somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তৃ

০৯ ই মে, ২০১০ রাত ১২:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আস্তে আস্তে অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে আশাপাশ, নিভে যাচ্ছে আলো। একে একে সবাই ঘুমাতে যাচ্ছে। গভীর হচ্ছে রাত, রাত যত গভীর হয় সময়টা ততই আপন হয়। খুঁজে পাওয়া যায় নিজেকে, মনে হয় এই তো আমি। শুরু হচ্ছে তার সময়, নিজের ভাবনার সময়। নিশ্চুপ নিরবতা নেমে এলো একসময়।

কাগজ কলম নিয়ে বসল তৃ, কিছু লিখবে। তপ্ত হাওয়া বইছে, ভীষণ ভাবে মিস করছে বৃষ্টিকে। বৈশাখ গুটিগুটি পায়ে চলেই এলো, ধুমধাম করে পালন করে ফেলল সবাই। মিষ্টি এসে ভরে গিয়েছিল ঘর সাথে কার্ড। এটা সুন্দর রেওয়াজ, মিষ্টি বিনিময়, হাতে লেখা কার্ড বিনিময়। মনে আছে তৃ একবার এক বৈশাখে, বৈশাখী কার্ড দিবে ভেবে আঁকতে বসেছিলো। ভাবনায় ছিল ৭ টা কার্ডে সে আঁকবে। ৭ সংখ্যাটি মাথায় এসেছিল ৭টি অমরাবতীকে সামনে রেখে। আঁকতে বসে কি এক নেশায় পেয়ে গিয়েছিল, সারা রাত আঁকাআঁকিতে দেখা গেলো একেবারে ভোর, কার্ড হয়েছিল ১৮টা।

তৃর খুব পুরোনো জিনিষ জমানোর শখ। বিশেষ করে চিঠি, চিরকুট, বই, ছবি, শুভেচ্ছা কার্ড। তেমন করে একটা কার্ড কিভাবে যেন রয়ে গিয়েছে আজো।
আজো জমা আছে কিছু শুকনো ফুল সাথে বাদামী বিবর্ণ পাতা।
একটা প্লাস্টিকের বক্স আর কিছু ফুল, পাতা।

কত জমানো কথা, কত স্মৃতি...
দূর ছাই! বসেছিল বৃষ্টির কাছে প্রেমপত্র লিখতে আর শুরু হল সিন্দুকে উঁকিঝুকি, কোন মানে হয়। সে হাত উল্টিয়ে সব ভাবনাগুলি উড়িয়ে দেবার ভঙ্গি করল, যেন ভাবনাগুলি সত্যিই উড়ে যাবে।
তৃ জানে তার একটা মন আছে আর সেই মন পড়তে পারত শুভ। তখন শুভ এমন উল্টা পালটা চিঠি লিখে তার আশেপাশে রেখে দিত। তৃ ঠিক পেয়ে যেত চিঠিগুলি। তৃ এমন ভাব করত যেন সে কিছুই জানে না, শুভও ঠিক তেমন।

শুভ এখন তৃ্র কাছে থেকে অনেক দূরে আর এখন লিখে চলে তৃ, লিখেই চলে। তবে আজকাল তৃ শুভকে ছাড়াও অনেকের কাছে লিখে, যেমন, বৃষ্টি, কুয়াশায় অন্ধকারচ্ছন্ন মাঠ, পাশের আমগাছটায় যে কাঠবিড়ালি দুটি থাকে তাদেরকেও।

বারান্দায় রকিং চেয়ারটাতে দোল খেতে খেতে চা খায় আর ভাবে, ভাবে শুভর কথা। একেকদিন আনমনে দোল খেতে খেতে চা ছলকে শাড়িতে পড়ে যায়...
হ্যাঁ, আজো তৃ শুভকে ভেবে শাড়ি পরে খুব গুছিয়ে, শুভর পছন্দ। জানে তৃ, শুভ ঠিক দেখছে তাকে মেঘের ফাঁক ফোকরে, বৈশাখের তপ্ত হাওয়ার সাথে ভেসে আসে সে... নিশ্চয়ই আসে।
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে টেনে নিল কাগজ...

মেঘের জলে মেশা নীল বরফখন্ড
আমার কোচরে সীমাহীন জলের সমারোহ
বুকের মাঝে উথাল পাথাল বৃষ্টি
রাতগুলি আমি জেগেই থাকি
জানো, ইচ্ছে করে পেরেক টুকি ভাবনাগুলিতে
কষ্ট কষ্ট সুখের কথা আজ বলবে?


থেমে গেল কলম, আহ!
অন্ধকারচ্ছন্ন হয়ে এলো সব,
কোকিলের সুমধুর ধ্বনির মত ঢুকছে শীতল বাতাস, বের করে দিচ্ছে গরমের বাষ্প।
যে কোন মুহূর্তেই শুরু হবে বৃষ্টি, বিনা নোটিসে।
ঝমঝম বৃষ্টিতে হারিয়ে যায় শূণ্যতা, নষ্ট হয় একাগ্রতা। কখনো কখনো বৃষ্টি খুব স্বার্থপর, সে চায় তাকে নিয়েই ভাবুক সবাই। যেমন করে রবীন্দ্রনাথ ভাবতেন।




মনে হয় যেন আমিই ঝরছি, ঝিরঝির। আমার এই ঝরে পড়া দেখে হেসে উঠে সবুজ পাতা, সব ছাপিয়ে আমি শুনতে পাই তার খিলখিল মিষ্টি ধ্বনি। শুভ তুমি কি শুনতে পাচ্ছো?
মেঘের মাঝে লুকিয়ে যতই থাকো আমি ঠিক তোমাকে দেখতে পাই। পড়তে পারি তোমায়...
ভিজছে আমার চোখ, ভিজছে তার হাতের কদম...
কদম !!!
বিহবল তৃ, কাঁদছে অনুরাগে।
চোখে এখন সুনামি।
সে প্লেয়ারটার কাছে গেল, গেয়ে উঠলো প্রিয় লোপামুদ্রা মিত্র।

হঠাৎ খুব মেঘ করেছে বৃষ্টি নামবে চারধার
এমন দিনে শুধু বলা যায় তোমাকে বড্ড দরকার
বাইরে খুব মেঘ করেছে
কদম ফোটা শেষ হয়েছে, বাতাসে শিউলীর গন্ধ
অথচ দেখো, এমন দিনে তোমার দরজা বন্ধ
বাইরে খুব মেঘ করেছ......
সন্ধ্যে নামছে একটু পরে, সূর্যটা খুন হবে
বুকের ভিতর হাজার নদী, বাইরে বৃষ্টি পড়ে
চৌ’দিক থেকে বান ছুটে এসে ভাংছে আমার ঘর দুয়ার
বলতে বাঁধছে তবুও বলে যাই তোমাকে বড্ড দরকার
বাইরে খুব মেঘ করেছে বৃষ্টি নামবে চারধার
এমন দিনে শুধু বলা যায় তোমাকে বড্ড দরকার।
বাইরে খুব মেঘ করেছে...
হঠাৎ খুব মেঘ করেছে...



http://www.mediafire.com/?e0yzj2fjtnl
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মে, ২০১০ রাত ১২:৪০
২৩টি মন্তব্য ২৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×