somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

তাজুল ইসলাম মুন্না
সাংবাদিকতা নিয়ে পড়ালেখা করছি। পাশাপাশি অনলাইন জার্নালিস্ট হিসেবে কাজ করছি দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডে। ব্লগে ফেরার ইচ্ছা বহুদিনের। একদিন হয়তো হুট করে আবারও রেগুলার হয়ে যাবো।

জীবনটা কেমন যেন হয়ে যাচ্ছে। একটা বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া নিয়ে চিন্তিত আছি......................?

২০ শে নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

খুব সুন্দর একটা প্ল্যান ছিল। যেইদিন তার সাথে প্রথম দেখা হলো; তার কাছ থেকে ভালবাসার সাড়া পেলাম। সেইদিনই এই প্ল্যানটা করে ফেলেছিলাম। অনেকেই হয়তো হাসবেন। বলবেন, "জীবনটাতো সবে শুরু হলো বস। সবেতো ক্লাস টেনে পড়েন। এখনো অনেকদূর বাকী...." হ্যা। আসলেই অনেক দূর বাকী। গত এক সপ্তাহ ধরে নিজেকে এই কথাটুকুই বোঝানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু.....পারছিনা।

যাক, প্ল্যানের কথা বলি। পোস্টের প্রথম অংশ পড়ে হয়তো বুঝতে পেরেছেন প্ল্যানটা কার ব্যাপারে। ভালবাসার সেই মানুষটাকে নিয়েই জীবনের প্ল্যানটাকে করেছিলাম। প্ল্যানটা খারাপ ছিলনা। তার ইচ্ছা ডাক্তারি পড়ার। নিজে প্রতিষ্ঠিত হতে চায়। তার পরিবার তার কাছ থেকে অনেক আশা করে। আমার বাবা-মাও চায় আমি ডাক্তার হই। আমার নিজের কোন ইচ্ছা নেই। কম্পিউটার আমাকে খুব টানে। তাই আমার ইচ্ছা এই লাইনেই কিছু একটা পড়বো। কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বা এইরকম কিছু একটা। কম্পিউটার রিলেটেড। আমার পরিবারও রাজী। অনেক হিসেব করে সে আর আমি মিলে ঠিক করেছিলাম আমরা বিয়ে করবো। এখন না, ঠিক দশ বছর পরে। তখন আমাদের দুই জনের লেখাপড়া শেষ হয়ে যাবে

সবকিছু ঠিকঠাকমতোই চলছিল। আমার প্ল্যানটা সুন্দর ছিল বলেই মনে করি। কিন্তু এই মাসের ১২তারিখে তার বাবা মারা গেলেন । আমি ভাবলাম আমি সবসময় তার সাথে থাকবো। তাকে পুরোপুরি সাপোর্ট দিয়ে যাবো। কিন্তু এক-দুইদিন যেতেই আমার চিন্তার ভিতরে বিশাল একটা পরিবর্তন আসলো।

তার বাবা যখন জীবিত ছিলেন তখন তার পক্ষে ১০বছর অপেক্ষা করা কোন বিষয়ই ছিলনা। কিন্তু এখন? তার বাবার অনুপস্থিতিতে সে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারবে। কিন্তু তার পরিবার এখন অবশ্যই চাইবে যতো দ্রুত সম্ভব তার বিয়ে দিয়ে দিতে। তার বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। মেঝো জনের লেখাপড়া প্রায় শেষের দিকে। আগামী ২/৩বছরের মধ্যে তারও বিয়ে হয়ে যাবে। কিন্তু অন্তু এখন পড়ে মাত্র ক্লাস টেনে। এইবছর এসএসসি পরীক্ষা দেবে। তার কি হবে? আমাদের দেশের নিয়ম অনুযায়ী একটা মেয়ের বিয়ের বয়স ১৮ বছর। (আমার এক বন্ধু বলে ২০বছর। তার সাথে এই নিয়ে অনেক তর্কাতর্কিও হইছে।) তার মা একা তাকে ৭বছর কিভাবে লেখাপড়া করাবে? তার বড়বোনের হাজবেন্ড বর্তমানে তাদের পরিবারের পাশে দাড়িয়েছে এই দূর্যোগের দিনে। কিন্তু সে কয়দিন থাকতে পারবে?

আমি তাকে ভালবাসি। তাই তার ভাল চাই। আমি আমার ভালবাসার চেয়ে তার ভাল একটা ভবিষ্যত জীবনকেই বেশি করে চাই। এইচ.এস.সি পরীক্ষার পরে যদি সে কোন একটা ম্যাচিউরড্ ছেলেকে বিয়ে করে ফেলে তাহলে সে খুব সুখে-শান্তিতে থাকতে পারবে। সেই ছেলে হয়তো তাকে তার লেখাপড়া চালিয়ে যাবার সুযোগও করে দেবে। তার জন্যে এরকম ভাল ছেলেদের প্রস্তাবও আছে যারা বর্তমানে ম্যাচিউরড্। যেকোন মূহুর্তে তার রেসপন্সিবিলিটি নিতে পারবে। কিন্তু আমার ভিতরে এই ম্যাচিউরিটি আসতে লাগবে আরো দশটা বছর। সে হয়তো আমার জন্য কষ্ট করে আরো দশটা বছর অতিক্রম করতে পারবে। কিন্তু তা করতে তার অনেক স্ট্রাগল করতে হবে। আমি এখন চাচ্ছি তার কাছ থেকে আস্তে আস্তে দূরে সরে যেতে। তাকে যদি সরাসরি আমি এই কথাগুলো বলি তাহলে সে কোনদিন আমাকে ছাড়বেনা। আর আমাদের সম্পর্কটা গাঢ় হয়েছে ঠিক কিন্তু এমন কোন পর্যায়ে ডায়নি যে সেখান থেকে ফিরে আসা যাবেনা। আমি তাকে ভালবাসি বলেই হয়তো কখনো তার কোন ক্ষতি করিনি।


তার বাবা মারা গেছেন আজকে আট দিন হলো। প্রতিটি মূহুর্ত আমার ভিতরে এই চিন্তাগুলো আসছে। এখন আপনারাই বলুন, আমি যা করতে চাচ্ছি তা কি ঠিক??????????
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৫০
১৮টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×