মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কে ইউনিভার্সিটি করবেন। তিনি বলেছেন এতে কারো ক্ষতি হবে না ও সেবার মানও বাড়বে। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এর সাথে একমত নই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যারা আপনাকে ইউনিভার্সিটি করার ব্যাপারে মন্ত্রনা দিয়েছে তাঁরা আপনাকে বুঝিয়েছে সরকারের কোন টাকা খরচ করতে হবে না এই ইউনিভার্সিটি এর জন্য। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি নিজেও বলেছেন এলামনি ট্রাষ্টকে ইউনিভার্সিটি করার জন্য টাকা যোগার করার জন্য। বিজ্ঞ প্রধানমন্ত্রী আপনি বলুন এই প্রতিষ্ঠান চালাতে টাকা ওনারা কোথায় পাবেন? তাঁরা কি নিজের পকেট থেকে দিবেন না রোগীর পকেট কাটবেন? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঢাকা মেডিকেল এ যেসব রোগী আসে তাঁদের বেশীর ভাগই নিঃস্ব। তাঁরা টাকা দিয়ে চিকিৎসা করার মতো না।তাঁরা তখন কোথায় যাবে? এখানে ব্যাড এর চেয়ে কয়েক গুন বেশী রোগী থাকে । ইউনিভার্সিটি হলে তা কি থাকবে? কিভাবে থাকবে? এই অতিরিক্ত রোগীর খরচ কে দিবে? ইউনিভার্সিটি তো শুধু টাকা কামাইয়ের ধান্দায় থাকবে। তাঁদের তো প্রতিষ্ঠান চালাতে হবে। তাহলে নিঃস্ব রোগীরা কোথায় যাবে? আমি বঙ্গবন্ধু মেডিকেল ইউনিভার্সিটি তে আছি। ওখানে রোগীর সংকুলান হয় না। ওখানে ফ্রী রোগী দেখা হয় কম। বহিবিভাগের টিকেট এর মূল্য কয়েক দিন পর পর বাড়ানো হচ্ছে আর পাশাপাশি টিকেট এর মেয়াদ কমানো হচ্ছে ,কেন? টাকা তো কামাই করতে হবে। এ যে ইউনিভার্সিটি এটা চালাতে হবে না!! পরীক্ষা নিরীক্ষা বহিবিভাগ হতে কোনটাই বিনামূল্যে হয় না। বহিবিভাগের রোগীর অপারেশানও বিনামূল্যে হয় না। লেপারস্কপি এর মতো সাধারন অপারেশনও ইউনিভার্সিটি তে বিনা মূল্যে হয় না। ইউনিভার্সিটিতে একটি রোগীও অতিরিক্ত রাখা হয় না। আর ঢাকা মেডিকেল এ কাউকে ফেরত দেয়া হয় না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ,সাধারন মানুষ স্বাস্থ্য সেবা হতে বঞ্চিত হলে কিবা আসে যায় ইউনিভার্সিটিতো হয়েছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন স্বাস্থ্য সেবার মান বাড়বে। ধরে নিলাম বাড়বে। কিন্তু সেটার ফল কে পাবে? নিঃস্ব মানুষগুলো না কি বিত্তবানরা? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল ইউনিভার্সিটি তে খোঁজ নিন ওখানে সুযোগগুলো কারা ভোগ করছে। আমি একটা উদাহরন দিয়েছি। আমার জানা মতে কোন বিশেষায়িত সেবাই ওখানে ফ্রী হয় না। অন্য দিকে ঢাকা মেডিকেল এ এসে কেউ খালি ফিরছেনা। আমার প্রশ্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উন্নত সেবা দিতে হলে ইউনিভার্সিটি কেন করতে হবে? ইউনিভার্সিটি ছাড়া কি উন্নত সেবা দেয়া সম্ভব নয়? উন্নত সেবা দিতে কি নাম পরিবর্তন করে ইউনিভার্সিটি নাম দিতে হবে? কেন ঢাকা মেডিকেল এ উন্নত সেবা দিতে আপনার আপত্তি কিসে? নাকি আপনি সাধারন জনগণকে উন্নত সেবা দিতে চাইছেন না? ঢাকা মেডিকেল এ উন্নত সেবা দিলে রোগীর কাছ হতে টাকা নেয়া যাবে না ।তাই ওটাকে ইউনিভার্সিটি বানিয়ে টাকা নিয়ে উন্নত সেবা দিতে চাইছেন? আপনিতো গন মানুষের নেতা। আপনি কি এটা চাইতে পারেন? না আপনি তা পারেন না। আপনাকে উল্টাসিধা বুঝিয়ে এটাতে আপনার সায় নিয়েছে। কিন্তু আমার মনে হয় আপনি নিশ্চয় চাইবেন না যে আপনার সাধারন জনগন কষ্ট পায় এমন কিছু করতে।
আমার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ডাক্তারদের আপগ্রাডিং হবে। আমি বুঝলাম না কিভাবে? ঢাকা মেডিকেল এ এখন সব উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও কোর্স চালু আছে। বরং ইউনিভার্সিটি হলে উচ্চতর প্রশিক্ষণের যে উন্মুক্ত দ্বার আছে তা অনেকাংশেই বন্ধ হয়ে যাবে। এখাণে সরকারী ও বেসরকারি ডাক্তাররা নানা ভাবে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশের আনাচে কানাচে যেভাবে ছড়িয়ে পরত তা বন্ধ হয়ে যাবে। এখন যেমন কোন সরকারী ডাক্তার বঙ্গবন্ধু ইউনিভার্সিটি তে চাইলেও প্রশিক্ষণ নিতে পারছেন না। তাহলে লাভ কি হল? উচ্চতর ট্রেনিং এর জন্যে ঢাকা মেডিকেল এর বিকল্প নাই। আর ইউনিভার্সিটি করে তা যদি বন্ধ করে দেয়া হয় তাহলে মান সম্মত ডাক্তার খুঁজতে বিদেশ যেতে হবে। শুধু যারা ওখানে চাকুরী পাবে তাঁরা ছাড়া আর কেউ লাভবান হবে না মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।
একথা পুরোপুরি সত্যি যে ইউনিভার্সিটি হলে ওখানে যাদের নিয়োগ হবে তাঁরা সবাই দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ পাবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমি জানি ওখানে আপনি নিরপেক্ষ মেধার ভিত্তিতে কাউকে নিয়োগ দিতে পারবেন না। সরকার পরিবর্তন হলে কি হবে সেটাও আপনি ভাবতে পারছেন নিশ্চয়। বঙ্গবন্ধু মেডিকেল ইউনিভার্সিটি এর জ্বলন্ত উদাহারন। ওখানে কি হয়েছে আমরা সবাই অবগত আছি।
সত্যি করে বলুন আসলে আমাদের স্বাস্থ্য শিক্ষা বা স্বাস্থ্য সেবার মান বাড়াতে ইউনিভার্সিটি এর কতটা প্রয়োজন? আদৌ এর কোন প্রয়োজন আছে কি? আমি হয়ত কম বুঝি। তাই আমার এক শ্রদ্ধেয় প্রফেসর স্যারকে এটা জিগ্যেস করেছিলাম। উনি অকপটে শিকার করলেন কোন প্রয়োজন নাই। আমি জিগ্যেস করলাম স্যার তাহলে আপনারা ওঁটা করতে চাইছেন কেন? বা এতে কারো লাভ হবে কি? তিনি বললেন না কারো কোন লাভ হবে না শুধু ব্যক্তি স্বার্থ ছাড়া। আমি তখন বললাম তাহলে স্যার নুতন করে শুরু করেন দেশ,জাতি ও আমরা(ডাক্তাররা) কিছু পাবো। তিনি বললেন সরকার এর হাতে টাকা নাই তাই সরকার এতো টাকা খাটিয়ে নুতন কিছু করতে আগ্রহী নয় । মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি চিন্তা করুন আপনি কি করতে যাচ্ছেন। কিছু লোক তাঁদের ব্যক্তি স্বার্থ উদ্ধারে আপনাকে ভুল বুঝিয়ে আপনার সমর্থন আদায়ের মাধ্যমে আপনার অপূরণীয় ক্ষতি করতে চাইছে। আপনার হাত দিয়ে সাধারন জনগণের স্বাস্থ্য সেবাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়ে আপনার জনপ্রিয়তা কমাতে চাইছে। এটা কি আপনি বা কোন জনপ্রতিনিধি মেনে নিতে পারেনা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি কারো কথায় প্ররোচিত না হয়ে সব ডাক্তার ও ছাত্রদের মতামত নিন। প্রয়জনে সুশীল সমাজের মতামত নিন। প্রয়োজনে গোপন ব্যালটে ভোটের মাধ্যমে তা বাস্তবায়িত করুন। তাহলেই আপনি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারবেন। আর তা না হলে আপনাকে স্বার্থান্বেষীরা বিভ্রান্ত করার প্রয়াস পাবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমি অনেকের সাথেই কথা বলেছি মোটামুটি সবাই ওটার বিপক্ষে। এমন কি যারা এটার জন্য চেষ্টা করছে তাদেরও কোন যৌক্তিক যুক্তি নাই এটার পক্ষে। তাহলে আপনি এটা কেন করবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



