১৮৯৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন জীবনানন্দ দাশ। অবশ্য কবির স্ত্রী লাবণ্য দাশের মতে কবির জন্মসাল ১৮৯৮। কবির পিতা সত্যানন্দ দাশ, মাতা কবি কুসুম কুমারী দাশ। শৈশবেই জীবনানন্দের সাহিত্যিক প্রতিভা বিকশিত হতে থাকে। ধারণা করা হয়, মা কুসুম কুমারী দেবীর প্রভাবেই তিনি কবিতা লিখতে শুরু করেন। ১৯১৯ সালে তার প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। ‘বর্ষা আবাহন’ নামের সেই কবিতাটি ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় প্রকাশ পেয়েছিল।
জীবদ্দশায় কবির লেখা খুব বেশি কবিতা প্রকাশ পায়নি। সাড়ে আটশ’র বেশি কবিতা লিখেছেন তিনি। অথচ জীবদ্দশায় মাত্র ২৬২টি কবিতা কাব্যসংকলনে এবং বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। জীবনানন্দ দাশের জীবদ্দশায় মাত্র সাতটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছিল। ১৯২৭ সালে কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ঝরা পালক’ প্রকাশিত হয়। এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো কবির ২৫ থেকে ২৭ বছর বয়সে লেখা। প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের নয় বছর পর ১৯৪২ সালে প্রকাশিত হয় কবির দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘ধূসর পান্ডুলিপি’। এ কাব্যগন্থের সব কবিতাই ১৯২৬ থেকে ১৯৩০ সালের মধ্যে রচিত। জীবনানন্দ দাশের বিখ্যাত ‘বনলতা সেন’ কবিতা পত্রিকার দ্বিতীয় সংখ্যায় (পৌষ ১৩৪২ সংখ্যা, ডিসেঃ ১৯৩৪/জানুঃ ১৯৩৫) প্রকাশিত হয়। ১৮ লাইনের এ কবিতাটি বাংলা ভাষার জনপ্রিয়তম কবিতার একটি হিসেবে বিবেচিত। ১৯৪২ সালে ‘বনলতা সেন’ নামে একটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয় তার। এটি জীবনানন্দের তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ।
জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর পর দেখা যায় কবির আরও বহু কবিতা অপ্রকাশিত। কবির মৃত্যুর পর আরও বেশ কিছু কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত হয় কবির লেখা প্রবন্ধ, ছোটগল্প, উপন্যাস। কবির অন্যতম আলোচিত কাব্যগ্রন্থ ‘রূপসী বাংলা’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় কবির মৃত্যুর পর। প্রকাশ সময় ১৯৫৭-এর আগস্ট। কবিভ্রাতা অশোকানন্দ দাশের সরাসরি তত্ত্বাবধানে কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। ‘রূপসী বাংলা’র রচনাকাল ১৯৩২। জীবনানন্দ দাশের ‘রূপসী বাংলা’র কবিতাগুলো ছিল শিরোনামহীন। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, কাব্যগ্রন্থটির প্রতিটি কবিতার শিরোনাম প্রথম পঙ্ক্তির প্রথমাংশ থেকে। ধারণা করা হয়, রূপসী বাংলা কাব্যগ্রন্থের নামকরণ এবং উৎসর্গ অশোকানন্দের।
১৯৫৪ সালের ১৪ অক্টোবর কলকাতার বালিগঞ্জের কাছে ট্রাম দুর্ঘটনায় আহত হন জীবনানন্দ দাশ। সেখান থেকে উদ্ধার করে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কবির স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটতে থাকে। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন জীবনানন্দ দাশ। ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে জীবনানন্দ দাশের মৃত্যু হয়। কেউ কেউ ধারণা করেন, আত্মহত্যাস্পৃহা ছিল দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। প্রায়ই তিনি ট্রাম দুর্ঘটনায় মৃত্যুর কথা ভাবতেন। জানা যায়, একশ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে কলকাতায় ট্রাম দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা মাত্র একটি। তিনি জীবনানন্দ দাশ।
কবি জীবনানন্দ দাশের মৃত্যু নেই। আজও তিনি তার কবিতার মাধ্যমে ভাস্বর। প্রতিদিনই জীবনানন্দ তার হাজার হাজার পাঠকের কাছে ফিরে আসেন এবং তাদের সত্ত্বাকে কবিতার মাধ্যমে স্পর্শ করেন যান।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে অক্টোবর, ২০১০ বিকাল ৩:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



