“আমার পাশে দাড়িয়ে না থেকে একটা রিক্সা ঠিক করো। আমিতো আর হারিয়ে যাচ্ছি না কোথাও।”
হাত নেড়ে নেড়ে এইটুকু বলেই চুল বাঁধায় মনোযোগ দিল নীলা। একমনে চুল বেধে যাচ্ছে। পাশে যে অমিত দাড়িয়ে আছে তার কোন খেয়ালই নেই। অমিত রিক্সা ঠিক করার কাজে না গিয়ে একমনে নীলার চুল বাঁধা দেখছে। লম্বা চুল, নীল রঙের ক্লিপ। অমিতের কাছে মনে হতে লাগলো চুল বাঁধা এক ধরনের শিল্প। শিল্পের ভ্রুন পরিস্ফুটিত হচ্ছে চোখের সামনে। অমিত তা দেখা থেকে নিজেকে বঞ্চিত করতে চাইলো না। কিন্তু নীলার ধমকে দৃষ্টি ফেরাতে হলো।
“ড্যাব ড্যাব চোখে কি এতো দেখছো? তোমাকে না বলছি রিক্সা ঠিক করতে?”
“না মানে.... আমরা এখন কোথায় যাবো তাইতো জানি না...”।
“জাহান্নামে যাবো। রিক্সাওয়ালাকে জিজ্ঞেস করো জাহান্নামে যাবে কি না।” এইটুকু বলেই সঙ্গে থাকা ব্যাগ থেকে আয়না বের করলো নীলা। অমিত কি করবে ভেবে না পেয়ে অদুরে থাকা রিক্সার কাছে গিয়ে দাড়ালো। কিছুক্ষণ পরে নীলা খেয়াল করলো অমিত বেচারা দাড়িয়ে আছে একলা। বেচারার দাড়িয়ে থাকা দেখে মায়া হলো তার। কাছে গিয়ে রিক্সাওয়ালাকে বললো -
"এই খালি! লালবাগ কেল্লা যাবেন? লালবাগ কেল্লার গেটের সামনে।"
রিক্সাওয়ালা রাজি হতেই রিক্সায় চড়ে বসলো দুজন।
“তুমি গায়ের উপর পড়ে যাচ্ছো কেন? সরে বসো!”
নীলার কথায় কিছুটা আহত বোধ করলো অমিত। চট করে মন খারাপ হয়ে গেল। মন খারাপটা প্রকাশ না করে খানিকটা সরে বসলো। রিক্সার টুং টাং শব্দ তখন কানে আসছে না। কেবল ভাবছে- মেয়েটা এমন করে কেন আমার সাথে! আমিতো তাকে কখনোই কষ্ট দিতে চাই না। রিক্সার থেমে যাওয়ার সাথে সাথে অমিতের ভাবনা থেমে গেল। লালবাগ কেল্লার গেটের সামনে রিক্সা থামলো। গেটের সামনে লোকজনের আনাগোনা নেই। কেবল কয়েকজন এদিক সেদিক দাড়িয়ে আছে। দুইজন নোটিশবোর্ডের সামনে দাড়িয়ে কি যেন দেখছে! কাছে গিয়ে তারা বুঝতে পারলো লালবাগ কেল্লা বন্ধ। সোমবার লালবাগ কেল্লার সাপ্তাহিক বন্ধ। অমিতের মন খারাপ এবার রাগের দিকে প্রবাহিত হতে লাগলো। কিন্তু সেটা প্রকাশ পেল নীলার কাছ থেকে!
“তুমি কি ঢাকা শহরে থাকো? কিছুই খোঁজ রাখো না?”
“আমার কি দোষ?”
“তোমার কি দোষ মানে? লালবাগ কেল্লা কবে বন্ধ থাকে সেইটা জানো না? তুমি তাহলে জানোটা কি?”
অমিত কিছু না বলে চুপ করে থাকলো। তার চুপ করে থাকা দেখে এবার আরো রেগে গেল নীলা। রাগে গর গর করতে করতে বললো- আসলে তুমি একটা....তুমি একটা...। কথা শেষ হলো না, এর আগেই একটা রিক্সাওয়ালা বলে উঠলো- আফা, কোথায় যাবেন? নীলা জবাবে কিছু না বলেই রিক্সায় চড়ে বসলো। দেখাদেখি অমিতও রিক্সায় উঠলো। প্রচন্ড মন খারাপ হলো তার। এনেক্স ভবনের মাঠে বসে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিল। ক্লাস হবে না জেনে সবাই একসাথে মাঠে বসে এটা সেটা নিয়ে কথা বলে যাচ্ছিল। ঠিক তখনই নীলার ফোনকল পেয়ে তাকে উঠে গিয়ে নিউমার্কেটের ৪ নাম্বার গেটের সামনে দাড়াতে হয়। পুরো নিউমার্কেটটা কম করে হলেও ৩ বার ঘুরতে হয়েছে নীলার সাথে। এই দোকান থেকে পছন্দ হয়না তো অন্য দোকান। এখন উল্টা নীলাই তার উপর রাগ দেখাচ্ছে! এবার অমিতের মন খারাপ ধরে ফেললো নীলা। কেমন মায়াকাড়া চেহারায় মন খারাপ করে আছে অমিত! নীলার খুব ইচ্ছা করে অমিতের হাত ধরে বুঝিয়ে বলতে- তোমায় অনেক অনেক ভালোবাসি বলেই তোমার সাথে এভাবে কথা বলি.....। অন্য কাউকে তো এইভাবে বলি না...।
রিক্সা গিয়ে থামলো পাবলিক লাইব্রেরির গেটের সামনে। রিক্সা ভাড়া মিটিয়ে পাবলিক লাইব্রেরির সামনের সিড়িতে গিয়ে বসলো দুজনে। নীলাই কথা বললো বেশি। অমিত কেবল শুনে গেল। অনেকক্ষণ একসাথে বসে গল্প করার পর উঠতে যাবে এমন সময় নীলা বললো-
"নিজেকে আরেকটু স্মার্ট করে রাখতে পারো না?"
"আমিতো নতুন আরেকটা মেয়ের প্রেমে পড়তে যাচ্ছি না। এতো স্মার্ট হয়ে কি হবে? তাছাড়া তুমি কিন্তু ‘বর্তমানের আমি’র প্রেমেই পড়ছো।"
"কিন্তু আমার মতো একজন সুন্দরীর পাশে ওইভাবে আনস্মার্ট হয়ে থাকতে তোমার ভালো লাগে?" বলেই হেসে দিলো নীলা।
দুজনেই হাসতে হাসতে বিদায় নিলো।
নীলার সাথে অমিতের পরিচয় টিএসসি কেন্দ্রিক অনুষ্ঠান থেকে। টিএসসি-তে একটা সেমিনার হয়। তাইওয়ান থেকে থেকে নোবেলজয়ী এক প্রফেসর আসেন “ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট অ্যান্ড গ্লোবালাইজেশন” নামের একটা সেমিনারে মুল প্রবন্ধ পাঠ করতে। সেই সেমিনারে নীলার পাশে বসেছিল অমিত। বয়স্ক প্রফেসরের কথা শুনবে কি! কিছুক্ষণ পর পর আড় নয়নে নীলাকে দেখছিল সে। নীলাও বুঝে ফেলছিলো তা। তবে মুখের উপর কিছু বলে দেয় নি। আর এটাই অমিতের সাহসকে বাড়িয়ে দিয়েছিল। সেমিনারে বয়স্ক প্রফেসর কি বলেছে তা খেয়াল করে শুনে নি অমিত। কেবল একটা কথা মনে গেথে আছে। “বি ইউজফুল”। রসায়নের প্রফেসর এই বাক্যটা দিয়ে কোন ধরনের রাসায়নিক ক্রিয়াবিক্রিয়ার কথা বুঝালো সেটা ধরতে গেলো না অমিত। কেবল বুঝতে পারলো সেমিনারের কোন কিছু তার জন্য ইউজফুল ধরতে গেলে সেটা নিঃসন্দেহে নীলার দেখা পাওয়া। ততক্ষণে নাম, ডিপার্টমেন্ট, ইয়ার জেনে নিয়েছে সে। কলাভবনের দ্বিতীয় তলায় ক্লাস। ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্রী। অমিতের চেয়ে ২ ইয়ার জুনিয়র।
সেদিনের পর টিএসসিতেই আরো বেশ কয়েকদিন দেখা হয় তাদের। একে অপরের সম্পর্কে জানাশোনা বাড়ে। দুজনেই উপলব্ধি করে তাদের মধ্যে কমন বিষয় অনেক। দুজনেই কবিতা খুব পছন্দ করে, তাও জীবনানন্দের কবিতা, দুজনেই আর্ট এক্সিবিশন পছন্দ করে, গ্যাটে ইন্সটিটিউট, বেঙ্গল গ্যালারি, দৃক গ্যালারিতে সময় পেলেই আর্ট এক্সিবিশন দেখতে যায়। আবার দুজনেই সময় পেলেই ফিল্ম শো দেখতে বিভিন্ন প্রদর্শণী কেন্দ্রে যায়। এতো মিল যাদের মধ্যে তাদের দেখা হওয়ার ছুতো বাড়তেই থাকে। এভাবেই পরিচয়ের ঘনিষ্টতা বাড়ে। এক বিকালে তারা আবিস্কার করে একে অপরকে ভালোবেসে ফেলেছে। পশ্চিম আকাশে তখন গাঢ় লাল রঙা সূর্যের আভা। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশে কম পানির লেকটাতে তখন শেষ বিকালের আকাশের প্রতিচ্ছবি।
নীলার সাথে পরিচয়ের পর অনেক পাল্টে গেছে গেছে অমিত। ভালোবাসার সম্পর্ক শুরু হওয়ার আগে যখন নেহায়তই পরিচয়ের সম্পর্ক তখন যেভাবে আধিপত্য নিয়ে কথা বলতো এখন আর সেভাবে পারে না। উল্টো আধিপত্য নিয়ে নিয়েছে নীলা। অনেক কিছুতেই এখন নীলার আধিপত্য। হয়তো রাতে বন্ধুদের সাথে চানকারপুলে খেতে যাবে তখনই বলে উঠলো, ওদিকে জায়গা ভালো না, তুমি প্লিজ এতো রাতে যেওনা। অথবা ভালো লেগে যাওয়া কোন বই রাত জেগে পড়ছে, তখনই ফোনকল করে বলে উঠলো, এতো রাত জাগছো কেন? শরীর খারাপ করবে তো! এখনই ঘুমায়া পড়ো। এইসব আধিপত্যমূলক আচরন অমিত বেশ উপভোগ করলেও মাঝেমধ্যে বিরক্ত বোধ করে। তবে সেটা নিয়ে নীলার সামনে বলতে সাহস পায় না কেন জানি! তবে সময়ের সাথে সাথে নীলার আচরনের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে।
ডিপার্টমেন্টের কয়েকজন বন্ধু মিলে একটা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়ে তুলেছিল। বিভিন্ন দুর্যোগে তারা ফান্ড কালেক্ট করে। মূলত অমিতের আগ্রহেই সংগঠনটি যাত্রা শুরু করে। ‘এসো স্বপ্ন আঁকি’ নামটাও অমিতের দেওয়া। তবে নীলার সাথে পরিচয়ের পর সংগঠনের কাজে সময় দিতে পারছে না সে। এখন হুটহাট করেই নীলার ফোনকল আসে। তখন এনেক্সের সামনে থেকে ছুটতে হয় কলাভবনের দিকে। তারপর একসাথে কোথাও ছুটতে হয়। এখন কার্জন হলের দিকেও খুব বেশি যাওয়া হয় না। কলেজ লাইফ থেকেই সামান্তা’র খুবই ভালো বন্ধু অমিত। অ্যাপ্লাইড ফিজিক্সের ছাত্রী সামান্তা। ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার পরও অনেকদিন তারা ক্যাম্পাসে একসাথে ঘুরে বেড়িয়েছে। তারা পরস্পরে খুবই ভালো বন্ধু এটা তারা নিজেরা ভালো করেই জানে। কিন্তু নীলা যদি সামান্তা’র সাথে একসাথে ঘুরে বেড়ানোকে অন্যভাবে দেখে, এই ভেবে অমিত দেখা করা কমিয়ে দিছে। এখন সামান্তা’র সাথে যোগাযোগ হয় কম। এ নিয়ে অবশ্য সামান্তা অনেকবার বলেছে। এটা সেটা বলে এড়িয়ে গেছে অমিত। কিন্তু বিষয়টা কিভাবে বুঝিয়ে বলবে তা ঠিক করতে পারে না অমিত।
ছাত্র ধর্মঘটের কারনে সেদিনের ইউনিভার্সিটির ক্লাস হয় না। নীলার ফোনকল আসে। আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের লা গ্যালারিতে নতুন একটা আর্ট এক্সিবিশন হচ্ছে। যেতে চাচ্ছে সে। লা গ্যালারিতে ঢুকতে যাবে এমন সময় রাহাতের কল আসে। রাহাত ‘এসো স্বপ্ন আঁকি’ সংগঠনে অমিতের সাথে কাজ করে। ক্লাসমেট হিসাবে প্রায় সময়ই একসাথে বসে ক্লাস করে দুজনে। খুব ভালো বন্ধু তারা। ফোন ধরতেই ওপাশি থেকে রাহাতের কন্ঠ ভেসে আসলো-
“দোস্ত, তুই কোথায়? তাড়াতাড়ি চারুকলার গেটের সামনে চলে আয়। শীতার্তদের জন্য শীতবস্ত্র সংগ্রহ অভিযানে নামতাছি। তুই চলে আয়।”
“ইয়ে মানে রাহাত! আমি যে এখন একটু ব্যস্ত আছি....। তোরা আজকে চালায়ে নে, আমি আরেকদিন তোদের সাথে জয়েন করবো!”
কলটা কেটে লা গ্যালারিতে প্রবেশ করে দেখে এরইমধ্যে নীলা ঘুরে ঘুরে দেখছে। দেয়ালজুড়ে পেইন্টিং।
বেশ কয়েকদিন পরে সকালে নীলার ফোনকল পেয়ে ঘুম ভাঙ্গে অমিতের। সকাল ১১ টা মানে বেশ বেলা হয়ে গেছে। ক্লাস নেই দেখে ভেবেছিল দুপুর ১-২ টা পর্যন্ত ঘুমাবে। সেটা আর হলো না। নীলা বলে দিয়েছে এখনই রেডি হয়ে আজিজের অন্তরা’তে যেতে হবে। অন্তরা রেস্তোরাটার ভেতরের ডেকোরেশন খুবই চমৎকার। বাবুই পাখির বাসা ঝুলে আছে, দেখতে ভালোই লাগে। ঘুমকে ছুটি দিয়ে অন্তরা’র দিকে ছুটলো অমিত। সেখানে পৌছে বেশ অবাক হলো সে। নীলার সামনাসামনি চেয়ারে বসে আসে সামান্তা! এটা কিভাবে সম্ভব! সামান্তা আমিতের অবাক হওয়া চেহারা দেখে মুচকি মুচকি হাসতে লাগলো! নীলা ভিতরের দিকে সরে গিয়ে বললো- “বসো।”
বসতেই নীলার প্রশ্ন- “একে চিনো?”
কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে অমিত বললো- “হুমম চিনি, আমরা কলেজ লাইফ থেকেই খুব ভালো ফ্রেন্ড।”
“ভালো ফ্রেন্ড হলে এখন আর তার সাথে তেমন যোগাযোগ করো না কেন? আগেতো তোমরা ইউনিভার্সিটিতে খুব একসাথে ঘুরে বেড়াতে। এখন সে ঘোরার কথা বললে এড়িয়ে যাও কেন?”
অমিত সামনে তাকিয়ে দেখলো সামান্তা চুপ করে সব শুনে যাচ্ছে। সেও চুপ করে গেল। কিছুক্ষণ পর লুচি আর ডালভাজি খেতে খেতে জানতে পারলো বান্ধবীর সাথে আড্ডা দিতে দিতে সামান্তার সাথে নীলার পরিচয়। নীলার অন্য আরেক বান্ধবীর পরিচিত সামান্তা। সেইসূত্রেই তাদের পরিচয়। পরস্পরে কথা বলতে বলতে অমিতের কথা বের হয়ে আসে।
খাওয়া শেষে শাহবাগ মোড় পেরিয়ে জাদুঘরের সামনে এসে থামলো তিনজনে। বিকাল পর্যন্ত পাবলিক লাইব্রেরির সিড়িতে বসে তিনজনে আড্ডা দিলো। সামান্তা’র টিউশনী আছে। এজন্য তাকে উঠতে হলো। সামান্তা চলে যাওয়ার পর অমিত আর নীলা হেটে হেটে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের লেকটার পাশে গিয়ে বসলো। দুজনে মুখোমুখি বসে। নীলা কথা বলা শুরু করলো?
“তুমি আমাকে কি ভাবো বলোতো অমিত? সামান্তা তোমার কলেজলাইফ থেকেই খুব ভালো বন্ধু। আমার সাথে পরিচয় হওয়ার পর থেকে তার সাথে যোগাযোগ প্রায় বন্ধ করে দিয়েছো তুমি। তুমি কি ভেবেছো তার সাথে তোমাকে ঘুরতে দেখলে আমি রাগ করবো? তুমি এমন করে ভাবতে পারলে কিভাবে....?”
“না....মানে..আসলে..”
“তুমি থামো। তোমার সাথে পরিচয়ের শুরুর দিকে তুমি ‘এসো স্বপ্ন আঁকি’ সংগঠনটার কথা খুব বলতে। আমি জানি তুমি সেই সংগঠনে আগে অনেক সময় দিতে। কিন্তু আমাদের ভালোবাসার সম্পর্কের পর তুমি একবারও তোমার প্রিয় সংগঠনটা নিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলো নি। কেন অমিত? তুমি চাইলে আমি তোমার সাথে সেই সংগঠনের কাজ করতে পারতাম।”
“আমি ভাবলাম তুমি বিষয়গুলোকে কিভাবে নেও...।”
“দেখো অমিত, আমি তোমাকে যখন ভালোবাসি, তোমার চারপাশটা সহ ভালোবাসি। তোমাকে ভালোবাসি মানে তোমার আচরণ, ভালোলাগা, মন্দলাগা সবকিছুকেই ভালোবাসি...।”
মাথা নিচু করে সব শুনে যাচ্ছিলো অমিত। নীলার শেষ কথাগুলো শুনে তাকালো তার দিকে। দেখতে পেল মায়াভরা চোখে তাকিয়ে আছে নীলা।
অমিতের কেবল মনে হতে লাগলো পৃথিবীটা এতো আনন্দময় কেন! তখন পশ্চিম আকাশে ডুবতে থাকা সূর্যের লাল রঙা আভা। শেষ বিকালের আকাশের ছায়া পড়েছে উদ্যানের লেকটার পানিতে। সবকিছুই যেন সেই বিকালটার মতো। সেই বিকালে, তারা একে অপরকে ভালোবাসা উপলব্ধি করেছিল। সুন্দর মুহুর্তগুলোর বুঝি এভাবেই পুনরাবৃত্তি ঘটে।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ১:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


