১৫মিনিটের রাস্তা যদি ৩০মিনিট, ৩০মিনিটের যদি ১ঘন্টা আর ৬ঘন্টার রাস্তা যদি ১৩ঘন্টা লাগে; তারপরেও বলতে হবে ভাগ্য ভালো!!! তারপর অবস্য ভাগ্যখারাপও বলতে পারি!!! কারণ ৩জনের জায়গায় যদি ৫জন, ৭জনের জায়গায় ১৩ আর ২০জনের জায়গায় যদি ৩৫জন হয়; তাহলে তো ঘুমনোর জন্যে খাট নয়, খাটের নিচেই যদি জায়গার বরাদ্দ ঘটে, তবুও আপত্তি নেই? এ ছাড়া আর উপায়ই বা কি! তবে কপাল ভালো গরম নয শীত ছিল, মানুষগুলা সবাই আগুন্তুক নয় আত্নীয়-স্বজন ছিল, অনকে ভিন্নতা স্বত্বেও কিছু চিন্তার মিল ছিল; তাই ২জনের বিছানায় ৫জন ঘুমোতে কষ্ট হলেও অশান্তি লাগে হয় নি। যদিও লেপ-কাথা নিয়ে টানা-টানি থামানো যায় নি! এমনিই ছিল বিয়ে!!! বিয়ে বাড়ি।। বেড়ানো। অথাব ঈদ।
ঈদের পরে ঈদ কেমন কাটালো, এই প্রশ্নের উত্তরে আমি এমনি বলবো। আসলে ঈদ আর আগের মত লাগেনা। ঈদের দিনে বরং শৈশবের কথা মনে পরে যায়। সেই সব দিন!!!! আহ্ কত রঙ্গিন, ছিল। এখন তো সব সাদাকালো। ভাবি, শৈশব এত ছোট কেন!!!???
আমি যখন ছোট ছিলাম তখন আমার কোন রং পেন্সিল ছিল না। মনে পরে না কেউ আমাকে পেষ্টাল কলারের বক্স কিনেদিয়েছিল কি না? সম্ভবত দেয় নাই। তাতে কি, তবুও আমার শৈশবে রঙ্গের কোন অভাব পরে নাই!! আমরা যেখানে থাকতাম তার সামনেই একটা পুকুর ছিল আর সেই পুকুরের পানিতে আকাশ প্রতিবিম্বিত হলে পুকুর নীল রং ধারণ করতো। একটা নীল পুকুরের জলে আমার শৈশব এখনও প্রতিবিম্বিত হয়। এমন আরো কত কিছু!!!!
তারপরেও সব মিলাইয়া ভালো বলতে হবে। থাকতে থাকতে বিরক্ত লাগতে থাকে ঢাকা-নারায়ণগন্জের পরিচিত রাস্তা-ঘাট, মানুষ, ধুলা-বালি, জ্যাম আর অবস্যই অফিস; এইগুলি ছেড়ে কয়েক দিনের জন্যে ৫জন এক বিছানায় ঘুমোনোও ভালো। তার উপরে রাস্তার দুইপাশ সারি-সারি গাছ ছিল, বেশ কয়েকটা নদী ছিল আর নুদীগুলা পাড় হওয়ার জন্য ফেরি আর ব্রিজ ছিল, মাঠে পাকা ধান ছিল, বাড়ির পেছনে নানান জাতের গাছ আর ঝোপ-ঝাড়ের বন ছিল এবং রাতে চারপাশ জড়ানো কুয়াশা আর মাথার উপর ঘোলাটে চাদ ছিল।
এত কিছুর পরেও অনেক কিছুই ছিল না। কিছু মানুষ যার মরে গিয়েছিল, কিছু তরুন যাদের শৈশব হারিয়ে গিয়েছিল, আর অনেক যুবক যারা বৃদ্ধ হয়ে যাচ্ছিল। যদিও পৃথিবীটা আগের মতই ঘুরছিল।
এইবারের ঈদ করেছি মামার বাড়িতে। ছোট মামার বিয়েও ছিল। তো প্রশ্ন করেছিল, ঈদ কেমন কাটলো, তাদের উত্তরে আমার এই মুহূর্তে এর বেশি কিছু বলার নাই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



