আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র; আজকের পৃথিবীর সবচাইতে ক্ষমতাধর রাষ্ট্র। ১৭৭৬ সালের এই দিনে (জুলাই, ৪) এটি স্বাধীন হয়। বিগত অর্ধশতকে অর্থনীতি, রাজনীতি, প্রযুক্তি সহ জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রায় প্রতিটি শাখায় সারা বিশ্বের নেতৃত্বের আসনে বসে আছে এই রাষ্ট্র। বিশেষ করে স্নায়ু যুদ্ধের অবসানে এক কেন্দ্রিক বিশ্বের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এটি।
আর তারই ফলশ্রুতিতে এই রাষ্ট্রটি নির্মম বেগে ছড়ি ঘুরিয়ে চলেছে সবার মাথার উপরে। কারো পদক্ষেপ স্বীয় স্বার্থের বিপক্ষে গেলে অকপটে তার সর্বনাশ ডেকে আনতে এর একটু ও বাঁধে না। নিয়মতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন হয়। ডেমোক্রেটরা ক্ষমতা ছাড়ে, আসে রিপাবলিকানরা। আগ্রাসন নীতির কোন পরিবর্তন হয় না! শুধু বিগত পঞ্চাশ বছরেই অন্তত বিশটি স্বাধীন রাষ্ট্রে উপর হামলা চালিয়েছে এটি; ভাড়া করা গুপ্তঘাতকের হাতে প্রান দিয়েছে শ'খানেক আগ্রাসনবিরোধী ও স্বাধীনতাকামী নেতা। পানামা খাল ইস্যু নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় বীরদর্পে পানামার ভেতরে ঢুকে এর প্রেসিডেন্ট নরিয়েগাকে অপহরণ করে আমেরিকাতেই বিচার(!) করা হয়েছে। বিনা বিচারে অত্যাচার করা হত্যা করা হয়েছে দক্ষিন আমেরিকার বিপ্লবের প্রানস্পন্দন চে গুয়েভারাকে। ইসরাইলকে দিয়ে ফিলিস্তীনের মাটিতে রক্ত ঝরানো আর ইরাক-আফগানিস্তানে আগ্রাসন্তো আমাদের চোখের সামনেই ঘটছে।
অথচ, একটু পেছনে ফিরে দেখলে, আমেরিকার স্বাধীনতার ইতিহাসে একটু চোখ বুলালে আমরা জর্জ ওয়াশিংটন, থমাস জেফারসন আর আব্রাহাম লিংকনের মত মহান নেতাদের দেখতে পাই। বৃটীশ আগ্রাসন আর ঘৃন্য কৃতদাস প্রথার বিরুদ্ধে এদের আপোষহীন সংগ্রামের ইতিহাস ভোলা সম্ভব নয়। কিন্তু, এদের উত্তরসুরি হিসেবে যখন দেখি হ্যারী ট্রুম্যান, রোনাল্ড রিগ্যান আর বুশ সিনিয়র-জুনিয়রের মত রক্তলোলুপ প্রেসিডেন্টদের, তখন সত্যিই মন খারাপ হয়ে যায়।
তবে, সে মন খারাপ বেশীক্ষন স্থায়ী হয় না। কারন, আরো একটু পেছনে গেলে আমেরিকার জাতীয় চরিত্র পরিষ্কারভাবে ফুটে ওঠে। ১৪৯২ সালে কলম্বাসের আমেরিকায় পদার্পনের পর বন্যার ঢলের মত লোভী ইউরোপীয়রা সাগর পাড়ি দিয়ে ছুটে আসে এ নতুন ভুখন্ডে। পরস্পর মারামারি করে আর আদিবাসী জনগোষ্ঠীসমুহকে (চেরোকী, অ্যাপাচী) নির্মমভাবে মেরে সাফ করে একে একে দখল করে নিতে থাকে বিশাল বিশাল এলাকা। এ নৃশংসতাকে আবার বীরত্বের মোড়কে মুড়িয়ে সৃষ্টি করা হয় ওয়েষ্টার্ণ সাহিত্য!
আবার, আজকের আমেরিকার দিকে তাকালে দেখা যায় যে, এর সুবিশাল (giant) অর্থনীতির সিংহভাগ জুড়ে রয়েছে তিনটি ব্যবসা-১. অস্ত্র ২. মাদকদ্রব্য এবং ৩. পর্ণোগ্রাফি। এর কোন একটির রাশ টেনে ধরা হলেই এই অর্থনীতিতে ধ্বস নেমে যায়। বিশেষকরে, বিশ্বে যদি কোন কারনে যুদ্ধ বন্ধ হয়ে যায় তাহলে আমেরিকার এক বিরাট অংশের মানুষ বোধ হয় না খেয়ে মারা যাবে!
সেই আমেরিকার আজ স্বাধীনতা দিবস! আসুন আনন্দ করি!
আজ আমেরিকার স্বাধীনতা দিবস; আসুন উদযাপন করি!
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
১৮টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের গ্রামের গল্প!

আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন
ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই
আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।
তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন
১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে
আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।