রাজশাহীর তানোরে আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রাম জুমারপাড়া। গত বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে এ গ্রামের একটি পুকুরে মাছ লুট করতে নামে একদল লোক। তারা আসে মোটরসাইকেল, রিকশা ভ্যান, নসিমন, জাল আর আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র নিয়ে। বিশাল বিশাল জাল দিয়ে ভোর ৪টা পর্যন্ত তারা মাছ ধরে। সঙ্গে আনা বড় পাঁচটি পাতিলে ভরে মাছ তোলে ভ্যান আর নসিমনে। তবে নিয়ে যেতে পারেনি। স্থানীয় বাসিন্দারা তীর-ধনুক-বর্শা নিয়ে ঘেরাও করে তাদের। সকাল হতে হতেই দেখা যায় আটক ১৬ জনের ১০ জন স্থানীয় যুবলীগের নেতা-কর্মী। আর ছয়জন ভাড়া করা জেলে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ডাকাত ধরা পড়েছে বলে রাতেই পুলিশে খবর দেওয়া হলেও তারা আসে সকাল ৯টায়। এসে আটক যুবলীগ নেতা-কর্মীদের ছাড়িয়ে নিয়ে বাড়িতে পেঁৗছে দেয়। পুলিশ যুবলীগ নেতা-কর্মীদের ছেড়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। স্থানীয় মুণ্ডুমালা পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হামিদ বলেন, 'আসলে এরা ছেলে-ছোকরা মানুষ। না বুঝেই মাছ ধরতে গিয়েছিল। তারা আমাকে বলছে, আর কখনো এমনটা করবে না।'
জুমারপাড়ার আদিবাসী গ্রামের মোড়ল সুরেন মুণ্ডা কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমরা ডাকাত বলেই তাদের আটক করি। পরে চিনতে পারি তারা যুবলীগের নেতা।' তিনি বলেন, 'ডাকাত আটক হয়েছে জানিয়ে আমরা মুণ্ডুমালা পুলিশ ফাঁড়ির দারোগা হামিদকে খবর দিই। পুলিশ কোনোভাবেই রাতে আসেনি। কিন্তু সকালে এসে পুলিশ আমাদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে তাদের ছাড়িয়ে নিয়ে চলে যায়। দেশে বিচার-আচার আর নাই। অভিযোগ করব কার কাছে?'
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মাছ লুটের ঘটনায় তানোরের মুণ্ডুমালা পৌর যুবলীগের সভাপতি আহমেদ হোসেন সিজার, সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী রতন, কমিটির সদস্য শাহাদাত হোসেন মিঠু, আলমসহ সংগঠনটির ১০ নেতাকর্মী জনতার হাতে আটক হন। এ সময় এলাকাবাসী দুটি মোটরসাইকেল, একটি নসিমন, একটি রিকশা ভ্যান, দুটি বড় কাপা জাল ও প্রায় ১০ মণ মাছ আটক করে।
এ ঘটনায় আদিবাসীদের সংগঠন লাহান্তি আখড়া ফোরামের নেতা রজন হেমব্রম গতকাল শুক্রবার বিকেলে যুবলীগের ১০ জনকে আসামি করে থানায় একটি এজাহার দিয়েছেন। এজাহারে মাছ লুটকারীদের ডাকাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী হিরা লাল মুণ্ডা জানান, শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে মুণ্ডুমালা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক আব্দুল হামিদ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা বলেন, যা হওয়ার হয়েছে, এরা আর মাছ ধরতে আসবে না। এরপর পুলিশ যুবলীগ নেতাদের বাড়ি পৌঁছে দেয়।
তানোর থানার ওসি বজলুর রশীদ বলেন, 'পুুকুরটি সরকারি বলে শুনেছি। তবে যুবলীগ নেতারা আর কখনো সেখানে যাবে না বলে মুচলেকা দিয়েছে। তাছাড়া আমাদের কাছে কেউ অভিযোগও করেনি।
কেউ অভিযোগ না দিলে পুলিশ তো কিছু করতে পারে না।'
এলাকার লোকজনের অভিযোগ, স্থানীয় সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর পৃষ্ঠপোষকতায় যুবলীগের এ নেতাকর্মীরা এলাকায় নানা অপকর্ম করছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারাও একই অভিযোগ করেছেন।
তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী কালের কণ্ঠকে বলেন, 'এসব ঘটনায় আমরা জনগণের সামনে গলা বড় করে কিছুই বলতে পারছি না। এমপি সাহেব যুবলীগের এসব ছেলেদের আস্কারা দিয়ে আমাদের লজ্জায় ফেলে দিচ্ছেন।'
উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিয়ামত আলী বলেন, 'যুবলীগের কিছু ছেলে একেবারে ক্ষমতার দাপটে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। পুলিশ গ্রেপ্তারের বদলে তাদের ছাড়িয়ে আনার যে খারাপ নজির দেখাল তা ঠিক হয়নি।'
সুত্র-কালের কন্ঠ
http://www.kalerkantho.com/

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



