নিয়ম মেনে নিয়মিত চর্চায় কী না হয়? তাছাড়া মানুষ তো অভ্যাসেরই দাস। সুতরাং সৃজনশীলতা বাড়াতে হলে আপনাকে এ বিষয়ে নিয়মিত চর্চা করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। এখন কথা হলো সৃজনশীলতা বাড়াতে চর্চা করবেন কীভাবে?
যে কোনো বিষয় সব দিক থেকে ভাবুন। বিশেষ করে বিপরীত দিক থেকে ভাবুন। বিপরীত ভাবনা সৃজনশীলতা চর্চায় বিশেষ ভূমিকা রাখে। যেমন সুইয়ের পেছনে ফুটো থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই সুই দিয়ে কী মেশিনে সেলাই করা যাবে? মেশিনের সুই-এ ফুটো কিন্তু মাথায় থাকে। আজ থেকে প্রায় ২০০ বছর আগে এলিয়াস হাইড এমন বিপরীত ভাবে ভেবেছিলেন জন্যই সুই এখন সেলাই মেশিনেও ব্যবহার করা যায়।
যে কোনো বিষয়কে উল্টে-পাল্টে দেখার জন্য কী, কে, কেন, কখন, কোথায়, কীভাবে ইত্যাদি প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন। দেখবেন ভাবনার নতুন দিগন্ত খুলে যাবে। আর যারা সৃজনশীল তাদের ভাবাটাই হলো আসল কাজ।
যা হবে না তা ভেবে আর কী হবে? এমন ভাববেন না। ভাবতে শুরু করুন ইচ্ছেমত। কারণ মানুষের মনের কোনো সীমারেখা নেই। সবসময় চোখ-কান খোলা রাখুন। ঘটনার বিশ্লেষণ করুন।
অবসরে বই পড়ুন, গান শুনুন, সিনেমা দেখুন। তবে সিনেমা দেখলেই হবে না, ঐ যে বললাম ঘটনার বিশ্লেষণ করতে হবে। পথের পাঁচালীতে দূর্গা মারা না গিয়ে যদি সর্বজয়া মারা যেত তাহলে কী হতো? ভাবতে হবে এভাবে।
সবাই সাধারণ যা ভাবছে আপনি সে ভাবনা থেকে বেড়িয়ে এসে অন্যভাবে ভাবুন। অনেক সময় ভাবতে গিয়ে যুক্তি ভুলে আবেগকে প্রাধান্য দিন। এক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্য সতর্ক হতে হবে।
আড্ডায় চুপচাপ না থেকে মুক্তমনে আলোচনায় অংশ নিন। কৌতুহলী হোন। আপনার জ্ঞানের পরিধি বাড়ান। চিন্তা-ভাবনার মাঝে কৌশলগত পরিবর্তন আনুন।
সব কিছু ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার চোখ তৈরী করুন।
বিখ্যাত সৃজনশীল ব্যাক্তিদের জীবনী পড়ুন।
আপনার বন্ধু গীটার বাজাতে পারে, আপনি পারেন না। এটা কোনো বিষয় না। ভেবে দেখুন আপনি কী পারেন যা আপনার বন্ধুটি পারে না। পার্থক্য হলো আপনার বন্ধুর মধ্যে সৃজনশীল যে গুনটি আছে, তা হয়তো আপনার মধ্যেও আছে। কিন্তু সমস্যা হলো আপনি হয়তো সেটা জানেনই না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


