‘আমার প্রশ্ন হলো, কে বেশি দেশপ্রেমিক এবং দেশের স্বার্থের বিষয়টি আমার চেয়ে কে বেশি ভাবে?’ - প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
জেনারেল ইয়াহিয়া, কখনো তিনি (উনার পক্ষ হয়ে অন্য কেউ) যদি দাবী করেন, ছদ্মবেশে তিনিও ছিলেন 'মুক্তিযোদ্ধা', তাহা হইলে কেমন হইবে? আমরা কি অবাক হবো? নাকি হবো না? তবে আমি বলিবো, তাতে আমাদের বিস্মিত হওয়া ঠিক হইবেনা। আচ্ছা, হঠাৎ জেনারেল ইয়াহিয়ার মুক্তিযোদ্ধা হইবার কথা উঠাইলাম কেন? এই প্রশ্ন আপনারা কেহ কেহ তুলিতে পরেন। তাহাতে আমার আপত্তি নাহি। আমিতো এই প্রশ্নের সাথে সাথে আরো কয়েটা কথা তুলবার জন্য ইয়াহিয়া সাহেবের কথা টানতেছি।
বর্তমান বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জনগণের মুক্তির রাজনৈতিক আকাঙ্খা, ধরাবাহিক দীর্ঘ সংগ্রাম ও '৭১ সনে একখান চুরান্ত মরণপন লাড়াইয়ের মধ্যে দিয়া হাসিল হইয়াছে। জানগণের মুক্তির রাজনৈতিক আকাঙ্খা থিকা যে, লড়াই তাকে আমরা 'মুক্তিযুদ্ধ' বলি। তবে লাড়াইয়ের মধ্যে মুক্তি কতটুকু আর্জিত হইছে, সেইটা যদি আমরা বর্তমান বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটার দিকে তাকাই, তাহা হইলে বুঝতে পারিব।
বর্তমান বাংলাদেশ রাষ্ট্র ক্রসফায়ারের, ফ্যাসিবাদের, বিদেশী বহুজাতিকের। আমার এই কথা হয়তো আপনাদিগের অনেকেরই মানিতে কষ্ট হইবে, আবার অনেকেরই কষ্ট হইবে না। তবে আমার কথার পক্ষে-বিপক্ষের উভয়কেই আমি অনুরোধ করিবো দয়া করিয়া 'দেশ' আর 'রাষ্ট্র', এই দুইটিকে এক করিয়া ফালাইবেনা। যদি এক করিয়া ফালান তবে উপরে শেখ হাসিনার যে ঘোষনা আমি কোট করিয়াছি তাহা বুঝিতে যাইয়া ধন্দ লাগিতে পারে। তবে উনি যদি ঘোষণা দিতেন, উনার মত রাষ্ট্র প্রেমিক দেশে দুইখান আর নাই - তবে আমি তাহা মানিতে এতটুকুও দ্বিধা করিতাম না। একবার শুনিয়া বা পড়িয়াই মানিয়া লইতাম।
আমরা র্যাবকে রাষ্ট্র প্রেমিক বলিতে পারি। রাষ্ট্রের যে প্রয়োজনে তাকে নাজেল করা হইয়া ছিলো, তা সে দক্ষতার সহিত করিতেছে। আমরা যদি পুলিশের কথাও বলি, তাহাতেও একই কথা চলে। কই কথা প্রধানমন্ত্রী বেলায়ও খাটিত যদিখালি উনি কবুল করিতেন, উনার মত রাষ্ট্র প্রেমিক আর কেহ দ্বিতীয় নাই। কারণ এই জালেম রাষ্ট্র এবং নিজের ক্ষমতা টিকাইয়া রাখিবার জন্য তিনি নানান কিছুই করিতেছেন। ক্রসফায়ারে দেওয়া। জনগণের গনতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দলোন-সংগ্রামকে ফ্যাসিবাদী কিসিমে দমন করা। বহুজাতীক ব্যাবসায়িদের জন্য দেশের বাজারকে নাঙ্গা করে দেওয়াসহ, তাদের সাথে এমন সকল চুক্তি করছেন জনগণের নামে, যা জনগণের স্বার্থ কোন ভাবেই রক্ষা করে না।
আসলে এই বিষয়ে বিস্তারিত আরো কথা বলা যাইতে পারে। কিন্তু সে সব নানান ভাবে আলোচিত হইতেছে। আমি খালি ছলিমুল্লা খানের একখানা গানের কথা স্বরণ করিবার জন্য এই নোট লিখিতে বসিয়াছি।
সলিমুল্লাহ খান সাহেব উনার সম্পাদিত 'বেহাত বিপ্লব ১৯৭১' শিরোনামের বহিতে 'মুক্তির গান' নামে ১৯৯৫ সনে লেখা উনার একখানা গান প্রকাশ করিয়াছেন। গানখানা হয়তো আপনারা কেহ পড়িয়াছেন, কেহ হয়তো পড়েন নাই। তয়, গানখানা পাঠে বিশেষ চিন্তার ফলন হয়। সেইটা কেমন? আচ্ছা, আমি গানখানা তুলিয়া দিতেছি। আপনারা পাঠ করিয়া দেখেন -
মুক্তির গান
সলিমু্ল্লাহ খান
যে যুদ্ধ করেছিল সে মুক্তিযোদ্ধা
যে যুদ্ধ করে নাই সেও মুক্তিযোদ্ধা
ওসমানির কাগজ পেয়েছিল যে সে মুক্তিযোদ্ধা
যে সই দিয়েছিল নিজের কাগজে সেও মুক্তিযোদ্ধা
যে ভাবছিল যুদ্ধ হবে দীর্ঘস্থায়ী সে মুক্তিযোদ্ধা
আমেরিকা এসে যাবে ধরে নিয়েছিল যে সেও মুক্তিযোদ্ধা
নয় মাস দৈনিক লিখেছে পাকিস্তানে যে সে মুক্তিযোদ্ধা
রায়ের বাজার গড়ে লাশের পরে লাশ ফেলেছে যে সেও মুক্তিযোদ্ধা
শুনি বাংলাদেশ (ব্রিটিশ) তামাক কোম্পানি
সিঙ্গার সেলাইকল সত্যি শুনি বিশ্বব্যাংক সেও মুক্তিযোদ্ধা
একদিন নিশ্চয় শুনব জেনারেল এহিয়া
ছিল ছদ্মবেশে সেও মুক্তিযোদ্ধা
আমি আর বিস্মিত হব না
প্রিয় পাঠকগন, এইবার আপনাদের সাথে আলোচনা করা যাইতে পারে উপরোক্ত গানখানা পাঠে আপনাদের কি কি চিন্তা উৎপাদন হইয়াছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

