আমি ক্রিকেট আর ফুটবল খেলার পাড়ঁ ভক্ত। বাংলাদেশের কোন ক্রিকেট খেলাই মিস দেই না। খেলা দেখার কতটা ভক্ত তার একটা উদাহরণ হল- আমার এস এস সি এর সময় পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার আগের রাতে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের খেলা দেখেছিলাম। বাংলাদেশ হেরেছিল কিন্তু সাকিব ওই ম্যাচে সর্বোচ্চ রান করে ম্যান অব দা ম্যাচ হয়েছিল এবং আমার খেলা দেখাও স্বার্থক হয়েছিল।(এক্সামে এ+ পাইছিলাম
কিন্তু এই আমি কখনও স্টেডিয়ামে গিয়ে কোন খেলা দেখি নাই। যাই হোক, এইবার বিপিএলের দ্বিতীয় দিনের দুইটা ম্যাচ দেখব বলে ঠিক করেছিলাম এবং খেলা শুরু হওয়ার এক সপ্তাহ আগে আমি আর আমার এক ফ্রেন্ড দুইটা টিকেট কাটালাম। তখন টিকেটের সর্বনিম্ন দাম ছিল ৫০০ টাকা। আফসুস!! গতকাল স্টেডিয়ামের বাইরে এসেই জানতে পারি টিকেটের সর্বনিম্ন দাম কমিয়ে ২০০ টাকা করা হয়েছে।
স্টেডিয়ামের ভেতরের ঢুকার ঠিক আগে চেক আপের সময় আনসার ভাইয়া আমার কাছে আমার সবচেয়ে প্রিয় হেডফোন পেল। স্টেডিয়ামে নাকি হেডফোন নেওয়া নিষিদ্ধ!! হেডফোনটি আমার অনেক অনেক বেশি প্রিয় ছিল কারণ এই হেডফোনটিতেই বেস সবচেয়ে বেশি শোনা যেত। তাছাড়া এটি আমি একবছর ধরে ব্যবহার করছি। বাসায় যতক্ষণ থাকি কম্পুতে গান ছাড়া থাকে। আর বাইরে বের হলে কিংবা কারেন্ট চলে মোবাইলে হেডফোন ইউস করে গান শুনি। এক বছরে আমার তিনটা হেডফোন নষ্ট হয়েছে কিন্তু ওই হেডফোনটাই পুরো ঠিক ছিল। আমার এই সবচেয়ে প্রিয় জান হেডফোনটাকে বাইরে রেখে গ্যালারীতে ঢুকতে খুব কষ্ট হচ্ছিল কিন্তু তারপরও আনসারদের ক্যাচালের কারণে জানটাকে গ্যালারীর বাইরেই রাখতে হল।
ঢাকা খুলনার ম্যাচ শেষে গ্যালারির বাইরে গেলাম এবং যা ধারণা করেছিলাম তাই হয়েছিল। আমার হেডফোন নেই।
এর মাঝে আরেক কাহিনী। পানি খাওয়ার জন্য যেই ফিল্টারের কাছে গেলাম জানতে পারলাম পানির দাম গ্লাস প্রতি ৫ টাকা! পানিও যে কোন সহজ জিনিস নয় তা তখন বুঝলাম। আমি আর আমার ফ্রেন্ড ২ গ্লাস পানি খেলাম। আমার ফ্রেন্ডটা ১০০ টাকার নোট দিল। কিন্তু, দোকানদার ফিরত দিল ১০ টাকার ১১ টা নোট!!
খেলার সময় আমাদের সামনে কিছু তরুনী বসেছিল। এরইমধ্যে আমার ফ্রেন্ড আর আমি আলোচনা করছিলাম কেন আমার কুনু গেরালফ্রেন্ড নাই। আমার কুনু জিএফ নাই দেইখা সে নাকি তার ভার্সিটির ফ্রেন্ডদের সামনে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিতে লজ্জা পায়। হালের এই যুগে মিনিমাম একটা গার্লফ্রেন্ড থাকা নাকি বাধ্যতামূলক! তখন আমি বলতে লাগলাম- এমন এক মেয়ে আমার গেরালফ্রেন্ড হবে যে খেলা দেখবে এবং প্রচুর গান শুনবে। এ সময় সামনের কোন এক তরুনী আমার দিকে তাকাল এবং মুচকি হাসল। উহার মুচকি হাসি দেখে বাকি তরুনীরাও আমা দিকে তাকাল। এমতবস্থায় আমি পুরা আবুল হয়ে গেলাম এবং নিজেকে লুল মনে হইতে লাগল।
দুপর বেলায় ঢুকেছিলাম তখন প্রচন্ড গরম লাগছিল কিন্তু রাতে কোন শীতের কাপড় নেই নি দেখে ভাল রকমের শীত লাগছিল। কিন্তু, এই শীতের মধ্যেও চিয়ারলিডারস আপুরা এত সল্প বসনে কিভাবে নাচেন তা আমার পক্ষে বোঝা সম্ভব হয় নি। কিছু সল্প বসনা দর্শক আপুরাও কিভাবে শীতের মধ্যে ছিলেন সেটাও একটা বড় প্রশ্ন।
অতঃপর পুরো খেলা দেখে হলে ফিরে গেলাম।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



