আসুন রাজাকারদের ব্যাপারে নিয়মিত ষ্টাডী করি
পর্ব-২
জামাত নেতা কামারুজ্জামান ও কাদের মোল্লার যত নৃশংসতা
আল ইহসান ডেস্ক: জামাতের সিনিয়র সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামান ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লা- এদের দু’জনের বিরুদ্ধেই একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল যুদ্ধাপরাধীদের যে তালিকা প্রণয়ন করেছে, তার সব কটিতেই এ দু’জনের নাম রয়েছে। এর আগে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির গণতদন্ত কমিশনের কাছেও প্রত্যক্ষদর্শীরা এই দু’জনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের সাক্ষ্য দিয়েছে। এমনকি ট্রাইব্যুনালে এদের যুদ্ধাপরাধ সম্পর্কে সাক্ষ্য দিতে প্রস্তুত অনেক প্রত্যক্ষদর্শী ও বরেণ্য ব্যক্তি। বিভিন্ন গবেষণা থেকে তাদের দু’জনের যুদ্ধাপরাধ তুলে ধরা হলো।
মিরপুরের কসাই আবদুল কাদের মোল্লা (ক): একাত্তরের ঘাতক কসাই আবদুল কাদের মোল্লা থাকে রাজধানীর বড় মগবাজারের জামাতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের পাশে গ্রিনভ্যালি অ্যাপার্টমেন্টে। তার বিরুদ্ধে একাত্তরে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যেই মুক্তিযুদ্ধের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল প্রকাশিত যুদ্ধাপরাধীর তালিকার শীর্ষে তার নাম রয়েছে। ১৯৯২ সালের একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠিত গণতদন্ত কমিশন দুই দফায় যে ১৮ যুদ্ধাপরাধীর তালিকা ও তাদের যুদ্ধাপরাধ প্রকাশ করেছিল, তার মধ্যে আবদুল কাদের মোল্লাও ছিলো।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকার মিরপুরে বিহারিদের নিয়ে কাদের মোল্লা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে নেতৃত্ব দেয়। ওই সময় মিরপুরের স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে ‘জল্লাদ’ ও ‘কসাই’ নামে পরিচিত ছিলো সে। স্থানীয় মানুষ জানিয়েছে, শিয়ালবাড়ী, রূপনগরসহ গোটা মিরপুর এলাকায় হাজার হাজার বাঙালি হত্যার প্রধান খলনায়ক ছিলো কাদের মোল্লা। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে বঙ্গবন্ধুর ডাকে অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে কাদের মোল্লার নেতৃত্বে মিরপুরে বাঙালি হত্যাযজ্ঞ শুরু হয়।
১৯৯২ সালে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ও গণতদন্ত কমিশনের কাছে মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের বি-ব্লকের তালতলার বাসিন্দা ফজর আলী (বাবা হানিফ সরদার) জানান, তার ছোট ভাই মিরপুর বাংলা কলেজের ছাত্র পল্লবকে (টুনটুনি) জামাত নেতা কাদের মোল্লার নির্দেশে হত্যা করা হয়েছে। সে বছরের ২৯ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর স্থানীয় দালালরা রাজধানীর নবাবপুর থেকে পল্লবকে ধরে মিরপুরে কাদের মোল্লার কাছে নিয়ে আসে। পরে কাদের মোল্লার নির্দেশে তার সহযোগীরা পল্লবকে মিরপুর ১২ নম্বর থেকে ১ নম্বর সেকশন হযরত শাহ আলী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাযার শরীফ পর্যন্ত হাতে দড়ি বেঁধে টেনে নিয়ে যায়। পরে একইভাবে সেখান থেকে মিরপুর ১ নম্বর থেকে ১২ নম্বর সেকশনের ঈদগাহ মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে গাছের সঙ্গে দুই দিন ঝুলিয়ে রাখা হয় পল্লবকে। এরপর ঘাতকরা তার হাতের আঙুল কেটে ফেলে। পরে কাদের মোল্লা তার সহযোগী আখতার গুণ্ডা ও অন্যদের পল্লবকে গুলি করে মারার নির্দেশ দেয়। এমনকি প্রতিটি গুলির জন্য পুরস্কারও ঘোষণা করেছিলো সে। পরে ৫ এপ্রিল ঘাতক আখতার গাছে ঝোলানো পল্লবের বুকে পর পর পাঁচটি গুলি করে। আবদুল কাদের মোল্লা এতটাই বর্বর ও হিংস্র যে ছাত্র পল্লবকে গুলি করে হত্যার পর লাশ দুই দিন গাছে ঝুলিয়ে রেখেছিল কেবল মানুষকে ভীতসন্ত্রস্ত করতে। এরপর ঘাতকরা পল্লবের মরদেহ মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনে কালাপানি ঝিলের পাশে আরো সাতজনের সঙ্গে মাটিচাপা দেয়। (চলবে)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


