ধুর ! আজকের সকালটাই মাটি হয়ে গেল । শালা বিল গেটস, ফোন করার আর টাইম পাইলি না । আজকে রাতে নাকি মেলিন্ডা চ্যাঁপা শুটকির ভর্তা বানাবে । আমি না গেলে তাদের খাবারই হজম হবে না । কি আর করা, মেলিন্ডা আমার ছোট বোনের মত । এত করে যখন বলছে, তাই রাজি হয়ে গেলাম । ফোনটা রেখে মেজাজটাই বিগড়ে গেল । কালকে রাতে একটু বেশিই ড্রিংক করে ফেলেছি । মাথাটা এখনও ঝিমঝিম করছে । শাওয়ার আর ব্রেকফাষ্ট শেষে ড্রাইভারকে বললাম লিমুজিনটা বের করতে । ফেরারীটা আর ভাল লাগছে না । ভাবছি নতুন একটা বুগাত্তি কিনব । আমার ড্রাইভারটা ভাল, স্মুথলি ড্রাইভ করে । সাধে কি আর ব্যাটাকে মাসে এক লাখ ডলার দেই
অফিসে বেশীক্ষণ থাকতে মন চাইছিল না । আজকে আবার কোম্পানির এনুয়্যাল রিপোর্ট দিয়েছে । কি সব লোককে যে চাকরি দিয়েছি, সব অকর্মা । ঠিকমত যদি কাজ করত ! রিপোর্টটা দেখে তো মেজাজটা আরও খারাপ হয়ে গেল । এবছর কোম্পানির লাভ মাত্র দশ ট্রিলিয়ন ডলার ।
একটু আগে টিভিতে দেখলাম লর্ডসে বাংলাদেশ-অষ্ট্রেলিয়ার ম্যাচ হবে । বাংলাদেশ ইদানিং ভালই করছে । আজকের ম্যাচটাও অনায়েসে জিতে যাবার কথা । আমি আবার ক্রিকেট এর ভক্ত । ঠিক করলাম মাঠে বসেই খেলাটা দেখব । পাইলটকে বললাম প্রাইভেট প্লেনটা রেডী রাখতে ।
লর্ডসে যেতেই সব হৈ-হুল্লোর করতে করতে এগিয়ে এল । রাণী এলিজাবেথকে দেখলাম বিশাল এক ব্যান্ড পার্টি নিয়ে এগিয়ে আসছে । কোত্থেকে যে এরা খবর পায় ? একটু শান্তি মত খেলা দেখব, সে সুযোগটাও দিবে না । আমি আসব শুনে আজকে নাকি আবার সরকারী ছুটিও ঘোষণা করে দিয়েছে । মাঠে ঢুকতেও পারিনি তার আগেই ক্লার্ক, পন্টিংরা সব দৌড়ে এল অটোগ্রাফের জন্য । আরে ব্যাটা আগে খেলা শেষ কর । মাঠে নামলে তো আশরাফুলের পেসের ভয়ে প্যান্ট ভিজিয়ে ফেলিস ।
নাহ । খেলাটা জমল না । পন্টিং আজকেও ডাক মেরেছে । তামিমতো একাই অষ্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে দিল । দুপুরের আগেই খেলা শেষ । সারাটা বিকাল এখন আমি কি করব ? যাক সুযোগ যখন পাওয়া গেছে একবার ওবামার সাথে দেখা করে আসি । অনেক দিন ধরে চাপাচাপি করছে আমি যেন একবার হোয়াইট হাউসে ঢুঁ মেরে আসি । মিশেল আবার ভাল কফি বানায় । ফোন করে মেদভেদকে আর মানচিনিকে বললাম তাড়াতাড়ি যেন হোয়াইট হাউসে এসে পড়ে । এই সুযোগে সবার সাথে দেখাও হয়ে গেল ।
হতচ্ছাড়া ওবামাটার কান্ডজ্ঞান বলে কিছু নেই । কফিতে মাত্র চুমুক দিয়েছি, অমনি এসে ভিক্ষা চাওয়া শুরু করল । ষ্টেটসে নাকি কি সব মন্দা চলছে, বাজেটে ঘাটতি পরে গেছে । কি আর করা, এই সব অভাবীদেরকে তো আমারই দেখতে হয় । সুইস ব্যাঙ্কের চিফকে ফোন দিয়ে বললাম আমার একাউন্ট থেকে যেন ২৫ বিলিয়ন ডলার দিয়ে দেয় । মেদভেদ আর মানচিনিও সুযোগ পেয়ে জেঁকে ধরল । ওদেরকেও দিয়ে দিলাম ২৫ বিলিয়ন করে । এদিকে আবার মেলিন্ডা বারবার ফোন দিচ্ছে । তাড়াতাড়ি যেন পৌছে যাই ।
আটটা বাজতেই বিলের বাসায় পৌছে গেলাম । চ্যাপা শুটকিটা ভালই লাগল । খাওয়ার পর টেরেসে গিয়ে বসেছি, তখনই বিল মাথা নিচু করে সামনে এসে হাজির । উইন্ডোজে নাকি লস যাচ্ছে, নতুন একটা ব্যাবসা ধরবে । বললাম ঠিক আছে, একদিন বাসায় এসে নিয়ে যাস ।
যাই আজকে একটু তাড়াতাড়ি ঘুমাতে হবে । কালকে আবার একটু মঙ্গলে যাব । ওখানকার চানাচুর ফ্যাক্টরির এলিয়েন লেবারগুলো নাকি ষ্ট্রাইক করেছে । দুপুরের খাবারের সময় যেন তাদেরকে এক চামচ ক্যাভিয়ার বেশী দেয়া হয় । নাহ, এসব ফালতুগুলোকে নিয়ে আর পারা গেল না
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মার্চ, ২০১২ রাত ১:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

