প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ঠ সাংবাদিক কামাল লৌহানী, পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খান, নাসফের প্রেসিডেন্ট হাফিজুর রহমান ময়না, লেখিকা মিতালী হোসেন, কবি লিলি হক, জিন্দা পার্কের সদস্য গোলাম হাসান প্রমুখ।
নানা প্রতিকূলতায় ঢাকা মহানগরীর বিনোদনের স্থান যখন ক্রমেই সংর্কীণ হয়ে আসছে। এই সীমাবদ্ধতার মাঝেও তুলেছে এক প্রাকৃতিক প্রতিমা। সৌন্দর্য্যবর্ধক ও পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন স্থাপনাসমেত দীর্ঘ দিনের আন্তরিক যতেœর ফসল এই পার্কটি হাজারো তরুণের স্বপ্নের সফল বাস্তবায়ন। পাশাপাশি এটি আজ নগরবাসীর বিনোদনের অন্যতম স্থান হিসেবে বিবেচিত। নামমাত্র পূঁজি নিয়ে কতিপয় যুবক তিন দশক পূর্বে সামাজিক প্রয়োজনীয়তা, দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধের তাগিদ থেকে অগ্রপথিক পল্লী সমিতি নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলে। যাদের আন্তরিক উদ্যোগে তৈরি হয় বিদ্যালয়, লাইব্রেরী, খেলার মাঠ, মসজিদ, মক্তব, ঈদগাঁহ, গোরস্তান, কিনিক, কার্যালয় আর প্রয়োজনীয় ও সৌন্দর্যবর্ধক বিভিন্ন স্থাপনাসমেত অরণ্য সমন্বিত এক নিসর্গ। যা জিন্দা পার্ক নামে অভিহিত। পল্লীর আর্থ-সামজিক উন্নয়নে বিভিন্ন অবদানের পাশাপাশি শিা ও সংস্কৃতি এবং বিনোদন কেন্দ্ররূপে একটি সামাজিক অবকাঠামো গড়ার প্রয়াসে দান, ক্রয় ও লিজের মাধ্যমে জমি সংগ্রহপূর্বক যাত্রা শুরু করে অগ্রপথিক পল্লী সমিতি। হাজারো সদস্যের সঞ্চয় আর অনুদানের অর্থে স্থাপিত এই পার্কের সম্পূর্ণ কার্যক্রম পরিচালিত হয় অনুকরণীয় গণতান্ত্রিক বিশেষ ব্যবস্থায়। স্বপ্ন সাধনা ও ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল এই প্রকল্পে বিভিন্ন প্রজাতির প্রচুর বৃ রোপন করা হয়েছে। যার স্বীকৃতি স্বরূপ অগ্রপথিক পল্লী সমিতি ২০০৬ সালে বৃরোপনে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরষ্কার পায়। পরিবেশের কোন তি না করে সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে গড়া এই পার্কের সাথে বিভিন্নভাবে জড়িত আছে এই এলাকার হাজার হাজার মানুষের জীবন জীবিকা। রাজউকের মাধ্যমে ভিটেমাটি হারা অনেক মানুষ নানাভাবে এ পার্কের রণাবেণের মাধ্যমে জীবন চালাচ্ছে। এলাকার সাধারণ মানুষের সরাসরি তত্ত্বাবধান ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ ও প্রকৃতির কোন তি না করে দেশজ প্রযুক্তিতে তৈরি বিভিন্ন বিনোদন অবকাঠামো ভ্রমণপিয়াসীদের নিত্য কাছে টানছে।
সাথে সারাদেশের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত এ জিন্দা পার্কটি ২০০৮ সালে উচ্ছেদের মাধ্যমে রাজউক বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু স্থানীয় এলাকাবাসী ও বিভিন্ন পরিবেশবার্দী সংগঠনের আন্দোলনের প্রেেিত এটি পার্ক হিসেবেই বহাল থাকে। আমরা মনে করি রাজউক এর মাধ্যমে এলাকাবাসীর ঐক্যে ফাঁটল ধরিয়ে পার্কটি দখল এবং ধ্বংসের উদ্যেশ্যেই মূল উদ্যোক্তাদের অপসারণের এ ফন্দি এঁটেছে। যাদের শ্রম ও মেধায় আজকের এই জিন্দা পার্ক তাদের উচেছদের মাধ্যমে মূলত এই পার্কটির অস্তিত্বই বিলীন হবে। কারণ আমরা দেখেছি পার্ক মাঠ রায় রাজউক ইতোপূর্বে কোন দৃষ্টান্ত রাখতে পারেনি। মূল উদ্যোক্তাদের অপসারণ করা হলে পার্কটির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা আর থাকবে না। ফলে ইকোলজি নষ্ট হবে, বিনোদনের বিপরীতে বাণিজ্য প্রতিষ্ঠা হবে। পূর্বাচল প্রকল্পে অনেক ভিটেমাটি হারা মানুষ এ পার্কের রণাবেণের সাথে জড়িত। ফলে বিরাট সংখ্যক মানুষের কর্মত্রে নষ্ট হবে। বিগত ৩০ বছরের হাজারো মানুষের বিনিয়োগ, শ্রম, মেধার অপূর্ব নিদর্শন জিন্দা পার্ক রায় ও এর যাবতীয় রনাবেণের দায়িত্ব মূল উদ্যোক্তাদের কাছেই রাখতে হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

