somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

তারেক_মাহমুদ
আমি লেখক নই, মাঝে মাঝে নিজের মনের ভাবনাগুলো লিখতে ভাল লাগে। যা মনে আসে তাই লিখি,নিজের ভাললাগার জন্য লিখি। বর্তমানের এই ভাবনাগুলোর সাথে ভবিষ্যতের আমাকে মেলানোর জন্যই এই টুকটাক লেখালেখি।

আজ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শুভ জন্মদিন :ভাল থেকো আমার প্রাণের রাবি

০৬ ই জুলাই, ২০১৮ সকাল ১১:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ ৬৬ বছরে পদার্পণ করলো আমাদের প্রাণের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। রাবির প্রাক্তনিদের জন্য এটা সত্যি একটি আবেগঘন দিন। রাবির সূবর্ণ জয়ন্তীর সময় আমরা যখন রাবির ছাত্র, তখন সেই অনুষ্ঠানে আগত বড় ভাইবোনেদের দেখেছিলাম আবেগ আপ্লুত হতে। আজ একজন প্রাক্তন ছাত্র হিসাবে উনাদের মত আমিও আবেগে আপ্লুত। দশ বছর পার হয়ে গেছে রাবি ছেড়ে এসেছি কিন্তু এখনো প্রতিটি স্মৃতিই জীবন্ত।

আজও মনে পড়ে সেই গ্লাসভাঙা মুড়ির টিনমার্কা রাবির বাসে করে ক্যাম্পাসে যাওয়ার দিনগুলো। গাড়ির ড্রাইভার মামাকে আমরা পাইলট মামা বলতাম, সেই মুড়ির টিন মার্কা বাসে উঠতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করতাম। বিশাল ক্যাম্পাসে কত্ত ভাল লাগা,কত্ত বন্ধু।ক্লাশ শেষ মানেই আড্ডাবাজি, সেই স্টেডিয়ামের পাশে সিলসিলা রেস্তোরা কিংবা ক্যাফেটেরিয়ায় বসে চা সিংগাড়ার সাথে আড্ডাবাজি। কখনোবা বাবলা তলায় ঘাসের উপর বসে সবাই মিলে কোন জনপ্রিয় গানে গলা মেলানো। এ যেনো আমাদেরই রাজ্য এখানে সবাই আমরা এক একজন রাজা।

সেই জিয়া হলের কথা আজ সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে। হলের ডাইনিং এর ম্যানেজারের কাছে ১০ টাকা দিলে একটা কেরামবোর্ডের গুটির ন্যায় টিকিট পাওয়া যেতো, সেই টিকিট দিলেই পাওয়া যেতো একটা তরকারির বাটি। সাথে ভাত এবং ডাল ইচ্ছামত। পৃথিবীর সবচেয়ে সস্তা এবং নিন্মমানের খাবার বোধহয় এটাই। কিন্তু তখন ঐ খাবার খুব বেশি খারাপ লাগতো না। মিরাজ নামের এক ডাইনিং কর্মচারীর মামা সাথে খুব ভাব ছিল আমার, যেতে দেরি হলেও আমার জন্য খাবার রেখে দিতো।

বিকেলের রাবি সত্যি অসাধারণ, কেউবা বন্ধুদের নিয়ে লাইব্রেরীর পাশে গ্রুপ স্টাডিতে ব্যস্ত আবার কেউবা রাকসু ভবনে গান নাটক, কবিতা আবৃতির মহড়ায় ব্যস্ত। কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে চলতো সাংস্কৃতিক অনুষ্টান,ওদিকে স্টেডিয়াম কিংবা জিয়া হলের মাঠে চলতো ক্রিকেট খেলা। অনেকেই পশ্চিম পাড়ায়(মেয়েদের হলের সামনে) গার্ল ফ্রেন্ড কিংবা মেয়ে বন্ধুদের সাথে খোশ গল্পে ব্যস্ত থাকতো এসময়।

এরপর সন্ধ্যা নামলে মেয়েরা হলে ফিরে যেতো, কারণ সন্ধ্যার পরে মেয়েদের বাইরে থাকা নিষেধ ছিল। আমরা ওদের ক্ষাপাতাম
'বেলা গেল হাস মুরগি ঘরে তোল '

এরপর ফিরে আসা হলের দিকে, নিজের হলের সামনে অথবা বন্ধুদের হলের সামনে আবার জম্পেশ আড্ডা। আর পড়াশুনা?ওটা রাত
এগারোটার পর। এবাবেই কেটে যেতো রাবির দিনগুলো।

রাবিকে নিয়ে লিখতে হাজার হাজার পৃষ্টা শেষ হবে। ইদানীং পত্রিকার পাতায় যখন দেখি রাবির সাধারণ ছাত্রদের উপর কিছু ছাত্রনামধারী গুন্ডা হাতুড়ি নিয়ে হামলা চালায়,শিক্ষকরাও রেহায় পায় না এদের হাত থেকে। আমাদের সময়ও ধর্মীয় লেবাসে এসব গুন্ডারা ছাত্রদের রগ কাটতো আজ সরকারি লেবাসে ওরা একই কাজ করছে। সত্যি রাবির এসব খারাপ খবর দেখলে মন খারাপ হয়ে যায়।

আজ রাবির শুভ জন্মদিন, ভাল থেকো আমার প্রাণের রাবি।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার রাবি

রাবির স্টেডিয়াম


প্যারিস রোড


রাবির প্রবেশ পথ

জোহা স্যারের স্মৃতি স্তম্ভ


গোল্ডেন জুবিলী টাওয়ার, যেটি নির্মাণের সময় শিল্পি মৃণাল হকের পাশে দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে দেখেছিলাম

রাবির স্কাই ভিউ

মেয়েদের হলের সামনের রাস্তা

রাবির কেন্দ্রীয় মসজিদ



সেই মুড়ির টিনমার্কা বাসগুলি

রাবির সেই বদ্ধভুমি যেখানে পাক হানাদারেরা পুতে রেখেছিল রাবির শিক্ষকসহ অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধাদের

সৈয়দ আমীর হলের ভিতরের অংশটি খুবই অসাধারণ


রাবির ভিতর দিয়ে যাওয়া রেললাইন

রাবির প্রসাশনিক ভবন ১

কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার


চারুকলার ছাত্রদের তৈরি ভাষ্কর্য

রাবির কয়েকজন গর্বিত ছাত্রছাত্রী

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৪:১৯
২৯টি মন্তব্য ৩০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ পিতা তোমার জন্মদিনে জানাই শুভেচ্ছা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:৩৬


কার ডাকেতে টগবগিয়ে ফুটলো বাংলাদেশ
কার ডাকেতে বিজয় ছিনিয়ে  মুক্ত হলো স্বদেশ?

কার ডাকেতে সমবেত হয়েছিলো দীপ্ত তরুণেরা,
কার ডাকেতে দ্বিধা ভূলে একত্রিত  তারা?

কার ডাকেতে অসাম্প্রদায়িক হলো আমার প্রিয় দেশ
কার ডাকেতে স্বপ্ন... ...বাকিটুকু পড়ুন

তিনি বাংলাদেশী জাতির জনক

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



বঙ্গবন্ধৃ শেখ মজিবুর রহমানকে জাতির পিতা মানে বাংলাদেশী নাগরিকগণের একাংশ। ১৯৭১ সালের পূর্বে বাংলাদেশী নামে কোন জাতি ছিল না। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের নাগরিকগণের একাংশ পশ্চিম... ...বাকিটুকু পড়ুন

জামায়াতের পরিচয়হীনতার আদর্শ ও তার ধারক-বাহক ২.০ রাজাকার প্রজন্ম

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:০৩

৭১ পরবর্তী জামায়াতী রাজাকারদের ২.০ প্রজন্মের শাবকেরা যারা ৭১ এর মুক্তিসংগ্রাম নিয়ে সন্দেহ পোষন করে, যারা সেই মুক্তিসংগ্রামে ভারতীয় ষড়যন্ত্র খোঁজে তাদের অবস্থা ওইরকম সন্তানদের মতোই যারা নির্দ্বিধায় তাদের বাবাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইউনূস স্যার ক্ষমতায় থাকলে রোহিঙ্গারা এই বছর ঈদ করত মিয়ানমারে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:০৭


সেদিন উখিয়ার তপ্ত বালুর ওপর দাঁড়িয়ে প্রফেসর ইউনূস যখন চট্টগ্রামের আঞ্চলিক টানে ঘোষণা করলেন—"তোয়ারা আগামী ইঁদত নিজর দেশত ফিরি যাইবা", তখন মনে হচ্ছিল মুহূর্তের জন্য পুরো বিশ্বটা বুঝি স্ট্যাচু... ...বাকিটুকু পড়ুন

হেল্প পোস্ট : বারডেম হাসপাতালে পরিচিত কেউ কি আছেন?

লিখেছেন ডার্ক ম্যান, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৫৮

আমার এক পরিচিত মানুষ অসুস্থ। বারডেম হাসপাতালে তিনি চিকিৎসা নিতে চাচ্ছেন। চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে হেল্প করতে পারবেন এমন কোন ব্লগার বন্ধু কি আছেন। যদি কেউ হেল্প করতে পারেন, তাহলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×