somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

" আমেরিকা - ইসরাইল গোপন পারমানবিক চুক্তির অজানা প্রেম কাহিনী " !!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!??????????????????

০৯ ই এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৩:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ওয়াশিংটন : যুক্তরাষ্ট্রের প্রচ্ছন্ন মদদে ইসরাইলের পারমাণবিক কর্মসূচীর প্রসার ঘটেছে। সে সময়ে নিক্সন প্রশাসন গোপন রাখার শর্তে তেলআবিবের পারমাণবিক কর্মসূচী বন্ধে কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি। ২০০৫ সালের ৩০ এপ্রিল এটোমিক সাইয়েন্সে প্রকাশিত এক নিবন্ধে এ কথা বলা হয়।
ইসরাইলের ইতিহাসবেত্তা ও “ইসরাইল এন্ড দ্য বোম্ব” বইয়ের লেখক আবনার কোহেন এবং মার্কিন পরমাণু অস্ত্রনীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ উইলিয়াম বার যৌথভাবে এই নিবন্ধটি লেখেন। এতে ওয়াশিংটনের সবচেয়ে গোপনীয় বিদেশনীতি “ইসরাইলের পারমানবিক কর্মসূচী” সম্পর্কে তৎকালীন নিক্সন প্রশাসনের গোপন দলিল থেকে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। ইরান ও উত্তর কোরিয়া পারমানবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) তে স্বাক্ষর করেছে, অথচ ইসরাইল কখনোই এনপিটি তে স্বাক্ষর করেনি। এর ফলে তারা রাষ্ট্রসংঘের অবরোধ আরোপের হুমকীর সম্মুখীন নয় এবং তাদের পারমাণবিক স্থাপনাসমূহে আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থাকে তদারকি চালাতে দিতেও বাধ্য নয়। স¤প্রতি প্রকাশিত দলিলগুলোতে ১৯৬৯ সালে হোয়াইট হাউসের গোপন আলোচনার গূঢ় তথ্য বর্ণনা করা হয়েছে। এই সময়টিতে এনপিটি ’র ভবিষ্যত এবং এতে স্বাক্ষর নিয়ে প্রায় অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এর প্রায় চার দশক পর যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানের তার পারমানবিক কর্মসূচী বন্ধ রাখার জন্য চেষ্টা করছে, তখন এই আলোচনার তথ্য বেরিয়ে আসে। প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিক্সন এবং ইসরাইলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী গোল্ডা মায়ার ১৯৬৯ সালে এমন এক গোপন সমঝোতায় উপনীত হন, যার ফলে ইসরাইলের পারমাণবিক কর্মসূচী বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ প্রয়োগের অবসান ঘটে।
১৯৫৮ সাল থেকে ইসরাইল গোপনে নেগেভ মরু অঞ্চলে ডিমোনা পারমাণবিক চুল্লিতে কাজ শুরু করে। সি আই এ বুঝতে পারে, ইসরাইল এক দশকের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র বানিয়ে ফেলবে। সিআইএ’র এই তথ্যের প্রেক্ষিতে কেনেডি ও জনসন প্রশাসন অভিনব কার্যক্রম শুরু করে। ইসরাইল যাতে পারমাণবিক বোমা বানাতে না পারে, সেজন্য তারা বছর বছর ডিমোনা সফর শুরু করলেন। জনসন প্রশাসনের কর্মকর্তারা ইসরাইলকে এনপিটি'’তে স্বাক্ষরের জন্য চাপ দিতে থাকেন। তারা হুমকী দেন, এ চুক্তিতে স্বাক্ষর না করলে ইসরাইলকে এফ-৪ ফ্যান্টম বিমান সরবরাহ বন্ধ করে দেবেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও ইসরাইল এনপিটিতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করে। তারা সুকৌশলে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচী গোপন করে ফেলে এবং মিথ্যা প্রতিশ্র“তি দেয় যে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে প্রথম পারমাণবিক বোমার মালিক হতে চায় না। কোহেন ও বারের প্রকাশিত নিবন্ধের তথ্যানুযায়ী, ১৯৬৯ সালে নিক্সনের নির্বাচন অভিযানকালে মার্কিন নীতির পরিবর্তন হয়। নিবন্ধে বলা হয়, নিক্সন প্রশাসন একটি গোপন দলিল তৈরী করে, যাতে ইসরাইলের পারমাণবিক উচ্চাভিলাষের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়। ১৯৬৯ সালের মার্চ মাসে তৎকালীণ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মেলভিন আর. লায়ার্ড লেখেন, “এই ধরণের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে নয় এবং সম্ভব হলে তা বন্ধ করতে হবে।” ইসরাইল তার পারমাণবিক ক্ষমতা প্রকাশ্যে প্রদর্শন করতে পারে এই চিন্তায় যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন ছিল।
১৯৬৯ সালের সেপ্টেম্বরে গোল্ডা মায়ারের ওয়াশিংটন সফরের আগেই নিক্সন প্রশাসন বুঝতে পারে যে, ইসরাইল ইতোমধ্যে পারমাণবিক বোমার অধিকারী হয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে দুই নেতার মধ্যে গোপন বৈঠক হয়। বৈঠকের বিস্তারিত বিবরণ জানা না গেলেও এটা প্রকাশ পায় যে, ঊভয়পক্ষে একটা সমঝোতা হয়। নিক্সনের নিরাপত্তা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জারের বক্তব্য অনুযায়ী জানা যায়, নিক্সন গোল্ডামায়ারকে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে ইসরাইল পারমাণবিক অস্ত্র প্রদর্শন করতে এবং পারমাণবিক পরীক্ষা চালাতে পারবে না। এর অর্থ দাঁড়ায়, যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে গোপনে তার পারমাণবিক কর্মসূচী চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেবে এবং যতদিন তেলআবিব তার পারমাণবিক কর্মসূচী গোপন রাখবে, ততদিন সে তা চালিয়ে যেতে পারবে। ওয়াশিংটনে ইসরাইলের তৎকালীণ রাষ্ট্রদূত ইজাক রবিন কিসিঞ্জারকে অনুুরোধ করেন যে, কিসিঞ্জার যেন নিক্সনকে বলেন, এনপিটিতে স্বাক্ষর করার ইচ্ছা ইসরাইলের নেই। নিক্সন মায়ার চুক্তিতে সেই থেকে ইসরাইলের পারমাণবিক কর্মসূচী বিশ্বের সবচেয়ে গোপন এবং ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র কর্মসূচী হিসেবে টিকে রয়েছে।

সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৩:২৩
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×