বির"দ্ধে যুদ্ধরত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিহত করতে জামাতে ইসলামীর তৎকালীন ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের সভাপতি আলী আহসান মুজাহিদ কুখ্যাত আলবদর বাহিনী গড়ে তোলার নির্দেশ দেন তার দলের নেতাকর্মীদের। মুজাহিদের স্বাধীনতা-বিরোধী এসব কর্মকাণ্ডের জলন্ত প্রমাণ রয়েছে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গোপন দলিলে।

জানা যায়, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক বিভাগ ১৯৭১ সালে এখানকার (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রদেশ) পরিস্থিতি নিয়ে সামরিক শাসক ইয়াহিয়ার সরকারকে মাসে দুবার গোপন প্রতিবেদন পাঠাতো। প্রতিবেদনের অফিসিয়াল শিরোনাম ছিল ‘ফোর্টনাইটলি সিক্রেট রিপোর্ট অন দ্য সিচুয়েশন ইন ইস্ট পাকিস্তান’ (পূর্ব পাকিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে পাক্ষিক গোপন রিপোর্ট)।

জামাতের নেতারা একাত্তরে হত্যা, নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত নন বলে যতোই বলুন না কেন, এই গোপন প্রতিবেদনে এবং বিভিন্ন সময় এদেশের নানা পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জামাতের শীর্ষ নেতা ও কর্মীদের ন্যক্কারজনক ভূমিকা বারবার উঠে এসেছে।

তৎকালীন সরকারের গোপন প্রতিবেদনে পাকিস্তান ইসলামী ছাত্র সংঘের তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান শাখার সভাপতি আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ কীভাবে তখন পাকিস্তানকে রক্ষার কাজে ব্যস্ত ছিলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের শায়েস্তা করতে তৎপর ছিলেন তার বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। অক্টোবর দ্বিতীয় ভাগের সরকারি এক গোপন প্রতিবেদনে (১৩ নভেম্বর, ১৯৭১ তারিখে স্বরাষ্ট্র সচিব স্বাক্ষরিত) বলা হয়েছে, ১৭ অক্টোবর রংপুরে পাকিস্তান ইসলামী ছাত্র সংঘের এক সভায় আলী আহসান মুজাহিদ আলবদর বাহিনী গড়ে তুলতে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন। তিনি বলেছিলেন, ইসলামবিরোধী শক্তি প্রতিহত করতে হবে। এ জন্য যুবকদের সংগঠিত করে আলবদর বাহিনীতে যোগ দেওয়ার ওপর তিনি গুর"ত্ব দেন। সভায় সভাপতিত্ব করেছিরেন এটিএম আজহার"ল ইসলাম, যিনি বর্তমানে জামাতে ইসলামী বাংলাদেশের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল।


গোপন রিপোর্টে আরও বলা হয়, ৭ নভেম্বর জামাতে ইসলামী ‘আলবদর দিবস’ পালন করে। দলের নেতারা দিবসটি পালনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আলবদর বাহিনীতে জনগণকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা পাকিস্তান চায় না তারা আমাদের শত্র"। পাকিস্তানের অখণ্ডতা র"খতে হবে ও শত্র"দের প্রতিহত করতে হবে।
৬ সেপ্টেম্বর ইসলামী ছাত্র সংঘ ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসায় ‘পাকিস্তান প্রতিরক্ষা দিবস’ পালন করে। সভায় পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষায় সর্বাত্মক কাজ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ২৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ স্বরাষ্ট্র সচিব স্বাক্ষরিত সেপ্টেম্বর প্রথম ভাগের প্রতিবেদনে এ বিষয়টি উল্লেখ আছে।

একাত্তরের ঘাতক দালাল ও যুদ্ধাপরাধীদের সম্পর্কে জাতীয় গণতদন্ত কমিশনের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ’৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে দলীয় আদর্শ অনুযায়ী পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণহত্যা, লুটপাট ও নারী নির্যাতনে সহযোগিতা করেছেন। তার নেতৃত্বাধীন আলবদর বাহিনী বিজয়ের পূর্ব মুহূর্তে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে এ দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের। আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের স্বাধীনতাবিরোধী তৎপরতার বিবরণ পাওয়া গেছে সে সময়ের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত তার বক্তৃতা-বিবৃতিতে।’ ১৯৭১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরে ছাত্রসংঘের এক জমায়েতে ‘বিপুল করতালির মধ্যে’ আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ঘোষণা করেন, ‘ঘৃণ্য শত্রু ভারত দখল করার প্রাথমিক পর্যায়ে আমাদেরকে আসাম দখল করতে হবে। এজন্য আপনারা সশস্ত্র প্রস্তুতি গ্রহণ করুন।’

রিপোর্টে আরো বলা হয়, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ফকিরাপুল, নয়াপল্টন এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে থাকতেন, তার মধ্যে একটি বাড়ি হলো : শেখ ভিলা, ৩/৫ নয়াপল্টন। তবে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের প্রধান আড্ডা ছিল ফকিরাপুল গরম পানির গলিতে ফিরোজ মিয়ার ১৮১ নম্বর (বর্তমান ২৫৮ নম্বর) বাড়িটিতে। ’৭১-এ মতিঝিল, ফকিরাপুল এলাকার মুক্তিযুদ্ধের কমান্ডার বর্তমানে জাতীয় পার্টি নেতা আবদুস সালাম, মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক জিএম গাউস, মুক্তিযোদ্ধা ও কলামিষ্ট মাহবুব কামালের সাক্ষ্য অনুযায়ী জানা গেছে, ফিরোজ মিয়া ছিলেন এ এলাকার রাজাকার কমান্ডার। তার বাড়িটি শুধু ফকিরাপুল এলাকার নয়, পুরো ঢাকা শহরের রাজাকারদের অন্যতম ঘাঁটি ছিল। এখানেই অনুষ্ঠিত হতো রাজাকারদের বিভিন্ন সভা, সশস্ত্র ট্রেনিং ইত্যাদি। এখান থেকেই পরিচালিত হতো রাজাকারদের বিভিন্ন অপারেশন, রাজাকার রিক্রুটমেন্ট। এখানে এলাকার মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তির লোকদের ধরে এনে নির্যাতন চালানো হতো। ফিরোজ মিয়া গংয়ের নীতিনির্ধারক ছিলেন আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ। কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে তার নির্দেশেই পরিচালিত হতো ফকিরাপুল এলাকার মুক্তিযুদ্ধবিরোধী যাবতীয় তৎপরতা। জিএম গাউস বলেন, ’৭০-এর মাঝামাঝি সময় থেকেই আমরা ফকিরাপুল এলাকার ভাড়াটিয়া আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে চিনতাম জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রসংঘের লোক হিসেবে। তিনি এলাকায় দলের সাংগঠনিক তৎপরতা চালাতেন। কেন্দ্রীয় সমাবেশে এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে যেতেন। এলাকার ছেলেদের ছাত্রসংঘে যোগদানের ব্যাপারে প্ররোচিত করতেন। ’৭১-এর মার্চের পর মুজাহিদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ফকিরাপুলে রাজাকার বাহিনী সংগঠিত হয়। যার নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ফিরোজ মিয়াকে (ফেরু মেম্বার)। মুজাহিদের সরাসরি নির্দেশেই পরিচালিত হয়েছে ফকিরাপুল এলাকায় রাজাকার বাহিনীর তৎপরতা, অস্ত্র ট্রেনিং, রিক্রুটমেন্ট ইত্যাদি। তিনি এলাকার রাজাকারদের অস্ত্র-অর্থ সংগ্রহসহ যাবতীয় দুষ্কর্মে সহযোগিতা করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের মাঝামাঝি পর্যায়ে অত্র এলাকার মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং স্বাধীনতার পক্ষের বুদ্ধিজীবীদের ধরে এনে অত্যাচার-নির্যাতন, এমনকি হত্যা করার উদ্দেশ্যে গঠিত আলবদর বাহিনীর নেতা ছিলেন আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ। জাতীয় পার্টি নেতা আবদুস সালাম বলেন, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সময় ফকিরাপুল গরম পানির গলির ফিরোজ মিয়ার বাড়িটি ছিল রাজাকারদের অন্যতম নির্যাতন কেন্দ্র। ফিরোজ মিয়া গংয়ের নীতিনির্ধারক বা পরামর্শদাতা ছিলেন আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ। অবশ্য কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে মুজাহিদের অপতৎপরতা শুধু ফকিরাপুল এলাকায় নয়, বিস্তৃত ছিল পুরো ঢাকা শহরে।’
গণতদন্ত কমিশনের রিপোর্টে বলা আরো হয়েছে, ‘মুজাহিদের রিক্রুট ফিরোজ মিয়া ফকিরাপুল এলাকার ৩০০ সদস্যের একটি রাজাকার প্লাটুন গড়ে তোলেন।’ ফকিরাপুল এলাকার পুরনো বাসিন্দাদের সাক্ষ্য থেকে জানা যায়, ‘ফিরোজ মিয়া গং যুদ্ধের সময় ফকিরাপুল ও আরামবাগ এলাকার শত শত বাঙালিকে ধরে নিয়ে হত্যা করেছে। নির্যাতন চালিয়েছে এলাকার মেয়েদের ওপর।’...

শাহরিয়ার কবির সম্পাদিত “একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী এবং ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার’ শীর্ষক গ্রন্থে দীপু হোসেন তার নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী মুজাহিদ ১৯৭১ সালের অক্টোবরে মতিউর রহমান নিজামীর সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংগঠনিক সফর করেন। ২৫ অক্টোবর ইসলামী একাডেমী হলে প্রাদেশিক সদস্যদের এক সম্মেলনে মুজাহিদ তার বক্তব্যে পাকিস্তানের ছাত্র-জনতাকে দুষ্কৃতিকারী (মুক্তিযোদ্ধা) খতম করার দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান (সূত্র : দৈনিক সংগ্রাম ২৬-১০-৭১)। একই মাসের ২৭ তারিখে রংপুর জেলা ছাত্রসংঘের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুজাহিদ সবাইকে জিহাদি মনোভাব নিয়ে পাকিস্তান বাহিনীর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান (সূত্র : দৈনিক সংগ্রাম ২৮-১০-৭১)। মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের নেতৃত্বাধীন আলবদর বাহিনী ১৯৭১ সালের শেষভাগে তাদের তৎপরতা বাড়িয়ে দেন এবং ১৪ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকায় ‘বদর দিবস’ পালন করেন।”

মুজাহিদ অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র থাকা অবস্থায় ‘বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসংঘে’ যোগদান করে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। ১৯৬৪ সালে ফরিদপুর জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে তিনি ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজে ভর্তি হন। কলেজ জীবনে তিনি জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এরপর তিনি ঢাকায় চলে যান।
স্বাধীনতা যুদ্ধের পর মুজাহিদ নারায়ণগঞ্জে আদর্শ কিন্ডারগার্টেন নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তিন বছর প্রধান শিক্ষক পদে ছিলেন। তার ভাই মোঃ খালেছ জানান, রাজনীতিতে জড়িত থাকা অবস্থাতেই মুজাহিদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ করেছেন ।

আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের বাবা মওলানা আবদুল আলী ছিলেন স্কুল শিক্ষক ও হেকিম। মুজাহিদের ভাই মোহাম্মদ খালেছ ফরিদপুর জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির। তার এক ভাই মোহাম্মদ আসলাম ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট, তার আরেক ভাই আলী আশরাফ সোয়ায়েব দৈনিক সংগ্রামের ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি। মুজাহিদের বড় ছেলে তাসদিদ রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে চাকরি করেন। মেজ ছেলে তাহ্ফিক গ্রামীণফোনের একজন কর্মকর্তা এবং ছোট ছেলে মাবরুব রাজধানীতে অনুবাদকের কাজ করেন। তার একমাত্র মেয়ে তামরিনা ঢাকা ইডেন কলেজে অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্রী।

আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের স্বাধীনতাবিরোধী তৎপরতা ও নৃশংসতা ’একাত্তরেই শেষ হয়ে যায়নি।এর ধারাবাহিকতা চলছে এখনো। আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ বর্তমানে জামাতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল। সাপ্তাহিক বিচিত্রায় ১১ নভেম্বর ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয় - ১৯৭৮ সালে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার ভিন্নমতাবলম্বী ছাত্রনেতা মওলানা আবদুস সোবহানকে শিবির কর্মীরা কোরআন পাঠরত অবস্থায় নির্মমভাবে হত্যা করে। বিশেষ সূত্রে জানা যায়, এই হত্যা অভিযানের নেতৃত্ব দেয় ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় ঘাতক আলবদর বাহিনীর প্রধান আলী আহসান মুজাহিদ।’সেই মুজাহিদ সংসদ সদস্য হয়েও অন্য রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের ওপর নানা নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ রয়েছে।

১৯৭১ সালে এই রাজাকার ,আলবদর আর আলশামস ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করেছিল। সাড়ে চার লাখ নারীকে ধর্ষণ করেছে। আজ তাদের বিচার হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই যারা ভুক্তভোগী তাদের পরিবার পরিজন এই বিচারের দিকে তাকিয়ে আছে। ১৯৭৩ সালে ৩০ নবেম্বর দালাল আইনে আটক যেসব ব্যক্তির বিরম্নদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। সাধারণ ৰমা ঘোষণার পর ১১ হাজারেরও বেশি ব্যক্তি কারাগারে আটক ছিল। তাদের বিচার হচ্ছিল। কিনত্ম ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পর জিযাউর রহমান ৰমতায় এসেই দালাল আইন বাতিল করে দেন। শুধু বাতিলই নয় রাজাকারদের তিনি পুনর্বাসনও করেন।

আজ একাত্তরে মানবতার বিরম্নদ্ধে অপরাধের মামলায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গ্রেপ্তার রাখার আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। কারাগারে আটক জামায়াতের এই শীর্ষ নেতাকে ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক দেখানোর পর উপস্থিতিতে এদিন আদালত তাদের হাজিরা গ্রহণ করে। এরপর তাকে গ্রেপ্তার রাখার আদেশ দিয়ে পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ ছাড়া আদলত মুলতবি ঘোষণা করা হয়।ট্রাইবু্যনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মোঃ নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট ট্রাইবু্যনালের সদস্যগণ সোমবার এই আদেশ দেন। এই আদেশের মাধ্যমে দীর্ঘ ৩৯ বছর পর মানবতাবিরোধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলো।

তথ্যসূত্র : মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের অনেক বই ও নেট থেকে সংগ্রহ করা ।
সূত্র ১ :
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ ফকিরাপুল, নয়াপল্টন এলাকায় বিভিন্ন বাড়িতে থাকতেন। তার মধ্যে একটি হলো- শেখ ভিলা, ৩/৫ নয়াপল্টন। তবে তার প্রধান আড্ডা ছিল ফকিরাপুল গরম পানির গলিতে ফিরোজ মিয়ার ১৮১ নং (এখন ২৫৮ নং) বাড়িটি। ‘৭১ এ মতিঝিল, ফকিরাপুল এলাকার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বর্তমানে জাতীয় পার্টির নেতা আবদুস সালাম, মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক জিএম গাউস, মুক্তিযোদ্ধা ও কলামিস্ট মাহবুব কামালের সাক্ষ্য অনুযায়ী জানা গেছে, ফিরোজ মিয়া ছিলেন এলাকার রাজাকার কমান্ডার। তার বাড়িটি শুধু ফকিরাপুল নয়, গোটা ঢাকার রাজাকারদের অন্যতম ঘাটি ছিল। এখানেই অনুষ্ঠিত হতো রাজাকারদের বিভিন্ন সভা, সশস্ত্র ট্রেনিং ইত্যাদি।

[প্রথমআলো ব্লগ থেকে কপি করা
http://prothom-aloblog.com/posts/67/104448]
১৩টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×