আমার কাছে আজ একটা চিঠি এসেছে, অনেকদিন পর একটা চিঠি পেলাম। আজকাল কেউ লেখার ঝামেলায় যেতে চায় না, আমি নিজেই আমার ছোট্ট নোটবুকে লিখছি, লিখছিও না, টাইপ করছি।
চিঠির খাম হাতে নিয়েই বুঝে ফেললাম, এটা আমার কাছে লেখা নয়, ভুলেও আসেনি কারণ এই এলাকায় লেখাপড়া জানা মানুষের বাস তেমন নেই…
যা ভেবেছিলাম ঠিক তাই, রহস্যময় চিঠি, এলোমেলো চিঠি।
শুরু করলাম পড়তে………..
খাচ্ছি, কাজ করছি, ঘুমাচ্ছি, নিয়মিত আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে পর্যবেক্ষণ করছি, ভাবছি, স্বপ্ন দেখছি, ইর্ষান্বিত হচ্ছি, ভাল লাগায় আক্রান্ত হচ্ছি, স্বপ্ন স্বপ্ন, দুঃখ দুঃখ আর সুখ সুখ খেলছি, তর্কে জড়িয়ে যাচ্ছি, ভালবাসার ভাণ করছি, এমন কত কিছুই না করছি।
মাঝে মাঝে দুঃখবোধ হয়তো চাড়া দেয়, অল্প কিছুক্ষণ বিষন্ন থাকার পর কেটেও যায়, খুব বেশি হলে একটু কান্না। ব্যাস! আবারো সেই ফুরফুরে মুড, হাসিমুখে বের হয়ে যাওয়া।
এই জীবন যাপনেই অভ্যস্ত আমি। মাঝে মাঝে কিছু একটা হয়, কি যেন অনুভব করি, কি যেন দেখি, মনে হয় এ সবই আমার দেখা, জানা, পুরোনো সবকিছু।
"এই জীবনটা কি আমি আগেই যাপন করে এসেছি?" এই প্রশ্নটাই আমাকে বারবার আঘাত করে, আমি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ি, এমন কেন হচ্ছে আমার?
আগে বুঝতে পারিনি তাই বিভ্রান্ত হতাম খুব সহজে। এখন জানি, তাই অপেক্ষা করি কৌতুহল নিয়ে রাত গভীর হবার জন্য।
যেমন - সবাই সুন্দরবন যাবে হরিণ শিকারে, আমিও যাওয়ার জন্য রেডী, কত আয়োজন করেছি, নিজেকে নিয়ে নিজেরই জন্য। ঘুমাতে গেলাম আগ্রহ নিয়ে। রাত একটু গভীর হতেই নেমে এল আমার কাছে সেই পরীটা, যে আবার দেখতে অবিকল আমার মত।
সেই তো আমাকে চালিত করছে, যেন আরেকটা আমি। বিভ্রান্ত হবে না, সে আসলে পরী না, আমি তার নাম দিয়েছি পরী। অনেক প্রশ্ন করি তাকে, উত্তর পাই না। তবে ধারণা করি, আমার আগের জন্মের আমিটা চলে এসেছে আমার কাছে, বেচারী মায়া ছাড়তে পারেনি। কথাটা তাকে বলতেই ফিক করে ফ্যাকাসে হাসি দিয়ে বলেছিল, "তোমার অনেক বুদ্ধি, তুমি পারবে"। আমি তাকে হাসতে খুব কম দেখেছি। আচ্ছা আমিও যদি আবার জন্মাই তাহলে কি আমরা দুজনে মিলে যাব আবারো জন্ম নেওয়া সেই মেয়েটার কাছে, যে আমাদের আত্মারই একটা অংশ, নাকি আমি আর সে মিলে একাকার হয়ে যাব!
যা বলছিলাম, সে এসে বসল আমার পাশে, মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে থাকল এবং গল্পের ছলে বোঝাতে লাগল, কাল আমার কেমন থাকা দরকার, কতটা সাবধানে থাকব এবং কি কি ঘটবে পারে তারও একটা পূর্বাভাস পেলাম। দুর্ঘটনায় মৃত্যু আমাদের কারোরই কাম্য না। তার ভাষ্যমতে আমরা নাকি দুর্ঘটনার বৃত্তে বন্দী ! অনেকবার জন্ম নিয়েও ন্যুনতম জীবন সে পায়নি, চলে যেতে হয়েছে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে। আমার সে পরী স্বত্তাটা আমার কাছে খুব বেশি প্রত্যাশা নিয়ে এসেছে, আমি যেন সেই বৃত্ত থেকে বের হয়ে আমাকে এবং তাকে বাঁচিয়ে দিই।
শুনতে বেশ মজা লাগছে কি আপনার? ফ্যান্টাসি ফ্যান্টাসি ভাব, আমি কিন্তু আর পারছিনা। এই কারণেই আমি সাহায্য চাচ্ছি কারণ আমি জেনে যাচ্ছি কাল কি হবে, কিভাবে হবে! এমনকি বন্ধুরা কি কথাটা বলে হাসতে গড়িয়ে পড়বে, তাই এ জীবনের আর কোন অর্থ নেই এখন আমার কাছে।
আপনি আমাকে সাহায্য করুন, বের করুন এই জীবন থেকে, আমি অপেক্ষা করব আপনার পরামর্শের জন্য। তবুও যদি এর মাঝ থেকে বের হতে না পারি তবে আমাকেই বেঁচে নিতে হবে একটি পথ, আজ না হোক কাল যখন ঘটনাটা ঘটবেই অপেক্ষা করার কোন মানেই হয় না। তবে হ্যাঁ, খুব সাবধানে সারতে হবে কাজটা, যেন পরীটা জানতে না পারে।
কিভাবে, তাও আমি জানি, কারণ আমার অনেক বুদ্ধি। আপনি আমার জন্য প্রার্থনা করবেন।
“হ”
চিঠিটা পড়ার পর আমি কিছুই করতে পারিনি, এই রহস্যময় চিঠিতে কোন ঠিকানা ছিল না, ছিল না কোন ডাকঘরের চিহ্ন।
বোকার মত আমি বলি তার উদ্দেশ্যে, ক্ষমা কর হে, "হ"।
ছবি কৃতজ্ঞতা - বেণি তারা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



