আমার প্রিয় পোস্ট

সত্য সমাগত, মিথ্যা অপসৃত...............।

আমার রবীন্দ্র পাঠ, সঞ্চয়িতা এবং একটি স্পর্শকাতর ইস্যু।

০৮ ই মে, ২০০৯ রাত ১১:১৯

শেয়ারঃ
0 0 0

আমার বয়স তখন সবে চৌদ্দ। নবম শ্রেনীতে উঠেছি। দুনিয়াটাকে মাত্র রঙিন রঙিন লাগা শুরু হয়েছে। সেবা'র পেপারব্যাক আর হুমায়ুনের বালক-বালিকার প্রেমের জগৎ ছেড়ে কাব্যের রাজপথে হাঁটাহাঁটি করতে মনস্থ করেছি। ব্যাপারটা এমন নয় যে তখন কবিতার প্রতি ততটা ভালোবাসা জন্মেছে। আসল ঘটনা ছিলো, বাঙালীর সে বয়সের স্বাভাবিক নিয়মেই, 'তুমি-আমি', 'খাই-যাই' কিংবা 'করি-ধরি' টাইপের ছন্দবিক্ষুব্ধ (!) কবিতা লিখবার জোর প্রচেষ্টা (অপচেষ্টা) চালাচ্ছি। কিন্তু, স্কুলের পাঠ্যবইয়ের বাইরে তেমন একটা কবিতা পড়া না থাকায় কলম হতে লেখাই বেরুচ্ছিলো না!

ভেবে দেখলাম কিছু কবিতা পাঠ আবশ্যক। পাশেই থাকতেন শ্যামল ভাই (এখন কিশোরগঞ্জ জেলা জজ)। শিল্প-সাহিত্যের সাথে তাঁর বেশ যোগাযোগ ছিল দেখতাম। অতএব, তাঁর কাছে গিয়ে ধর্ণা দিলাম, একটা কবিতার বই চাইলাম। তিনি ধরিয়ে দিলেন 'নির্মলেন্দু গুণ কবিতাসমগ্র'। 'প্রেমাংশুর রক্ত চাই' কিংবা 'হুলিয়া' পড়ে ভালো লাগলে ও সে বয়েসে এ সব বিপ্লবী কবিতার মর্মার্থ উদ্ধার আমার পক্ষে পুরোপুরি সম্ভব ছিল না! তার উপর ছন্দ-মাত্রার আগা মাথা নেই।

শেষ করে আবার গেলাম। এবার, এক কাঠি সরেস! ধরিয়ে দিলেন 'আল মাহমুদ কাব্যসমগ্র'। সন্দেহ নেই, এ কবিতা গুলো গুণের কবিতার চেয়ে ভালো লেগেছিল। 'সোনালি কাবিন' আর 'নোলক' পড়ে কী যে ভাল লেগেছিল, বোঝানো সম্ভব নয়। পুরো বইটাই গোগ্রাসে গিলে ফেললাম।

এবার, গিয়ে ভালো মত ধরলাম। রবীন্দ্রনাথের কবিতাসমগ্র দিতে হবে! তখন পর্যন্ত, রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে আমার ধারনা ছিলো এই রকম- . উনি খুব ভালো কবিতা লিখতেন। সে জন্য তাঁকে কবিগুরু বলে। . ১৯১৩ সালে 'গীতাঞ্জলী' কাব্যের জন্য উনি নোবেল পুরষ্কার পান। এ জন্য তাঁকে বিশ্বকবি বলে। . উনি অনেক ভালো ভালো গান লিখেছেন যাকে রবীন্দ্র সংগীত বলে। (আরেক বড় ভাইয়ের কল্যানে তখন আমি সাগর সেনের ভক্ত)। আমাদের জাতীয় সংগীত ও একটা রবীন্দ্র সংগীত! . গান ও কবিতার পাশাপাশি তিনি বেশ কিছু কঠিন কঠিন গল্প-উপন্যাস লিখেছেন যে ছোটদের বোঝার সাধ্য নেই।
(আমি আজো মনে করি, বাঙলাদেশের বেশীরভাগ মানুষের এর চেয়ে বেশী ধারনা নেই)

এই পরিমান রবীন্দ্র জ্ঞান সম্বল করে গিয়ে যখন দেখলাম, শ্যামল ভাই হাসি মুখে বিশ্বভারতীর ১৯ খন্ডের সবগুলো বের করেছেন, তখন আমার অবস্থা বুঝে দেখুন! বাংলাতে এক কথায়, চক্ষু চড়কগাছ বোধহয় একেই বলে! ও খোদা! এত কিছু লিখেছেন নাকি এ ভদ্রলোক?

যাই হোক, বুকে বল নিয়ে এগিয়ে গেলাম। কী মনে করে তৃতীয় খন্ডটা তুলে নিয়ে গেলাম। 'অনন্ত প্রেম' এর 'তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি শতরূপে শতবার' পড়ে একেবারে দেওয়ানা হয়ে গেলাম। সেখান থেকেই আমার রবীন্দ্র প্রেম শুরু।

কয়েক দিনের ভেতর হাতে এলো সুনীলের 'প্রথম আলো'। যে এই বই পড়ে নি সে জানেই না যে, সে কী হারিয়েছে। কবি হিসেবে রবীন্দ্রনাথের উত্থানকে একেবারে উপন্যাসের পাতায় বেঁধে ফেলে সুনীল একটা কাজের কাজ করেছেন। সে সময়ই সুনীলের একটা লেখায় পড়েছিলাম, 'রবীন্দ্রনাথের লেখা যে তন্ন তন্ন করে পড়ে নি, তার বাংলা ভাষায় কলম ধরার অধিকার নেই'। সামান্য আবেগমথিত অতিকথন মনে হলে ও রবীন্দ্রনাথের স্থান কোথায় সেটা ঠিকই বুঝে ফেলেছিলাম। পরবর্তীতে মৈত্রয়ী দেবীর 'মংপুতে রবীন্দ্রনাথ' পড়ে এই ভদ্রলোকের সাথে পরিচয়টুকু আরো গাঢ় হল।

তখনো 'সঞ্চয়িতা' নামের বাইরে এই সংকলন সম্পর্কে বেশী কিছু জানি না! একদিন কিভাবে যেন হাতে এসে গেলো। এরপর থেকেই এটি আমার নিত্য সহচর। 'গীতাঞ্জলী'র জন্য কবি নোবেল পেয়েছেন সত্যি, কিন্তু 'সঞ্চিয়তা'কে আমার এর চেয়ে ভালো বলে মনে হয় (যদিও গীতাঞ্জলীর ১৬ টি কবিতাও এখানে ঠাঁই পেয়েছে)! এক কথায়, একটা মাষ্টারপিস্‌। কী নেই এতে? প্রেম-বিরহ, আবেগ-উচ্ছ্বাস, থেকে শুরু করে মৃত্যু ভাবনা পর্যন্ত সবই এসেছে এখানে। শেষ বয়সের কয়েকটা কবিতা ছাড়া এ সংকলনের সবগুলো কবিতাই কবি নিজে বেছে নিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, "আমার লেখা যে সকল কাব্যগ্রন্থ দীর্ঘকাল পাঠকদের পরিচিত, এই গ্রন্থে তাদেরই থেকে বিশেষ করে সংগ্রহ করা হয়েছে"।

এবার, বলি, এটি এতো প্রিয় কেন। আমার মনের যে কোন অবস্থায় একে আমি সহচর হিসেবে পেয়েছি। প্রথম প্রেমের বেলায় সে বলেছিল-
'তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি শতরূপে শতবার' (অনন্ত প্রেম)
কিংবা
'আর কতদুরে নিয়ে যাবে মোরে হে সুন্দরী'। (নিরুদ্দেশ যাত্রা)
আবার বিরহ বেলায় সে গেয়ে ওঠে-
'শুনেছি আমারে ভালই লাগে না নাইবা লাগিলো তোর'। (রাহুর প্রেম)
কঠিন জীবনের কথা বলে,
,আমি যে দেখেছি প্রতিকার হীন, শক্তের অপরাধে/ বিচারের বাণী নিরবে নিভৃতে কাঁদে' (প্রশ্ন)
পরবর্তী প্রজন্মের কথা,
'আজি হতে শতবর্ষ পরে/ কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি/ কৌতুহলভরে,' (১৪০০ সাল)
মৃত্যু চিন্তা,
'একদিন এই দেখা হয়ে যাবে শেষ,/ পড়িবে নয়ন পরে অন্তিম নিমেষ।' (দূর্লভজন্ম)
মিথ্যের উপাসনা,
'রথযাত্রা, লোকারণ্য, মহা ধুমধাম/ ভক্তেরা লুটায়ে পথে করিছে প্রনাম/ পথ ভাবে,'আমি দেব, রথ ভাবে,'আমি'/ মূর্তি ভাবে, 'আমি দেব', হাসে অন্তর্যামী'।' (ভক্তিভাজন)
তারুণ্যের উচ্ছ্বাস,
'আজি এ প্রভাতে রবির কর,/ কেমনে পশিল প্রানের 'পর?' (নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ)
হাহাকার,
'তখন কাঁদি চোখের জলে দু’টি নয়ন ভরে/ তোমায় কেন দিই নি আমার সকল শূণ্য করে?' (কৃপণ)
স্রষ্টার রূপ,
'সীমার মাঝে, অসীম, তুমি বাজাও আপন সুর' (সীমায় প্রকাশ)

এমনি করে জীবনের পদে পদে একে পেয়েছি বলেই এটি এতটা আপন হয়ে আছে। হাসি-কান্নায়, বিরহ-বেদনায়, প্রেম-ভালবাসায়, একাকী প্রহরে, কিংবা একেবারে কোন কিছু ছাড়াই এই বইকে পাশে পেয়েছিলাম। এই অর্থে আমি একজন রবীন্দ্র ভক্ত।

সবশেষে, একটি স্পর্শকাতর ইস্যু। . জমিদার রবীন্দ্রনাথ বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই শ্রেনীস্বার্থকে জয় করে সাধারণ প্রজাদের কাছাকাছি নেমে আসতে পারেন নি। . সেই দৃষ্টিকোণ হতেই সম্ভবতঃ তিনি বঙ্গভঙ্গ এবং ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিরোধিতা করেছিলেন। . ইংরেজ শাসনের প্রতি তাঁর নিরব সমর্থন ছিলো, যদিও পরে তিনি তাঁর ভুল বুঝতে পারেন। . সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান বাঙ্গালী তাঁর লেখাতে এক প্রকার উপেক্ষিতই ছিলো। ভারতবর্ষের ইতিহাস আলোচনায় পুরো মোঘল-পাঠান আমলকে (আওরঙ্গজেব-শিবাজী দ্বৈরথ বাদে) তিনি যেন সচেতনভাবেই এড়িয়ে গিয়েছেন।

(কলেবর বৃদ্ধির আশংকায় এ সবের রেফারেন্স দিচ্ছিনা, প্রয়োজন হলে দিয়ে দেব)

এমতাবস্থায়, আমার কথা হলো, ভালো-মন্দ মিলিয়েই মানুষ। রবীন্দ্রনাথ ও মানুষ বৈ অন্য কিছু ছিলেন না। তাঁকে গুরুদেব আখ্যা দিয়ে মহামানবের পর্যায়ে তোলার কী দরকার? তাঁর জমিদারি কিংবা রাজনৈতিক সত্ত্বা, কখনো তাঁর কবি সত্ত্বাকে ছাড়িয়ে যেতে পারবে না, এরা তাঁর কবি মানসের উপর তেমন একটা প্রভাব ফেলেছে এমন ও নয়। রবীন্দ্রনাথ বাঙলা সাহিত্যের আকাশে সেই সূর্য যার কিরণকে অস্বীকার করে কেবলমাত্র অল্প কিছু দূর্লভ প্রতিভাবানই এখানে স্থান করে নিতে পেরেছেন। সুতরাং, তাঁর কবি সত্ত্বার সাথে অন্য কিছু মিশিয়ে না ফেলাই উত্তম। এতে আমরা অন্ততঃ রবীন্দ্রের সৃষ্টি হতে বঞ্চিত হব না, হতে চাই ও না!

 

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মে, ২০০৯ রাত ১১:২৪ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৮ ই মে, ২০০৯ রাত ১১:৩৯
আহমেদ রাকিব বলেছেন: ভালো বিশ্লেষন।
এক জায়গায় ভালো মিলে গেল।
আমিও এই লাইন পইড়া পুরা দিওয়ানা হইছিলাম
'তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি শতরূপে শতবার' (অনন্ত প্রেম)

সবচেয়ে ভালো লাগলো যেই কথাটা হইল
সুতরাং, তাঁর কবি সত্ত্বার সাথে অন্য কিছু মিশিয়ে না ফেলাই উত্তম।

কলেবর বাড়তে পারে বলেই আমিও কিছু বললাম না। নয়তো তোমার কথার পালটি কিছু কথা আমারো ছিল। :)

০৯ ই মে, ২০০৯ রাত ১২:০০

লেখক বলেছেন: লেখার কলেবর যত ছোটই হোক না কেন, মন্তব্যের কলেবর যথাসম্ভব বড় হওয়াই উত্তম।
লেখক মন্তব্য পাঠ করতে ভালোবাসেন।
যাই হোক, কালকের কবিতাটা পইড়া কমেন্ট দিয়া আসো, যাও!
হিহিহি।

২. ০৮ ই মে, ২০০৯ রাত ১১:৪৫
তারার হাসি বলেছেন:
"কয়েক দিনের ভেতর হাতে এলো সুনীলের 'প্রথম আলো'। যে এই বই পড়ে নি সে জানেই না যে, সে কী হারিয়েছে। কবি হিসেবে রবীন্দ্রনাথের উত্থানকে একেবারে উপন্যাসের পাতায় বেঁধে ফেলে সুনীল একটা কাজের কাজ করেছেন।"
ভাল একটা রেফারেন্স টেনেছেন আপনি।
ধন্যবাদ।
০৯ ই মে, ২০০৯ রাত ১২:০২

লেখক বলেছেন: আপনাকেও।

৩. ০৮ ই মে, ২০০৯ রাত ১১:৫৯
গুপী গায়েন বলেছেন: দারুণ লিখেছেন। ভাল লাগল। রসিক রবীন্দ্রনাথ নামে একটা ছোট্ট পোস্ট দিয়েছি। একটু ঘুরে আসবেন আশা করি। :)tp://www.somewhereinblog.net/blog/gupigayeen/28948143
সাথে জাতীয় সংগীত বিষয়ে লেখাটারও লিঙ্ক থাকল।

Click This Link
০৯ ই মে, ২০০৯ রাত ১২:০৪

লেখক বলেছেন: জ্বী, দু'টোই পড়েছি।
মন্তব্যের সুযোগ পাই নি।
ভালো লেখা নিঃসন্দেহে।

৪. ০৯ ই মে, ২০০৯ রাত ১:৪৪
ফারহান দাউদ বলেছেন: গুরুজীকে মহামানব করে তোলার দরকার নেই,তবে তাঁকে রোজকার মাঝে মিশিয়ে নিতে পারলেই শান্তি,লোকদেখানো আচারের চেয়ে কি রেখে গেছেন সেটা ভেতরে নেয়াই জরুরী। লেখাটা খুব ভাল হয়েছে।
০৯ ই মে, ২০০৯ সকাল ৮:৩৫

লেখক বলেছেন: সেটাই।
ধন্যবাদ।

৫. ০৯ ই মে, ২০০৯ রাত ১:৪৯
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন: 'রবীন্দ্রনাথের লেখা যে তন্ন তন্ন করে পড়ে নি, তার বাংলা ভাষায় কলম ধরার অধিকার নেই'।

সহমত।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কিত তথ্যটা কি দিতে পারেন।
০৫ ই আগস্ট, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১২

লেখক বলেছেন: খহুঁজি নি।
পেলে দেব।

৬. ০৯ ই মে, ২০০৯ রাত ১:৫১
অদ্রোহ বলেছেন: লেখাটি কবিগুরু পড়লে তিনিও বোধহয় আপনার পদধূলি নিতেন।
০৯ ই মে, ২০০৯ সকাল ৮:৩৪

লেখক বলেছেন: এভাবে লজ্জা দেবেন না জনাব।

৭. ০৯ ই মে, ২০০৯ সকাল ৮:৪২
তনুজা বলেছেন: লেখাটা প্রিয়তে রাখলাম

তবে রবীন্দ্রনাথের সমাজ সংস্কারের-- অন্যভাষায় জমিদারি কাজের সময়ও সমবায়ের কনসেপ্ট বিস্ময়কর। শিক্ষাবিস্তার সহ সামাজিক অনেক প্রচলিত ধারণার বিরুদ্ধে তার বৈপ্লবিক অবস্থান আছে

আপনার সাথে দ্বিমত নেই অনেকাংশেই , তবে এটাও সত্যি তার অনেক অবদানই তুলনায় অপ্রকাশ থেকেছে -- কবি পরিচয়ের আধিক্যে


০৯ ই মে, ২০০৯ সকাল ৯:৩৬

লেখক বলেছেন: আমার কাছে তাঁর কবি সত্ত্বাটাকেই বড় মনে হয়েছে।
অন্য বিষয় গুলো একটু কন্ট্রোভার্সিয়াল এবং অপ্রাসংগিক মনে হওয়াতে সে সব আমি যথাসম্ভব এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি।
ধন্যবাদ।

৮. ০৯ ই মে, ২০০৯ সকাল ৯:৫৬
সুবিদ্ বলেছেন: রবি ঠাকুর তাঁর গরিব প্রজাদের কল্যাণার্থে অনেক কিছু করেছেন.......তখনকার প্রচলিত ধারা উপেক্ষা করে ছেলেকে বিলাত না পাঠিয়ে আমেরিকা পাঠিয়েছিলেন কৃষিবিদ্যা পড়তে, প্রথম ট্রাক্টর আমদানী করেছেন, সমবায় খামার করতে চেয়েছেন, 'আইল' উঠিয়ে দিয়ে জমির পরিমাণ বাড়াতে চেয়েছেন.........

বঙ্গভঙ্গ কার্যকর এবং তার রদ করার বৃটিশ খেলায় জড়িয়ে না পড়তে চাওয়া থেকেই তিনি ঢাবি প্রতিষ্ঠা ইত্যাদির বিরোধিতা করেন.......

ইংরেজ শাসন নয়, জাতি হিসেবে ওদের ঐতিহাসিক অর্জনগুলোর প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন........

যেহেতু তিনি ছিলেন অমুসলিম, তাই তাঁর পক্ষে হয়তো মুসলমান সম্প্রদায়ের খুঁটিনাটি তুলে ধরা সম্ভব নয়, এই অবস্থাণ ছিলেন তিনি......উল্টো তিনিই আবুল ফজলকে লেখা এক চিঠিতে বলেছিলেন, আপনাদের লেখায় মুসলিম ঐতিহ্য আরো ভালো করে ফুটিয়ে তোলা দরকার(!!)..........

০৯ ই মে, ২০০৯ সকাল ১০:৩৭

লেখক বলেছেন: অনেক কিছু জানলাম।
ধন্যবাদ।

৯. ০৯ ই মে, ২০০৯ সকাল ১১:১২
মুক্ত বয়ান বলেছেন: 'প্রথম আলো'তে রবি'র কিরণছটা বিচ্ছুরিত। আর, 'সেই সময়'-এ সবে মাত্র প্রস্ফুটিত। দু্‌টি বই-ই অবশ্যপাঠ্য্।
আর, কবিগুরু'র কাব্যময়তার সাথে জমিদারির বিধিকে মিশিয়ে ফেলার দর্কার নেই।
রবীন্দ্রনাথের লেখনী সবসময়ই শক্তি জোগায়, ভালোবাসা ছড়ায়, দু:খ ভোলায়।
++

আর, আপনার প্রথম পাঠ্য বইগুলা নির্বাচন.. আসলেই অসাধারণ!! শিশুপাঠ্য!!! ;)
০৯ ই মে, ২০০৯ দুপুর ১:২৪

লেখক বলেছেন: জ্বী, জ্বী, ঠিক বলেছেন।
ঐ গুলো শিশুপাঠ্যই ছিলো!

১০. ১০ ই মে, ২০০৯ রাত ১২:৩৪
ভেবে ভেবে বলি বলেছেন: আমার বাবা আমাকে ছোটবেলায় সঞ্চয়িতা পড়ে (আবৃত্তি করে) শোনাতেন। কর্ণ-কুন্তী সংবাদের কি অদ্ভুত সেই আবেগ... যেখানে কুন্তী তার পরিত্যাক্ত সন্তান কর্ণকে রাজ্যের লোভ দেখায়, আর কর্ণ উত্তর দেয় 'যার হতে ছিনিয়াছো মাতৃস্নেহপাশ, তাহারে দিতেছো মাতঃ রাজ্যের আশ্বাস !'... পড়তে পড়তে আমার বাবার চোখ ভিজে উঠতো। তখন আমি বুঝতাম না, কিন্তু এখন ভাবলে আমারও চোখ ভিজে ওঠে।

আসলে বঙ্গভঙ্গ বিরোধিতার ব্যাপারে কবিগুরুর দোষ দেয়া যায় না, কারণ পশ্চিমবঙ্গের অনেক কবি-সাহিত্যিকই বঙ্গভঙ্গকে সমর্থন করেন না, এক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখাগুলোই যদি ভালো করে পড়ে থাকেন তাহলে দেখবেন যে তার লেখায় বঙ্গভঙ্গের ব্যাপারে কি বিপুল পরিমাণ হাহাকার উঠে এসে এসেছে।
১০ ই মে, ২০০৯ সকাল ৮:২৪

লেখক বলেছেন: বঙ্গভঙ্গে বিরোধিতার সাথে দোষ-গুন বরং হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের স্বার্থ জড়িত ছিল। একে দেশপ্রেমের প্রলেপ দেবার চেষ্টা করা হয়েছে মাত্র।

১১. ১০ ই মে, ২০০৯ রাত ১২:৪৩
ত্রিভুজ বলেছেন: ভাল লিখেছেন। প্রিয়তে..
১০ ই মে, ২০০৯ সকাল ৮:২৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

১২. ২৮ শে জুন, ২০০৯ বিকাল ৪:১৩
কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন: "যেহেতু তিনি ছিলেন অমুসলিম, তাই তাঁর পক্ষে হয়তো মুসলমান সম্প্রদায়ের খুঁটিনাটি তুলে ধরা সম্ভব নয়, "
এই যুক্তি কি গ্রহনযোগ্য?
সমসাময়ীক কলের কবি নজরুলের লেখায়তো হিন্দু দেব-দেবীর কথা তাদের জীবনাচরণের কথা প্রচুর আছে।
বাঙ্গালী জাতীর ৫০% এরও বেশী যেখানে মুসলমান, ওনার জমিদারীছিল যেই কুস্টিয়ায় সেখানেও মুসলমানরাই ছিল সংখ্যা গরিষ্ঠ তার পরও ওনার লেখায় মুসলমানদের অনুপস্থিতিকে আমারকাছে নিতান্তই ইচ্ছাকৃত এবং সংকীর্ণতা বলে মনে হয়।

যাই হোক - একজন মানুষের সবকিছু ভাল হতে পারে না - আর রবিন্দ্রনাথ একজন মানুষ ছিলেন - এটাই নির্মম সত্য।
২৮ শে জুন, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৫০

লেখক বলেছেন: এদ্দিন পর লেখাটি খুঁজে বের করে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

 

মোট সময় লেগেছে ১.৬০৯০ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
ঘুমাতে অত্যন্ত ভালোবাসি। আর ভালোবাসি পড়তে।
স্বপ্ন দেখি একটি স্বপ্নীল পৃথিবীর।
সত্যকে ভালোবাসি, হোক তা নিজের মতের বিপরীত।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই