দেশের জ্বালানী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কনকো ফিলিপসের সাথে সম্পাদিত চুক্তি বাতিলসহ জাতীয় কমিটির ৭ দফা দাবিতে হরতালসহ গণআন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণাঃ
> কনকো ফিলিপসের সঙ্গে দেশ ও জনগণের জন্য সর্বনাশা চুক্তি মানিনা।
> গ্যাস কয়লা রফতানি হবে না। ‘খনিজ সম্পদ রফতানি নিষিদ্ধকরণ আইন’ বাস্তবায়ন কর।
> জাতীয় সম্পদ দেশের বিদ্যুৎ ও শিল্পায়নে কাজে লাগাতে হবে।
> আর কোন পিএসসি নয়। জাতীয় সংস্থার বিকাশ চাই। আমাদের বিশেষজ্ঞ ও তরুণদের নেতৃত্ব দিতে হবে।
> সকল চুক্তি প্রকাশ কর। শেভরন ও নাইকোর কাছ থেকে ৩৬ হাজার কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ আদায় কর।
> জ্বালানী মন্ত্রণালয়কে লুটেরা বহুজাতিক কোম্পানির রাহু থেকে মুক্ত কর। দুর্নীতিবাজ কমিশনভোগীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
গত ১৬ জুন জাতীয় স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে, দেশের জ্বালানী নিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মধ্যে নিক্ষেপ করে বাংলাদেশ সরকার বঙ্গোপসাগরের দুটো গ্যাস ব্লকের (১০ ও ১১) গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য কনোকো ফিলিপস নামের একটি মার্কিন কোম্পানির সাথে চুক্তি সম্পাদন করেছে। এই চুক্তি সম্পাদনের মধ্য দিয়ে শুধু যে এই দুটি ব্লকের উপর যে মার্কিন কোম্পানির দখলীস্বত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত হল তাই নয় বরং এরই পথ ধরে বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগরের গ্যাস সম্পদের উপর মার্কিনসহ আরও অন্যান্য বহুজাতিক তেল কোম্পানিগুলোর দখলীস্বত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত করার পথ পরিষ্কার করা হল।
যে রপ্তানীমুখী পিএসসি-২০০৮ এর অধীনে এই চুক্তি সম্পাদন করা হল, অবৈধ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের তৈরী করা এই পিএসসির জাতীয় স্বার্থবিরোধী ধারা ও এর বিপদ সম্পর্কে বিভিন্ন দেশপ্রেমিক বিশেষজ্ঞ বারবার সতর্ক করেছেন। জাতীয় কমিটি শুরু থেকেই যুক্তি তথ্য ও বিশ্লেষণসহ এর প্রতিবাদ করে এসেছে। জাতীয় স্বার্থে ‘পিএসসি ২০০৮’ বাতিল, জাতীয় সক্ষমতা বিকাশসহ লুন্ঠন, পাচার ও দুর্নীতির হাত থেকে রক্ষা করে জ্বালানী সম্পদকে জনগণের জন্য সর্বোত্তম উপায়ে ব্যবহারের জন্য ২০০৮ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে কমিটি অসংখ্য কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে আছে-
> ২০০৮ সাল থেকে শুরু করে বহুসংখ্যক সংবাদ সম্মেলন।
> নির্বাচনের আগে ও পরে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনসহ জ্বালানী নিরাপত্তা নিশ্চিত করবার জন্য সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা পেশ।
> দেশব্যাপী মানববন্ধন।
> ঢাকা-কক্সবাজার রোড মার্চ।
> ২ সেপ্টেম্বর ২০০৯, ঘেরাও এর জন্য পেট্রোবাংলা অভিমুখে মিছিল।
> ১০ সেপ্টেম্বর ২০০৯ প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান।
> ১৪ সেপ্টেম্বর ২০০৯, হরতাল।
> ১৫ অক্টোবর ২০০৯ জ্বালানী বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সাথে বৈঠক। ‘খনিজ সম্পদ রফতানি নিষিদ্ধকরণ আইন’ এর খসড়াসহ ব্যাখ্যাসহ দাবিদাওয়া প্রদান।
> ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে পদযাত্রা।
> জাতীয় কনভেনশনের মাধ্যমে জাতীয় কমিটির ৭ দফা দাবি উপস্থাপন।
> বিভাগীয় সমাবেশ।
> অক্টোবর ২০১০ ঢাকা-ফুলবাড়ী লংমার্চ। লক্ষ মানুষের উপস্থিতিতে ফুলবাড়ী ঘোষণা। জ্বালানী ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা।
> জ্বালানী মন্ত্রণালয় ঘেরাও।
> এছাড়া অসংখ্য মিছিল, সমাবেশ, প্রকাশনা, মতবিনিময় সভা।
জনগণের দিক থেকে এতসব চেষ্টা সত্ত্বেও কেন সরকার ‘মডেল পিএসসি ২০০৮’ বাতিল করেনি তার ব্যাখ্যা পাওয়া যায় উইকিলিকসের মাধ্যমে ফাঁস হওয়া তথ্য থেকে। একই কারণে উন্মুক্ত খনির ধ্বংসাত্নক তৎপরতাও অব্যাহত রাখা হয়েছে। যা থেকে আবারো পরিষ্কার হয় যে, জ্বালানী মন্ত্রণালয় দুর্নীতিবাজ ও কমিশনভোগীদের মাধ্যমে বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানি ও সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থরক্ষার আস্তানায় পরিণত হয়েছে, যাকে আমরা এখন অভিহিত করি ‘কাশিমবাজার কুঠি’ হিসেবে।
বাংলাদেশে বিদ্যমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, দারিদ্র ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, ক্রমবর্ধমান হারে গ্যাস ও বিদ্যুৎখাতে ভর্তুকি বৃদ্ধি, শিল্পখাতে সংকট, কৃষি ও শিল্পখাতে উৎপাদন ব্যয়বৃদ্ধি, খনিজসম্পদ ঘিরে দেশি বিদেশি মাফিয়া গোষ্ঠীর তৎপরতা বৃদ্ধির পেছনে বহুজাতিক কোম্পানির সাথে অতীতের বিভিন্ন চুক্তি ও দেশি বিদেশি লুটেরা গোষ্ঠীর দখলীস্বত্ত্ব প্রতিষ্ঠার অধিকতর তৎপরতাই দায়ী। কনকো ফিলিপসের সঙ্গে চুক্তি এই অপতৎপরতারই অংশ। এর পাশাপাশি চীন, রাশিয়া, ভারতের বিভিন্ন কোম্পানিকেও বাংলাদেশের জ্বালানীখাতে কর্তৃত্ব প্রদানের অপচেষ্টা চলছে। বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন, জার্মানী, যুক্তরাজ্য, রাশিয়াসহ দেশি বিদেশি লুটেরাগোষ্ঠী ভাগবন্টন করে নেবে আর দেশের মানুষ দারিদ্র আর গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে বিপর্যস্ত হবেন এটা আমরা মেনে নিতে পারি না।
তাই কনকো ফিলিপসএর সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি বাতিল, আর কোন পিএসসি স্বাক্ষর না করে জাতীয় সক্ষমতার বিকাশ সহ জাতীয় কমিটির ৭ দফা দাবিতে আমরা হরতালসহ নিম্নোক্ত কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছি। এই হরতাল ক্ষমতা নিয়ে কামড়াকামড়ি বা সহিংসতার হরতাল নয়। অনিচ্ছায় বা ভয়ে নয়, জনগণ এই হরতাল পালন করবেন তার নিজের স্বার্থে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে, বাংলাদেশের অস্তিত্বের স্বার্থে, স্বতস্ফূর্তভাবে, স্বউদ্যোগে।
কর্মসূচি:
> ২১ জুন থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত ঢাকা শহরের বিভিন্ন থানায় পদযাত্রা কর্মসূচি।
> ২০ জুন থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণী-পেশাজীবী-ছাত্র-যুব সংগঠনের সাথে মতবিনিময়।
> ৩ জুলাই ২০১১ রোববার ঢাকা শহরে অর্ধদিবস (সকাল ৬টা থেকে ১২টা পর্যন্ত) হরতাল।
একইদিন জেলা শহরগুলোতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ।
দেশের সর্বত্র, থানা ও ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত ৩ জুলাই সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত কর্মবিরতি এবং বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার নারী পুরুষ দেশবিরোধী চুক্তি বাতিল, জাতীয় সম্পদ রক্ষা ও জনগণের স্বার্থে তার সর্বোত্তম ব্যবহারের দাবিতে প্ল্যাকার্ড-ফেস্টুন-ব্যানার হাতে প্রধান সড়কে দাঁড়াবেন।
দুর্বৃত্ত, দুর্নীতিবাজ, কমিশনভোগী ছাড়া দেশের সকল মানুষ এসব কর্মসূচিতে শামিল হয়ে দেশ ও জনগণের অস্তিত্বের পক্ষে গণরায় প্রকাশ করবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
তেল গ্যাস খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি
১৮ জুন ২০১১। মুক্তি ভবন। ঢাকা

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

