আল ইহসান ডেস্ক: পটুয়াখালীর উপকূলজুড়ে বহাল তবিয়তে তৎপরতা চালাচ্ছে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত মওদুদীবাদী ধর্মব্যবসায়ী রাজনৈতিক সংগঠন জঙ্গি জামাত-শিবির। এরা প্রকাশ্যে জনসভায় যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে বেড়াচ্ছে। কোন কোন ক্ষেত্রে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি, ছাত্রলীগ যুবলীগ কর্তৃক প্রতিরোধের মুখে পড়লেও পুলিশ প্রশাসন থাকে দর্শকের ভূমিকায়। আর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা ব্যস্ত নিজ নিজ আখের গোছানোর কাজে। দেশের অন্যান্য জেলায় যখন জামাত শিবির গা-ঢাকা দিয়েছে, তখন পটুয়াখালীতে তারা দাপিয়ে চালাচ্ছে কার্যক্রম। মওদুদী জামাতের মহিলা সংগঠন ছাত্রীসংস্থার সুসংগঠিত নারী জঙ্গিরা শহরের বিভিন্ন বাসায় গিয়ে মওদুদী-ওহাবীবাদের দাওয়াত দিয়ে বেড়াচ্ছে। জনমত সৃষ্টির চেষ্টা করছে যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরুদ্ধে। জেলার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের অভিযোগ- দেশের ১৫ কোটি মানুষ যখন যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে সোচ্চার, ঠিক তখন পটুয়াখালীতে প্রশাসনের ঔদাসীন্যের সুযোগে সভা মিটিং করে যুদ্ধাপরাদের বিচারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে জামাত-শিবির। এরা গোপনে চালাচ্ছে যুদ্ধাপরাধেরবিরোধী প্রচারণা। সাধারণ অসচেতন মানুষের মধ্যে যুদ্ধাপরাধের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়ে এ অঞ্চলের মানুষকে আবার দ্বিধা-বিভক্ত করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে নতুন ষড়যন্ত্রে নেমেছে এরা।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত ১৫ জানুয়ারি ২০১০ ঈসায়ী, শুক্রবার শহরের কাজিপাড়ার জামাত অফিসে যুদ্ধাপরাধ নিয়ে আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদের বক্তব্যের প্রতিবাদে শিক্ষা শিবিরের সভার নামে বড় ধরনের নাশকতার গোপন বৈঠক চালাচ্ছিল জামাতের শূরা সদস্যরা। তাদের নাশকতার পরিকল্পনার খবর ছড়িয়ে পড়লে শহরের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার উত্তেজিত মানুষ হামলা চালায় জামাত কার্যালয়ে। অথচ শহরের মধ্যে জামাতের এ বৈঠকের ব্যাপারে প্রশাসনের কাছে কোন খবরই ছিল না। এর পর পরই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ নেতা ফারুককে হত্যা করার পর জামাতের কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে টনক নড়ে প্রশাসনের। শুরু হয় জামাত নেতাদের উপর নজরদারি। নজরদারির বিষয়টি আঁচ করতে পেরে তারা সবাই গা-ঢাকা দেয়।
এর পর ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১০ ঈসায়ী শিবিরের ২০/২৫ জনের একদল ক্যাডার কেন্দ্রীয় বিক্ষোভ কর্মসূচী সফল করার নামে শহরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পটুয়াখালীর পলিটেকনিক সড়কের ছালাম মিয়ার মালিকানাধীন নিয়াজ-নিলয় মেসে বেলা ১১টায় গোপন বৈঠক করছিল। খবর পেয়ে পটুয়াখালী সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি রেজাউল করিম সোয়েবের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ কর্মীরা ঘেরাও করে মেসটি। ছাত্রলীগের কর্মীদের উপসি'তি টের পেয়ে তারা পেছনের গোপন দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কটূক্তি করে লেখা বই, লাঠিসোটা, রড, স্টিলের পাইপ, জঙ্গি বই, সিমকার্ড, মেমোরি কার্ড, শিবিরের একাধিক রোকন সদস্যের পরিচয়পত্র। এ ঘটনায় সদর থানা পুলিশ একটি সাধারণ ডায়েরি করে তাদের দায় সেরেছে।
একই সময় শহরের আরামবাগ এলাকার আফসার উদ্দিনের বাড়ির মেস চলছিল শিবির ক্যাডারদের আরেক গ্রুপের গোপন বৈঠক। পলিটেকনিক সড়কের আস্তানায় হানার খবর পেয়ে পালিয়ে যায় ওই গ্রুপটি। পরে সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় জঙ্গি বই, লাঠিসোটা, ১০টি সিমকার্ড, একটি মেমোরিকার্ড, তাতাল, সার্কিট, তার, শিবিরের দেয়া পরিচয়পত্র, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুঃশাসনের পাঁচ বছর শিরোনামে একটি বই।
এসব ঘটনার কোনটারই খবরই ছিল না প্রশাসনের কাছে। সাধারণ মানুষ ও ছাত্র সংগঠনগুলো অভিযান চালানোর পর সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা হাজির হয়েছে প্রতিটি ঘটনায়। বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের বক্তব্য তাদের তৎপরতা প্রশাসনের জ্ঞাতসারেই চলেছে যে কারণে থেমে নেই জামাত শিবিরের অপতৎপরতা। তারা ক্যাডার নিয়ে আশ্রয় নেয় শহরের পার্শ্ববর্তী ২নং বাঁধঘাট, গরুর বাঁধঘাট, উপজেলা পরিষদের আশপাশ এলাকা, লাউকাঠী, লোহালিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধাপরাধী সমর্থিত রাজনৈতিক সংগঠন জামাত-শিবির এখন আবার স্বদর্পে দাবড়ে বেড়াচ্ছে শহরের অলিগলি।
আশ্চর্য হলেও সত্য যে, পটুয়াখালী শিবিরের শীর্ষ ক্যাডার আবু নাহিয়ানের বাবা মোশাররফ হোসাইন হাওলাদার যে পটুয়াখালীর ডেপুটি পোস্ট মাস্টার জেনারেলের অফিসে গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন শাখায় কাজ করছে। শুধু তাই নয়, সরকারি চাকরি করেও ভিন্ন নাম পরিচয়ে সে জেলা জামাতের শূরা সদস্য হিসেবে মিটিং, মিছিল, গোপন বৈঠক করে যাচ্ছে নিয়মিত। কর্তৃপক্ষ এ সব কিছু জানলেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।
জেলার কলাপাড়া উপজেলায় গত ২৯ মার্চ ২০১০ ঈসায়ী প্রকাশ্যে শহরের অস্থায়ী কার্যালয়ে কথিত ‘ইসলামী রাজনীতি বন্ধের ষড়যন্ত্রের’ নাম করে পৌর আমির মাওলানা মুর্শিদুল আলমের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশ করে। এই মিটিংয়ে ঘোষণা দেয়া হয় যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের।এছাড়া গত ১ মে ২০১০ ঈসায়ী মওদুদীবাদী জঙ্গি জামাতের অঙ্গসংগঠন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কলাপাড়া শাখার উদ্যোগে হোমিও চিকিৎসক আলতাফ হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় একটি সভা। এসব মিটিংয়ের আড়ালে মূলত প্রচার চালানো হয় যাতে যুদ্ধাপরাধীর বিচার নস্যাত হয়। যুদ্ধাপরাধীর বিচার বিঘ্নিত করতে উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীতে যখন তৃণমূল পর্যায়ে জামাত নানা কৌশলে সংগঠিত হচ্ছে আর তখন জোট সমর্থক নেতাকর্মীরা ব্যস্ত রয়েছে তাদের আখের গোছানোর কাজে।
কলাপাড়া পৌর শহরের নেছারউদ্দিন সিনিয়র মাদরাসায় এক শিক্ষক রয়েছে জামাতের অপর জঙ্গি শাখা ‘আল-হিকমা ইসলামী’ সংগঠনের সঙ্গে প্রকাশ্যে জড়িত। বিগত পার্লামেন্ট নির্বাচনে শিবিরের কলাপাড়ার সভাপতি রুমির নেতৃত্বে প্রতিসন্ধ্যায় ১১ জনের একটি আলাদা মিছিল বের হতো। কলেজ রোডের একটি তিনতলা বাড়ির দোতলায় একটি এনজিও অফিসে প্রায় সময় জামাতের গোপন মিটিং বসে। যেখানে কলাপাড়া কুয়াকাটা এলাকায় তাদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ার প্রস্তুতি চালানো হচ্ছে বলে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। কুয়াকাটার একটি অত্যাধুনিক আবাসিক হোটেলে ২০০৪ সালে সারাদেশ থেকে শিবিরের চার শতাধিক জঙ্গি কর্মীকে জড়ো করে ওয়ামী ফাউন্ডেশনের ব্যানারে তিনদিনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



