ঘটনা-১
এই ঘটনা সেই সময়ের যখন টাইটানিক পুনরায় জেমস ক্যামেরনের কল্যাণে সিনেমার পর্দায় ভেসে উঠেছে। মারমার কাটকাট অবস্থা! বন্ধুদের আড্ডায়, ক্লাসের ফাঁকে, অফিস কলিগদের অবসর আলোচনায়, স্মার্ট গৃহিণীদের পরচর্চার প্যাচালে সবখানে, সবকিছুতে টাইটানিক নিয়ে আলোচনা। অবস্থা এমন যে টাইটানিক না দেখলে প্রেস্টিজ টালমাটাল। তো সবদিক বিবেচনা করে এক বৃহস্পতিবার রাতে মহল্লার ভিডিও'র দোকান থেকে টাইটানিক-এর ক্যাসেট নিয়ে এলাম। আমার হাতে টাইটানিক-এর ক্যাসেট দেখে ও তো মহাখুশী। ও খুশী তাই অধম আমিও খুশী। প্ল্যান হলো পিচ্চি ঘুমিয়ে গেলে রাতে দুজন মজা করে পুরো সিনেমাটি দেখব। রাতের খাবার শেষ করে প্ল্যান অনুযায়ী দুজন বসলাম টাইটানিক দেখতে। পিচ্চি পাশেই খাটে ঘুমিয়ে আছে। আমরা তন্ময় হয়ে টাইটানিক দেখছি। ঘটনার ঘনঘটায় আমরা দুজনেই মুগ্ধ। সিনেমা চলছে। আমরা বিমুগ্ধ দর্শক। দেখছি। সিনেমা চলছে। হঠাৎ এলো সেই দৃশ্যটি। নায়ক নায়িকার নুড স্কেচ আঁকছে। আমি পিটপিট করে দেখছি একবার রোজকে একবার গিন্নিকে। গিন্নি মিটমিট করে হাসছে। হঠাৎ আমাদের দুজনের হাসিই থেমে গেল পিচ্চির নতুন শেখা কথা শুনে। ও যে কখন ঘুম থেকে জেগেছে আমরা দুজনের কেউই খেয়াল করি নি। ও ঘুম জড়ানো কন্ঠে অবাক বিস্ময়ে টেলিভিশনের পর্দায় সে দৃশ্য দেখে বলছে, আম্মু দ্যাখো কত্ত বড় দুদু!
ঘটনা-২
ছোট ফুফুর বিয়ে। বাড়ি ভর্তি মানুষ। জমে উঠেছে বিয়ের আনন্দ। হঠাৎ হরিষে বিষাদ! কারেন্ট চলে গেল। তখন গ্রামে জেনারেটরের ব্যবস্থা ছিল না। তবে হ্যাজাক বাতির ব্যবস্থা ছিল। কেরোসিন তেলে জ্বলত। হ্যাজাক বাতি জালানোর জন্যে আমি কেরোসিন তেল নিয়ে এসেছিলাম। কিছু তেল হ্যাজাকে ভরে বাকিটুকু হাতের কাছে কিছু না পেয়ে রান্না ঘরের পাশ থেকে পুরনো এক বদনা এনে তার মধ্যে ঢেলে রেখেছিলাম। সেই তেলে অনেকক্ষন হ্যাজাক জ্বলেছে। এখন আরো তেল দরকার। কিন্তু সেই বদনা কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। এখন উপায়? বরের বাড়ির লোকজনকে অন্ধকারে রাখা যাবে না। আবার ওদিকে তেল ভর্তি বদনাও পাওয়া যাচ্ছে না। হ্যাজাক প্রায় নিভু নিভু। সাথে আমার প্রেস্টিজও! ছোট চাচা তো বলেই ফেললেন, ওরে দিছো কাম করতে। তোমরা আর মানুষ পাইলা না! এদিকে দৌড়ে গিয়ে যে তেল কিনে আনব সে উপায়ও নেই। বাজার দুই মাইল দূর। হঠাৎ দেখি নানা সেই বদনা হাতে নিয়ে আসছে। তার চোখেমুখে তৃপ্তির হাসি। আমার চোখেমুখে আতঙ্ক। আমি দৌড়ে তাকে গিয়ে ধরতেই সে বলল, প্যাটে বড় মোচড় দিছিল। কামডা সাইরা আসলাম। কিন্তু হাত দিয়া এমুন কেরোসিনের গন্ধ লাগতাছে ক্যান? শুনে তো আমি থ। মেজাজটাও বিগড়ে গেল। আমিও ঝাঁঝের সঙ্গে উত্তর দিলাম, আপনার ঐ জায়গায় শুইকা দ্যাখেন ঐ খানেও কেরোসিনের গন্ধ পাইবেন।
ঘটনা-৩
সময় তখন টো টো করে ঘুরে বেড়ানোর। খাই দাই লাফাই ঘুমাই এই আর কি! এসএসসি পরীক্ষা সবেমাত্র শেষ হয়েছে আমায় রুখবে কে? এরকম মনোভাব নিয়ে টো টো কম্পানির ম্যানেজার হয়ে ঘুরছি। একদিন বড় ভাই বলল, দু একটা টিউশনি কর। পড়াশোনার চর্চাটা তাহলে অন্তত থাকবে। আগ বাড়িয়ে টিউশনি তিনিই ম্যানেজ করে দিলেন। ছাত্র টেনেটুনে নাকি এবার ক্লাস টু-এ উঠেছে। আমার দায়িত্ব কৃতিত্বের সাথে তাকে থ্রি-তে তুলে দেয়া। আমি রাজি হয়ে গেলাম। এ আর এমন কী! কিন্তু পড়াতে গিয়ে বুঝলাম, কলিকালের পোলাপান এরা মহা ত্যাদড়। ধমক দিলে গাল ফুলিয়ে থাকে। তখন তাকে চকলেট, আইসক্রীমের লোভ দেখাতে হয়। আদর করলে পড়াশোনা চাঙ্গে ওঠে। খালি হি হি হি হি। আজ পেট ব্যথা, কাল মাথা ব্যথা। মরজ্বালা! একদিন ট্রান্সলেশন করাচ্ছি। দিস ইজ এ ক্যাট, এই হয় একটি বিড়াল। সে সুর মিলিয়ে বলছে, দিস ইজ এ ক্যাট, এই হয় একটি ম্যাও। আমি যতই বলি বিড়াল। সে ততই বলে ম্যাও। তার আগের টিচার নাকি তাকে এটাই শিখিয়েছে। শুনে মেজাজটা টং হয়ে গেল। ঠাস করে ছাত্রের গালে একটা চড় বসিয়ে দিলাম। ঘটনার আকস্মিকতায় বেচারা একটু ট্যাপ খেয়ে গেল বলে মনে হলো। কিন্তু একটু পর যে আমি নিজেই ট্যাপ খেয়ে যাব বুঝতে পারি নি। সে হঠাৎ আমাকে কোনো সুযোগ না দিয়েই এক লাফে টেবিলেই উপর উঠে আমার চুল ধরে রাগে ফুসে উঠল, শালার মাস্টর তরে আইজক্যা...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


