somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, দেশের মুহব্বত জুযয়ে ঈমান। স্বাধীনতার ৪০ বৎসর পূর্ণ হলেও রাজাকার-যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে গড়িমসি করা হচ্ছে কেন?

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১১ দুপুর ১২:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চিহ্নিত অন্যান্য রাজাকারদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না কেন?
শতকরা ৯৭ ভাগ মুসলমানের দেশ বাংলাদেশের সরকারের জন্য ফরয ওয়াজিব হচ্ছে, দেশী-বিদেশী অপশক্তির চাপে নতি স্বীকার না করে অতিসত্বর যালিম যুদ্ধাপরাধী ও দেশদ্রোহীদের বিচার করে জনগণকে দেয়া ওয়াদা পূরণ করা।
অন্যথায় জনসমর্থন হারানোর পাশাপাশি সরকারকে এজন্য বিরাট মাশুলও দিতে হতে পারে
শরীয়তের সুস্পষ্ট নির্দেশ ও দুনিয়াবী যথেষ্ট দলীল-প্রমাণ থাকার পরও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হচ্ছে না কেন? ইসলামের দৃষ্টিতে ’৭১-এর রাজাকার, আল-বাদর, জামাতী, ওহাবী, সালাফী, খারিজীরা অত্যন্ত ঘৃণিত অপরাধী। আর সে অপরাধের বিচার না করাও অপরাধ হিসেবে সাব্যস্ত হবে। তাই দেশী-বিদেশী যতো চাপই থাকুক না কেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা থেকে পিছপা হওয়া যাবে না।

সূরা মায়িদা-এর ৪৫ নম্বর আয়াত শরীফ-এ মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “আমি এ কিতাবে তাদের প্রতি লিখে দিয়েছি যে, প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ, চক্ষুর বিনিময়ে চক্ষু, নাকের বিনিময়ে নাক, কানের বিনিময়ে কান, দাঁতের বিনিময়ে দাঁত এবং জখমসমূহের বিনিময় সমান জখম। অতঃপর যে ক্ষতিগ্রস্তদের বিনিময় প্রদান করে সে গুনাহ থেকে পবিত্র হয়ে যায়। যেসব লোক মহান আল্লাহ পাক তিনি যা অবতীর্ণ করেছেন, তদানুযায়ী ফায়ছালা করে না, তারাই যালিম।”

১৯৮১ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকার ঘোষণায় বলা হয়েছে, মানব ইতিহাসে যতো গণহত্যা হয়েছে তার মধ্যে স্বল্পতম সময়ে সব থেকে বেশি মানুষ নিহত হয়েছে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের গণহত্যায়। দৈনিক গড়ে ৬ হাজার থেকে ১২ হাজার মানুষকে তখন হত্যা করা হয়।

মহান আল্লাহ পাক তিনি কুরআন শরীফ-এ ইরশাদ ফরমান, “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের প্রতি নিহতদের ব্যাপারে কিসাস গ্রহণ করা বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। স্বাধীন ব্যক্তি স্বাধীন ব্যক্তির বদলায়, দাস দাসের বদলায় এবং নারী নারীর বদলায়। অতঃপর তার ভাইয়ের তরফ থেকে যদি কাউকে কিছুটা মাফ করে দেয়া হয়, তবে প্রচলিত নিয়মের অনুসরণ করবে এবং ভালোভাবে তাকে তা প্রদান করতে হবে। এটা তোমাদের পালনকর্তার তরফ থেকে সহজ এবং বিশেষ অনুগ্রহ। এরপরও যে ব্যক্তি বাড়াবাড়ি করে, তার জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব। হে জ্ঞানীগণ! কিসাসের মধ্যে তোমাদের জন্য জীবন রয়েছে, যাতে তোমরা সাবধান হতে পার।” (সূরা বাক্বারা : আয়াত নম্বর ১৭৮, ১৭৯)

বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধী রাজাকারের তথ্য প্রমাণাদি নেই যে তা নয়। যা আছে তা যথেষ্ট। এর থেকেও কম প্রমাণ নিয়ে আর্জেন্টিনায় নাৎসি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে। এর বাইরে সম্প্রতি চিলি, কম্বোডিয়া ও কসোভোর গণহত্যার বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের অপরাধ প্রমাণে বিভিন্ন দেশের গোপনীয় গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলোকেও পেশ করা যায়।
১৯৭৩ সালে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনাল) অ্যাক্ট এখনো বহাল আছে। একই সঙ্গে ১৯৭৩ সালের প্রশাসনিক নির্দেশে ‘সাধারণ ক্ষমা’ ঘোষণাকে নতুন একটি প্রশাসনিক আদেশ দিয়ে অকার্যকর করা যায়।
সম্প্রতি জার্মান ও জাপানের যুদ্ধাপরাধীদের সামরিক ট্রাইব্যুনালে বিচার করা হয়েছে। সুতরাং বাংলাদেশেও এটি সম্ভব। যারা বলছে ‘এদেশে কোনো যুদ্ধাপরাধী নেই’ তারা পক্ষান্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেই অস্বীকার করছে। এক্ষেত্রে দেশদ্রোহিতার অভিযোগে তারা অভিযুক্ত। কাজেই দেশদ্রোহী হিসেবেও তারা বিচারের উপযুক্ত।

সূরা নিসা-এর ২৯ ও ৩০ নম্বর আয়াত শরীফ-এ মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না। কেবলমাত্র তোমাদের পরস্পরের সম্মতিক্রমে যে ব্যবসা করা হয় তা বৈধ। আর তোমরা নিজেদের কাউকে হত্যা করো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা তোমাদের প্রতি দয়ালু। আর যে কেউ সীমালঙ্ঘন কিংবা যূলুমের বশবর্তী হয়ে এরূপ করবে, তাকে খুব শীঘ্রই আগুনে নিক্ষেপ করা হবে। এটা মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষে খুবই সহজসাধ্য।”

বিদায় হজ্জের খুতবায়, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরাফার ময়দানে ‘পবিত্র খুতবা শরীফ’-এ বলেন, “আজকের এ দিন যেমন পবিত্র তেমনি প্রতিটি মুসলমানের জান-মালও পবিত্র। এমনকি তিনি মুসলমানের জান-মাল রক্ষার জন্য জিহাদের অনুমতিও দেন।”

রাজাকার, আল-বাদররা যে নরহত্যা, সম্ভ্রমহরণ ও লুণ্ঠন করেছে তাতে তারা লাখ-লাখ বান্দার হক্ব নষ্ট করেছে অর্থাৎ হক্কুল ইবাদ নষ্ট করেছে। আর আমভাবে হক্কুল ইবাদের গুনাহ মহান আল্লাহ পাক তিনি ততক্ষণ পর্যন্ত ক্ষমা করেন না, যতক্ষণ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত বান্দা তা ক্ষমা না করে।

নরহত্যার বদলা সম্পর্কে পবিত্র কুরআন শরীফ-এ এতো আয়াত শরীফ ও কঠোর নির্দেশ থাকার পরও যারা যুদ্ধাপরাধী জামাতী, ওহাবী, সালাফী, খারিজীদের বিচার করবে না, তারাও শরীয়তের দৃষ্টিতে অপরাধী বলে সাব্যস্ত হবে।

মূলকথা হলো- বর্তমান সরকার রাজাকার তথা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার ব্যাপারে ওয়াদাবদ্ধ। তাহলে শরীয়তের সুস্পষ্ট নির্দেশ ও দুনিয়াবী যথেষ্ট দলীল-প্রমাণ থাকার পরও রাজাকার তথা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে গড়িমসি করা হচ্ছে কেন? আর চিহ্নিত বাকি রাজাকারদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না কেন- এটা জনগণের প্রশ্ন? কাজেই শতকরা ৯৭ ভাগ মুসলমানের দেশ বাংলাদেশের সরকারের জন্য ফরয ওয়াজিব হচ্ছে- দেশী-বিদেশী অপশক্তির চাপে নতি স্বীকার না করে অতিসত্বর যালিম যুদ্ধাপরাধী ও দেশদ্রোহীদের বিচার করে জনগণকে দেয়া ওয়াদা পূরণ করা। অন্যথায় জনসমর্থন হারানোর পাশাপাশি সরকারকে এজন্য বিরাট মাশুলও দিতে হতে পারে।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:২২
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:২৫



ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে। এই স্থানটি খুবই নিরিবিলি। দেশের আইন-শৃঙ্খলার অবস্থা খুবই খারাপ। এমন ফাকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×