ঢাকা, ৩০ ডিসেম্বর (শীর্ষ নিউজ ডটকম): থার্টি ফার্স্ট নাইটে উচ্ছৃঙ্খলতা ও অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে মহানগর পুলিশ। রাজধানীর ৮টি ক্রাইম জোনে রাতে মোতায়েন করছে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার পুলিশ। এছাড়া নগর জুড়ে মোতায়েন থাকবে প্রায় ২ হাজার র্যাব সদস্য। নগরীর বিভিন্ন স্থানে সাদা পোশাকে টহল দেবে প্রায় ৫শ গোয়েন্দা। সতর্ক পুলিশি পাহারা বসানো হবে নগরীর ৮৪টি পয়েন্টে। ইতিমধ্যেই ওই ৮৪ পয়েন্টকে স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করে ওইসব এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
স্পর্শকাতর এসব এলাকায় পুলিশের ডগ স্কোয়াড আর অশ্বারোহী বাহিনী ছাড়াও প্রস্তুত রাখা হচ্ছে কমান্ড ভেহিকেল (রায়ট কন্ট্রোল কার), জল কামান (ওয়াটার ক্যানন), অগ্নি নির্বাপক গাড়ি (ফায়ার টেন্ডার) ও এ্যাম্বুলেন্স। মহানগর পুলিশ বলেছে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় এবার নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে বেশি সংখ্যক তরুণ-তরুণী রাজপথে নেমে আসতে পারে। এতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ছাড়াও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে তারা অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছেন। র্যাবের ডিজি হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেছেন, রাজধানীতে ২ হাজার ছাড়াও সারাদেশে আরও তিন হাজার র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। থার্টি ফার্স্ট নাইটে মাতাল হলেই এ্যাকশনে যাবে র্যাব।
জানা গেছে, এ বছর থার্টি ফার্স্ট নাইটকে সামনে রেখে হোটেল সোনারগাঁও, শেরাটন, ঢাকা রিজেন্সি, রেডিসনে জাকজমক আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন ক্লাব ও থ্রি-স্টার হোটেলেও তরুণ-তরুণীদের দেয়া হচ্ছে আকর্ষণীয় অফার। এ বছর থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে গুলশানের ফু-ওয়াং ক্লাবে তিনটি অনুষ্ঠান থাকছে। এসব অনুষ্ঠানে পানীয় ছাড়াও রাখা হয়েছে নানা আয়োজন। ইতিমধ্যেই এসব অনুষ্ঠানের টিকেট শেষ হয়ে গেছে। এসব তারকা হোটেল ও ক্লাবে অপ্রীতিকর ঘটনার বিষয়টি মাথায় রেখে পুলিশ সকল প্রকার উম্মাদনা ঠেকাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। এর বাইরে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় রাতভর টহল দেবে র্যাবের টিম।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার একেএম শহীদুল হক বলেছেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি যে কোন মূল্যে থার্টি ফার্স্ট নাইটে উচ্ছৃঙ্খলা প্রতিরোধ করা হবে।
মহানগর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উচ্ছৃঙ্খলতা ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে নগরীর ৮টি ক্রাইম ডিভিশনকে ৮টি সেক্টর হিসেবে চিহ্নিত করে ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে নিরাপত্তা বেষ্টনি গড়ে তুলবে পুলিশ। রাত ৮টার পর এসব এলাকায় সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হবে। থার্টি ফার্স্ট নাইটকে সামনে রেখে সবচেয়ে স্পর্শকাতর কূটনৈতিক জোন গুলশান-বনানীর নিরাপত্তায় দেয়া হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্ব। গুলশানকে দুই ভাগে ভাগ করে ৬ জন এডিসির নেতৃত্বে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে। স্পর্শকাতর এ এলাকার মহাখালী ক্রসিং, বেপটিস্ট চার্চ, বনানী ১ নম্বর রোড, ১১ নম্বর রোড, ২৭ নম্বর রোড, এয়ারপোর্ট রোড ক্রসিং, নিকেতন ক্রসিং, ১ নম্বর গোল চত্বর, ২ নম্বর গোল চত্বর, ওয়ান্ডারল্যান্ড, ১ ও ২ নম্বর সার্কেলে ডিসিসি মার্কেট, ল্যান্ড ভিউ মার্কেট, রব ম্যানশন, কাকলী ক্রসিং, বনানী বাজার, এমেকিস ক্লাব, হোটেল রেডিসন, হোটেল সেরিনা, গুলশান ক্লাব, গুলশান টাওয়ার, কানাডিয়ান ক্লাব, ব্রিটিশ ক্লাব, বারিধারা ব্রিজ, নর্দ্দা-কালাচাঁদপুর রোড, প্রগতি সরণি ক্রসিংয়ে মোতায়েন থাকবে পোশাকধারী পুলিশ।
এর বাইরে গুলশান থানায় স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে প্রস্তুত থাকবে স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) ২০ জন, পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টের (পিওএম) ১২০ জন (৪ প্লাটুন), ২ প্লাটুন পোশাকধারী মহিলা পুলিশ ও ৫টি মোবাইল টিম। এখানে প্রস্তুত থাকবে ফায়ার টেন্ডার (জল কামান) ও চিকিৎসকসহ একটি এ্যাম্বুলেন্স ।
থার্টি ফার্স্ট নাইটে নিরাপত্তার দিক থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ধানমন্ডি ও রমনা এলাকাকে নিয়ে গঠিত ২ নম্বর সেক্টরকে দ্বিতীয় গুরুত্ব দিয়েছে মহানগর পুলিশ। ধানমন্ডির বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকা ছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশ মুখ শাহবাগ ক্রসিং, দোয়েল চত্বর, চানখারপুল, জগন্নাথ হল ক্রসিং, টিএসসি, পলাশী, নীলক্ষেত ক্রসিং, ঢাকা কলেজ গেট, ব্রিটিশ কাউন্সিল, চারুকলা, ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট, আণবিক শক্তি কমিশন, দোয়েল চত্বর ও সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের সামনে মোতায়েন করা হবে বিপুল সংখ্যক পুলিশ। এ এলাকায় ঢাবি ভিসির বাসভবন, সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ও সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের সামনে ৩টি স্ট্রাইকিং ফোর্স ছাড়াও ৪টি মোবাইল টিম প্রস্তুত থাকবে।
উত্তরা জোনকে তৃতীয় স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে এ এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। উত্তরা ক্লাব, বিমান বন্দর এলাকায় নিয়মিত বাহিনীর বাইরে মোতায়েন থাকবে পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টের (পিওএম) ২ প্লাটুন পুলিশ। এছাড়া শাহবাগ পুলিশ কন্ট্রোল রুমে প্রস্তুত থাকবে পিসিআর এর ৪ প্লাটুন, এসটিএফ এর ২ প্লাটুন, পিওএম এর ৪ প্লাটুন এবং এসএফ এর ২ প্লাটুন অতিরিক্ত পুলিশ। সব মিলিয়ে থার্টি ফার্স্ট নাইটে উচ্ছৃঙ্খলতা ও অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে ব্যাপক আয়োজন করেছে মহানগর পুলিশ।
থার্টি ফার্স্ট নাইটের উম্মাদনা ঠেকাতে নানা আয়োজনের খবর জানাতে মঙ্গলবার র্যাব সদর দফতরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। এতে র্যাবের ডিজি হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, থার্টি ফার্স্ট নাইটে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আতশবাজির আবরণে অনেক হত্যা, শ্লীলতাহানি, ধর্ষণ, লুটপাট এবং ছিনতাই ও নাশকতার ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে। এ কারণে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। প্রকাশ্যে মদপান এবং মাতাল হলেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এ্যাকশনে যাবে বলে জানান র্যাবের ডিজি। সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চলতি বছর সারাদেশে র্যাবের এনকাউন্টারে পড়ে ৬০ জন অপরাধী নিহত হয়েছে। মাদক বিস্তারের ফলে আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখা যাচ্ছে না দাবি করে তিনি বলেন, থার্টি ফার্স্ট নাইটে রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান, উত্তরা, বারিধারা, ধানমণ্ডি ও ডিওএইচএস এলাকায় র্যাবের ডগ স্কোয়াড, বোমা ডিস্পোজাল টিম মোতায়েন থাকবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



