প্রথম পর্ব-www.somewhereinblog.net/blog/taiyeeb/29242907
বাংলাদেশ থেকে শিশু এবং নারী পাচারে মূলত চারটি প্রধান রাস্তা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই পথগুলো হলো কক্সবাজারের টেকনাফ, যশোরের শার্শা এবং লালমনিরহাটের পাটগ্রাম এবং রাজশাহী সীমান্ত। অনুসন্ধান করে জানা গেছে যে পাচারকৃত এসব নারীর মধ্যে ৫২ শতাংশ নারী স্বামী কর্তৃক তালাকপ্রাপ্তা বাকী ৪৮ শতাংশ নারীর মধ্যে বেশিরভাগই বিধবা। তাই এটা বলা যায় নারীর হাতে অর্থ আসার পথ করে দিলে এসব পাচার অনেকাংশে রোধ করা যেত। পাচার হওয়া ৫৯ শতাংশ নারী আসে বড় পরিবার থেকে। ২৫ শতাংশ মাঝারি পরিবার থেকে এবং ৫ শতাংশ ছোট পরিবার থেকে আসে। পুলিশ থেকে প্রাপ্ত এক তথ্য মতে আমাদের দেশ থেকে প্রতিবছর ১৫,০০০ নারী বিদেশে পাচার করা হয়। হিসাব করলে অবাক হতে হয় ৯০ থেকে ৯৭ সালের মধ্যে আমাদের দেশের ২ লাখ নারী বিদেশে পাচার হয়েছে। ২০০ থেকে ৪০০ শিশু এবং নারী প্রতিমাসে বিদেশে পাচার হয়। ভারতের সংবাদ মাধ্যমের এক নির্ভরযোগ্য তথ্য মতে সেদেশের পতিতালয়ে ১ শতাংশ বাংলাদেশী নারী এবং কলকাতার পতিতালয়গুলোতে ২.৭ শতাংশ বাংলাদেশী নারী আছে। উপরোক্ত পরিসংখ্যান আমাদের জন্য খুবই উদ্বেগ এবং আতঙ্কজনক। শিশুরা আমাদের ভবিষ্যৎ। আর সমাজের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। পাচার হওয়ার পর শিশু ও নারীরা প্রাচীনকালের শৃংখলিত দাস দাসীদের চেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করে। অনেক ক্ষেত্রে মুখোমুখি হয় মৃত্যুর। সুতরাং এসব শিশু ও নারীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নারী ও শিশু পাচার প্রতিরোধ করতে হবে।
রাজশাহীর বিভিন্ন সীমান্ত নারী ও শিশু পাচারের নিরাপদ রুট। জরুরি অবস্থা এবং র্যাব-পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর কড়া তৎপরতার মধ্যেও সামপ্রতিককালে নারী ও শিশু পাচারের ঘটনা আশংকাজনকহারে বেড়ে গেছে। ভারতে পাচারকালে গত ৩ মে হতে গত ১৮ আগস্ট পর্যন্ত ৯৭ দিনে মোট সাতটি ঘটনায় ১৪১ জন নারী শিশু ও পুরুষকে উদ্ধার করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক একজন ডিআইজি জানান, পাচারবিরোধী বেসরকারি সংস্থাগুলোর দায়সারো গোছের কর্মকাণ্ড, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কতিপয় সদস্যের অবহেলা-গাফিলতি-দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের কারণে পাচার প্রতিরোধ হচ্ছে না। পাচারবিরোধী কর্মকাণ্ডের নামে কতিপয় এনজিও কোটি কোটি টাকার ফান্ড এনে তার যথাযথ কাজ করছে না বলেই পাচাররোধে ব্যাপক জনগোষ্ঠী সচেতন হয়ে উঠছে না। পাচারকারী চক্রের মূল হোতারা থাকছে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।
রাজশাহী এলাকাটি নদী বেষ্টিত হবার কারণে অধিকাংশ সময় মানুষের হাতে কোন কাজ থাকে না। অভাবের তাড়নায় কাজের খোঁজে তাদের অধিকাংশই ভারতে পাড়ি জমায়। এক্ষেত্রে কেউ ফিরে আসে কেউবা আবার রোজিনার মতো যশোরের অভয়নগর থানার গোপীনাথপুর গ্রাম থেকে পাচারকারীদের আস্তানা থেকে পালিয়ে এসে জীবন রক্ষা করে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের একজন অধ্যাপক জানান, নারী ও শিশু পাচারের অন্যতম কয়েকটি কারণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো দারিদ্র্যতা। তাছাড়া সুশিক্ষার অভাব, অসচেতনতা, কর্মসংস্থানের স্বল্পতা, লোভ-উচ্চাভিলাষ ইত্যাদির কারণেও পাচারের ঘটনা ঘটছে। এশিয়ার মধ্যে ভারত, পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে উল্লেখযোগ্য হারে মানব পাচারের ঘটনা ঘটলেও বাংলাদেশ মানব পাচারের ট্রানজিট হিসেবে কাজ করে। বাংলাদেশের অন্যান্য রুটের মধ্যে আন্তর্জাতিক পাচারকারী চক্র রাজশাহীকেই সুবিধাজনক মনে করে। রাজশাহীর এসব রুট দিয়ে যারা ভাল থাকার আশায় অন্যদেশে পাড়ি জমায় অচিরেই তাদের এই স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। কারখানায় কাজ দেয়ার নাম করে পাচারের শিকার মেয়েদের বেশির ভাগকে কাজ দেয়া হয় পতিতালয়ে। সমাজের চোখে ঘৃণিত জীবন তাদের অনিবার্য পরিণতি হয়ে দাঁড়ায়।
বেসরকারি এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, শুধুমাত্র পাকিস্তানের বিভিন্ন পতিতালয়ে কমপক্ষে দুই লক্ষ বাংলাদেশী মেয়ে কাজ করে। এছাড়া শিশুদের বিভিন্ন দোকানে কাজ দেয়ার কথা বলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে নিয়ে গিয়ে উটের জকি বানানো হয়। আরব আমিরাত থেকে এ পর্যন্ত ১৬৮ জন শিশুকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
**********
ফিফা আয়োজিত বিশ্বকাপ ফুটবল খেলার প্রধান আলোচনার দিক হচ্ছে কে জিতবে? যে যাকে সমর্থন করে সেদিন তার জেতার কথা ভেবেই খেলা দেখতে বসে এবং ফলাফল যা হয় তার ওপর পরের দিনের তুমুল আলোচনা, মন ভাল থাকা না থাকা সব নির্ভর করে। ছোট বড় সবাই বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে মত্ত থাকে।
তবে টিভিতে বিশ্বকাপ দেখার সময় শুধু খেলোয়াড়দের দেখা যায় না, দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন স্টেডিয়ামের বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ দর্শকদেরও দেখা যায়। খেলা কেমন হচ্ছে সেটা বুঝতে হলে উপস্থিত দর্শকদের হৈ হুল্লোড় দিয়ে বোঝা যায়। তবে এই দর্শক কারা? এখানে দক্ষিণ আফ্রিকার কালো এবং সাধারণ মানুষ কতজন আছেন তা দর্শকদের দেখেই তো বোঝা যায়। নিশ্চয়ই যাদের দক্ষিণ আফ্রিকায় প্লেনের টিকিট কেটে যাবার এবং হোটেল ভাড়া করে থাকার ক্ষমতা আছে, তারাই এখানে খেলা উপভোগ (?) করছেন। বিবিসির এক সাংবাদিক কালো এবং গরিব মানুষের সাক্ষাৎকার নিয়ে জেনেছেন টিকেট কেটে খেলা দেখার সামর্থ্য তাদের নেই। দক্ষিণ আফ্রিকায় বসে সাদারাই তথাকথিত আনন্দ করছেন।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুধু খেলার মাঠ পর্যায়ে হয়নি, হয়েছে বিনোদনের পর্যায়েও। খেলোয়াড় এবং দর্শক সবারই বিনোদন দরকার এবং সে কারণে নারীর প্রয়োজন। নারীকে ভোগ্যপণ্য ছাড়া আর কিছু তারা ভাবে না।
দক্ষিণ আফ্রিকার ড্রাগ সেন্ট্রাল অথরিটি খেলার আগেই হিসাব করে রেখেছিলেন কত পর্যটক হবে এবং কত যৌনকর্মীর দরকার হবে। সে হিসাবে প্রায় ৪ লক্ষ পর্যটকদের (অধিকাংশই পুরুষ) জন্য কম পক্ষে লাখ সংখ্যার যৌনকর্মী আমদানি করা হয়েছে রাশিয়া, কঙ্গো, নাইজেরিয়ার মতো দেশ থেকে। এদের মধ্যে অনেকেই পাচার হয়ে এসেছে। নারী পাচার মূলত বেশ্যাবৃত্তির জন্যে হয় এবং বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে ব্যাপক সংখ্যক পুরুষ পর্যটক এবং বিশেষ আনন্দ ও উন্মাদনার সম্ভাবনা থাকলে তো নারী ও শিশু পাচার বেড়ে যায়। এই সব ক্ষেত্রে নারী ভোগ্যপণ্য ছাড়া কিছু না। যদিও অনেকে মনে করে পাচার ঘটে সরবরাহকারী দেশের দারিদ্র্য ও কাজের প্রয়োজনে। ধনীদের বিলাসী জীবনের এই ‘চাহিদা’ আছে বলেই সেক্স ইন্ডাস্ট্রি নামক ব্যবসা টিকে আছে এবং মেয়েরা যারা জীবিকার সন্ধানে বাইরে যেতে চায় তারাই এই ফাঁদে পড়ে যায়।
শুধু নারী নয়, পাচারের ঝুঁকিতে রয়েছে অল্পবয়সী ছেলে এবং মেয়ে বা এক কথায় শিশুরাও। আফ্রিকায় দরিদ্র মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি, এবং অনেক দরিদ্র শিশুর পরিবার বা মা-বাবা কেউ নেই। তারা সব সময়ই কাজের খোঁজে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়া আসা করে। সীমান্ত পাড়ি দেয়। তারা জানে বিশ্বকাপের সময় কাজ পাওয়া যাবে। সেই কাজের খোঁজে এসে যৌন ব্যবসার দালালের খপ্পড়ে পড়ছে অনেক শিশু। একজন শিশু যৌনকমের জন্য বিক্রি হয় মাত্র ৩০০ ডলারে! মেয়েদেরকে এই কাজে জড়িত করার আগে দালালের দ্বারা ধর্ষণের ঘটনা ঘটে যায়। ফলে মেয়েদের ফিরে যাবার সুযোগ থাকে না। অল্প বয়সী ছেলেদেরও যৌন কাজে নিয়োগ করার ঘটনা ঘটছে অহরহ। এই তথ্য এখন আর নতুন কিছু নয়।
বিশ্বকাপের মতো ঘটনার পেছনে কত নারীর আবমাননা জড়িয়ে থাকলেও নারীবাদীরা এ খেলার কোন বিরোধিতা করে না। এখানে খেলোয়াড় এবং দর্শকরা কত নারী এবং শিশুকে নির্যাতন করেছেন তার কোন ইয়ত্তা নেই।
কাজেই লাখো কোটি ধিক এ বিশ্বকাপ খেলার প্রতি।
লাখো-কোটি ধিক পুরষতান্ত্রিক চাহিদা অনুযায়ী নিজেদের বিলিয়ে দেয়া নারীবাদীদের প্রতি।
বাংলাদেশ থেকে শিশু এবং নারী পাচারে মূলত চারটি প্রধান রাস্তা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই পথগুলো হলো কক্সবাজারের টেকনাফ, যশোরের শার্শা এবং লালমনিরহাটের পাটগ্রাম এবং রাজশাহী সীমান্ত। অনুসন্ধান করে জানা গেছে যে পাচারকৃত এসব নারীর মধ্যে ৫২ শতাংশ নারী স্বামী কর্তৃক তালাকপ্রাপ্তা বাকী ৪৮ শতাংশ নারীর মধ্যে বেশিরভাগই বিধবা। তাই এটা বলা যায় নারীর হাতে অর্থ আসার পথ করে দিলে এসব পাচার অনেকাংশে রোধ করা যেত। পাচার হওয়া ৫৯ শতাংশ নারী আসে বড় পরিবার থেকে। ২৫ শতাংশ মাঝারি পরিবার থেকে এবং ৫ শতাংশ ছোট পরিবার থেকে আসে। পুলিশ থেকে প্রাপ্ত এক তথ্য মতে আমাদের দেশ থেকে প্রতিবছর ১৫,০০০ নারী বিদেশে পাচার করা হয়। হিসাব করলে অবাক হতে হয় ৯০ থেকে ৯৭ সালের মধ্যে আমাদের দেশের ২ লাখ নারী বিদেশে পাচার হয়েছে। ২০০ থেকে ৪০০ শিশু এবং নারী প্রতিমাসে বিদেশে পাচার হয়। ভারতের সংবাদ মাধ্যমের এক নির্ভরযোগ্য তথ্য মতে সেদেশের পতিতালয়ে ১ শতাংশ বাংলাদেশী নারী এবং কলকাতার পতিতালয়গুলোতে ২.৭ শতাংশ বাংলাদেশী নারী আছে। উপরোক্ত পরিসংখ্যান আমাদের জন্য খুবই উদ্বেগ এবং আতঙ্কজনক। শিশুরা আমাদের ভবিষ্যৎ। আর সমাজের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। পাচার হওয়ার পর শিশু ও নারীরা প্রাচীনকালের শৃংখলিত দাস দাসীদের চেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করে। অনেক ক্ষেত্রে মুখোমুখি হয় মৃত্যুর। সুতরাং এসব শিশু ও নারীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নারী ও শিশু পাচার প্রতিরোধ করতে হবে।
রাজশাহীর বিভিন্ন সীমান্ত নারী ও শিশু পাচারের নিরাপদ রুট। জরুরি অবস্থা এবং র্যাব-পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর কড়া তৎপরতার মধ্যেও সামপ্রতিককালে নারী ও শিশু পাচারের ঘটনা আশংকাজনকহারে বেড়ে গেছে। ভারতে পাচারকালে গত ৩ মে হতে গত ১৮ আগস্ট পর্যন্ত ৯৭ দিনে মোট সাতটি ঘটনায় ১৪১ জন নারী শিশু ও পুরুষকে উদ্ধার করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক একজন ডিআইজি জানান, পাচারবিরোধী বেসরকারি সংস্থাগুলোর দায়সারো গোছের কর্মকাণ্ড, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কতিপয় সদস্যের অবহেলা-গাফিলতি-দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের কারণে পাচার প্রতিরোধ হচ্ছে না। পাচারবিরোধী কর্মকাণ্ডের নামে কতিপয় এনজিও কোটি কোটি টাকার ফান্ড এনে তার যথাযথ কাজ করছে না বলেই পাচাররোধে ব্যাপক জনগোষ্ঠী সচেতন হয়ে উঠছে না। পাচারকারী চক্রের মূল হোতারা থাকছে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।
রাজশাহী এলাকাটি নদী বেষ্টিত হবার কারণে অধিকাংশ সময় মানুষের হাতে কোন কাজ থাকে না। অভাবের তাড়নায় কাজের খোঁজে তাদের অধিকাংশই ভারতে পাড়ি জমায়। এক্ষেত্রে কেউ ফিরে আসে কেউবা আবার রোজিনার মতো যশোরের অভয়নগর থানার গোপীনাথপুর গ্রাম থেকে পাচারকারীদের আস্তানা থেকে পালিয়ে এসে জীবন রক্ষা করে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের একজন অধ্যাপক জানান, নারী ও শিশু পাচারের অন্যতম কয়েকটি কারণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো দারিদ্র্যতা। তাছাড়া সুশিক্ষার অভাব, অসচেতনতা, কর্মসংস্থানের স্বল্পতা, লোভ-উচ্চাভিলাষ ইত্যাদির কারণেও পাচারের ঘটনা ঘটছে। এশিয়ার মধ্যে ভারত, পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে উল্লেখযোগ্য হারে মানব পাচারের ঘটনা ঘটলেও বাংলাদেশ মানব পাচারের ট্রানজিট হিসেবে কাজ করে। বাংলাদেশের অন্যান্য রুটের মধ্যে আন্তর্জাতিক পাচারকারী চক্র রাজশাহীকেই সুবিধাজনক মনে করে। রাজশাহীর এসব রুট দিয়ে যারা ভাল থাকার আশায় অন্যদেশে পাড়ি জমায় অচিরেই তাদের এই স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। কারখানায় কাজ দেয়ার নাম করে পাচারের শিকার মেয়েদের বেশির ভাগকে কাজ দেয়া হয় পতিতালয়ে। সমাজের চোখে ঘৃণিত জীবন তাদের অনিবার্য পরিণতি হয়ে দাঁড়ায়।
বেসরকারি এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, শুধুমাত্র পাকিস্তানের বিভিন্ন পতিতালয়ে কমপক্ষে দুই লক্ষ বাংলাদেশী মেয়ে কাজ করে। এছাড়া শিশুদের বিভিন্ন দোকানে কাজ দেয়ার কথা বলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে নিয়ে গিয়ে উটের জকি বানানো হয়। আরব আমিরাত থেকে এ পর্যন্ত ১৬৮ জন শিশুকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
**********
ফিফা আয়োজিত বিশ্বকাপ ফুটবল খেলার প্রধান আলোচনার দিক হচ্ছে কে জিতবে? যে যাকে সমর্থন করে সেদিন তার জেতার কথা ভেবেই খেলা দেখতে বসে এবং ফলাফল যা হয় তার ওপর পরের দিনের তুমুল আলোচনা, মন ভাল থাকা না থাকা সব নির্ভর করে। ছোট বড় সবাই বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে মত্ত থাকে।
তবে টিভিতে বিশ্বকাপ দেখার সময় শুধু খেলোয়াড়দের দেখা যায় না, দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন স্টেডিয়ামের বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ দর্শকদেরও দেখা যায়। খেলা কেমন হচ্ছে সেটা বুঝতে হলে উপস্থিত দর্শকদের হৈ হুল্লোড় দিয়ে বোঝা যায়। তবে এই দর্শক কারা? এখানে দক্ষিণ আফ্রিকার কালো এবং সাধারণ মানুষ কতজন আছেন তা দর্শকদের দেখেই তো বোঝা যায়। নিশ্চয়ই যাদের দক্ষিণ আফ্রিকায় প্লেনের টিকিট কেটে যাবার এবং হোটেল ভাড়া করে থাকার ক্ষমতা আছে, তারাই এখানে খেলা উপভোগ (?) করছেন। বিবিসির এক সাংবাদিক কালো এবং গরিব মানুষের সাক্ষাৎকার নিয়ে জেনেছেন টিকেট কেটে খেলা দেখার সামর্থ্য তাদের নেই। দক্ষিণ আফ্রিকায় বসে সাদারাই তথাকথিত আনন্দ করছেন।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুধু খেলার মাঠ পর্যায়ে হয়নি, হয়েছে বিনোদনের পর্যায়েও। খেলোয়াড় এবং দর্শক সবারই বিনোদন দরকার এবং সে কারণে নারীর প্রয়োজন। নারীকে ভোগ্যপণ্য ছাড়া আর কিছু তারা ভাবে না।
দক্ষিণ আফ্রিকার ড্রাগ সেন্ট্রাল অথরিটি খেলার আগেই হিসাব করে রেখেছিলেন কত পর্যটক হবে এবং কত যৌনকর্মীর দরকার হবে। সে হিসাবে প্রায় ৪ লক্ষ পর্যটকদের (অধিকাংশই পুরুষ) জন্য কম পক্ষে লাখ সংখ্যার যৌনকর্মী আমদানি করা হয়েছে রাশিয়া, কঙ্গো, নাইজেরিয়ার মতো দেশ থেকে। এদের মধ্যে অনেকেই পাচার হয়ে এসেছে। নারী পাচার মূলত বেশ্যাবৃত্তির জন্যে হয় এবং বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে ব্যাপক সংখ্যক পুরুষ পর্যটক এবং বিশেষ আনন্দ ও উন্মাদনার সম্ভাবনা থাকলে তো নারী ও শিশু পাচার বেড়ে যায়। এই সব ক্ষেত্রে নারী ভোগ্যপণ্য ছাড়া কিছু না। যদিও অনেকে মনে করে পাচার ঘটে সরবরাহকারী দেশের দারিদ্র্য ও কাজের প্রয়োজনে। ধনীদের বিলাসী জীবনের এই ‘চাহিদা’ আছে বলেই সেক্স ইন্ডাস্ট্রি নামক ব্যবসা টিকে আছে এবং মেয়েরা যারা জীবিকার সন্ধানে বাইরে যেতে চায় তারাই এই ফাঁদে পড়ে যায়।
শুধু নারী নয়, পাচারের ঝুঁকিতে রয়েছে অল্পবয়সী ছেলে এবং মেয়ে বা এক কথায় শিশুরাও। আফ্রিকায় দরিদ্র মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি, এবং অনেক দরিদ্র শিশুর পরিবার বা মা-বাবা কেউ নেই। তারা সব সময়ই কাজের খোঁজে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়া আসা করে। সীমান্ত পাড়ি দেয়। তারা জানে বিশ্বকাপের সময় কাজ পাওয়া যাবে। সেই কাজের খোঁজে এসে যৌন ব্যবসার দালালের খপ্পড়ে পড়ছে অনেক শিশু। একজন শিশু যৌনকমের জন্য বিক্রি হয় মাত্র ৩০০ ডলারে! মেয়েদেরকে এই কাজে জড়িত করার আগে দালালের দ্বারা ধর্ষণের ঘটনা ঘটে যায়। ফলে মেয়েদের ফিরে যাবার সুযোগ থাকে না। অল্প বয়সী ছেলেদেরও যৌন কাজে নিয়োগ করার ঘটনা ঘটছে অহরহ। এই তথ্য এখন আর নতুন কিছু নয়।
বিশ্বকাপের মতো ঘটনার পেছনে কত নারীর আবমাননা জড়িয়ে থাকলেও নারীবাদীরা এ খেলার কোন বিরোধিতা করে না। এখানে খেলোয়াড় এবং দর্শকরা কত নারী এবং শিশুকে নির্যাতন করেছেন তার কোন ইয়ত্তা নেই।
কাজেই লাখো কোটি ধিক এ বিশ্বকাপ খেলার প্রতি।
লাখো-কোটি ধিক পুরষতান্ত্রিক চাহিদা অনুযায়ী নিজেদের বিলিয়ে দেয়া নারীবাদীদের প্রতি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

