পানি ব্যবস্থাপনায় বাণিজ্য নয় বরং সকলের বিশুদ্ধ পানির অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে
অব্যাহতভাবে পানির আঁধারগুলো দখলের ফলে এবং অব্যবস্থপনায় বিশুদ্ধ পানি দিন দিন দুর্লভ হয়ে উঠছে। যার সুযোগ নিচ্ছে মুনাফালোভী কিছু ব্যবসায়ী মহল। জীবনের এই অনিবার্য অধিকার পানির বাণিজ্য রোধে যথাযথ পদপে না নিয়ে বরং সরকারই এমন এক আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে যা হবে আত্মঘাতী। নতুন এ আইনে পানি ব্যবহারের জন্য লাইসেন্স প্রদান এবং মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে পানি বাণিজ্য সম্প্রসারণ হবে। পানি চলে যাবে সাধারণ মানুষের আয়ত্বের বাইরে, দেখা দিবে মানবিক দুর্ভোগ ও সামাজিক নৈরাজ্য। তাই পানির মত এমন একটি অনিবার্য প্রয়োজনীয় বিষয়টি কোন আইনের আওতায় আনতে হলে সাধারণ জনগোষ্ঠীর কথা ভেবে তা করতে হবে। আজ ১০ জানুয়ারী ২০১১, সোমবার সকাল ১১:০০ টায় ঢাবির চারুকলা ইন্সটিটিউটের সামনে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা), নগরবাসী সংগঠন ও গ্রীণমাইন্ড সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত এক মানববন্ধনে বক্তারা উপরোক্ত দাবী জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, পবার সহ-সম্পাদক মাহবুবুল আলম তাহিন, পীসের মহাসচিব ইফমা হোসেন, নগরবাসী সংগঠনের সভাপতি হাজী আনসার আলী, সহ-সভাপতি মো: কাশেম, গ্রীণমাইন্ড সোসাইটির সভাপতি আমির হাসান, লোকশিল্পী সম্রাট কুদ্দুস বয়াতী, পবার প্রোগ্রাম অফিসার আতিক মোর্শেদ, পুরান ঢাকা উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি নাজিম উদ্দিন, দুস্থ মানব কল্যাণ সংস্থার চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক পলাশ, সাংবাদিক উৎপল, জিয়াউর রহমার লিটু, মুসলিম যুব সংঘের সহ-সম্পাদক মো; আকবর হোসেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন গাজী লুৎফুল কবীর সুমন।
বক্তারা বলেন, এদেশে বিশুদ্ধ ও সুপেয় পানির রয়েছে বিরাট ভান্ডার। কিন্তু যথেচ্ছ ব্যবহার, পরিবেশ দূষণ, জরাধার ভরাট ও অপচয়ের কারণে তা সংকুচিত হয়ে আসছে। যার প্রভাব পড়ছে নগরবাসীর উপর বিশুদ্ধ পানির নামে উচ্চ মূল্যে বোতলজাত পানি বাণিজ্যের মাধ্যমে। তাই পানি সম্পদ রায় অবশ্যই পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তবে ব্যবস্থাপনার নামে তা বাণিজ্যিকীকরণ করা যাতে না হয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। কেননা আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা দেখতে পারি ঋণ প্রদানকারী সংস্থাগুলো ঋণ প্রকল্পের আওতাধীন প্রকল্পগুলোকে বেসরকারীকরণের আওতায় আনতে চাপ দেয়। নিত্য প্রয়োজনীয় এই পানির নিয়ন্ত্রণ যদি বেসরকারি খাতে চলে যায় তবে হু হু করে তা উচ্চমূল্যে চলে যাবে, যা সামজিক বিশৃঙ্খলার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। আমাদের দেশের যেখানে ৬০ ভাগ লোক অতি দরিদ্র । সেখানে ঢালাও ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে স্বাস্থ্য, শিা, অন্নসহ মৌলিক উপাদানগুলোর বাণিজ্যিকীকরণের প্রেেিত মূল্য বৃদ্ধি একটি বড় সমস্যা। সেই েেত্র পানি বাণিজ্যিক খাতে চলে গেলে মূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি প্রতিক’লে চলে যাবে।
বাংলাদেশে ছোট বড় প্রায় সাতশ নদ-নদী এবং অসংখ্য খাল-বিল, দিঘি-পুকুর ও হাওর-বাওড় রয়েছে। তাছাড়া বৃষ্টির পানিও পানি প্রাপ্তির এক বিরাট উৎস। এগুলোর সঠিক ব্যবস্থাপনা, অবৈধ দখলে থাকা জলাধারগুলোর উদ্ধার এবং প্রতিটি বাড়িতে পানি পুন:ব্যবহার প্রক্রিয়া চালু ও পানি ব্যবহারে সচেতনতার মাধ্যমে আমরা পানির এ সংকট হ্রাস করতে পারি। সর্বোপরি বিপুল জনসাধারণের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সরকারের সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তার সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে পানি সংকট মোকাবেলা করা সম্বব।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


