একটা সময় টেলিভিশনের অনুষ্ঠানসূচী দেখার জন্য সংবাদপত্রের বিনোদন পাতাটা আগ্রহ নিয়ে দেখতাম। "আকাশ থেকে পাওয়া" শিরোনামে ছাপা হতো অনুষ্ঠানসূচী। অনেকটা যেন হাওয়া থেকে পাওয়া...। তারপর সময় বেশ বয়ে গেছে। এখন আর টেলিভিশনের অনুষ্ঠানসূচী দেখার জন্য সংবাদপত্র দেখি না। কয়েকবছর আগে নিজেই কিছুদিন একটা সংবাদপত্রের জন্য টিভি অনুষ্ঠানসূচি অর্থাৎ সেই 'আকাশ থেকে পাওয়া' প্রস্তুত করতাম।
সময়ের পরিবর্তনের পরও 'আকাশ থেকে পাওয়া' শব্দটা মাথায় গেথে আছে।
আন্তর্জালিক জগতে অনেক খুঁজে পাওয়া অনেক কিছুকেই মাঝেমধ্যে হাওয়া থেকে পাওয়া সম্পর্কের জাল মনে হয়। হাওয়াই মিঠাইয়ের একসময় খুব ভক্ত ছিলাম। হাওয়াই মিঠাইয়ের মতোই রহস্যময় মনে হয় সম্পর্কগুলো। সম্পর্কে বাধাবিপত্তির অর্গল ভেঙ্গে যায় আন্তরিকতার হিরন্ময় দ্রুতিতে....সময় গড়াতে থাকে। আন্তর্জালিক সম্পর্কগুলো দৌড়াতে থাকে ভালোবাসার অনিকেত প্রান্তরে। হৃষ্ট হতে থাকে, পুষ্ট হতে থাকে....।
ভালোবাসা জন্মায় সেই সম্পর্কে...মায়া জন্মায়.....শ্রদ্ধা কিংবা স্নেহ জন্মায়। দিনের পর দিন.....রাতের পর রাত একসাথে কথার তুবড়ি ছুটানোর মোহ ঘিরে ধরে মনকে।
বুঝি...তারচেয়ে ঢের উপলব্ধি করি আন্তর্জালিক জগতে কেউই ধ্রুবক নয়....আসে যায়....চলে যায়...নতুন কেউ আসে....। আসা যাওয়ার এই খেলাটা নতুন নয় চোখের সামনে....। কেন জানি ব্লগিং নামক নামক লেখালেখির আর মিথস্ক্রিয়ার উঠানটাকে আর দশটা আন্তর্জাতিক উঠানের মতো মনে হয় না। এই উঠানটা বড্ড বেশি মায়াময় মনে হয়....অদৃশ্য টান থেকে যায় কোথায় জানি....তাই এই উঠান থেকে কাউকে চলে যেতে দেখলে খুব কষ্ট লাগে....শুণ্যতা উপলব্ধি করি....কিন্তু কি যে সীমাবদ্ধতা খেলা করে অহর্নিশি...আটকে দিতে পারি না নিজস্ব চেষ্টায়....।
চলে যাওয়ার মাত্রা অনেক...। কাউকে অভিমান করে যেতে হয়....কেউ আবার অভিমান করে চুপ করে থাকেন। দুর থেকে বসে বসে দেখেন ভালোবাসার এই আন্তর্জালিক উঠানকে। জাগতিক বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে যারা চলে যায়....তাদের বলতে চাই....কিংবা বলিও মনে মনে....আরেকটা চেষ্টা করে থাকা যায় না? দীর্ঘদিন না দেখলে মনে করিয়ে দিতে চাই......নতুন লেখা আসবে কবে?
কিন্তু যারা দ্বিতীয় দলে...অভিমান করে যারা দুরে সরে আছে কিংবা যাদের উপর নিয়মনীতি , সাধারণ. পর্যবেক্ষণ এর খড়গহস্ত তাদের ব্যাপারে কি বলি....?
কর্তৃপক্ষীয় বিষয়টা এখন চলে আসে অবধারিতভাবে....। অনেক আলোচনা হতে পারে নিয়মনীতি, সাধারণ আর পর্যবেক্ষনে রাখার এথিকস নিয়ে ......। ঠিক বেঠিক নিয়েও চলতে পারে লম্বা তর্ক। এতোকিছুর ভিতরে না হেটে শুধু কিছু কথা বলি....
কর্তৃপক্ষ, ব্লগার হয়ে উঠার পথপরিক্রমা অনেক বিস্তৃত....অনেক অভিমানের পরও কিন্তু এই আমরা ব্লগাররাই কোন এক রাতে খুলে বসি আন্তর্জালিক জগতের একটা জানালা। সেই জানালা দিয়ে দেখি ভালোবাসার উঠানটাকে.....লগ ইন অংশগ্রহণ করে আড্ডায়...আলোচনায়...সমালোচনায়...।
ব্লগিং করতে গিয়ে জোরগলায় তেমন কিছুই বলি নি.....। হয়তো আমার প্রকাশভঙ্গিই এমন। অনুরোধের মতো প্রকাশভঙ্গি নিয়েই বলি .... ব্লগার বিষাক্ত মানুষ ভাই, শিরোনামহীন, নাফিস ইফতেখার, নরাধম ভাই, হাসিব ভাই সহ অন্য আরো যেসব প্রতিবাদী ব্লগার নানা কারনে সাধারণ, পর্যবেক্ষিত হয়েছেন তাদের ব্যাপারে কি কিছু করা যায়? অনেকদিন তো হলো, এবার কিছু করা যায় না?
ভাবনাটা কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিয়ে একটা গান দেই। ব্লগে সবচেয়ে বেশি গানের পোস্ট ছিল বিষাক্ত মানুষ ভাইয়ের ব্লগে...। সেই পোস্টগুলো এখন নেই...।
গানটা দিলাম....
মন হাওয়ায় পেয়েছি তোর নাম
মন হাওয়ায় হারিয়ে ফেললাম
হাওয়া দিলো শিরশিরানি ডাক
হাওয়া দিলো ডানা
হাওয়া দিলো ছেড়া স্যান্ডাল
ভুল ঠিকানা
মনরে হলুদ আলোয় হাওয়ার আবীর মাখলাম
হে হে হে হে হে
হে হে হে হে হে
মন আলেয়া পুড়ালো খালি হাত
মন জাগে না জাগে না সারা রাত
জেগে থাকে ঘুম পাহাড়ের মন কেমন আলো
দুরদেশে ফিকে হওয়া রাত ডাক পাঠালো
মনরে ঘুমের গোপনে তোমাকে আবার ডাকলাম
হে হে হে হে হে
হে হে হে হে হে
আদরের দাগ যদি মুছে
এই নাও কিছু ঘুমপাড়ানি গান আলগুছে
বুঝো না এটুকু শিলালিপি
মনরে ব্যাথার আদরে অবুঝ আঙ্গুল রাখলাম
হে হে হে হে হে
হে হে হে হে হে
মন বুকের ভিতরে যে নরম
মন ছুঁয়ো না ছুঁয়ো না এরকম
ছুঁয়ে দিয়ে বুক কুড়ে কুড়ে খায় শোলাপোকা
বে-পাড়ায় কাঁদবে না এমা ছি ছি বোকা
মনরে নাহয় পকেটে খুচরো পাথর রাখলাম
হে হে হে হে হে
হে হে হে হে হে
ব্যান্ডের নাম : চন্দ্রবিন্দু
অ্যালবাম : জিজু
লিংক : Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ১১:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



