somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জঙ্গিবাদের গোড়া একখানে- লন্ডনে ॥ জেএমবি সদস্য সংগ্রহ করে ছাত্রশিবির থেকে

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১০ ভোর ৪:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বেলজিয়ামভিত্তিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজি) তাদের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, জেএমবি’র সদস্য সংগ্রহের অন্যতম ঘাঁটি ছাত্রশিবির। বাংলাদেশে জঙ্গিরা নানাভাবে সংগঠিত হচ্ছে। পাশাপাশি বড় ধরনের জঙ্গি হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে এ দেশ। জেএমবি (তথা জঙ্গি জামাত-শিবির) উচ্ছেদে সরকারের পদক্ষেপও খুব ধীরগতির বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনটিতে। জেএমবি ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত। গত ১ মার্চ ২০১০ ঈ. সোমবার সংস্থাটির প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।
‘দ্য থ্রেট ফ্রম জামা’আতুল মুজাহিদীন্তু শিরোনামের প্রতিবেদনে জানানো হয় জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) তাদের সদস্য সংগ্রহের মূল উৎস মওদুদী জামাতের ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবিরকে ব্যবহার করছে। এছাড়া সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী জেএমবি’র জঙ্গি হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ।
ক্রাইসিস গ্রুপের এশিয়া অঞ্চলের বিশ্লেষক (অ্যানালিস্ট) মাইকেল শেক বলেছে যে, জেএমবিসহ জঙ্গি সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক দমনে সরকার বেশ সাফল্য দেখালেও জঙ্গিরা নানা কায়দায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে জেএমবিকে তাদের পুরনো সাংগঠনিক পদক্ষেপের পরিবর্তে ভিন্ন পন্তুা অবলম্বন করতে হচ্ছে। সদস্য নিয়োগ পদ্ধতি পরিবর্তন ও তহবিল সংগ্রহের উৎস পাল্টানোর কথা জানানো হয় প্রতিবেদনে। এতে জানানো হয়, বিভিন্ন সময়ে যারা গ্রেফতার হয়েছে কিংবা মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছে তাদের বাইরে যেসব সংগঠক রয়েছে তারা প্রতিশোধ নেয়ার জন্য ভয়ঙ্কর আক্রমণের পরিকল্পনা নিচ্ছে।
ক্রাইসিস গ্রুপের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যথাযথ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কাউন্টার টেরোরিজম বাহিনী না থাকা এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সংস্থাগুলোর মধ্যে যথাযথ সমন্বয় না থাকায় জেএমবি’র মতো নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে উচ্ছেদের পরিকল্পনা পুরোপুরি সফল হচ্ছে না। ২০০৬ সালে আটক জেএমবি প্রধান মাও. আবদুর রহমানসহ ছয় জেএমবি নেতাকে ২০০৭ সালে ফাঁসিতে ঝোলালেও তাদের কার্যক্রম নির্মূল করা যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে জানানো হয়, রাজশাহী অঞ্চলে এখনো জেএমবি’র শক্ত কার্যক্রম রয়েছে। বর্তমানে সংগঠনটির এহসার সদস্য ২৫০।
লস্কর-ই তৈয়্যবা (এলইটি)এর সঙ্গে সম্পর্কিত এ সংগঠনটি ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় কয়েকটি দূতাবাসে হামলার পরিকল্পনা করেছিলো উল্লেখ করে প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, দুর্বলতা কটিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিতে ভয়ঙ্কর হামলার পরিকল্পনা আঁটছে সংগঠনটি।
জামাতে মওদুদীর অঙ্গসংগঠন ছাত্রশিবিরকে সদস্য সংগ্রহের ভিত্তি উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারিবারিকভাবে জঙ্গিবাদের চর্চা হয় জঙ্গি সংগঠনগুলোতে। জেএমবি পরিবারের নিজেদের মধ্যে বিয়ে হওয়ার নজির অসংখ্য জানিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নিজস্ব চারটি জঙ্গি মাদরাসা পরিচালনার পাশাপাশি তথাকথিত অভিজাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সদস্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে জঙ্গিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্থ জেএমবি’র জন্য কোনো সমস্যা নয়। বিভিন্ন উৎস থেকে তাদের অর্থ আসে। নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে অর্থের উৎস সংকুচিত হয়ে এলেও স্থানীয় বিভিন্ন ব্যবসা থেকে অর্থ সংগ্রহ করে জেএমবি। মধ্যপ্রাচ্য তথা সউদী আরব এবং কুয়েতের বিভিন্ন উৎস থেকে হুন্ডি ও হাওলার মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে জেএমবি। জেএমবি’র সঙ্গে ভারতীয় জঙ্গি সংগঠন এলইটি’র যোগাযোগ ও অস্ত্র ব্যবসার তথ্য ২০০৮ সালে উদঘাটিত হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠনগুলোর ব্রিটেন কানেকশনের তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, নানা নামে সংগঠিত হলেও সব সংগঠনের চালিকাশক্তি ওই এক জায়গাতেই অর্থাৎ ব্রিটেনে লন্ডলে। ২০০৫ সালের জুলাইয়ে লন্ডন পাতাল রেল বিস্ফোরণে জেএমবি’র ভূমিকা ছিলো বলে উল্লেখ রয়েছে প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জঙ্গি হামলায় সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মন্ত্রিপরিষদ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের জীবন। ক্রাইসিস গ্রুপের এশিয়া প্রোগ্রাম পরিচালক রবার্ট টেম্পলার বলেছে, শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকারকে জঙ্গি হুমকি বিষয়ে আরো সজাগ হতে হবে। যেখানে কালক্ষেপণ করলে চরম মাশুল গুনতে হবে।
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×