হুমায়ুন ফরিদী আর আমাদের মাঝে বেচেঁ নেই। তিনি কোন মাপের অভিনেতা তা নিয়ে কিছু লিখার কোন ক্ষমতা আমার নেই। ব্যাক্তিগত ভাবে আমি তাঁকে কোনদিন সামনাসামনি দেখি নি। টিভি পর্দায় যখন ভিলেনের অভিনয় করেন তখন তার এক কঠিন রূপ দেখি আর যখন বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আমন্ত্রিত অতিথি থাকেন তখন তাঁর এক কোমলতম রূপ দেখি। কোন একটি অনুষ্ঠানে তাঁকে যখন জিজ্ঞাস করা হয় তাঁর জীবনের প্রথম অভিনয় কোনটা তখন তিনি উত্তর দেন ১৯৬৫ সালে তিনি তার বাবার পকেট থেকে ১০ টাকার একটি নোট চুরি করেছিলেন এবং তা অত্যন্ত নিপুণভাবে এড়িয়ে গিয়েছিলেন! এটাই ছিল তার প্রথম অভিনয়!! মানুষটি বাস্তব জীবন আর অভিনয়ের অপূর্ব এক বন্ধন ঘটিয়েছিলেন। তার বাবা সরকারী চাকুরিজীবি হওয়ার সুবাদে বিভিন্ন জায়গায় বদলি হয়েছিলেন এবং ফলশ্রুতিতে বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন স্কুলে তাঁকে পড়তে হয়েছিল। ফলে বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন এলাকার ছেলে-মেয়েদের সাথে মেশার অভিজ্ঞতা হয়েছিল যা পরবর্তীতে তাঁর অভিনয়কে করেছিল আরও অনেক বেশি সমৃদ্ধ। সিনেমার প্রতি যে তার কতটা টান ছিল তা বুঝা যায় যখন তিনি অনেক ছোটবেলায় আর্থিক অসচ্ছলতার জন্য সিনেমার টিকেট কাটতে পারতেন না তখন তার জীবনের লক্ষ্য ছিল সিনেমার টিকেটকিপার হওয়া! পরবর্তী জীবনে তাকে সিনেমা দেখতে আর টিকেটকিপার হওয়া লাগে নি বরং সিনেমাই বুকে টেনে নিয়েছে এই অদ্ভুত প্রাণশক্তির মানুষটিকে। টেলিভিশন পর্দায় তিনি ছিলেন প্রাণবন্ত এক মানুষ। মনচ নাটক থেকে শুরু করে সব জায়গা ছিল তাঁর পদচারণায় মুখরিত। এক জীবনে যা পেয়েছেন তার প্রায় সবই পেয়েছেন তিনি।
মুনমুনের উপস্থাপনায় “আমার আমি” এর কোন এক পর্বে যখন তাঁকে মৃত্যু সম্পর্কে কিছু বলতে বলা হয় তখন তিনি এভাবেই বলেন যে মৃত্যু অনেক শীতল স্নিগ্ধ এবং কোমল একটি অনূভুতি। মৃত্যুর চেয়ে স্নিগ্ধ আর কোন অনূভুতি আর নেই। মুনমুন তখন অনেকটাই অবাক হয়ে বলেন কিভাবে মৃত্যু অনেক স্নিগ্ধ হয়! উত্তরে এই মহান ব্যাক্তি বলেন যে একদিন না একদিন মরতে হবেই। তাই মৃত্যু নিয়ে চিন্তা করা বা মৃত্যু ভয়ে ভীত থাকা কোন শিক্ষিত মানুষের কাজ হতে পারে না। তবে অসময়ের মৃত্যুগুলো খুব কষ্টের।
তিনি খুব অসময়ে আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। তাঁর মৃত্যুতে এ দেশের নাটক বা সিনেমাতে এক অদ্ভুত শুন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর এই স্নিগ্ধ মৃত্যুর রেশ হয়ত আমরা কাটিয়ে উঠতে পারব কিন্তু তাঁর আত্মীয়-স্বজনরা বয়ে চলবেন দুঃস্মৃতি। আর বাংলা নাট্য বা চলচিত্র অঙ্গনের যে অপূরণীয় ক্ষতি হল তা আর কোন দিন কি সামান্যতম পূরণ করা যাবে?
সবশেষে একটাই প্রার্থনা, আপনি যেখানেই থাকুন অনেক অনেক অনেক বেশি ভালো থাকুন। পরপারে থেকে আপনি দেখবেন আপনার অগণিত ভক্তকুল আপনার এই ছেড়ে যাওয়াকে মেনে নিতে পারে নি।
আপনার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



