হাতে চাবি, আকারে বেশ বড় একটা পুরোনো আমলের চাবি। মাঝে মাঝে এটা নিয়ে খেলি। কখনো হাতে নিয়ে, কখনো আঁচলে বাঁধা অবস্থায়।
চাবিটার দিকে মনোযোগ দিলেই আমি আনমনা হয়ে পড়ি, পায়চারী করি আর চাবিটা উল্টে পালটে দেখতে থাকি………
চাবিটা দিয়ে একবার দরজা খুলতে পারলেই ওপারে আছে উজ্জ্বল আলো।
যেন অনেক ঘন জঙ্গলের ভিতরে অনেক গাছের ফাঁকে অনেক কষ্টে আলো ভেদ করে তেরছা ভাবে এসে পড়ছে আমার মুখে।
এক অলীক উজ্জ্বল আলো, সোনালী আলো।
মাঝে মাঝে একেকটা দিন শুরু হয় অন্যভাবে, একটা গভীর শান্ত দিন। তাকে আমি আমার মনের জানালায় দেখি বলেই সে এসে ধরা দেয় সে অন্যভাবে।
তাকে আমার অন্যভাবে দেখতে ভাল লাগে, তাকে আমি ভোর ভোর আলোয় হিমের মাঝে লুকিয়ে রাখি।
মেঘের উড়াউড়ি আর টিপ টুপ জলের শব্দে, শীতে রোদ-ছায়ার খেলায়, শন শন হাওয়ায় নিস্তব্ধ মাঠের সবটুকু নিয়ে বুকের ঢিপঢিপ টুকুর সাথে সংগ্রহে রাখি।
জমতে থাকে অনেক কিছু সন্তর্পণে।
বাকী সব মিথ্যে, দূরে রাখি, দূরে থাকি সব থেকে।
এক একটা দিন এমন, সে টুপ করে আমার পাশে বসে পড়ে আর শোনাতে থাকে সেই পুরোনো গল্প, গল্পগুলি সদ্য বের করে আনে যেন ঠাকুরমার ঝুলি থেকে।
শুনতে শুনতে বেলা কেটে যায়, দিনের আলো কেমন করে যেন পর হয়ে যায়, সন্ধ্যা এসে জড়িয়ে ধরে, আঁধার এসে আবৃত করতে চায়।
ঝুপ করে সন্ধ্যা নেমে এলেই সমস্ত অশ্রু আজকাল পরিণত হয় জমাট ধবল তুষারে।
জমাট তুষারগুলো গলে গলে ক্লান্ত ঘুম হয়ে আশ্রয় নেয় চোখের উপর। ঘুম কি আধো ঘুমেই আমি আমার চাবিটাকে নিয়ে খেলতে থাকি।
অজান্তেই কপাল কুচকিয়ে সরিয়ে নিই মুখ, চোখের উপর তেরচা ভাবে পড়া আমার কাল্পনিক উজ্জ্বল আলো থেকে।
ছায়া… আহ! ছায়া…
ছায়া ঘিরে আছে আমাকে, ধুম্রজাল হয়ে ঘুরপাক খাচ্ছে।
আর ওদিকে একটা তালাবিহীন দরজা, তার ওপাশে সেই উজ্জ্বল আলো!
ইস! এই তালাবিহীন দরজাটায় যদি একটু ঘুণে কাটত আর তাতেও যদি একটা ফুটো হত!
অপেক্ষা.......................... !!!
একি!
এ কার পদধ্বিনি
এই বার্ধক্যে শুনি!
আহ! হিমশীতল হাত আর তার পরশখানি…

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

