somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইস্যুভিত্তিক সংস্কৃতি ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের সমসাময়িক জীবন চলছে ইস্যুর উপর ভর দিয়ে। গরম গরম ইস্যু পরিবেশন করে আমাদের মিডিয়াগুলো। আর আমরা আম জনতারা সেই ইস্যুর ভোক্তা। ইস্যু নিয়ে আমরা মাতি, আমরা স্বপ্ন দেখি, এমনকি আমরা তর্ক বিতর্ক, ঝগড়া করি। তারপর কোন এক সকালে মিডিয়া আমাদের সামনে নতুন কোন এক ইস্যু নিয়ে হাজির হয়। আমরা ঘুম জড়ানো চোখ নিয়ে সেই ইস্যুর স্বপ্নে বিভোর হয়। মেতে যাই সেই নতুন ইস্যুটি নিয়ে। দেদারসে ভুলে যাই আগের ইস্যুটি। হোক তা অতি প্রয়োজনীয় কিংবা স্বল্প প্রয়োজনীয়!

বিশ্বায়ন এবং পুঁজিবাদের এই সময়ে মিডিয়া মানেই বিজনেস। সুতরা মিডিয়ার পেছনে যারা নেতৃত্বে আছেন তারাও এক অর্থে বিজনেসম্যান। বিজনেসম্যানদের কাছে স্বার্থ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে কি এই দাড়াচ্ছে না যে, ইস্যু যাই আমাদের সামনে আসছে সেখানে জড়িয়ে আছে কিছু স্বার্থ। হোক তা প্রচারের মাধ্যমে মিডিয়ার নাম ডাক বৃদ্ধি।

ইস্যুর ভুলে যাওয়া সংস্কৃতি আমাদের মধ্যে প্রবল। আর এজন্যই মুক্তিযোদ্ধা আমান আলী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাইতে গিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষীয় লোকদের দ্বারা লাঞ্ছিত হয়, তা আমরা ভুলে যাই। মিডিয়া যতোদিন আমাদের সামনে তা ইস্যুরূপে ধরে রাখে আমরা ততোদিন গলা ফাটাই। তারপর মিডিয়া নতুন ইস্যু পেয়ে যায়। নতুন রূপে প্রতিবেদন, মন্তব্য প্রতিবেদন, এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদন নতুন কোন বিষয় নিয়ে। সেইসব প্রতিবেদন দেখে আগের বিষয়ে ভাবার এতো সময় কই আমাদের। তাই আমরা বেমালুম ভুলে যাই আমান আলীদের কথা। আমার আলী কেমন আছে, কোথায় আছে তা আমরা জানি না। এটি খুব সহজেই অনুমেয় যে বর্বর লোকটি মুক্তিযোদ্ধা আমান আলীকে লাঞ্ছিত করেছিল সে আমান আলী থেকে অনেক ভালো অবস্থায় আছে। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রসঙ্গটি যখন মিডিয়ায় ইস্যু হিসেবে ছিল তখন রোজই নতুন নতুন বিশ্লেষণ, প্রতিবেদন দেখতে পেতাম। তারপর মিডিয়া আরো অনেক অনেক ইস্যু পেয়ে গেছে। একটা ইস্যু শেষ হতেই অন্য আরেকটা ইস্যু এসে হাজির হয়। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে এমনটা অনেকদিন ধরেই শুনে আসছি। সংসদে আইনের সংশোধনী পাস হয়েছে, ঐক্যমত্য প্রস্তাব পাস হয়েছে। বিচার শুরু হয় অবস্থা অনেক দিন আগে থেকেই দেখে আসছি। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত অবস্থা এখনো অদেখা। কেবল নতুন কিছু অনুসঙ্গ যোগ হতে দেখি। কেউ কেউ বলেন বাইরের দেশের চাপের কথা। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে চাইলে কিছু দেশ থেকে চাপ আসবে এইটাতো আগে থেকেই জানা কথা। এ আর নতুন বিষয় কি! এই বিষয়টি মাথায় রেখেইতো বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে!

একটি বিষয় খুব জোরেশোরেই শুনতে পাই। আমার কাছে বিষয়টি নিছক মিথ মনে হয়। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হলে নাকি মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশ সকল বাংলাদেশী শ্রমিকদের পাঠিয়ে দিবে। আমি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কিংবা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র নই, তাই হয়তো এই বিষয়ে জ্ঞান কম থাকতে পারে। তবে সাধারণ জ্ঞানে এইটুকু বুঝি যে এই একবিংশ শতাব্দীকে একটি রাষ্ট্রের বহিঃসম্পর্কের ক্ষেত্রে ব্যক্তির তুলনায় একটি রাষ্ট্রের প্রায়োরিটি অনেক অনেক বেশি।

এদেশীয় রাজাকার দোসরদের বিচার শুরু করতেই যদি এতো দ্বিধান্বিত অবস্থায় থাকতে হয় তাহলে দায়ী পাকিস্তানী হানাদারদের বিচার প্রক্রিয়ার কথা আমরা ভাববোই বা কিভাবে? আন্তর্জাতিক আইন বিষয়টি পড়তে গিয়ে অনেক মামলার উদাহরণ পড়ি। ক্ষতিপূরণের বেশ কিছু মামলা দেখলাম সেদিন। ভাবি, পাকিস্তানী হানাদাররা এই বাংলাদেশে কি তান্ডবলীলা চালিয়ে গেল, আন্তর্জাতিক আইনানুযায়ী সুস্পষ্টভাবে যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও বিচার সম্পাদন হচ্ছে না। ক্ষতিপূরণ আদায়তো আরো দুরের বিষয়।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার বেশ আগে থেকেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চেয়ে নানা পর্যায় থেকে আন্দোলন হয়েছে। শুরুতে সংসদে বেশ কিছু উদ্যোগ আশাবাদী করে তুলেছিল আমাদের। পরবর্তী বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কিছু তারিখ নির্ধারত হয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সবগুলো তারিখই পেরিয়ে গেছে। এখন অপেক্ষা কবে শুরু হচ্ছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার!

জানি আমরা ইস্যুর সংস্কৃতিতে আন্দোলিত হই। কিন্তু ভয় হয়, সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ থেকে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে চারপাশ থেকে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল তা যেন হাজারো ইস্যুর চাপে স্থিমিত হয়ে যাচ্ছে। আর এটাই অনেক ভয়ের বিষয়। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়টি ইস্যুভিত্তিক সংস্কৃতির শিকার না হোক এইটাই মনে প্রাণে চাওয়া। যুদ্ধাপরাধীর বিচার না করতে পারলে জাতি হিসেবে আমরা দাড়াতে পারবো না। অনেক ধরণের আশ্বাস শুনছি। কিন্তু কেন যে এখনো ট্রাইব্যুনাল গঠনের নোটিফিকেশন জারী হচ্ছে না তাই বোধগম্য নয়!

যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধ-এ দায়ী ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিত করতেই হবে।
১৪টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×