একদিন রাতে খাবার টেবিলে মা বললেন, কাল বাবা আমাদের একটা স্কুলে নিয়ে যাবেন দেখাতে। স্কুল দেখে আসব এবং ভর্তি পরীক্ষার সব কিছু জেনে আসব। আমার জন্য নতুন দেশ এই বাংলাদেশ, আশেপাশের মানুষ, পরিবেশ সব নতুন, ৭ বছর বয়সের একটা বালিকার কাছে সবই তখন কেমন বিষাদমাখা মনে হত। সেই ছোটবেলা থেকেই আমি একটু দুঃখবিলাসী টাইপের ছিলাম। যখন শুনলাম ৩য় শ্রেণীতে আমি পড়ব, তখন আমি যেন গভীর সমুদ্রে পড়লাম।
পরের দিন সকালে বাবার সাথে যাচ্ছিলাম, হঠাৎ করেই যেন স্কুলটি আমাদের সামনে উদয় হয়। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে শ্বেত শুভ্র বিশাল একটা কিছু, মনে হল এক লহমায়, বরফের টুকরা কি ! এক কথায় আমরা মুগ্ধ। মনে হল যেভাবেই হোক এই স্কুলেই আমাকে পড়তে হবে।
রাতে বাসায় জানিয়ে দিলাম, এই স্কুলে পড়তে না পারলে আমি আমার আগের স্কুলেই ফিরব।
এখনে সব গুলি ক্লাসরুমই আমার...
-----------------------------------------------------
একদিন ছুটি হবে, অনেক দূরে যাব
নীল আকাশে সবুজ ঘাসে খুশিতে হারাব !
হারিয়েই গেল .....
---------------------------------------------------------
এখানেই হত সাপ্তাহিক সাংস্কৃতিক অনুষ্টান।
--------------------------------------------------------------
ডেস্ক , কিছু মনে পড়ে গেল কি ?
কম বেশি সবাই মনে হয় এমন শিল্পকর্মের সাথে জড়িত।
-------------------------------------------------------------------------
জানুয়ারীর শেষের দিকে শুরু হল পাবলিক স্কুলে আমার স্কুল জীবন। স্কুলের সামনে বাগান ছিল দেখার মত, এখনো হয়তো হয় কিন্তু সেদিন তেমন বাগান দেখতে পাইনি, হয়ত ফুলের মৌসুম নেই বলেই।
আমাদের ড্রইং স্যার (বেঁচে নেই) আমাদের বাগানে নিয়ে যেতেন ছবি আঁকার জন্য। আমরা ঘাসের উপর বসে ছবি আঁকার ফাঁকেই দেখতাম প্রকৃতির রূপ। আহা কি সব দিন ছিল!
আমাদের সময়ে সিনিয়র এবং জুনিয়রদের মাঝে ছিল চমৎকার সম্পর্ক। সিনিয়র কোন ভাইয়া/আপু সামনে হেঁটে গেলে আমরা দাঁড়িয়ে যেতাম আর হত হালকা হাসি বিনিময়। আপু আর ভাইয়ারা আদর করতেন অনেক। সব চেয়ে মজা ছিল স্পোর্টস এর সময়। হাইজ ক্যাপ্টেনের কাছে থাকত সবসময় চকলেট। আমি জ্যাবলিন থ্রো, হাই জাম্প, লং জাম্পে ছিলাম ভাল, তাই আমার জন্য চকলেট থাকত।
এখানে দেখা যাচ্ছে পানির বোতল হাতে আমার খুব কাছের বন্ধু,যার সাথে আমি ৩য় শ্রেনী থেকে পড়া শুরু করেছিলাম, দুই যুগ ধরে আমরা বন্ধু ।
------------------------------------------------------------------
প্রিয় স্যার ম্যামরা ... অনেক শ্রদ্ধা এবং ভালবাসা।
--------------------------------------------------------------------
স্কুলের সামনে গর্বিত আমি !
-------------------------------------------------------
স্কুলের যত আইসক্রীম, চানাচুর, ঝালমুড়ি, বাদামের ফেরীওয়ালা আসত, সব হত শেলীর। যাকেই দেখতে পেতাম দূর থেকে আমরা চিৎকার দিতাম, শেলি তোর......
একটা ইগলু ললি নিয়ে সবার খাওয়া, একটা সিংগারাও শেয়ার করা, তেমন করে একটা কোল্ড ড্রিঙ্কস কয়েকজনে খাওয়া ... এমন স্মৃতি মনে হয়, সবারই আছে।
টিফিন টাইমে আমাদের পছন্দের একটা জায়গায় বসে সুন্দর করে সবার ন্যাপকিন আর বক্স সাজাতাম, এরপর খেতাম। কার, কি এটা কোন ব্যাপার ছিল না। আর ছিল অনেক কাঠবাদাম গাছ, সবুজ সবুজ কাঁচা বাদামই আমরা খেয়ে ফেলতাম আর না পারলেও চেস্টার কমতি থাকত না।
স্কুলে অনুপস্থিত থাকা ছিল কল্পনার বাইরে, কিভাবে থাকব বন্ধুদের না দেখে ! বেশির ভাগ ছাত্রছাত্রী ছিল আর্মি অফিসারের ছেলেমেয়ে তাই হারিয়ে গিয়েছে অনেকে তাদের বাবার পোস্টিং এর কারণে । এক আমি এবং আমার মত অল্প কিছু ছিল যারা থেকেই যেত। এমনও হয়েছে চলে গিয়ে কয়েকবছর পর ফিরে এসেছে, অন্যরকম ভাল লাগত তখন।
-------------------------------------------------------------------
আমাদের বিনোদনে স্কুলের বর্তমান ছাত্রছাত্রী এবং সোলস !
----------------------------------------------------------------------
১৯ শে জুন ছিল আমাদের স্কুলের পূণর্মিলনী, বসেছিল প্রাণের মেলা। কয়েকজন সেই দেশের বাইরে থেকেও চলে এসেছে, ভাবা যায় ! কত জনের সাথে দেখা আবার কত জন আসতে পারেনি। আমার এক বন্ধু শাকিলা আসতে পারেনি শেষ মুহূর্তে, কাঁদছিল। কি অবস্থা একেকজনের, কত বদলে গেছে সবাই। কিন্তু কথা বলতে গিয়ে দেখা গেল সবাই আছে তেমন। একজনের তো মাথার চুল হাওয়া
কে কেমন আছে, কি করছে, কার কি কি নতুন খবর আছে, এসব তথ্য বিনিময় আর আনন্দ গল্পে কেটে গেল দিনটা। এল বিদায়ের পালা...
ফিরে এলাম ঘরে একা, কিছু স্মৃতি সাথে নিয়ে।
---------------------------------------------------------------
আমার এ স্কুলে কেটেছে ১০টি বছর, তৃ্তীয় থেকে দ্বাদশ শ্রেনী।
ছবিগুলি সাথে আছে কিছু স্মৃতি, তাও উল্লেখ করে দিলাম।
এ আমার একান্ত অনুভূতি, ইচ্ছে করছিল শেয়ার করতে...
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


