somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিপিএল দেখতে গিয়ে জানকে হারানো এবং আমার আবুল হওয়াB-):((

১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ১২:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি ক্রিকেট আর ফুটবল খেলার পাড়ঁ ভক্ত। বাংলাদেশের কোন ক্রিকেট খেলাই মিস দেই না। খেলা দেখার কতটা ভক্ত তার একটা উদাহরণ হল- আমার এস এস সি এর সময় পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার আগের রাতে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের খেলা দেখেছিলাম। বাংলাদেশ হেরেছিল কিন্তু সাকিব ওই ম্যাচে সর্বোচ্চ রান করে ম্যান অব দা ম্যাচ হয়েছিল এবং আমার খেলা দেখাও স্বার্থক হয়েছিল।(এক্সামে এ+ পাইছিলামB-)B-))। আমার আম্মু সারাদিন পড়ালেখার জন্য চিল্লাচিল্লি করলেও ওইদিন কিছু কয় নাই। জানত কিছু বইলা কুনু লাভ হবে না।:|:| আরেকটা উদাহরন হল- ক্লাস টেনের টেস্ট পরীক্ষার সময় বাংলা পরীক্ষার সময় বাংলাদেশ-ভারতের খেলা হচ্ছিল। পরীক্ষা ছিল ২ টায়। দুপুর ১ টা পর্যন্ত খেলা দেখে এক্সাম হলে গিয়ে মাত্র ১ ঘন্টায় কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর দিয়ে পরীক্ষা শেষ করে বাসায় এসে পড়লাম। তবে এত তাড়াতাড়ি খাতা জমা দেওয়ায় ছাত্র-শিক্ষক উভয়েই যে কিছুটা অবাক হল তা আর বলার কোন অপেক্ষা রাখে না। ;);)

কিন্তু এই আমি কখনও স্টেডিয়ামে গিয়ে কোন খেলা দেখি নাই। যাই হোক, এইবার বিপিএলের দ্বিতীয় দিনের দুইটা ম্যাচ দেখব বলে ঠিক করেছিলাম এবং খেলা শুরু হওয়ার এক সপ্তাহ আগে আমি আর আমার এক ফ্রেন্ড দুইটা টিকেট কাটালাম। তখন টিকেটের সর্বনিম্ন দাম ছিল ৫০০ টাকা। আফসুস!! গতকাল স্টেডিয়ামের বাইরে এসেই জানতে পারি টিকেটের সর্বনিম্ন দাম কমিয়ে ২০০ টাকা করা হয়েছে।:((:(( মিজাজটা চরমের চেয়ে বেশি খারাপ হয়ে গেল। যারা ২০০ টাকার টিকেট কেটে রোদের মধ্যে খেলা দেখবে আমরা ৫০০ টাকার টিকেট কেটে ছায়ায় না বসে তাদের সাথে খেলা দেখব এটা চিন্তা করতে করতে নিজেকে পুরা লুল থুক্কু আবুল মনে হইতে লাগল। যাই হোক, স্টেডিয়ামের ৪ নম্বর গেটে আমার ফ্রেন্ড আমার জন্য ওয়েট করছিল কিন্তু প্রচণ্ড ভীড়ে তাকে খুজে পাচ্ছিলাম না। তারওপর আমার পেয়ারটেলের নেটওয়ার্ক ছিল না। ওরে খুজতে এদিক-সেদিক তাকাচ্ছিলাম কিন্তু কোথাও পাচ্ছিলাম না। হঠাত করে কেউ একজন আমাকে ডানদিক থেকে প্রচণ্ড জোড়ে ধাক্কা দিয়ে জড়িয়ে ধরল। দেখি সম্পূর্ণ অপরিচিত এক মেয়ে। :-/:-/ পাশ থেকে এক আঙ্কেল বিড়বিড় করে বলতে লাগলেন সব জায়গায়ই একই দশা!! খানিকক্ষণ পরেই মেয়েটি আমাকে ছেড়ে দিয়ে সরি বলল। সে আরও বলল তার পায়ের সাথে পা লেগে এমন দূর্ঘটনা ঘটেছে। আমি উহার পায়ের দিকে তাকিয়ে দেখলাম বিরাট হিল। একবার ভাবলাম বলি আপু এত বড় হিল পড়লে তো এমনি হবে। পরেই ভাবলাম আমার কি ঠেকা পড়ছে উনারে উপদেশ দেওয়ার। কিছুক্ষণ পর আমি আমার ফ্রেন্ডটাকে খুজে পেলাম। পোলাডা বাংলাদেশের জার্সি পইড়া আসছে। তাকে কিম্ভুতকিমাকার লাগছিল। অতঃপর আমরা স্টেডিয়ামে ঢুকলাম।

স্টেডিয়ামের ভেতরের ঢুকার ঠিক আগে চেক আপের সময় আনসার ভাইয়া আমার কাছে আমার সবচেয়ে প্রিয় হেডফোন পেল। স্টেডিয়ামে নাকি হেডফোন নেওয়া নিষিদ্ধ!! হেডফোনটি আমার অনেক অনেক বেশি প্রিয় ছিল কারণ এই হেডফোনটিতেই বেস সবচেয়ে বেশি শোনা যেত। তাছাড়া এটি আমি একবছর ধরে ব্যবহার করছি। বাসায় যতক্ষণ থাকি কম্পুতে গান ছাড়া থাকে। আর বাইরে বের হলে কিংবা কারেন্ট চলে মোবাইলে হেডফোন ইউস করে গান শুনি। এক বছরে আমার তিনটা হেডফোন নষ্ট হয়েছে কিন্তু ওই হেডফোনটাই পুরো ঠিক ছিল। আমার এই সবচেয়ে প্রিয় জান হেডফোনটাকে বাইরে রেখে গ্যালারীতে ঢুকতে খুব কষ্ট হচ্ছিল কিন্তু তারপরও আনসারদের ক্যাচালের কারণে জানটাকে গ্যালারীর বাইরেই রাখতে হল। :((:((
ঢাকা খুলনার ম্যাচ শেষে গ্যালারির বাইরে গেলাম এবং যা ধারণা করেছিলাম তাই হয়েছিল। আমার হেডফোন নেই।X(:((:(( আরেক আনসাররে আমার হেডফোনের কথা কইলাম। উনি কইলেন এইখানে কিছু নাই, কারা যেন আইসা নিয়ে গেছে। আর কিছু কইলাম না। জানটারে হারাইয়া প্রচণ্ড হতাশ হইয়া পরের ম্যাচ দেখার জন্য মাঠে ফিরা আসি।
এর মাঝে আরেক কাহিনী। পানি খাওয়ার জন্য যেই ফিল্টারের কাছে গেলাম জানতে পারলাম পানির দাম গ্লাস প্রতি ৫ টাকা! পানিও যে কোন সহজ জিনিস নয় তা তখন বুঝলাম। আমি আর আমার ফ্রেন্ড ২ গ্লাস পানি খেলাম। আমার ফ্রেন্ডটা ১০০ টাকার নোট দিল। কিন্তু, দোকানদার ফিরত দিল ১০ টাকার ১১ টা নোট!!:D:D:D আমার ফ্রেন্ড দোকানদারকে ১ টা ১০ টাকার নোট ফিরত দিয়া চইলা আসল!!:P:P

খেলার সময় আমাদের সামনে কিছু তরুনী বসেছিল। এরইমধ্যে আমার ফ্রেন্ড আর আমি আলোচনা করছিলাম কেন আমার কুনু গেরালফ্রেন্ড নাই। আমার কুনু জিএফ নাই দেইখা সে নাকি তার ভার্সিটির ফ্রেন্ডদের সামনে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিতে লজ্জা পায়। হালের এই যুগে মিনিমাম একটা গার্লফ্রেন্ড থাকা নাকি বাধ্যতামূলক! তখন আমি বলতে লাগলাম- এমন এক মেয়ে আমার গেরালফ্রেন্ড হবে যে খেলা দেখবে এবং প্রচুর গান শুনবে। এ সময় সামনের কোন এক তরুনী আমার দিকে তাকাল এবং মুচকি হাসল। উহার মুচকি হাসি দেখে বাকি তরুনীরাও আমা দিকে তাকাল। এমতবস্থায় আমি পুরা আবুল হয়ে গেলাম এবং নিজেকে লুল মনে হইতে লাগল।X(X(

দুপর বেলায় ঢুকেছিলাম তখন প্রচন্ড গরম লাগছিল কিন্তু রাতে কোন শীতের কাপড় নেই নি দেখে ভাল রকমের শীত লাগছিল। কিন্তু, এই শীতের মধ্যেও চিয়ারলিডারস আপুরা এত সল্প বসনে কিভাবে নাচেন তা আমার পক্ষে বোঝা সম্ভব হয় নি। কিছু সল্প বসনা দর্শক আপুরাও কিভাবে শীতের মধ্যে ছিলেন সেটাও একটা বড় প্রশ্ন। :|:|

অতঃপর পুরো খেলা দেখে হলে ফিরে গেলাম।
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাসূলের (সা.) অনুসারি হবেন শুধুমাত্র সাহাবা (রা.), অন্যরা এবং ওলামা ওলামার অনুসারি হবেন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৪০




সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ২৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮। এভাবে রং বেরং- এর মানুষ, জন্তু ও আন’আম রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে (ওলামা) আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।নিশ্চয়্ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল।

সূরা:... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×