আমার প্রিয় পোস্ট
- চলচ্চিত্রের সংকট নিরসনের উপায় - তপন বাগচী
- বিল বাঘিয়ার ঐতিহ্য ফিরে আসুক ্্ তপন বাগচী - তপন বাগচী
- শতবার্ষিক শ্রদ্ধাঞ্জলি ।। আ.ন.ম. বজলুর রশীদ : রবীন্দ্রানুসারী কবির রবীন্দ্রবিবেচনা - তপন বাগচী
- উপসংহারে একা একা/দেশভাগ ও অতঃপর বাংলাদেশ ।(2) - বন্ধন
- চাণক্য-শ্লোক : কে ছিলেন চাণক্য? - মো. আবুল হোসেন, শিবচর, মাদারিপুর
- একাত্তরের চিঠি সংকলনের টেক্স্ট কন্টেন্ট রিভার্সিং: একটি প্রকল্পের প্রস্তাবনা - তর্পন
- আমার প্রিয় পোস্ট : মলয় রায়চৌধুরী'র কবিতা প্রচণ্ড বৈদ্যুতিক ছুতার - নৃপ অনুপ
- হরিচাঁদ ঠাকুরের দ্বাদশ আজ্ঞা - ইমন জুবায়ের
- “বাংলা ব্লগ দিবস” উদযাপনে সকলকে আমন্ত্রণ - নোটিশবোর্ড
- তপন বাগচীর একখানি ছড়া - তপন বাগচী
- কবিতার কৃত্য - রায়হান রাইন
- মুক্তিযুদ্ধে ঠাকুরগাঁও, পর্ব ২ (একটি কথ্য ইতিহাস) - মাহবুব সুমন
- ২০০৮ : সামহোয়্যারইন ব্লগের বর্ষসেরা কবিতা (ব্লগারদের মনোনয়ন) - ব্রিগেড সিক্সটিন
- ২০০৮ : আপনার চোখে ব্লগের বর্ষসেরা লেখা কোনটি? (আপডেট-১২ : একটি বিশেষ ঘোষণা) - ব্রিগেড সিক্সটিন
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও কমরেড মণি সিংহ - তপন বাগচী
'নবীন লেখকলেখিকাদের জন্য :: কিভাবে বই বের করবেন' :: ফারিহান মাহমুদের টিপস-এর সূত্র ধরে
০৮ ই নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:৩০
ফারিহান মাহমুদ সম্প্রতি 'নবীন লেখকলেখিকাদের জন্য :: কিভাবে বই বের করবেন' -এর ১ম পর্ব প্রকাশ করেছেন। পোস্টটিতে বেশ দরকারি টিপস আছে। কিন্তু এর বিপরীত সত্যও আছে। সেরকম চিন্তা থেকে আমি নতুন লেখেকের বই বের করার অভিজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বিষয়টি ব্যক্তিগত হলেও একে একটি কেসস্টাডি হিসেবে বিবেচনা করা যায়।
...
আমার এযাবত ২৫টির বেশি বই বেরিয়েছে। কিন্তু কোনও টাকা পকেট থেকে খরচ হয়নি। বরং এর মধ্যে ৮টিতে রয়্যালটি পেয়েছি।
প্রথম বই বেরুল ১৯৯৩ সালে। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের ছড়াগুলো নিয়ে একটা সংকলন করতে চেয়েঠিলাম। সারা দেশে প্রায় ১০০ ছড়কারকে চিঠি লিখেছি। এর মধ্যে চট্টগ্রামের এক ছড়াকার উল্টো আমার কাছে একগুচ্ছ প্রতিবাদী ছড়া চেয়ে চিঠি পাঠালেন। আমি ১০টি ছড়া পাঠিয়ে দিই। ওই ছড়াকারের নাম সুখময় চক্রবর্তী। ওকালতি করেন। থাকনে চট্টগ্রাম সদরঘাট কালীবাড়ি রোড। তো পাঠিয়ে দিলাম। উনি সাপ্তাহিক কর্ণফুলীর দেশ পত্রিকায় ছাপালেন। পরে আরো একগুচ্ছ চাইলেন। তা-ও পাঠালাম। এরপর উনি বললেন আপনার আর কিছু ছড়া হলে একটা বই হতে পারে। আমি তো অবাক। মেঘ না চাইতে জল! বিনাদ্বিধায় পাঠিয়ে দিলাম। উনি 'কর্ণফুলীর দেশ প্রকাশন' নামের প্রতিষ্ঠান তেকে আমার ছড়ার বই ছাপবেন বলে পোস্টকার্ড লিখে জানালেন। আমি তো খুশীতে আত্মহারা। একদিন চিঠি পেলাম, উনি ঢাকায় এসে সেগুনবাগিচার চট্টগ্রাম হোটেলে উঠবেন। আমি যেন দেখা করি। ভদ্রলোককে আগে কখনো দেখিনি। তাই দেখা করতে যাই। উনি হোটেলে খাওয়ালেন। তারপর রুমে গিয়ে আমার বইয়ের ফাইনাল প্রুফ দেখালেন। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের 'হলে' নিয়ে এসে সারারাত জেগে প্রুফ ঠিক করে দিই। ১৯৯৩ সালে বইমেলার সময় কুরিয়ারে এল ১০০ কপি 'রুখে দাঁড়াই বর্গী তাড়াই' ছড়াগ্রন্থ। চট্টগ্রামের প্রচ্ছদশিল্পী বিশ্বজিৎ তলাপাত্রকে এখনো দেখিনি। আমি তখন ছাত্র। আননন্দের পাশাপশি আমার আতঙ্ক- এতগুলো বইয়ের দাম দেব কী করে? কিন্তু দেখি বইয়ের প্যাকেটের সঙ্গে একটা চিঠি। তাতে লেখা রয়্যালটি বাবদ যেন ১০০ কপি গ্রহণ করি। আমার সকল আতঙ্ক উবে যায়! আমি বলে প্রকাশককে কৃতজ্ঞতা জানাবো, ভেবে পাই না।
পরের বছর কবিতার পাণ্ডুলিপি নিয়ে যাই বাংলাবাজার। মেলায় পরিচয়সূত্রে যাই জ্যোৎস্না পাবলিশার্সে। প্রকাশক বললেন, কবিতার বই তো চলে না। বাচ্চাদের গল্পের বই হলে ছাপতে পারে। তখন খেলাঘর আসরে পড়ার জন্যে ২টি মাত্র কিশোরগল্প লিখেছি। ওতে তো আর বই হবে না। আরো ৪/৫টা গল্প লাগে! তবু রাজি হয়ে যাই। পরের দিন পাণ্ডুলিপি রেখে আসি। নতুন বইয়ের মুখ দেখার নেশায় একরাতেই লিখে ফেলি আরো ২টি গল্প। পরের দিন বাংলাবাজারে যাই। প্রকাশক বলেন, আরে ভাই ২টা গল্প দিয়ে কি বই হয়! আমি বলি এই তো আরো ২টা আছে। আর কয়েকটা খুঁজে পাচ্ছি না। আপিন কম্পোজে দিন। আমি নিয়ে আসবো। আমি সপ্তাহ খানেকের মধ্যে আরো ৩টি গল্প লিখি। আর এভাবেই হয়ে যাই আমার ২য় বই 'শুভর শখের গোয়েন্দাগিরি'। প্রচ্ছদ এঁকেছেন শামিনুর রহমান (পরে তিনি বাংলা একাডেমীতে যোগ দেন)। বইটির তৃতীয় সংস্করণ এখন বাজারে।
আমি ভাগ্যবান, পয়সা বিনিয়োগ ছাড়াই আমার সকল বই বের হয়েছে। বাংলা একাডেমীই ছেপেছে আমার ৪টি বই। তাই তরুণদের (আমিসহ) ভয় পাওয়ার কিছু নেই। বাজারে কত প্রকাশক! একজন না একজন পাওয়া যাবেই।
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: গতসপ্তাহে বাংলা একাডেমী প্রথম আলোতে বিজ্ঞাপন দিয়ে পাণ্ডুলিপি চেয়েছে। আমি নিশ্চিত মনোনীত হলে তারা টাকা চাবে না। বরং আপনি রয়্যালটি পাবে। আর গতকাল শুক্রবার সমকালের ''কালের খেয়া'য় পাঠসূত্র প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান তরুণদের প্রথম বই ছাপবে বলে বিজ্ঞাপন দিয়েছে। ওখানে পাণ্ডুলিপি পাঠাতে পারেন। গাঁটের টাকা তো যাবেই না। সম্মানী পাবেন ২৫ হাজার টাকা। আজকেই পাঠিয়ে দিন। মনোনীত হলেই...হা হা!!
আরিফ জেবতিক বলেছেন:
খুবই জরুরী একটি পোস্ট ।আমি বুঝে পাই না , নিজের পয়সায় বই ছাপিয়ে বিলি করার দরকার কী ?
তার চাইতে ব্লগে লিখলেই তো ভালো । অনেক পাঠক বন্ধু পাওয়া যায় ।
লেখক বলেছেন: ব্লিগে লিখলেই ভালো। মানছি।
বই ছাপা হয় সর্বোচ্চ ৫০০ কপি। বিলি করলে আত্মীয়স্বজনদের হাতেই বেশি যায়। ৫০০ জনের ২০০ জনও পড়েন কিনা সন্দেহ। কিন্তু ব্লগে একটি ভালো লেখার পাঠক ৫০০-র বেশি।
তারপরেও গাঁটের টাকায় বই বের করার জন্য কেবল তরুণ লেখক নন, প্রবীণ লেখক এবং আমলা-লেখকদের ভিড় বাড়ছেই।
লেখক বলেছেন: আমি কিন্তু ভাগ্যরেখা মানি না।
আমার মতো এই সুযোগ অনেকেরই আছে। তবে কবিতার বই বের করা একটু কঠিন। আমি সেই কাঠিন্যকেও জয় করেছি। আমার ৫টি কবিতার বই বেরিয়েছে, কিন্তু গাঁটের একটি টাকাও খরচ করতে হয়নি।
১৯৯৪ সালে বিশাকা প্রকাশনী নামে একটি প্রতিষ্ঠান ব্এমলায় এল কেবল কবিতার বই প্রকাশনার অঙ্গীকার নিয়। সিকদার আমিনুল হক, মারুফ রায়হান, মিনার মনসুরের কবিতার বই এবং আবদুশ শহীদ সম্পাদিত একটি সংকলন নিয়ে তাঁর স্টল খুলল। প্রায় প্রতিদিন ঘুরতে ঘুরতে একটি পরিচয় হল মালিক শাহজাহান বাচ্চুর সঙ্গে। পরে তাঁর স্ত্রী কানন জাহান এবং মেয়ে বিপাশা জাহানের সঙ্গেও। আমি তাঁদেরকে আমার পূর্বপ্রকাশিত ছড়ার বই উপহার দিই এবং সুকুমার বড়ুয়ার একটি ছড়ার বই বের করার প্রস্তাব দিই। সুকুমার বড়ুয়ার নতুন ছড়ার বই প্রায় দশ-বারো বছর ধরে প্রকাশিত হচ্ছে না দেখে নিজের তাগিদেই এই প্রস্তাব দিই। তিনি দুয়েকদিন পরে বলেন, আপনার রাজনৈতিক ছড়াগুলো আমার ভালো লেগেছে। আপনার এবং সুকুমার বড়ুয়ার দুইজনের বই-ই আগামী বছর করব- কথা দিচ্ছি। আমি বাচ্চুভাইকে বলি, আমার তো কবিবতার বই বের করার ইচ্ছে রয়েছে। তিনি বলেন, সিকদার আমিনুল হকের মতো বড় কবির বই-ই বিক্রি হয়েছে মাত্র ১১০ কপি। তাই তরুণদের কবিতার ব্ই নিয়ে ঝুঁকি বাড়াতে চাই না। আমি বাস্তবতা অুনবাধন করে কবিতার বই প্রকাশে বিরত থাকি। তবে পরের বছরের জন্য তুলে দিই আমার 'চারকাবুড়ি ওড়ায় ঘুড়ি' নামের পাণ্ডুলিপি এবং সুকুমার বড়ুয়ার পাণ্ডুলিপি কিচু না কিছু'। পরের বছর অর্থাৎ ১৯৯৫ সালে বই হয়ে বেরোয়। মেলায় বিশাকার স্টলে আড্ডা দিই প্রায় প্রতিদিন। ২/১ খানা করে বিক্র হয়। আড্ডাচ্ছলে বাচ্চু ভাই বলে ফেলেন, আপনার ছড়ার বই যদি ১০০ কপি বিক্রি হয়, তবে আগামী বছর কবিতার বই বের করব- কথা দিচ্ছি। 'ভাগ্য ভালো' আমার। ১২০কপির মতো বিক্রি হয়। অতএব পরের বছর ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বের হয় আমার প্রথম কবিতার বই 'কেতকীর প্রতি পক্ষপাত'। এই সময়েই বাংলা একাডেমী তরুণ লেখক প্রকল্পে অংশ নিই। ১৯৯৬ সালের জুন মাসে বাংলঅ একাডেমী থেকে প্রকাশিত হয় আমার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ এবং চতুর্থ মৌলিক গ্রন্থ 'শ্মশানেই শুনি শঙ্খধ্বনি'। ২০০৩ সালে বাচ্চভাইয়ের কাছে যাই আমার প্রথম বইয়ের কিছু কপির সন্ধানে। তিনি জানালেন,' আরে ভাই বেইচা ফেলাইছি। গায়ের দামতো ৩০টাকা। ১৫টাকা ২০টাকা যার কাছে যা পাইছি, বেইচা ফেলাইছি। নতুন বই করার প্রস্তাব নিয়া আইলেই বই ধরাইয়া দেই।' আমি তাঁর আঞ্চলিক ও ফুল্ল উচ্চারণে এই সংবাদের পরে বলি, 'তাইলে তো দ্বিতীয় সংস্করণ বাইর করন লাগে। কী কন?'
বাচ্চভাই আরেককাঠি এগিয়ে গিয়ে জবাব দেন, পাঠক তো সীমিত। একবই একজনের কাছে দুইবার বেচুম কেমনে? আপনি নতুন বাই দেন।' আমি মওকা পেয়ে তুলে ধরি নতুন পাণ্ডুলিপি 'অন্তহীন ক্ষতের গভীরে'। পরের বছর বই হয়ে বেরোয় যথারীতি। কিন্তু বাচ্চুভাইকে ধন্যবাদ আমার তিনটে বইয়ের প্রকাশ। কিন্তু একটি টাকাও দিতে হয়নি। তবে ওখানেই দেখেছি অনেক খ্যাতিমান' লেখককেও গাঁটের টাকা দিয়ে বই ছাপিয়ে সকল কবি বাড়িয়ে বয়ে নিয়ে যেতে। সে ভিন্ন প্রসঙ্গ। আমার ভাগ্যের কথা লিখে রাখলাম এখানে।
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
আপনার প্রকাশক ভাগ্য, বা বই প্রকাশ ভাগ্য সত্যিই ভালো বলতে হয় ।
ধন্যবাদ আপনাকে ! বুকে রবীন্দ্র গুরুর সেই 'বল' পাইলাম
লেখক বলেছেন: আমার মতো অনেকেরই ভাগ্য ভালো।
টাকা দিয়ে বের করাকেও আমি খারাপ চোখে দেখি না। রবীন্ত্রনাথও কি টাকা দিয়ে নিজের বই নিজে ছাপেননি? লেখা ভালো হলে, কে ছাপেলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার দরকার নেই।
রামীম গিফরান বলেছেন:
@আরিফ জেবতিকপ্রিয় জেবতিক,
আপনি কতটাকা দিয়ে জাগৃতি প্রকাশনি থেকে
''তাকে ডেকেছিল ধুলিমাখা চাঁদ'' - বইটা বের করেছিলেন , দয়াকরে জানাবেন কি ?
@ তপন বাগচী
বাংলা একাডেমীর ঠিকানা টি কি জানানো যাবে ? প্লিজ
লেখক বলেছেন:
Address of Bangla Academy
Prof. Sayed Muhammad Shahed
Director General
Bangla Academy
Ramna, Dhaka 1000
Bangladesh
আরিফ জেবতিক বলেছেন:
রামীম গিফরান বলেছেন: @আরিফ জেবতিকপ্রিয় জেবতিক,
আপনি কতটাকা দিয়ে জাগৃতি প্রকাশনি থেকে
''তাকে ডেকেছিল ধুলিমাখা চাঁদ'' - বইটা বের করেছিলেন , দয়াকরে জানাবেন কি ?
উত্তর : দশটাকা দিয়ে । ৫টাকা বাস ভাড়া দিয়ে শাহবাগ গিয়ে পান্ডুলিপি জমা দিয়েছি , তারপর ৫টাকা ভাড়া দিয়ে ফেরত এসেছি ।
লেখক বলেছেন: @রামীম গিফরান,
ভাইরে, সকলেই টাকা দিয়ে বই ছাপান না। আর ছাপালেও সেটি দোষের কিছু নয়। যার সামর্থ্য আছে, সে ছাপাবেই। মুক্তবাজার অর্থনীতির যুগে কে কাকে রুখতে পারে বলুন?
অনেক নাম করা প্রকাশকও টাকা নিয়ে বই ছাপেন। টাকা দিই বলেই তো তারা নেয়্ আবার কেউ কেউ আছে যারা টাকা দিয়ে বই ছাপায় না, কিন্তু ছাপার পরে সব কপি কিনে নেয়। নানান খেলা আর কী? এই নিয়ে কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ না করাই ভালো।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ!
নির্বাসিত বলেছেন:
খুবই ভাল একটি পোস্ট। বেশ কিছু জিনিস জানা হোল। বিদেশে বসে কিভাবে দেশে বই ছাপানো যায়, সে ব্যাপারে যদি পারেন তো লিখলে খুবই খুশী হবো।
লেখক বলেছেন: যারা বিদেশে থাকেন, ধরেই নেয়া হয়, তাঁরা অনেক টাকার অধিকারী। তাই তাঁদের কাছে প্রকাশক টাকা চায়। আমাদের কাছে একহাজার (টাকা) যেমন, তাদের কাছে একহাজার (ডলার)ও তেমন। তাই তারা অনেকেই একহাজার খরচ করে বই বের করেন। কোনো বড় প্রকাশকের নাম দেন। তাতে ফিরে গিয়ে বলা যায় অমুক প্রকাশক আমার বই ছেপেছে। এতে নাকি সমাজে কিছটা দাম বাড়ে। এই বিষয়টা প্রকাশকরা বুঝে গেছেন। তাই টাকা চান। লেখা পড়ে খুব কম প্রকাশকই বই ছাপেন। তারা খোঁজে আমলা, ব্যবসায়ী বা প্রবাসী। বই বের হওয়ার আগেই ১০০০ কপি অগ্রীম কিনে নেয় তারা। প্রকাশকের আর ঝুঁকি থাকে না। তাই যারা প্রকৃত লেখক তাদের বই প্রকাশের প্রতি আগ্রহী হয় না প্রকাশকরা।
শিশুসাহিত্য হলে শিশু একাডেমীতে আর গবেষণাধর্মী লেখা হলে বাংলা একাডেমীতে পাঠাতে পারেন পাণ্ডুলিপি। মান ভালো হলে ওরা ছাপে।
শাহাবুিদ্দন শুভ বলেছেন:
আমার ২ সহকর্মী (সাংবাদিক) গত বই মেলাতে বই প্রকাশ করতে চেয়েছিলনে কিন্তু প্রকাশক তাদের কাছে টাকা চাওয়ায় তার আর বই প্রকাশ করতে পারেন নি। তাদের মধ্যে একজনের লেখা প্রাই দেশের শীর্ষ স্থানীয় সংবাদ পত্রগুলোতে প্রকাশিত হয়।
লেখক বলেছেন: প্রকাশক টাকা কেন চায়?
আমি গতমাসে পাবলিক লাইব্রেরিতে হেমন্তের বইমেলা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ছিলেন প্রধান অতিথি। আমি বলেছিলাম যে, লেখকরা যেমন প্রকাশক পান না। প্রকাশকরাও তেমন পাণ্ডুলিপি পান না। এই দ্বন্দ্বের অবসান কোথায়?
প্রথম বই হলে প্রকাশকরা ঝুঁকি নিতে চান না।
আপনার বন্ধুদের বই কী ধরনের?
এবছর ঢাকার বাইরের অনামী চারজন লেখকের বই আমার সহযেগিতায় বের হচ্ছে। রংপুরের খোন্দকার মো. আলী সম্রাট (ভাওয়াইয়া শিল্পী), মেহেরপুরের সাংবাদিক তোজাম্মেল আজম (যুগান্তর), গোপালগঞ্জের সাংবাদিক রবীন্দ্রনাথ অধিকারী (সংবাদ) এবং নেত্রকোণার (পূর্বধলা) সাংবাদিক আলী আহাম্মদ খান আইয়োব (সংবাদ)। পাণ্ডুলিপি ভালো হলে এবং গবেষণাধর্মী বিষয় হলে আমি চেষ্টা করে দেখতে পারি।
নাজমুল হাসান বাবু বলেছেন:
তো আমাদের জন্য কি সহযোগিতা করতে পারেন ভাই। এখনো কোন প্রকাশকের কাছে যাইনি। তবে সহপাঠীরা গিয়ে ধাক্কা খেয়ে এসেছে টাকার হিসাব মিলাতে মিলাতে
লেখক বলেছেন: আপনার কী বই? বিষয় কী? আকার কী? লেখার মান কেমন? আসল নাম কী? নামটা পাঠকের কাছে পরিচিত কিনা? এসব জানাবেন। চেষ্টা করে দেখব আন্তরিকভাবে।
নাজমুল হাসান বাবু বলেছেন:
কবিতার পাণ্ডুলিপি দিয়েই শুরু করতে চাই। কিন্তু উপন্যাসের পাণ্ডুলিপিও রেডি করা আছে।আমার ব্লগ দেখলেই পাবেন আমার আসল নাম। তবে ওখানে খুব বেশি লেখা নেই। সম্প্রতি প্রকাশিত কিছু লেখাই ওখানে আছে।জানাবেন প্লিজ। তাছাড়া আপনার একটি লিখা আমার ডিঙা পত্রিকার জন্য পাঠালে কৃতার্থ হবো। ই-মেইল: , web: http://www.dingga-matlab.blogspot.com
ধন্যবাদ
antaramitu বলেছেন:
.পোস্টটি পড়ে খুব উপকৃত হলাম ভাইয়া ।
কয়েকটি প্রকাশনী ঘুরাঘুরি করলে হয়তো কাউকে না কাউকে রাজী করানো যাবে, কিংবা অর্থের বিনিময়েও বই প্রকাশ করা যেতে পারে, কিন্তু আমার দ্বিধা অন্য জায়গায় ; পাঠক কিভাবে বুঝবে আমি ভালো লিখি? নিজের বই যখন নিজেকে "পুশিং সেল" করতে দেখি নতুন বই যাদের বের হয়, তাদের - তখন মনটা আতংকে ভরে যায়....
প্রকাশনী গুলো, লেখার মান বুঝে যদি বিজ্ঞাপনে ভালোভাবে হাইলাইট করেন, তাহলে নতুন লেখকদের অনেক উপকার হয়, এবং এই কাজটি বই প্রকাশের পরিপূরক বলে মনে হয়....
ভাইয়া, আপনার এই লেখাটি অনেক আগের, তাই বর্তমান সময়ে কোনো প্রকাশনী নতুন কোনো ঘোষণা দিয়ে লেখা চেয়েছে কি না, জানাবেন প্লীজ?
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

















বলে কবিতা চলে না। প্রবন্ধ দিলে বলে , প্রবন্ধ কম মানুষে পড়ে।
গল্প দিলে কয় , নতুন গল্পকার তো , তাই টাকা না দিলে আমরা ইনভেস্ট
করার সাহস করতে পারি না !
আপনি হয়তো ভাগ্যবান একজন , তপন বাগচী !