পরীক্ষা ভীতি ভয়ানক জিনিস। পরীক্ষার্থী মানেই জানে পরীক্ষা কি জিনিস। চ্যানেলে চ্যানেলে অথবা পত্র-পত্রিকায় বিভিন্ন বুদ্ধিজীবি অথবা সেমি-বুদ্ধিজীবিগণ অনেক ট্রিক্স দেন। কিন্তু এইসব ফালতু ট্রিক্স অনেকেরই কাজে লাগে না। তাই তাদের জন্য আমি কিছু সহজ ট্রিক্স নিয়া আসলাম।
১। ক্লাসে কখনও টিচারের ফালতু প্যানপ্যানানি শুনবেন না। আপনের কি মনে হয় টিচার বইয়ের চেয়ে বেশি জানে।


অবশ্যই না। টিচার যা পড়ান সব বইয়ে আছে। উনি তো আর নিউটণ না! তাই এত কষ্ট করে এইসব ফালতু লেকচার না শুইনা ক্লাসে ফেসবুকে চ্যাট করতে পারেন অথবা সামু পড়তে পারেন।


আর গল্পের বইয়ের প্রতি আকর্ষণ থাকলে হুমায়ুন আহমেদে বা অন্য কোন পছন্দের লেখকের যে কোন বই পিছনের ডেস্কের আগের ডেস্কে বইসা এমন ভাবে পরবেন যেন টিচার মনে করেন আপনি ক্লাসের সেরা ছাত্র। অবশ্যই পিছনের ডেস্কের দুই ডেস্ক আগে বসবেন কারন স্যারগণ মনে করেন পিছনের ডেস্কে সব ফালতু স্টুডেন্টরা বসে।
২। ক্লাসে স্যাররা যখন বোর্ডে বিভিন্ন লেখা লিখেন তখন ওই সব ফালতু লেখা আপনের খাতায় তুইলা কোন কাম নাইক্কা। তারচেয়ে এক কাম কইরেন, ক্লাসে সময় কাটানির লাইগা কাটাকাটি খেলা খেইলেন।


যদি গেরালফ্রেন্ড থাইকা থাকে তাইলে উনারে এস এম এস করতে পারেন। আর একটা ইউনিক আইডিয়া দেই, গেরালফ্রেন্ডের লাইগা ক্লাসে বইসা বইসা চিঠি লেখবার পারেন। আপনের উনি চিঠি দেইখা পুরা দিওয়ানা হইব কারন আপনি এত ব্যস্ততার ভীড়ে উনার লাইগা এত্ত কষ্ট কইরা এই যুগে চিঠি লেখছেন। আর অতি অবশ্যই পরীক্ষার আগে দিয়া কোন সুন্দরী বান্ধবীর সবগুলা লেকচার খাতা দুই দিনের লাইগা নিয়া আইসা স্যার কি কি পড়াইছে তা বইয়ে দাগাইয়া নিয়েন।

৩। বুকলিষ্ট দেইখা বই টই কিনার কুনু দরকার নাই। এইসব ফালতু বই কিনা আপনে টাকা নষ্ট করবেন?


আপনি ডলার আর টাকার মূল্য বুঝেন। যদি বুইঝা থাকেন তাইলে পড়ার বই কিনা কুনুদিন টেকা-পয়সা নষ্ট করবেন না। তারচেয়ে এক কাম কইরেন এইসব ফালতু বই না কিনা বাপ-মায়ের কাছ থেকে টাকা নিয়া গেরালফ্রেন্ডের লগে ডেটিং এ যাইয়েন। আর গেরালফ্রেন্ড না থাকলে নিজের টুকটাক খরচ আরও শান্তি-মত করতে পারবেন। আর পরীক্ষার আগ দিয়া বড় ভাইয়ের কাছ থেকে অথবা অনেক কম ভাড়ায় দোকান থেকে ছিড়া বই কিনা নিয়া আসবেন।

৪। ক্লাস পরীক্ষা তেমন ইম্পোর্টেন্ট না! আরে ভাই, মোট নম্বরের ৪ ভাগের ১ ভাগও না। তাইলে এত্ত কষ্ট কইরা আপনে কেলাস পরীক্ষার জন্য কেন পড়বেন? মনে রাইখেন ওস্তাদের মাইর শেষ রাইতে। এইসব ফালতু ক্লাস টেষ্ট না দিয়া আপনে আপনের ইয়েকে নিয়ে শপিং এ যেতে পারেন। অবশ্য তা মাসের শেষ দিকে হলে ভাল হয়। কারণ তখন বলতে পারবেন, মাসের শেষ দেখে আপনার কাছে টাকা-পয়সা নেই। তখন কেনাকাটার যাবতীয় বিল আপনার ইয়ে দিয়ে দিবে।


আর যদি কোন ইয়ে না থাকে তখন একা ধানমন্ডি লেক অথবা রমনা পার্ক সহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে পারেন। তবে সাবধান, জোড়ায় জোড়ায় কপোত-কপোতি দেইখা বিশেষত সুন্দরী তরুনী দেইখা লুল হইয়া তাকাইতে গিয়া পিছলা খাইয়া লেকে গিয়া পইড়েন না। সাতার না জানলে ওইখানেই সলিল-সমাধি হইব। কারন, প্রেমরত কেউ আপনের মত ডুবন্ত কারও দিকে ফিরাও চাইব না।


৫। প্রেকটিল ক্লাস খুব ইম্পোর্টেন্ট না! কি সব করায় প্রেকটিকেলে! যে সব এসাইনমেন্ট বাসায় করতে দেয় সেগুলা অবশ্যই ক্লাসে করবেন। বাসায় এইসব আজেবাজে জিনিস লেখার টাইম কই??

যে সময়ে বাসায় এসাইনমেন্ট করতেন ওই সময় আপনার জিএফের সাথে মধুর কথা অথবা কঠিন ঝগড়া করতে পারেন। মধুর প্রেমালাপের পর বালাম ভাইয়ের রুমান্টিক গানটি শুনতে পারেনঃ
কি নেশা ছড়ালে, কি মায়ায় জড়ালে…
আর জিএফ না থাকলে শাকিপ ভাইয়ার কোন এক ছবির নিম্নোক্ত গান শুনতে পারেনঃ
প্রেমে তো পড়লাম না রে
মজা তো বুঝলাম না রে,
শুনলাম না মোবাইল ফুনে আই লাভ ইউ…


৬। পরীক্ষার আগের রাতে যখন কিছুই বুঝবেন না এমনকি কয়টা চাপ্টার সিলেবাসে আছে তাও জানবেন না এবং সহপাঠিদের কাছে গেলে সহপাঠিরা যখন পড়ার ব্যস্ততার জন্য আপনার সাথে কথাই বলবে না তখন আপনি “আসবার কালে আসলাম একা, যাইবার কালে যাব একা” এই টাইপ গান শুনবেন আর আল্লাহর কাছে দুয়া করবেন যাতে এই বারের মত পাশ করেন।


৭। পরীক্ষার হলে যখন প্রশ্নের কোন উত্তরই জানবেন না তখন ধানাই-পানাই কইরা বিভিন্ন উত্তর দিবাইন।


যেমুন ধরুন, প্রশ্নে বলা হল সামুর যে কোন তিনজন ব্লগারের নাম বল। আপনি উত্তর দিবেনঃ ব্লগ আমাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ন মাধ্যম। ব্লগ ছাড়া এ জীবনের কোন অর্থ নাই। জাতি গঠনে ব্লগ অনেক অবদান রাখে… এইভাবে ব্লগ বিষয়ক কয়েক-পৃষ্ঠা লেখবেন। তাইলে আর প্রশ্ন কর্তা খুইজাই পাইব না আপনের আসল উত্তর।


আর চারপাশে তাকাইয়া যখন দেখবেন পোলাপান সব ধুমাইয়া লেখতাছে আর আপনে লেখার কিছুই পাইতাছেন না তখন মনে মনে শপথ করবেন এরপর থেকে ভাল মত সব ক্লাস করবেন, সব লেকচার তুলবেন, ঘুরাঘুরি কইরা অথবা প্রভা আফা বা নিরব ভাইয়ার লুলিয় কাহিনী কিংবা মুন্নি আফার বদনাম শুইনা একটুও টাইম নষ্ট করবেন না।

এ সব ফর্মুলা অনুসরণ করলেই আপনে হারিকেনের মত এক্সাম হল উড়াইয়া দিবেন।


তয় সদা মনে রাখবেন ভাল এক্সাম দেওয়া আর ভাল ফল করা এক কথা নয়।