ঢাকার যানজট দীর্ঘদিনের সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানে ইতিপূর্বে অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। যার মধ্যে ৩ টি ফ্লাইওভার, নতুন সড়ক তৈরি, একমূখী চলাচল, লেন ব্যবস্থা, সিগ্যানালিং ব্যবস্থা, নতুন পাকির্ং অবকাঠামো তৈরি, হকার উচ্ছেদ, রিকশা বন্ধ, ট্রেনের সময়সূচী পরিবর্তন, ফুটওভার ব্রিজ তৈরি, সিএনজি থ্রি-হুইলারের লাইসেন্স সীমিতকরণ, এলাকাভিত্তিক মার্কেট বন্ধ রাখা ও বাস রুট পরিবর্তনসহ বিপুল অর্থ খরচ করে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। কিন্তু যানজট কমেনি, বরং যানজট ও জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। ঢাকা যানজট নিয়ন্ত্রণে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেও, প্রাইভেট গাড়ী নিয়ন্ত্রণ কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি, বরং প্রতিটি কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রাইভেট গাড়ীর সুবিধা বৃদ্ধি এবং গণপরিবহন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছে।
সাধারণ মানুষের জন্য গণপরিবহন ব্যবস্থায় আজ সুবিধা নেই বললেই চলে। ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে থেকে বাস পেতে হয়। সেই সাথে বাসে উঠতে গিয়ে ধাক্কাধাক্কি, যেন এক পকোর যুদ্ধ। বাস ভাড়া লাগামহীন। সাধারণ মানুষের পরিবহন রিকশা নিষিদ্ধ করা হয়েছে বিভিন্ন রাসৱায়। ফলে মানুষের যাতায়াত বিঘ্নিত হচ্ছে এবং ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে। সিএনজি ব্যবহার করে চলাচল সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে। সর্বোৎকৃষ্ট পরিবেশবান্ধব যাতায়াত মাধ্যম হেঁটে চলাচলের ফুটপাত দখল হয়েছে প্রাইভেট গাড়ীর পার্কিং দ্বারা, জ্রেবা ক্রসিং তুলে ফুটওভার ব্রিজ তৈরি করা হয়েছে, যা কোনভাবেই জনবান্ধব নয়। শব্দদুষণ, বায়ুদুষণ অনাকর্ষণীয় ফুটপাত মানুষকে হেঁটে চলতে নিরুৎসাহিত করেছে। এক বাক্যে বলা যায়, সাধারণ মানুষের অর্থ খরচ করে বিগত দিনে যে বিশাল পরিকল্পনা ও কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে তাতে শুধুমাত্র মানুষের যানজট ও ভোগানিৱ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
আসন্ন মহাসংকট?
বর্তমানে প্রাইভেট গাড়ীভিত্তিক যাতায়াতের জন্য যে নীতি অব্যাহত রয়েছে, এই অবস্থা চলতে থাকলে আগামী ৩০ বছর পর এ দেশের অবস্থা ভয়াবহ হবে। আগামী ৩০ বছরে এ দেশের জনসংখ্যা হবে প্রায় ২৫ কোটি। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রতিদিন যাতায়াত বৃদ্ধি পাবে। নানাবিধ কারণে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর অধিকাংশের গাড়ী কেনার সামর্থ্য হবে। যদি মাত্র ১০ ভাগ লোক গাড়ী কেনে তা হবে ২ কোটি ৫০ লক্ষ, যার পার্কিং এবং চলাচলের জন্য প্রচুর জায়গা নেবে। এছাড়া দূষণ, দূর্ঘটনা এবং জ্বালানী নির্ভরশীলতা বহগুণে বৃদ্ধি পাবে।
কার স্বার্থে নীতিগ্রহণ! জনগণ না স্বার্থান্বেসী মহল?
এডিবি/বিশ্বব্যাংক/আইএমএফ এর ইন্ধন: এডিবি/বিশ্বব্যাংক/আইএমএফ স্ট্রাকচারাল এডজাস্টমেন্ট পলিসির আওতায় কারিগরি ও নানা সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের পরিবহন ব্যবস্থাকে সঙ্কটাপন্ন করে তুলেছে। এ কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বহুজাতিক কোম্পানি হাতের তুলে দেয়া। যাতায়াত ব্যবস্থার নামে দেশের ঋণের অংক বৃদ্ধি পেলেও, সাধারণ মানুষের ভোগানিৱ বা যাতায়াত ব্যবস্থায় জনসাধারণের কোন সুবিধা হয়নি।
সড়ক বিভাগ বা সড়ক পথ হতে বাংলাদেশের কত টাকা লাভ হয়। তা কখনো হিসেবে করা হয় না। অথচ গণপরিবহন রেলের বরাদ্ধ কে লস বা ভতুকী হিসেবে তুলে ধরে রেল প্রাইভেট করার পরিকল্পনা করার পরামর্শ প্রদান করা হয়। রেল রাষ্ট্রীয় জনসেবামূলক সংস্থা। জনগনকে কতটুকু সেবা দিতে পারছে তা প্রতিষ্ঠানটির মানদণ্ড হওয়া প্রয়োজন। সড়ককে ঢালাও বরাদ্ধ এবং রাষ্ট্রীয় সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর লাভ লোকসানের চিন্তুা সৃষ্টি করা হয়েছে সুকৌশলে।
মধ্যসুলভ চিনৱা: অর্থাৎ প্রাইভেট কার কেন্দ্রিক চিনৱার উর্ধে উঠতে না পারা। তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ এসটিপি (ঝঃৎধঃবমরপ ঞৎধহংঢ়ড়ৎঃ চষধহহরহম)। এই পরিকল্পনায় প্রাইভেট কার ব্যবহারকারীদের জন্য ফ্লাইওভার, পার্কিংসহ নানা সুবিধা সৃষ্টির সুপারিশ করা হয়েছে। আর গণপরিবহন ব্যবস্থা বিশেষ করে যারা হেঁটে এবং রিকশায় চলাচল করে তাদের সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে।
ঠিকাদার/ঋণপ্রদানকারী গোষ্ঠী/প্রশাসন/অন্যান্যদের দুষ্ট চক্র: এই দুষ্ট চক্রটি কেউ মূনাফার লোভে, কেউ ঘুষের লোভে, কেউ ট্রেনিং বা কনসাল্টেন্সি বা কমিশনের লোভে দাতা তথা ঋণপ্রদানকারী গোষ্ঠীর স্বার্থে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাসৱবায়ন করে যাচ্ছে। তাই বছরের পর বছর গবেষণা ও প্রকল্প হলেও কোন সমাধান আসেনি, এসেছে মানুষের ভোগানিৱ।
বাস মালিক/সন্ত্রাসী/ প্রশাসনিক দুষ্ট চক্র: এই দুষ্ট গণপরিবহন ব্যবস্থাকে ধ্বংসে নানা কার্যক্রম বাসৱবায়ন করে থাকে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে বিআরটিসি-র বাস চলাচল বন্ধ করা, ট্রেনের সময় পরিবর্তন করা, রাষ্ট্রীয় পরিবহন পরিচালনাকারী সংস্থার সম্পদ ধ্বংস করা।
এলিভেটেড এঙপ্রেসওয়ে যানজট সমস্যার সমাধান করবে না
ঢাকা’র যানজট নিরসনের কারণ দেখিয়ে আবার ১৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে শাহজালাল আনর্ৱজাতিক বিমানবন্দর থেকে কুতুবখালি পর্যনৱ একুশ কিমি দীর্ঘ এলিভেটেড এঙপ্রেসওয়ে নির্মানের জন্য একটি প্রকল্প করেছে। যা প্রাইভেট গাড়ি নির্ভর অবকাঠামো। ঢাকা শহরে বর্তমানে ২% শতাংশ মানুষের প্রাইভেট গাড়ি রয়েছে, যার মাধ্যমে প্রতিদিন পাঁচ শতাংশের যাতায়াত হয়ে থাকে। আর তাতেই ঢাকা শহরে যাতায়াত সঙ্কট প্রকট আকার ধারন করেছে। এই এলিভেটর হলে গাড়ী আরো বৃদ্ধি পাবে এবং যানজট আরো প্রকট হবে।
এলিভেটেড এঙপেসওয়ে ও বাংলাদেশের জনগণ:
* অর্থ সঙ্কটের কথা বলে সরকার স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ হ্রাস করছে। অথচ এই একুশ কিমি এলিভেটেড এঙপ্্েরসওয়ের জন্য দেশের ১৬ কোটি মানুষের প্রায় ২.৫ বছরের স্বাস্থ্য বাজেটের সমান অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা ঢাকা শহরের অনধিক মাত্র ৫০ হাজার প্রাইভেট গাড়িওয়ালার যাতায়াত সুবিধা সৃষ্টি করবে। এই ধরনের কর্মকান্ড একবারেই অসাংবিধানিক।
* মাত্র ২% মানুষের জন্য ব্যয় ১৮ হাজার কোটি টাকা, যা দিয়ে আরেকটি নতুন শহর তৈরি অথবা দেশের অন্যান্য শহরে অনেক সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি করা সম্ভব, যা এই ঢাকা শহরের উপর জনসংখ্যার চাপ কমাতে সাহায্য করবে।
* এই অর্থ দিয়ে ঢাকা শহরে ৪০০ কিমি বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বাসের জন্য বিশেষ লেনসহ একটি দক্ষ বাস পরিচালনা ব্যবস্থা) নেটওয়ার্কসহ হাঁটা, সাইকেল ও রিকশাসহ অন্যান্য গনপরিবনের সমন্বয়ে কার্যকর যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।
* এই অর্থ সারা বাংলাদেশের ৩ বছরের যাতায়াত বাজেটের সমান।
এলিভেটর এঙপেস ও কতিপয় সমস্যা:
* রেলের জায়গার উপর দিয়ে এলিভেটেড এঙপ্রেসওয়ে তৈরির প্রেক্ষিতে, রেলের সমপ্রসারণ বাধাগ্রসৱ হবে।
* এই এলিভেটেড এঙপ্রেসওয়ে এর অর্থ সারা দেশের মানুষের হতে সংগ্রহ করা হবে। জনগণের করের পয়সা ব্যবহার করে, তাদের কাঁধে ঋণের বোঝা চাপিয়ে গুটিকয়েক মানুষের চলাচলের জন্য এলিভেটেড এঙপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা যুক্তিসঙ্গত নয়।
* এলিভেটেড এঙপ্রেসওয়ের র্যাম্প দিয়ে গাড়ি ওঠা-নামা এবং টোল আদায়ের স্থানে ভীষণ যানজট তৈরি করবে।
* এলিভেটেড এঙপ্রেসওয়ে নির্মাণের জন্য নিচের সড়কের ৫০ শতাংশ জায়গা নষ্ট হবে।
* পিপিপি-র মাধ্যমে করার প্রেক্ষিতে তাড়াতাড়ি লাভ তুলে নিতে বিভিন্নভাবে গাড়ীগুলোকে এলিভেটেড এঙপ্রেসওয়েতে উঠতে বাধ্য করা হবে। টোল প্রথার কারণে মানুষের যাতায়াত ব্যয় বৃদ্ধি পাবে।
* এ ধরনের অবকাঠামো অন্যান্য গণপরিবহন এবং হেঁটে চলাচলকারীদের প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করবে।
* এলিভেটেড এঙপ্রেসওয়ে প্রাইভেট গাড়ি বৃদ্ধি করবে। যা দূষণ, জ্বালানী নির্ভরতা, দূর্ঘটনা, যাতায়াত খরচ এবং শহরের তাপামাত্রা বৃদ্ধি করবে।
এলিভেটেড এঙপ্রেসওয়ে সম্পর্কে একটি উদাহরণ সৃষ্টি করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে ২০০৫ সালে এলিভেটেড একওপ্রেসওয়ে ভেঙ্গে লেক পুনরদ্ধার করা হয়েছে। উল্লেখ্য ১৯৬০ এর দশকে সেখানে জলাধঅরের উপর কংক্রীটের আচ্ছাদন দিয়ে ্পরে এলিভেটেড এঙপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হয়। কিন্তু এর কারণে ১৯৮০ এর দশকে প্রাইভেট গাড়ি বেড়ে যাওয়ায় দূষণ, দূর্ঘটনা ও শহরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। বিশ্বের আরো অনেক শহরেই এ ধরনের অবকাঠামো বিলুপ্ত করছে। এ রকম দৃষ্টানৱ চোখের সামনে থাকার পরও ঢাকা শহরে নতুন করে সমস্যা সৃষ্টির কোন যৌক্তিকতা নেই।
ঢাকার যানজট সমস্যা শুধু রাসৱা করে সমাধান করা সম্ভব নয়
ঢাকার যানজট একটি লাভজনক ব্যবসা। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন প্রকল্প আর কাজ এ ব্যবসাকে প্রসারের সাথে সাথে বৃদ্ধি করেছে সমস্যা। প্রতিটি সমস্যা আবার সুযোগ সৃষ্টি করছে নতুন নতুন ব্যবসার ক্ষেত্র। ঢাকা’র যাতায়াত ব্যবস্থায় জনসাধারণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রকল্পকেন্দ্রিকতা থেকে বের হয়ে সমাধানের সঠিক উপায় খুঁজে বের করা প্রয়োজন।
যাতায়াতের ক্ষেত্রে প্রকৃত কারণগুলি অনুসন্ধান করে সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে যানজট সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। তবে যে কোন পরিকল্পনা গ্রহণ করার পূর্বে পূর্ববর্তী পরিকল্পনাগুলো কেন ব্যর্থ হয়েছে তা যথার্থ ও নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। একই সাথে কোন বিবেচনা ছাড়াই বর্তমানের সঙ্কট নিরসনে কোন ব্যয়বহুল/বিলাসী প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে তা বিচার ও বিবেচনা করা জরুরি।
ঢাকা শহরের উন্নয়নের নামে সারা দেশের মানুষের অর্থ শোষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষ ন্যূনতম নৌ, রেল বা সড়ক যোগাযোগের জন্য যখন জীবিকা নির্বাহী বা মৌলিক প্রয়োজন নিশ্চিত করতে পারে না। ঠিক তখন ঢাকা শত শত কোটি টাকা সিগন্যাল, কাপের্টিং গবেষণাসহ নানাখাতে সড়ক উন্নয়নে ব্যয় হয়। অথচ এ অর্থ যোগান দিতে হয় সারা দেশের মানুষকে।
দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও তার সুফল সর্বত্র সুষম বন্টনের লক্ষ্যে অন্যান্য শহরগুলির উন্নয়ন জরুরী। কিন্তু দেশে সব কিছুই ঢাকার মধ্যে পুঞ্জীভূত করা হচ্ছে। রাজনীতি, প্রশাসনিক-নিরাপত্তা কর্মকান্ড থেকে ব্যাবসা-বাণিজ্য, কল-কারখানা, শিক্ষা-স্বাস্থ্যসেবা, অফিস আদালত সব কিছুই ঢাকাকে কেন্দ্র করে। তাই চাকরি, ব্যাবসা, ছেলেমেয়েদের পড়ালেখা, পরিবারের সুচিকিৎসা, বিনোদন এসব কিছুর আশায় মানুষ আজ ঢাকামূখী।
দেশে যে কোন দূর্যোগে সর্বহারা মানুষ দু-মুঠো ভাত পাবার আশায় কাজের জন্য ছুটে আসছে ঢাকা শহরে । এই অতিরিক্ত মানুষের চাপে ঢাকার জনজীবনে নানা সঙ্কট বৃদ্ধি পাচ্ছে। ধীরে ধীরে লোপ পেতে বসেছে মানুষের সকল সুযোগ-সুবিধা। ঢাকা যত বেশি বিনিয়োগ হবে, সারা দেশে হতে অভাবী ও কর্মসংস্থানহীন মানুষ আসা আরো বৃদ্ধি পাবে। যা এই শহরের যাতায়াত, পয়নিষ্কাশনসহ নানা সমস্যাকে আরো প্রকট করে তুলবে। আর সেই অবস্থা হতে পরিত্রানে আমাদের বিকল্প চিনৱা করতে হবে।
ক্রমবর্ধমান সমস্যার সমাধানে বিকল্প রূপরেখা
আমরা যদিও চাই প্রতিটি মানুষের প্রাইভেট গাড়ী হবে তা সম্ভব নয়। আমাদের ভাবতে হবে এ মানুষগুলোর খাদ্য, বাসস্থান, স্বাস্থ্য, খেলাধূলা, মাঠ, পার্ক, ইকোসিষ্টেম, জলাধার, পয় নিষ্কাশন ব্যবস্থা উম্মুক্ত স্থান কি পরিমাণ প্রয়োজন হবে। দুঃখজনক হলেও সত্য যাতায়াত পরিকল্পনা বা সিদ্ধানৱ গ্রহনের ক্ষেত্রে এই মৌলিক বিষয়গুলো না ভেবে শুধু গাড়ী চলাচলের কথা চিনৱা করে সিদ্ধানৱ গ্রহণ করা হয়।
পূর্বেই আলোচনায় করা হয়েছে, ঢাকার সমস্যা শুধু ঢাকাকে দিয়ে বিবেচনা করা হলে চলবে না। ঢাকায় যত বেশি বিনিয়োগ করা হবে, তত বেশি মানুষ ঢাকায় আসবে। তাই দেশের অন্যান্য অঞ্চলগুলোর সমন্বিত উন্নয়ন জরুরি। এ ভাগে সংক্ষিপ্ত আকারে আমাদের কতিপয় সুপারিশ তুলে ধরছি।
যানজট হ্রাস ও মানুষের মৌলিক প্রয়োজন নিশ্চিতে বিকল্প রূপরেখা
জনসংখ্যা, প্রশাসন ও রাজনৈতিক:
১ প্রথমত দেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এছাড়া বড় বড় শহরের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করতে সারা দেশব্যপী অঞ্চলভিক্তিক পরিকল্পনা মাফিক কর্মসংস্থান ও মৌলিক প্রয়োজন (স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাদ্য, বাসস্থান) নিশ্চিত করতে হবে যাতে মানুষ মাইগ্রেশন হতে নিরুসাহিত হয়।
২ দেশের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বিকেন্দ্রীয়করণ করতে হবে। এ ব্যবস্থা দেশের সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করবে।
যাতায়াতের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থা
নগর পরিকল্পনা:
১. কর্মসংস্থান ও বাসস্থান ব্যবস্থান এমন করতে হবে যাতে মানুষের প্রতিদিনের যাতায়াত সর্বনিম্ন হয়। ই-গভর্নেন্স সিস্টেম, মিশ্র এলাকার ব্যবহার নিশ্চিত করা।
২. ডিটেইল এরিয়া প্লান (ড্যাপ), ইমারত নির্মাণ বিধিমালা, ট্রান্সপোর্ট পলিসি, হাউজিং নীতি এর মধ্যে সমন্বয় করতে হবে।
মধ্যবর্তী ও দুরবর্তী যাতায়াত ব্যবস্থা:
১. মধ্য ও দুর পাল্লার যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য রেল ব্যবস্থাকে কার্যকর করা। যেখানে যাতায়াতের প্রধান কেন্দ্র হবে রেল কেন্দ্রিক। এর সঙ্গে নৌ ও সড়ক পথের সমন্বয়ে করে একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
শহরের যাতায়াত:
১. স্বল্প দুরত্বে যাতায়াতের জন্য পায়ে হাঁটাকে অগ্রাধিকার প্রদান। হাটার জন্য উপযোগী ফুটপাত তৈরি, শহরে বায়ূ ও শব্দদূষণ, ফুটপাতে গাড়ী পার্কিং বন্ধ করা। হকারদের সুন্দরভাবে বসার ব্যবস্থা করা, যা পথচারীদের নিরাপত্তা ও হাঁটতে উৎসাহী করবে।
২. শহরের ভেতর প্রতিটি এলাকার জন্য গনপরিবহন ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার প্রদান। পাবলিক বাসে যাতায়াত করার জন্য পর্যাপ্ত সুবিধা নিশ্চিত করা।
৩. নগর কর্তৃপক্ষের অধীন বাস পরিচালিত হবে। বাসের ভাড়া, মান, রুট, পরিমান ইত্যাদি সকল কিছুই নিয়ন্ত্রণ করবে নগর কর্তৃপক্ষ।
৪. শহরের যাতায়াত হবে রেল স্টেশন কেন্দ্রিক। রেল স্টেশন হতে বিভিন্ন এলাকায় বাসে, হেঁটে, সাইকেলে এবং রিকাশায় যাতায়াত নিশ্চিত করা।
৫. রিকশা ও সাইকেলের জন্য আলাদা লেন তৈরি করা। সাইকেল চালনায় মানুষকে উৎসাহী করা।
পাবলিক পরিবহন উন্নয়নের মাধ্যমে প্রাইভেট গাড়ী নিয়ন্ত্রণ:
১. প্রাইভেট গাড়ী ক্রয়ে নূন্যতম আয়কর নির্ধারণ।
২. বড় গাড়ী শৌখিন গাড়ী একাধিক গাড়ীর আয়কর চক্রহারে বৃদ্ধি করা।
৩. গাড়ীর মালিকানা ও পরিচালনার কর বৃদ্ধি (রুট, লাইসেন্স ট্যাঙ বৃদ্ধি)
৪. নির্ধারিত স্থান ছাড়া পার্কিং নিষিদ্ধ
৫. জনগনের অর্থে পার্কিং তৈরি হতে বিরত থাকা।
৬. পিক আওয়ারে কিছু কিছু এলাকায় প্রাইভেট কার নিষিদ্ধ করা।
৭. বাজারমূল্যে পার্কিং ফি বৃদ্ধি করা।
৮. প্রাইভেট গাড়ির রেজিস্ট্রেশন সীমিত করা।
Source: http://emnbd.net/articleDetails.php?artID=68
যাতায়াত ব্যবস্থায় মহাসঙ্কট আসন্ন: সমাধানে বিকল্প রূপরেখা
৬ সেপ্টেম্বর ২০১০, গোলটেবিল বৈঠক, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্লানার্স

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

