
স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের এ এক অন্যরূপ। মূল বিশ্লেষণে যাবার আগে একটু ঘটনার দিকে নজর দেওয়া যাক। বাংলাদেশের জলসীমাতে (বিতর্কিত) মিয়ানমার তেল গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার একটি কোম্পানীকে নিয়োজিত করে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পনীটি চারটি জাহাজসহ বিতর্কিত সমুদ্রসীমায় অনুসন্ধান প্রক্রিয়া শুরু করে। চারটির মধ্যে দুইটি বাহামা, একটি বেলাইজ ও অন্যটি ভারতে রেজিস্ট্রেশনকৃত। এই চারটি জাহাজকে নিরাপত্তা দেবার জন্য আসে মিয়ানমারের দুইটি রণতরী। লক্ষণীয় ব্যাপার হল অন্য চারটি জাহাজ বিতর্কিত এলাকাতে প্রবেশ করলেও রণতরী দুইটি কিন্তু মিয়ানমারের সমুদ্রসীমাতেই ছিল।
অনুপ্রবেশের ঘটনাটি ছিল শনিবারের। বাংলাদেশ সরকার রবিবারে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে প্রতিবাদ জানায়। এতদ্রুত প্রতিবাদের ঘটনা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে বিরল। এই ঘটনার পরপরই বাংলাদেশ নৌবাহিনী তাদের চারটি রণতরী প্রেরণ করে। একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয় কোম্পানীকেও এ ধরণের কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য আহবান জানানো হয়। শুধু এখানেই শেষ নয়, বাংলাদেশ বিতর্কিত জলসীমা থেকে মায়ানমারকে অবিলম্বে চলে যেতে বলে, অন্যথায় বাংলাদেশ সকল রকম ব্যবস্থা নেবার জন্য প্রস্তুত বলে মায়ানমারকে হুমকিও দেওয়া হয়। এ ব্যাপারটিও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন সংযোজন।
বাংলাদেশ মায়ানমারকে তার একটি ভালো প্রতিবেশী মনে করে এবং অধিকাংশক্ষেত্রে ভারতের চেয়ে মায়ানমারকে বাংলাদেশ তার নিরাপত্তার জন্য কম হুমকিস্বরূপ মনে করে। এই দুইটি দেশেরই বিশ্বরাজনীতিতে প্রধান সমর্থক চীন। বাংলাদেশ চীনের কাছেও এ ব্যাপারে সমাধানের জন্য আবেদন জানিয়েছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই তার পররাষ্ট্র সচিবকে মায়ানমারে পাঠিয়েছে এবং আগামী মাসে ভারতের সাথে আলোচনার সময়েও তাদের সাথে জলসীমা নিয়ে দরকষাকষি করা হবে বলে জানিয়েছে।
তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশের জ্বালানিখাতে এখন যে সংকট চলছে ত্বরিত ব্যবস্থা নেওয়াই তা প্রমাণ করে দিচ্ছে। অন্যদিকে ভারত গভীর সমুদ্রে এইরকম অঞ্চলে ১০০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট এবং মিয়ানমার ৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আবিষ্কার করেছে। বাংলাদেশ ও আশা করছে এ অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যাবে এবং বাংলাদেশের মোট অর্থনীতেতে যে হারে অগ্রগতি হচ্ছে তাতে নিকট ভবিষ্যতে গভীর সমুদ্র থেকে গ্যাস উত্তোলনের ব্যায়ভার বহন করা বাংলাদেশের জন্য কঠিন কিছু হবেনা। আর বাংলাদেশের জ্বালানি সংকটের এ মুহূর্তে আগামীতে জ্বালানির নিরাপত্তার জন্য নতুন গ্যাসক্ষেত্রের গুরুত্ব অপরিসীম।
কিন্তু আরএকটি লক্ষ্যণীয় ব্যাপার হচ্ছে মিয়ানমার আমেরিকাকে অভিযুক্ত করেছে বাংলাদেশকে উষ্কানি দেবার ব্যাপারে, যথারীতি ওয়াশিংটন তা প্রত্যাখান করেছে।
বাংলাদেশ নৌবাহিনী জানিয়েছে আজ মায়ানমার শুধু রণতরী সরিয়ে নিয়েছে এবং অন্য জাহাজগুলোও চলে যাবার আয়োজন করছে। সবগুলো জাহাজ গেলে তবেই বাংলাদেশ নৌবাহিনী তাদের রণতরী ফিরিয়ে নেবে।
এখন দেখার ব্যাপার কোথাকার জল কোথায় গিয়ে দাড়াঁয়। আমি ব্যক্তিগত ভাবে বাংলাদেশের এরকম প্রতিক্রিয়াতে বেশ সন্তুষ্ট। আপনারা কি মনে করছেন?
( দু;খিত এই লিখা পোষ্ট করার পর AFP তাদের রিপোর্টে জানিয়েছে বাংলাদেশের রণতরী অপসারণ দাবী সত্যি নয়)
ছবিঃ উইকিপিডিয়া থেকে নেওয়া।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

