আস্তে আস্তে অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে আশাপাশ, নিভে যাচ্ছে আলো। একে একে সবাই ঘুমাতে যাচ্ছে। গভীর হচ্ছে রাত, রাত যত গভীর হয় সময়টা ততই আপন হয়। খুঁজে পাওয়া যায় নিজেকে, মনে হয় এই তো আমি। শুরু হচ্ছে তার সময়, নিজের ভাবনার সময়। নিশ্চুপ নিরবতা নেমে এলো একসময়।
কাগজ কলম নিয়ে বসল তৃ, কিছু লিখবে। তপ্ত হাওয়া বইছে, ভীষণ ভাবে মিস করছে বৃষ্টিকে। বৈশাখ গুটিগুটি পায়ে চলেই এলো, ধুমধাম করে পালন করে ফেলল সবাই। মিষ্টি এসে ভরে গিয়েছিল ঘর সাথে কার্ড। এটা সুন্দর রেওয়াজ, মিষ্টি বিনিময়, হাতে লেখা কার্ড বিনিময়। মনে আছে তৃ একবার এক বৈশাখে, বৈশাখী কার্ড দিবে ভেবে আঁকতে বসেছিলো। ভাবনায় ছিল ৭ টা কার্ডে সে আঁকবে। ৭ সংখ্যাটি মাথায় এসেছিল ৭টি অমরাবতীকে সামনে রেখে। আঁকতে বসে কি এক নেশায় পেয়ে গিয়েছিল, সারা রাত আঁকাআঁকিতে দেখা গেলো একেবারে ভোর, কার্ড হয়েছিল ১৮টা।
তৃর খুব পুরোনো জিনিষ জমানোর শখ। বিশেষ করে চিঠি, চিরকুট, বই, ছবি, শুভেচ্ছা কার্ড। তেমন করে একটা কার্ড কিভাবে যেন রয়ে গিয়েছে আজো।
আজো জমা আছে কিছু শুকনো ফুল সাথে বাদামী বিবর্ণ পাতা।
একটা প্লাস্টিকের বক্স আর কিছু ফুল, পাতা।
কত জমানো কথা, কত স্মৃতি...
দূর ছাই! বসেছিল বৃষ্টির কাছে প্রেমপত্র লিখতে আর শুরু হল সিন্দুকে উঁকিঝুকি, কোন মানে হয়। সে হাত উল্টিয়ে সব ভাবনাগুলি উড়িয়ে দেবার ভঙ্গি করল, যেন ভাবনাগুলি সত্যিই উড়ে যাবে।
তৃ জানে তার একটা মন আছে আর সেই মন পড়তে পারত শুভ। তখন শুভ এমন উল্টা পালটা চিঠি লিখে তার আশেপাশে রেখে দিত। তৃ ঠিক পেয়ে যেত চিঠিগুলি। তৃ এমন ভাব করত যেন সে কিছুই জানে না, শুভও ঠিক তেমন।
শুভ এখন তৃ্র কাছে থেকে অনেক দূরে আর এখন লিখে চলে তৃ, লিখেই চলে। তবে আজকাল তৃ শুভকে ছাড়াও অনেকের কাছে লিখে, যেমন, বৃষ্টি, কুয়াশায় অন্ধকারচ্ছন্ন মাঠ, পাশের আমগাছটায় যে কাঠবিড়ালি দুটি থাকে তাদেরকেও।
বারান্দায় রকিং চেয়ারটাতে দোল খেতে খেতে চা খায় আর ভাবে, ভাবে শুভর কথা। একেকদিন আনমনে দোল খেতে খেতে চা ছলকে শাড়িতে পড়ে যায়...
হ্যাঁ, আজো তৃ শুভকে ভেবে শাড়ি পরে খুব গুছিয়ে, শুভর পছন্দ। জানে তৃ, শুভ ঠিক দেখছে তাকে মেঘের ফাঁক ফোকরে, বৈশাখের তপ্ত হাওয়ার সাথে ভেসে আসে সে... নিশ্চয়ই আসে।
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে টেনে নিল কাগজ...
মেঘের জলে মেশা নীল বরফখন্ড
আমার কোচরে সীমাহীন জলের সমারোহ
বুকের মাঝে উথাল পাথাল বৃষ্টি
রাতগুলি আমি জেগেই থাকি
জানো, ইচ্ছে করে পেরেক টুকি ভাবনাগুলিতে
কষ্ট কষ্ট সুখের কথা আজ বলবে?
থেমে গেল কলম, আহ!
অন্ধকারচ্ছন্ন হয়ে এলো সব,
কোকিলের সুমধুর ধ্বনির মত ঢুকছে শীতল বাতাস, বের করে দিচ্ছে গরমের বাষ্প।
যে কোন মুহূর্তেই শুরু হবে বৃষ্টি, বিনা নোটিসে।
ঝমঝম বৃষ্টিতে হারিয়ে যায় শূণ্যতা, নষ্ট হয় একাগ্রতা। কখনো কখনো বৃষ্টি খুব স্বার্থপর, সে চায় তাকে নিয়েই ভাবুক সবাই। যেমন করে রবীন্দ্রনাথ ভাবতেন।
মনে হয় যেন আমিই ঝরছি, ঝিরঝির। আমার এই ঝরে পড়া দেখে হেসে উঠে সবুজ পাতা, সব ছাপিয়ে আমি শুনতে পাই তার খিলখিল মিষ্টি ধ্বনি। শুভ তুমি কি শুনতে পাচ্ছো?
মেঘের মাঝে লুকিয়ে যতই থাকো আমি ঠিক তোমাকে দেখতে পাই। পড়তে পারি তোমায়...
ভিজছে আমার চোখ, ভিজছে তার হাতের কদম...
কদম !!!
বিহবল তৃ, কাঁদছে অনুরাগে।
চোখে এখন সুনামি।
সে প্লেয়ারটার কাছে গেল, গেয়ে উঠলো প্রিয় লোপামুদ্রা মিত্র।
হঠাৎ খুব মেঘ করেছে বৃষ্টি নামবে চারধার
এমন দিনে শুধু বলা যায় তোমাকে বড্ড দরকার
বাইরে খুব মেঘ করেছে
কদম ফোটা শেষ হয়েছে, বাতাসে শিউলীর গন্ধ
অথচ দেখো, এমন দিনে তোমার দরজা বন্ধ
বাইরে খুব মেঘ করেছ......
সন্ধ্যে নামছে একটু পরে, সূর্যটা খুন হবে
বুকের ভিতর হাজার নদী, বাইরে বৃষ্টি পড়ে
চৌ’দিক থেকে বান ছুটে এসে ভাংছে আমার ঘর দুয়ার
বলতে বাঁধছে তবুও বলে যাই তোমাকে বড্ড দরকার
বাইরে খুব মেঘ করেছে বৃষ্টি নামবে চারধার
এমন দিনে শুধু বলা যায় তোমাকে বড্ড দরকার।
বাইরে খুব মেঘ করেছে...
হঠাৎ খুব মেঘ করেছে...
http://www.mediafire.com/?e0yzj2fjtnl

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

