ঢাকার অবকাঠামো এমনভাবে নির্মিত হয়েছে, যা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। পুরোনো ঢাকার পাশাপাশি নতুন ঢাকাতেও ভবন নির্মাণে কোন নীতিমালা মানা হচ্ছে না। যে যার মত করে ভবন নির্মাণ করছে। অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত হওয়ায় এসব ভবনের অধিকাংশই ঝুঁিকপূর্ণ। ভূমিকম্পের মত প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার ন্যূনতম কোন সুযোগ সুবিধা এসব অবকাঠামো নির্মাণের েেত্র বিবেচনায় নেয়া হয়নি। যে কারণে ঢাকা আজ খুব ঝুঁকিপূর্ণ একটি শহরে পরিণত হয়েছে।
আজ সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে “ভূমিকম্প মোকাবেলায় সচেতনতা ও করণীয়” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগ ও সেন্টার ফর ডিজাস্টার এন্ড ভারনারবিলিটি স্টাডিজ (সিডিবিএস) এবং গ্রীণ বেল্ট ট্রাস্ট এর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ভূতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল হাসান। আলোচনা করেন পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) এর চেয়ারম্যান আবু নাসের খান, ফায়ার সার্ভিস এর মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু নাইম মোহাম্মদ শাহিদ উল্লাহ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ শরীফুল ইসলাম, সিডিভিএস এর পরিচালক ড. খন্দকার মোকাদ্দেম হোসেন, গ্রীণ বেল্ড এর মহাপরিচালক জসিম খাতাবী। গ্রীণ বেল্ট ট্রাস্ট এর গবেষণা পরিচালক মেহবুব পাপন এর সঞ্চালনায় সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল।
পরিবেশবিদ আবু নাসের খান বলেন, শুধু ভূমিকম্প নয়, আরও অনেক কারণে ঢাকা শহর খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ঢাকার চার পাশের নদী ও ঢাকার অভ্যন্তরে খালগুলো দখল হয়ে যাওয়ায় তলদেশের পানি ব্যবহারের উপর চাপ বৃদ্ধি পায়। যে কারণে ঢাকার তলদেশের পানির স্তর নীচে নেমে যাচ্ছে। এ কারণে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ভূমিধ্বস-এর ঘটনা ঘটতে পারে। এরই মাঝে এ ধরনের নজির ঢাকায় ঘটেছেও। তাই আমাদেরকে এখনই ঢাকার পরিবেশ রা, জলাশয়, খাল-বিল-নদী দখলমুক্ত করে ভূ-উপরিভাগের পানি ব্যবহার করতে হবে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু নাইম মোহাম্মদ শাহিদউল্ল্যাহ বলেন, ঢাকা শহর পৃথিবীর মধ্যে অন্যতম ঝুঁকিপর্ণ শহর। ভূমিকম্প হলে করণীয় কী হতে পারে সে বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। ঢাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে ২০০ করে স্বেচ্ছাসেবক তৈরির কাজ চলছে। স্থানীয় পর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবক থাকলে সড়ক ও ভবন খুঁজে বের করাসহ নানা সুবিধা পাওয়া যাবে। ভূমিকম্পের কম সময়ের মধ্যে তিগ্রস্তদের উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা যাবে।
প্রবন্ধে ড. মাকসুদ কামাল বলেন, সা¤প্রতিককালে চিলি ও হাইতি’র ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। কিন্তু ভূমিকম্প মোকাবেলায় পূর্ব প্রস্তুতি থাকায় চিলিতে তির পরিমাণ খুবই কম ছিল। অন্যদিকে হাইতিতে পূর্ব প্রস্তুতি না থাকায় তিকর পরিমাণ ছিল ভয়াবহ। ভূমিকম্পের য়তি কমাতে সচেতনতা ও পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। ঢাকার ৮০০ স্কুল/কলেজ খুব ঝুকিতে রয়েছে। সব স্কুল-কলেজেও সচেতনতা বাড়াতে হবে। বিল্ডিং কোড মেনে চলার উপর গুরুত্ব দিতে হবে।
ড. মোকাদ্দেম হোসেন বলেন, ভূমিকম্পে শিশু নারীরা তিগ্রস্ত হয়ে বেশি। তাদেরকে তি থেকে রায় দ্রুততার সঙ্গে কার্যকর পদপে গ্রহণ করতে হবে।
ড. মোঃ শরীফুল ইসলাম বলেন, বিল্ডিং কোড মেনে চলতে আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি মানসিকতার পরিবর্তন-এর ল্েয সামাজিক আন্দোলন পরিচালনা করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ড. মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, সচেতনতা ছাড়া ভূমিকম্পের ভয়াবহতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, এজন্য সচেতনতা বাড়াতে হবে। ভূ-উপরিভাগের পানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। নগরীর জলাশয়গুলোকে দখল ও দূষণমুক্ত রাখতে হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




