আমার প্রিয় পোস্ট

বাস্তবতা ফেরী করে বেড়াচ্ছে আমার সহজ শর্তের সময়গুলোকে

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং প্রাসঙ্গিক আইনের বিশ্লেষণ ( প্রথম পর্ব)

০৫ ই জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:২১

শেয়ারঃ
0 0 0

( প্রকাশসত্ব সংরক্ষিত)

১৯৭৩ সালের ২০ জুলাই জাতীয় সংসদে তৎকালীন আইনমন্ত্রি শ্রী মনোরঞ্জন ধর বলেছিলেন, " আজকে বাংলাদেশে যে সব যুদ্ধাপরাধ অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেজন্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না করে যদি তারা বিনা বিচারে, বিনা শাস্তিতে রেহাই পেয়ে যান, তাহলে সমস্ত সভ্য জাতির চোখে আমরা পরিহাসের পাত্র হবো। এবং আমরা অত্যন্ত কদর্য নজীর স্থাপন করব। এই বিচার আমাদের পরমতম কর্তব্য।"

১৯৭৩ সালের পর পেরিয়ে গেছে দীর্ঘ সময়। এই পর্যায়ে এসে বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে যদি আমি বলি, আমরা সভ্য জাতির চোখে কেমন পরিহাসের পাত্র হয়েছি ? এই কি আমার বাংলাদেশ, যাদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন এই দেশ তাদের হত্যার বিচার আজতক করতে পারে নি যে দেশ ? এই কি বাংলাদেশ, যেখানে স্বাধীনতার এতো বছর পরেও ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত সত্যকে কথার তুবড়িতে মিথ্যা বানাতে চান স্বীকৃত কোন যুদ্ধাপরাধী।

যদি সারা বাংলাদেশে গণভোট চাওয়া হয়, কারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চান ? তবে এটা দৃঢ়ভাবে বলা যায় প্রায় সবাই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে থাকবেন। এতোকিছুর পরও কেন এই দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে না ? যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতাটা কোথায়? যেখানে প্রজাতন্ত্রের বেশিরভাগ লোক এই দাবির পক্ষে।

আইনের ছাত্র হিসেবে আমি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং তার আইনগত দিক নিয়ে পর্যালোচনা করতে চাই।

বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য প্রথম আইন পাশ করা হয় ১৯৭২ সালে। আইনটির নাম Bangladesh Collaborators (Special Tribunals) Order, 1972 | এটি দালাল আইন নামে পরিচিত। ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতির ঘোষণা দ্বারা প্রবর্তিত দালাল আইনটির প্রয়োগ শুরু হয় ফেব্র"য়ারি মাস থেকে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করার মাধ্যমে। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যায়, ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারী আইনটির আদেশ জারী হলেও পরবর্তীতে একই বছরের ৬ ফেব্র"য়ারি, ১ জুন এবং ২৯ আগস্ট তারিখে তিনদফা সংশোধনীর মাধ্যমে আইনটি চুড়ান্ত হয়। পরবর্তীতে দালাল আইনের অধীনে ৩৭ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয় এবং বিভিন্ন আদলতে তাদের বিচার আরম্ভ হয়। এর পাশাপাশি সরকারি চাকুরিতে কর্মরতদের কেউ দালালী এবং যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কিনা তা যাচাই করার জন্য ১৯৭২ সালের ১৩ জুন একটি আদেশ জারি করে যা তখন গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছিল।

১৯৭৩ সালের ৩০ নভেম্বর দালাল আইনে আটক যে সকল ব্যক্তিদের বিরোদ্ধে যুদ্ধাপরাধের সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ নেই তাদের জন্য ক্ষমা ঘোষণা করা হয়। সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার পর দালাল আইনে আটক ৩৭ হাজারের অধিক ব্যক্তির ভেতর থেকে প্রায় ২৬ হাজার ছাড়া পেয়ে গিয়েছিল।

সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার ৫নং ধারার (ক) অনুচ্ছেদে যে বিধান রাখা হয় তাতে সত্যিকার অর্থে কোন যুদ্ধাপরাধী মুক্তি পাওয়ার কথা নয়। কারণ ঘোষণার ৫ নং ধারায় বলা হয়েছে -

" যারা বর্ণিত আদেশের নিচের বর্ণিত ধারাসমূহে শাস্তিযোগ্য অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত অথবা যাদের বিরোদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে অথবা যাদের বিরোদ্ধে নিম্নোক্ত ধরা মোতাবেক কোনটি অথবা সবকটি অভিযোগ থাকবে
(১) ১২১ (বাংলাদেশের বিরোদ্ধে যুদ্ধ চালানো অথবা চালানোর চেষ্টা), (২) ১২১ ক (বাংলাদেশের বিরোদ্ধে যুদ্ধ চালানোর ষড়যন্ত্র), (৩) ১২৮ ক (রাষ্ট্রদ্রোহিতা), (৪) ৩০২ (হত্য), (৫) ৩০৪ (হত্যার চেষ্টা), (৬) ৩৬৩ (অপহরণ), (৭) ৩৬৪ (হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ) (৮) ৩৬৫ (আটক রাখার উদ্দেশ্যে অপহরণ), (৯) ৩৬৮ (অপহৃত ব্যক্তিকে গুম ও আটক রাখা), (১০) ৩৭৬ (ধর্ষণ), (১১) ৩৯২ (দস্যুবৃত্তি), (১২) ৩৯৪ (দস্যুবৃত্তিকালে আঘাত), (১৩) ৩৯৫ (ডাকাতি), (১৪) ৩৯৬ (খুনসহ ডাকাতি), (১৫) ৩৯৭ (হত্যা অথবা মারাতœক আঘাতসহ দস্যুবৃত্তি অথবা ডাকাতি), (১৬) ৪৩৫ (আগুন অথবা বিস্ফোরক দ্রব্যের সাহায্যে ক্ষতিসাধণ), (১৭) ৪৩৬ (বাড়িঘর ধ্বংসের উদ্দেশ্যে আগুন অথবা বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার), (১৮) ফৌজদারী দন্ডবিধির ৪৩৬ (আগুন অথবা বিস্ফোরক দ্রব্যের সাহায্যে কোন জলযানের ক্ষতি সাধন) অথবা এসব কাজে উৎসাহ দান। এসব অপরাধী কোনভাবেই ক্ষমার যোগ্য নন।"

এখন প্রশ্ন হলো সুনির্দিষ্টভাবে এই ১৮টি ধারা উল্লেখ করার পরও কি কেই বলতে পারে যে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের ছাড়া পেয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে ?
সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার পরও ১১ হাজারের বেশি ব্যক্তি এ সকল অপরাধের দায়ে কারাগারে আটক ছিল এবং তাদের বিচার কার্যক্রম চলতে ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর দালাল আইন বাতিল করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়।

সেই প্রসঙ্গে এই রচনায় আলোচনা না করে ফিরে যাই সাধারণ ক্ষমা প্রসঙ্গে। এই সাধারণ ক্ষমা নিয়ে একটা বিতর্ক থেকেই যায়। শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন কিসের ভিত্তিতে ? সাধারণ ক্ষমার বিষয়টি কি শুধুই সহানুভুতিতার বিষয় নাকি সেখানে সাংবিধানিক কোন বৈধতা রয়েছে ? বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রপ্রধানের ক্ষমা প্রদর্শনের সুযোগ রয়েছে। লক্ষ করি বর্তমান সংবিধানের ৪৯ নং অনুচ্ছেদ (১৯৭২ সালের সংবিধানের ৫৭ নং অনুচ্ছেদ)

" The President shall have power to grant pardons, reprieves and respites and to remit, suspend or commute any sentence passed by any court, tribunal or other authority."

অর্থাৎ " কোন আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত যে কোন দন্ডের মার্জনা, বিলম্বন ও বিরাম মঞ্জুর করিবার এবং যে কোন দন্ড মওকুফ স্থগিত বা হ্রাস করিবার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির থাকিবে।"

সুতরাং বলা যায়, শুধুমাত্র শাস্তি এবং দন্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই ক্ষমা প্রদর্শনের অধিকার আছে রাষ্ট্রপ্রধানের। কিন্তু যারা শাস্তি কিংবা দন্ড পাননি তাদেরকে কি সাধারণ ক্ষমা করা যাবে?

সেই বিতর্কে না গিয়ে ফিরে আসি যুদ্ধরাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে। দালাল আইন বাতিল হয়ে যাওয়ার কারণে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে না কিংবা বিচার সম্ভব নয় এমনটা মোটেও নয়। কারণ এখনো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন হিসেবে খ্যাত সংবিধানে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়পি রয়েছে; রয়েছে ৪৭(৩) অনুচ্ছেদ। এছাড়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার সবচেয়ে কার্যকরী আইন The International crimes (Tribunals) Act 1973 এখনো রয়েছে।

(চলবে)

 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

২. ০৫ ই জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৩
অচেনা বাঙালি বলেছেন: অসাধারণ হচ্ছে।
চালায় যাও।
০৫ ই জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:৪২

লেখক বলেছেন: এই লেখার আরো পর্ব বাকি আছে। পরের পর্বগুলোতে আমি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরো কিছু আইনের ব্যাখ্যা দিবো।
এবং এই লেখার মাধ্যমে এটাই প্রমাণিত হবে, যে যাই বলুক বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্ভব এবং তা আমাদের আইন অনুযায়ীই।

অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।

৩. ০৫ ই জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:৫২
হমপগ্র বলেছেন: সুন্দর লেখা। চালায় যান শামীম ভাই। সাথে আছি।
০৫ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ হমপগ্র ভাই।

৪. ০৫ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩২
মুকুল বলেছেন:
ধন্যবাদ শামীম ভাই। চলুক...

*****
০৫ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মুকুল ভাই।

৫. ০৫ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:০৯
েজবীন বলেছেন: ভালো লেখছো......
০৬ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:২২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ জেবীন আপু।

৬. ০৫ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩৪
মোসতফা মনির সৌরভ বলেছেন: চলুক। প্রিয় পোস্ট।
০৬ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:২৫

লেখক বলেছেন: এ পর্বের সামনের পোস্টগুলোতে চোখ রাখুন।

৭. ০৫ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:১৮
জলসাধক বলেছেন: খুব সময়উপযোগী লেখা । চলুক...
০৬ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:২৬

লেখক বলেছেন: এ পর্বের সামনের পোস্টগুলোতে চোখ রাখুন।
ধন্যবাদ।

৮. ০৬ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ৩:৫৭
মোসতফা মনির সৌরভ বলেছেন: শামীম

"" যারা বর্ণিত আদেশের নিচের বর্ণিত ধারাসমূহে শাস্তিযোগ্য অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত অথবা যাদের বিরোদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে অথবা যাদের বিরোদ্ধে নিম্নোক্ত ধরা মোতাবেক কোনটি অথবা সবকটি অভিযোগ থাকবে
(১) ১২১ (বাংলাদেশের বিরোদ্ধে যুদ্ধ চালানো অথবা চালানোর চেষ্টা), (২) ১২১ ক (বাংলাদেশের বিরোদ্ধে যুদ্ধ চালানোর ষড়যন্ত্র), (৩) ১২৮ ক (রাষ্ট্রদ্রোহিতা), (৪) ৩০২ (হত্য), (৫) ৩০৪ (হত্যার চেষ্টা), (৬) ৩৬৩ (অপহরণ), (৭) ৩৬৪ (হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ) (৮) ৩৬৫ (আটক রাখার উদ্দেশ্যে অপহরণ), (৯) ৩৬৮ (অপহৃত ব্যক্তিকে গুম ও আটক রাখা), (১০) ৩৭৬ (ধর্ষণ), (১১) ৩৯২ (দস্যুবৃত্তি), (১২) ৩৯৪ (দস্যুবৃত্তিকালে আঘাত), (১৩) ৩৯৫ (ডাকাতি), (১৪) ৩৯৬ (খুনসহ ডাকাতি), (১৫) ৩৯৭ (হত্যা অথবা মারাতœক আঘাতসহ দস্যুবৃত্তি অথবা ডাকাতি), (১৬) ৪৩৫ (আগুন অথবা বিস্ফোরক দ্রব্যের সাহায্যে ক্ষতিসাধণ), (১৭) ৪৩৬ (বাড়িঘর ধ্বংসের উদ্দেশ্যে আগুন অথবা বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার), (১৮) ফৌজদারী দন্ডবিধির ৪৩৬ (আগুন অথবা বিস্ফোরক দ্রব্যের সাহায্যে কোন জলযানের ক্ষতি সাধন) অথবা এসব কাজে উৎসাহ দান। এসব অপরাধী কোনভাবেই ক্ষমার যোগ্য নন।"

এই অংশটুকু কপি করে রাজাকারদের ব্লগে মন্তব্য হিসেবে দিলাম অনুমতি না নিয়ে। দুঃখিত।
০৬ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:২০

লেখক বলেছেন: কোন সমস্যা নাই। ইচ্ছেমতো দিতে পারেন। তাও রাজাকারদের টনক নড়ুক।
সামনের পর্বগুলোকে বেশ কিছু যুক্তি উপস্থাপন করা হবে, আইনের ব্যাখ্যার মাধ্যমে। সেগুলোও কপি করে রাজাকারদের ব্লগে মন্তব্য হিসেবে দিতে পারেন।
ধন্যবাদ মোসতফা মনির সৌরভ ভাই।

০৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৫৮

লেখক বলেছেন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আশা করবো পরের পর্বগুলো পড়বেন।

১০. ১৭ ই মার্চ, ২০০৮ ভোর ৫:৫০
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন: যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই !
হতেই হবে । অবশ্যই হবে !
১৭ ই মার্চ, ২০০৮ ভোর ৬:৪৫

লেখক বলেছেন: যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হতেই হবে।

১১. ১৮ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১:০২
অ্যামাটার বলেছেন: "বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য প্রথম আইন পাশ করা হয় ১৯৭২ সালে। আইনটির নাম Bangladesh Collaborators (Special Tribunals) Order, 1972 | এটি দালাল আইন নামে পরিচিত। "--------

নামেই গলদ, এটা দালালি হলে দালালের অপরাধের মাত্রা প্রকৃত অপরাধীর সমান বলে গণ্য করা হবে কি?

"(১) ১২১ (বাংলাদেশের বিরোদ্ধে যুদ্ধ চালানো অথবা চালানোর চেষ্টা), (২) ১২১ ক (বাংলাদেশের বিরোদ্ধে যুদ্ধ চালানোর ষড়যন্ত্র), (৩) ১২৮ ক (রাষ্ট্রদ্রোহিতা), (৪) ৩০২ (হত্য), (৫) ৩০৪ (হত্যার চেষ্টা), (৬) ৩৬৩ (অপহরণ), (৭) ৩৬৪ (হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ) (৮) ৩৬৫ (আটক রাখার উদ্দেশ্যে অপহরণ), (৯) ৩৬৮ (অপহৃত ব্যক্তিকে গুম ও আটক রাখা), (১০) ৩৭৬ (ধর্ষণ), (১১) ৩৯২ (দস্যুবৃত্তি), (১২) ৩৯৪ (দস্যুবৃত্তিকালে আঘাত), (১৩) ৩৯৫ (ডাকাতি), (১৪) ৩৯৬ (খুনসহ ডাকাতি), (১৫) ৩৯৭ (হত্যা অথবা মারাতœক আঘাতসহ দস্যুবৃত্তি অথবা ডাকাতি), (১৬) ৪৩৫ (আগুন অথবা বিস্ফোরক দ্রব্যের সাহায্যে ক্ষতিসাধণ), (১৭) ৪৩৬ (বাড়িঘর ধ্বংসের উদ্দেশ্যে আগুন অথবা বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার), (১৮) ফৌজদারী দন্ডবিধির ৪৩৬ (আগুন অথবা বিস্ফোরক দ্রব্যের সাহায্যে কোন জলযানের ক্ষতি সাধন) অথবা এসব কাজে উৎসাহ দান। "------

এগুলোর মদ্ধে '(৩) ১২৮ ক (রাষ্ট্রদ্রোহিতা)'-এটা সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত,

পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমি অবশ্যই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই, তবে যথাযথ তদন্তের শেষে, কেবল মাত্র প্রকৃত অপরাধীরাই যেন বিচারের মুখোমুখি হয়,
এবং যেহেতু এটা একটা জাতীয় ইস্যু , সেহেতু বিচার প্রক্রিয়া কেবল স্বচ্ছ হলেই চলবে না, এটি হতে হবে পুরোপুরি উন্মুক্ত,
জানিনা আইনের দৃষ্টিতে এর কোন ব্যাখ্যা আছে কি না, তবে মানুষের জন্য আইন, আইনের জন্য মানুষ নয়।

এবং বিচারের নামে কোন নিরপরাধকে যেন শাস্তি ভোগ করতে না হয়।
১৮ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১:৩৮

লেখক বলেছেন: শুধু একটা বিষয় কেন এর প্রতিটাতেই অপরাধ প্রমানিত।

১২. ২৭ শে মার্চ, ২০০৮ সকাল ১১:১১
চেনামুখ বলেছেন: খুবেই সুন্দর হয়েছে। তথ্যনিভর ব্যাখ্যা আমাদেকে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
২৯ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:২২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।

১৩. ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ ভোর ৪:২৯
BangladeshCiroJibiHok বলেছেন: শামীম, কাদের সিদ্দিকীর বিরুদ্ধেও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আছে। বিখ্যাত ইতালিয়ান সাংবাদিক ওরিয়ানা ফালাচি তার ইন্টারভিউ উইথ দ্য হিস্ট্রি বইয়ে এ বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। এ বইয়ে ঢাকা স্টেডিয়ামের ভিতর বেয়নেট দিয়ে খুচিয়ে নির্বিচারে বিহারী হত্যার অভিযোগ আছে মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে। যেসব বিহারীদের অধিকাংশই এই যুদ্ধের অংশ ছিল না।
প্রশ্ন হলো এসব যুদ্ধাপরাধের বিচারের ব্যাপারে আপনার মত কি?
০৭ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১১:২০

লেখক বলেছেন: সাগরনীল আর আপনার মধ্যে একটা মিল পাওয়া গেল । সেইটা হলো দুজনেরই বিহারীদের প্রতি উতলে পড়া দয়া মায়া।
কিন্তু সেইটাও বিবেচনার অধিক...।

একটা বিষয়ের ভুল ধরিয়ে দেই নির্বিচারে...। এই যে নির্বিচারে বললেন । বিহারীদের কখনোই নির্বিচারে হত্যা করা হয় নি। সেই সময়ে কিছু বিহারীর উপর অত্যাচার চালানো হয়েছে। কিন্তু সেইটার কারনটাও দেখতে হবে। তখন বিহারী মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। তাছাড়া বাঙ্গালীদৈর উপর বিহারীরা হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল।
এই বিষয়গুলোও ভাবতে হবে।

১৪. ০৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ ভোর ৫:১৪
বাউণ্ডুলে বলেছেন: শালার নীল ছাগল তুই ঘুরে ফিরে আসিস কেনো? সামহোয়ারকে ছাগখোয়াড় বানিয়ে ছাড়বি তোরা
১৫. ০৭ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১১:২৩
একরামুল হক শামীম বলেছেন: সাগর নীল আর BangladeshCiroJibiHok এর মধ্যে মিলটা হলো দুজনেরই বিহারীদের প্রতি উতলে পড়া দয়া মায়া।
কিন্তু সেইটাও বিবেচনার অধিক...।
এখণ এইদুইটা নিক একই ব্লগারের কিনা ....
১৬. ২১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:০১
মোসতফা মনির সৌরভ বলেছেন: প্রকাশসত্ব সংরক্ষিত দেখে প্রশ্নটি করছি - এই পোস্ট কি ওয়ার স্ট্রাটেজী ফোরামে দেয়া যাবে? আগেও যা বলেছি - মুক্তিযুদ্ধের সকল তথ্য এক জায়গায় করার চেষ্টা চলছে - তার মাঝে ব্লগও রয়েছে?
১৭. ২৪ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:১৩
একরামুল হক শামীম বলেছেন: সৌরভ ভাই, অবশ্যই ওয়ার স্ট্রাটেজী ফোরামে দিতে পারেন।
স্যরি জবাব দিতে দেরি হলো। এই কমেন্টটা আগে খেয়াল করি নি।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৭৪৬ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
http://www.facebook.com/samimblog

আমি স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসি। স্বপ্ব দেখতে এবং স্বপ্ন দেখাতে চাই আজীবন।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ