কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পেছনে সারি সারি নয়টি পলাশ গাছ। যখন আগুন রঙা পলাশ ফুল ফুটে তখন শহীদ মিনারের পেছনে থেকে জানিয়ে দেয় সূর্যলালের অস্তিত্ব। শহীদ মিনারের শোভাবর্ধনের অংশ হিসেবেই লাগানো হয়েছিল পলাশ ফুলের গাছগুলো। পেছন থেকে আগুন রঙা লালের মাধ্যমে শহীদ মিনারের সৌন্দর্য্যবৃদ্ধি করতো পলাশ ফূলের গাছগুলো। কিন্তু কিছু গাছের আর কতোইবা মূল্য ! পেছনের পলাশ ফুলের লাল রঙা সৌন্দর্য্য দিয়েইবা কি হবে! গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা একটি দিনকে ঘিরে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে যাবেন, সেই অপূর্ব দৃশ্য দেশবাসী টেলিভিশনে দেখাতে হবে। এর কাছে কি পলাশ ফুল গাছগুলোর কোন মূল্য আছে? তাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ক্যামেরা স্থাপনের জন্য কেটে ফেলা হলো তাজা পলাশ ফুলের গাছগুলো।
নয়টি গাছের মধ্যে সাতটি গাছই কেটে ফেলা হয়েছে। (কিছু গাছের গোড়া রেখে উপরের অংশ কাটা হয়েছে) (এনটিভির একজন ক্যামেরাম্যান সেখানে গাছ কাটায় বাধা দেওয়ায় দুটি গাছ বেচে যায়। এনটিভি নাকি রাত ১১-৩০ টার দিকে তাদের একটি অনুষ্ঠানে গাছ কাটা নিয়ে প্রতিবেদন প্রচার করবে) (*** এনটিভির ফিরোজ ভাই আমাকে কিছুক্ষণ ফোনে কল করেছিলেন। তিনি জানালেন গাছগুলোর যে অংশে ফুল ফুটতো সেই অংশই কেঁটে ফেলা হয়েছে। রাত সাড়ে এগারোটায় 'বই বসন্তে' নামের একটি অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনটি দেখানোর কথা নিশ্চিত করলেন তিনি- আপডেট রাত ১০:২২, ১৯/০২ )
আমার প্রশ্ন হলো, যারা গাছগুলো কাটলেন তারা ভুলে গেলেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন হিসেবে খ্যাত সংবিধানের সেই অনুচ্ছেদটি। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংবিধানের অনুচ্ছেদ অনুযায়ী,
"বিশেষ শৈল্পিক কিংবা ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন বা তাৎপর্যমন্ডিত স্মৃতিনিদর্শন. বস্তু বা স্থানসমূহকে বিকৃতি, বিনাশ বা অপসারণ হইতে রক্ষা করিবার জন্য রাষ্ট্র ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।"
পলাশ গাছগুলো কেঁটে যারা বিটিভির ক্যামেরা বসালো তারা কি জানে না যে শহীদ মিনার ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন স্মৃতিনিদর্শন? তারা কি জানতো না যে এ শহীদ মিনারের আশপাশ থেকে চাইলেই কিছু অপসারণ করে ফেলা যায় না! নাকি 'ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন এবং তাৎপর্যমন্ডিত স্মৃতি নিদর্শন' শহীদ মিনারের পাশ থেকে পলাশ ফুলের গাছ অপসারন হতে রক্ষা করার ব্যবস্থা নিতে আমার রাষ্ট্র ব্যার্থ হলো! এ দায়ভার কার?
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




