ক্ষতিমূলক ক্ষেত্র ছাড়া ভাল কাজে।আই এম এফকে কখনও পাওয়া যায় না। সরকার যখন চাচ্ছে আদমজীসহ সব বন্ধ পাটকল চালু করতে, তখন বাধা দিচ্ছে আইএমএফ। এর মোকাবিলায় শুধু সামান্য সরকারী প্রয়াস নয়, গোটা দেশবাসীর সম্যক সচেতনতা এবং প্রবল প্রতিরোধী ঈমানী শক্তির জাগরণ দরকার।
প্রচন্ড ইসলাম ও মুসলমান বিদ্বেষী ইহুদী ও ইহুদী ঘরানার দ্বারাই আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের জন্ম এবং শুরু থেকেই এ সংস্থা দুটি মুসলিম দেশগুলোর অর্থনীতি ধ্বংসে ব্যাপক ও গভীর ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে তারা এ যাবত খুবই সফলভাবে তাদের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করছে। এমনকি এখনও পর্যন্ত তারা এদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়েও তাদের মনগড়া ও স্বার্থান্বেষী তথ্য দিয়ে অনাধিকার চর্চা এবং বিভ্রান্তিও ছড়িয়ে যাচ্ছে।
আইএমএফ বলছে, চলতি অর্থবছর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ৫ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি হবে না। এর জবাবে অর্থমন্ত্রী পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন, এবার প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশের কম হবে না; বরং বেশিও হতে পারে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করে বিদায়ের আগে আইএমএফ মিশনপ্রধান সমন্বয়ের নামে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে। বাড়াতে বলেছে ব্যাংক ঋণের সুদের হারও। চলতি অর্থবছর শেষে মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশে দাঁড়াবে বলে আগাম মন্তব্য করেছে। বিভিন্ন খাতে সরকারের দেয়া ভর্তুকি কমানোর ব্যাপারেও চাপ দিয়েছে আইএমএফ।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ কৃষি খাতে ভর্তুকি বাড়িয়েছে সরকার। কিন' আইএমএফ মনে করে, বেশি হারে ভর্তুকি দেয়ার মাধ্যমে উন্নয়নের চেষ্টা সঠিক কোনো উপায় নয়।
অর্থমন্ত্রী তাদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আইএমএফের পরামর্শ উপেক্ষা করে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি দেয়া অব্যাহত থাকবে।
মূলতঃ আইএমএফ এমন সব পরামর্শ দেয় যা সুকৌশলে পূঁজিবাদী ও শিল্পোন্নত দেশগুলোর স্বার্থ সংরক্ষণ করে। যেমন তারা মুসলিম দেশগুলোতে উৎপাদন খাতে ভর্তুকি কমানোর পরামর্শ দেয়। এমনকি ভর্তুকি প্রত্যাহার করারও পরামর্শ দেয়। বিশেষ করে কৃষি উৎপাদন খাতে।
উদ্দেশ্য মুসলিম বিশ্বের দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সুকৌশলে পশ্চাৎপদ রাখা এবং পূঁজিবাদী দেশগুলোর কাছে পদানত রাখা ।
আইএমএফ এর আরো একটি মিশন বাংলাদেশ ত্যাগ করেছে রীতিমতো তাড়া খেয়ে। তারা বাংলাদেশকে পিএসআই চুক্তি স্বাক্ষরে দুই সপ্তাহের দেন-দরবারে এসেছিল। পিএসআই বা পলিসি সাপোর্ট ইন্সট্রুমেন্ট হল এমন একটি চুক্তি যার অধীনে আইএমএফ কোন অর্থসংস্থান করবে না কিন' বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে সরকারকে 'পরামর্শ' দেবে। আর তা মানলে সিগনাল দেবে অন্য অর্থ যোগানদারদের, যার উপর ভিত্তি করে অন্যরা অর্থ যোগানের সিদ্ধান্ত নেবে। এই ধরণের চুক্তির সূচনা ২০০৫ সালে।
যে ধরণের আর্থিক সংকটের উপর ভর করে এসব সংস্থা কর্তৃত্ব স্থাপন করে সেই সংকট মোচনে অনেক দেশ আইএমএফ বা বিশ্বব্যাংকের দায় মিটিয়ে স্বাধীনভাবে চলা শুরু করেছে। বিশ্বব্যাপী ক্রমে নিন্দিত আর একেবারে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাওয়ার মুখে আইএমএফ এখন নতুন রাস্তা খুঁজছে, পিএসআই তার একটি। নাইজেরিয়াসহ বিপর্যস্ত কয়েকটি দেশ ছাড়া কেউ এই চুক্তি করতে রাজী নয়। বাংলাদেশ নিয়ে তারা অনেক আশাবাদী ছিল কিন' প্রতিবাদের মুখে সরকারও আর এই দায় নিতে রাজী হয়নি। আপাতত কিছুদিন আগে বাংলাদেশের সকল ব্যবসায়ী সংগঠন আইএমএফ প্রেসক্রিপশন প্রত্যাখ্যান করার জন্য ডাক দিয়েছেন।
এইসব সংস্থার এরকম মিশন বছরে কতবার এ দেশে আসে সেটা বাংলাদেশের মানুষ সবসময় জানে না। আইএমএফ-এর অফিস যে বাংলাদেশ ব্যাংকে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি নির্ধারণে তাদের কী ভূমিকা সেটাও বাংলাদেশের মানুষের কাছে জানা নেই। বিশ্বব্যাংকের কত মিশন সারা বছর আসে আর তাদের এখানকার অফিস থেকে কর্মকর্তারা কতবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে বসে, কতবার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে তাদের সামলাতে হিমশিম খেতে হয় আমলাদের তা দেশের মানুষ জানে না।
এদেশের গৌরব হিসেবে পরিচিত আদমজী জুট মিলস আবার চালুর লক্ষ্যে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি) ইতিমধ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পাটপণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রায়ত্ত অন্য পাটকল লাভজনক হওয়ায় আদমজী চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রী সমপ্রতি সিদ্ধিরগঞ্জে পিকিং পাওয়ার প্লান্ট উদ্বোধনকালে আদমজী জুট মিল চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারেও আদমজী জুট মিলস চালুর অঙ্গীকার রয়েছে।
গত ৭ জুলাই পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে দেখা করে পাট খাতের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ চান। আদমজী পাটকল চালুর ব্যাপারেও ওই বৈঠকে আলোচনা হয়। এ সময় পাটকলগুলোর বকেয়া পাওনা বাবদ ২৫৭ কোটি টাকা এবং কওমী, দৌলতপুর, পিপলস, এমএম ও রাজশাহী জুট মিল (২য় ইউনিট) চালু করতে ১৭৭ কোটি টাকা চান পাটমন্ত্রী। আদমজী পাটকল চালুর পরিকল্পনা সম্পর্কে পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী জানান, বিশ্বব্যাংকের শর্তের কাছে নতি স্বীকার করে পূর্ববর্তী বিএনপি সরকার মিলটি বন্ধ করে দেয়। কিন' বিশ্বব্যাংকের শর্ত এখন আর কার্যকর নয় এবং দেশে ও আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও পাটের চাহিদা বাড়ছে। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চায় সরকার। পাট খাতকে চাঙা করতে ২০০৯ সালে একটি কমিশন গঠন করেছিল সরকার।
কিন' পাট শিল্পে সরকারি বিনিয়োগে নাখোশ আইএমএফ। বন্ধ লোকসানি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো চালুর সরকারি সিদ্ধান্তেরও কঠোর সমালোচনা করছে এই আন্তর্জাতিক অর্থলগ্নিকারী সংস্থা। বিশেষ করে আদমজী জুট মিল কেন চালু করা হবে, তাও তারা জানতে চায়। ঢাকা ঘুরে যাওয়া আইএমএফ মিশন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এসব বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চেয়েছে। আগামী মাসে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি মিশন আবারও ঢাকায় আসবে।
আইএমএফ-এর কুমন্ত্রণায় পৃথিবীখ্যাত আদমজী জুট মিলস চালুর বিষয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে সরকার। গত জুন মাসে পাঠানো এ সংক্রান্ত সারসংক্ষেপের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কোন নির্দেশনা আসেনি। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আইএমএফ পাট খাতে সরকারি বিনিয়োগে নাখোশ হয়েছে। বিশেষ করে আদমজী জুট মিল চালুর ব্যাপারে তাদের প্রবল আপত্তি রয়েছে।
উল্লেখ্য, দৈনিক ৫০ দশমিক ৭০ লাখ মেট্রিক টন সুতা ও বহুমুখী পণ্য উৎপাদন করতে ৩০৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। আদমজীর ২নং ইউনিটে থাকা ১১ একর জায়গায় এ মিল স্থাপন করা হবে। এখানে তাঁত থাকবে ৫০টি। দৈনিক ১৬ ঘণ্টা কাজ হবে। প্রথম ৬ মাসে ব্যয় হবে ৯৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। আর দু’বছরের মধ্যে মিলটি লাভের মুখ দেখবে।
উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংকের নির্দেশে ২০০২ সালের ৩০শে জুন বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই পাটকলটি বন্ধ করে দেয়া ছিলো চরম ভুল। কারণ ৩শ’ কোটি টাকা খরচ করলে মিলটি পুরো মাত্রায় উৎপাদনে যেতে পারত। অথচ গোল্ডেন হ্যান্ডশোকের কারণে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৪শ’ কোটি টাকা।
সেক্ষেত্রে আইএমএফ-এর পরামর্শে মাত্র ৩০৭ কোটি টাকা ব্যয় আদমজী পুনঃ চালু না করলেও সরকার চরম ভুল করবে।
মূলত ইহুদী লবিং নিয়ন্ত্রিত আইএমএফ ও এডিবি কখনও মুসলমানদের জন্য মঙ্গলকামী নয়। কুরআন শরীফ-এ মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে বড় শত্রু ইহুদী।”
উল্লেখ্য, ইহুদী ষড়যন্ত্র সম্পর্কে আজকের নামধারী আলিম সমাজ, এ জাতিকে কোনই সচেতনতা ও সমঝ দিতে পারেনি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


