হৃদি আজ তার বারান্দায় চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে। এক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে তেরচা ভাবে যে রোদটা এসে তার পা ছুঁয়ে আছে। এই রোদেই লালিত হয় তার শখ, কিছু দুর্লভ অর্কিড। আগে দেশে ছিলোই না প্রায়। যখনই কোথাও গিয়েছে, যত্ন করে হাতে করে নিয়ে আসার চেষ্টা করেছে যতোটা সে নিতে পারে। এর জন্য অনেক বাঁকা কথা এবং চাহনি তাকে সহ্য করতে হয়েছে। একটা সময় ছিলো যখন এসব নিয়ে খুব কাঁদত। আজকাল আর কান্না টান্না আসে না, মনে হয় যেনো সস্তা সেন্টিমেন্ট। আলম তাই বলতো, "রাখো তোমার সস্তা সেন্টিমেন্ট!"
হাহ, জীবন!
যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলও হৃদি, ঠিক সেখানেই এখনো অনড় দাঁড়িয়ে। পাতাগুলোয় আদর করে ছুঁয়ে দিতে আজ ইচ্ছা করছে না। বরং তার ইচ্ছা করছে রোদটাকে ছুঁয়ে দিতে, কিন্তু আবার ছুঁয়ে দিতে ভয় পাচ্ছে। হয়তো তার ছোঁয়া লাগলেই রোদটা পালিয়ে যাবে। এই এক চিলতে রোদটাকে সে হারাতে চায় না কিছুতেই। তার জীবনে সুখের অনুভূতি বারান্দার এই এক ফালি রোদের মতোই, দেখতে না দেখতেই হারিয়ে যায়।
মা'র শরীরটা আজ কয়দিন ধরে একেবারেই ভাল না। সে মাকে দেখতে যাবে তা বলতেও ইচ্ছা করেনি। তার খুব মায়ের কাছে যেতে ইচ্ছা করছে আজ। কিন্তু এভাবে আগে থেকে না বলে চলে যাওয়া আলম একেবারেই পছন্দ করবে না। আর তার জানা আছে এর ফল কী হবে! তার কোনোদিন এখনো সে সাহস হয়নি আলমের আদেশ উপেক্ষা করার। আলমের স্পষ্ট কথা, "আমাকে না বলে এক কদমও দেবে না, এক কদম মানে এক কদম, পরিষ্কার?" হৃদি শুধু মাথা নেড়েছিল বিয়ের তৃতীয় দিনেই। অথচ মানুষটিকে সে পছন্দ করেছিল তার এই স্পষ্ট কথার জন্যই।
সময় এবং পরিবেশ মানুষকে অনেকখানি বদলে দেয়। হৃদি বরাবরই ছিল স্বাধীনচেতা, আর এখন তাকিয়ে থাকে আরেকজনের মুখের অভিব্যাক্তির দিকে।
কি ভেবে যেন আজ, আজ প্রথমবারের মত দ্রুত ঘরে ঢুকে ব্যাগ হাতে নিয়ে বেড়িয়ে পড়ল। শুধু মনে হচ্ছিল, আজ কখন পৌঁছে মায়ের বুকে অনেকক্ষণ কাঁদবে হাউমাউ করে প্রথমবারের মত। মা যতই অসুস্থ থাকুক না কেন, আজ সে একদিনের জন্য খুব স্বার্থপর হয়ে যাবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মে, ২০০৯ রাত ৯:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



