বিগত দিনের আওয়ামী পন্থী শিক্ষকদের কার্যক্রমের খতিয়ান
ইবি প্রতিনিধি, ২০ জানুয়ারি (আইএনবি ওয়ার্ল্ড ডট নেট) : গত বৃহস্পúতিবার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী ভিসি প্রফেসর ফয়েজ মোঃ সিরাজুল হক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট পদত্যাগ পত্র পেশ করেন। ভিসি পদত্যাগ করার পরে এখন দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই বিদ্যাপিঠের সর্বোচ্চ পদে ভিসি হিসাবে কে বসবেন একথা এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ সবার মুখে মুখে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে আগামী ২/১দিনের মধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি নিয়োগ দেয়া হবে। তবে নতুন ভিসি হিসাবে যাদের তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় আছে তার মধ্যে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ইবি বঙ্গবন্ধু পরিষদের নির্বাচিত সভাপতি লালন গবেষক বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল আহসান চৌধুরী এবং ইবি বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাবেক সভাপতি বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আলাউদ্দিন। এই দুইজনের দলীয় কার্যক্রমের খতিয়ান অনুসন্ধান করে দেখা গেছে অধ্যাপক ড. আলাউদ্দিন ১৯৯৬ সালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হিসাবে যোগদান করেন। এর পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য বিজ্ঞান অনুষদের ডিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ বোর্ডের সদস্যসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি দায়িত্ব পালন করেন। ড. আলাউদ্দিনের সাথে ক্যাম্পাসের জামায়াত বিএনপির ঊর্ধ্বতন নেতাদের সাথে গভীর সখ্য রয়েছে বলে ক্যাম্পাসে বেশ আলোচিত বিধায় তিনি যখন নিয়োগ বোর্ডের সদস্য ছিলেন তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের যত শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয় তার মধ্যে ৩১ জন শিক্ষকই জামায়াত-বিএনপি পন্থী। এর মধ্যে শিবির ক্যাডার ইকবাল, করিম, মওলা, কবীর অন্যতম। তখন তিনি ১১জন কর্মকর্তা নিয়োগ দেন তার ৬জনই জামায়াত বিএনপিপন্থী। তারপর তিনি একক উদ্যোগে কর্মচারী হিসাবে যাদেরকে তিনি নিয়োগ দেন, তাদের মধ্যে ৩০জন বর্তমানে জামায়াত বিএনপির সাথে জড়িত। তিনি বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের সময় তৎকালীন দুর্নীতিবাজ ভিসি প্রফেসর রফিকুল ইসলাম এবং জামায়াতপন্থী প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমানের নিয়োগ দুর্নীতির বিরুদ্ধে কখনো মুখ খুলেননি বলে জানা গেছে। তখন আওয়ামীলীগ পন্থী শিক্ষক অধ্যাপক আবুল আহসান চৌধুরী, অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান, অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলামসহ, সকল প্রগতীশিল শিক্ষকরা এর প্রতিবাদ করলে তখন বিএনপি জামায়াত পন্থীরা ড. চৌধুরী এবং ড. শাহিনুর রহমানকে পত্র মারফত এবং ফোনের মাধ্যমে হত্যার হুমকি দেয় এবং তাদের রুম ভাংচুর করে। ড. আলাউদ্দিন তখন ইবি প্রগতিশীল শিক্ষকদের মধ্যে ২টি গ্র“প তৈরী করে জামায়াত-বিএনপিপন্থীদের ক্যাম্পাসে অবস্থান শক্ত করেন। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে বোমা পুতে হত্যার ষড়যন্ত্রের সাথে লিপ্ত মুফতি হান্নানের বন্ধু জামায়াতপন্থী অধ্যাপক ড. ইয়াহইয়ার রহমানের সাথে ড. আলাউদ্দিনের গভীর সখ্য রয়েছে বলে জানা গেছে। ক্যাম্পাসের অধিকাংশ প্রগতীশিল শিক্ষক ড. আলাউদ্দিনের বিগতদিনের কর্মকাণ্ডে তার উপরে ক্ষুদ্ধ। প্রগতীশীল শিক্ষকরা বলেন, ড. আলাউদ্দিন নিয়োগ বোর্ডের সদস্য থাকাকালীন যত নিয়োগ দিয়েছেন, সকল নিয়োগ জামায়াত বিএনপি নেতাদের সাথে পরামর্শ করে দিয়েছেন। ইবি শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি শেখ শাহানুর আলম কেরামত, সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেনসহ ছাত্রলীগের সকল নেতাকর্মী, ইবি শাখা ছাত্রমৈত্রী, ছাত্র ইউনিয়নসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রগতীশিল শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ছাত্র-ছাত্রীরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী সৎ এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে ইবি বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. আবুল আহসান চৌধুরীর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হবেন বলে তারা মনে করেন। তাঁরা অধ্যাপক ড. আবুল আহসান চৌধুরীকে ভিসি হিসাবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনার নিকট জোর দাবি জানান।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




