বেলজিয়ামভিত্তিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজি) তাদের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, জেএমবি’র সদস্য সংগ্রহের অন্যতম ঘাঁটি ছাত্রশিবির। বাংলাদেশে জঙ্গিরা নানাভাবে সংগঠিত হচ্ছে। পাশাপাশি বড় ধরনের জঙ্গি হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে এ দেশ। জেএমবি (তথা জঙ্গি জামাত-শিবির) উচ্ছেদে সরকারের পদক্ষেপও খুব ধীরগতির বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনটিতে। জেএমবি ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত। গত ১ মার্চ ২০১০ ঈ. সোমবার সংস্থাটির প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।
‘দ্য থ্রেট ফ্রম জামা’আতুল মুজাহিদীন্তু শিরোনামের প্রতিবেদনে জানানো হয় জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) তাদের সদস্য সংগ্রহের মূল উৎস মওদুদী জামাতের ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবিরকে ব্যবহার করছে। এছাড়া সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী জেএমবি’র জঙ্গি হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ।
ক্রাইসিস গ্রুপের এশিয়া অঞ্চলের বিশ্লেষক (অ্যানালিস্ট) মাইকেল শেক বলেছে যে, জেএমবিসহ জঙ্গি সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক দমনে সরকার বেশ সাফল্য দেখালেও জঙ্গিরা নানা কায়দায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে জেএমবিকে তাদের পুরনো সাংগঠনিক পদক্ষেপের পরিবর্তে ভিন্ন পন্তুা অবলম্বন করতে হচ্ছে। সদস্য নিয়োগ পদ্ধতি পরিবর্তন ও তহবিল সংগ্রহের উৎস পাল্টানোর কথা জানানো হয় প্রতিবেদনে। এতে জানানো হয়, বিভিন্ন সময়ে যারা গ্রেফতার হয়েছে কিংবা মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছে তাদের বাইরে যেসব সংগঠক রয়েছে তারা প্রতিশোধ নেয়ার জন্য ভয়ঙ্কর আক্রমণের পরিকল্পনা নিচ্ছে।
ক্রাইসিস গ্রুপের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যথাযথ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কাউন্টার টেরোরিজম বাহিনী না থাকা এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সংস্থাগুলোর মধ্যে যথাযথ সমন্বয় না থাকায় জেএমবি’র মতো নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে উচ্ছেদের পরিকল্পনা পুরোপুরি সফল হচ্ছে না। ২০০৬ সালে আটক জেএমবি প্রধান মাও. আবদুর রহমানসহ ছয় জেএমবি নেতাকে ২০০৭ সালে ফাঁসিতে ঝোলালেও তাদের কার্যক্রম নির্মূল করা যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে জানানো হয়, রাজশাহী অঞ্চলে এখনো জেএমবি’র শক্ত কার্যক্রম রয়েছে। বর্তমানে সংগঠনটির এহসার সদস্য ২৫০।
লস্কর-ই তৈয়্যবা (এলইটি)এর সঙ্গে সম্পর্কিত এ সংগঠনটি ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় কয়েকটি দূতাবাসে হামলার পরিকল্পনা করেছিলো উল্লেখ করে প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, দুর্বলতা কটিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিতে ভয়ঙ্কর হামলার পরিকল্পনা আঁটছে সংগঠনটি।
জামাতে মওদুদীর অঙ্গসংগঠন ছাত্রশিবিরকে সদস্য সংগ্রহের ভিত্তি উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারিবারিকভাবে জঙ্গিবাদের চর্চা হয় জঙ্গি সংগঠনগুলোতে। জেএমবি পরিবারের নিজেদের মধ্যে বিয়ে হওয়ার নজির অসংখ্য জানিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নিজস্ব চারটি জঙ্গি মাদরাসা পরিচালনার পাশাপাশি তথাকথিত অভিজাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সদস্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে জঙ্গিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্থ জেএমবি’র জন্য কোনো সমস্যা নয়। বিভিন্ন উৎস থেকে তাদের অর্থ আসে। নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে অর্থের উৎস সংকুচিত হয়ে এলেও স্থানীয় বিভিন্ন ব্যবসা থেকে অর্থ সংগ্রহ করে জেএমবি। মধ্যপ্রাচ্য তথা সউদী আরব এবং কুয়েতের বিভিন্ন উৎস থেকে হুন্ডি ও হাওলার মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে জেএমবি। জেএমবি’র সঙ্গে ভারতীয় জঙ্গি সংগঠন এলইটি’র যোগাযোগ ও অস্ত্র ব্যবসার তথ্য ২০০৮ সালে উদঘাটিত হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠনগুলোর ব্রিটেন কানেকশনের তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, নানা নামে সংগঠিত হলেও সব সংগঠনের চালিকাশক্তি ওই এক জায়গাতেই অর্থাৎ ব্রিটেনে লন্ডলে। ২০০৫ সালের জুলাইয়ে লন্ডন পাতাল রেল বিস্ফোরণে জেএমবি’র ভূমিকা ছিলো বলে উল্লেখ রয়েছে প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জঙ্গি হামলায় সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মন্ত্রিপরিষদ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের জীবন। ক্রাইসিস গ্রুপের এশিয়া প্রোগ্রাম পরিচালক রবার্ট টেম্পলার বলেছে, শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকারকে জঙ্গি হুমকি বিষয়ে আরো সজাগ হতে হবে। যেখানে কালক্ষেপণ করলে চরম মাশুল গুনতে হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

