পাড়ার লোকদের ডেকে একদিন ভোরে,
গেদু বলে যা ছিল সবই নিল চোরে।
সাধাসিধা প্যান্ট আর গেন্জি পরা,
আঁধারেতে চেহারাটা যায় না ধরা।
সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে চারিদিকে চায়,
আলমিরা সিন্দুক কোথা যদি পায়।
আলমিরা সিন্দুক কিছু নাই মোর,
তাই আমি ভাবি, দেখি কি করে সে চোর!
পাশের টেবিলে ছিল মোর হাত ঘড়ি,
চোর সেটা দেখিতেই নিল হাত ভরি।
এরপর চোখ দিল খাটের তলায়,
মোর দামী জুতোজোড়া রেখেছি সেথায়।
জুতোজোড়া পেয়ে সে পুটলিতে ভরে,
আর কিছু পায় কিনা সেই খোঁজ করে।
যা কিছু সম্পদ পেয়েছে সে ঘরে,
সবই নিয়েছে তার পুটলিতে ভরে।
সবশেষে সেই চোর গেল দরজায়,
যাওয়ার আগে ফের চারিদিকে চায়।
ধীরে ধীরে দরজাটা খুলল সে চোর,
খুলে আর দেরি নয় দিল এক দৌড়।
তখন আমি শুধু বসে বসে ভাবি,
এইরূপ সম্পদ আর কোথা পাবি!
বৃথা কেন চোরটাকে দিলাম ছাড়ি,
ডান্ডা দিয়ে যদি দিতাম বাড়ি!
আমিইবা শক্তিতে কম কিসে তার,
আমাকে মেরে কি কেউ পায় কভু পার!
যদি আমি উঠে গিয়ে তাকে মারতাম,
এক ঘুষিতেই ব্যাটা ভুলে যেত নাম।
তবু আমি কোন দুঃখে শুয়ে বিছানায়,
হা করে দেখেছি শুধু চোরটা পালায়।
লোকজন কথা শুনে বলে, ওরে বোকা
এত বড় হলি তবু রয়ে গেলি খোকা।
নিজের দোষ তুই চাপাবি কার ঘাড়ে?
কথায় বলে, চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে।
------------------------------------------------------
(পাঠকদের বলে রাখি, আমি কোন কবি বা লেখক নই। লেখাঝোঁকা আমি শখের বশেও করি না, করি ঝোঁকের বশে! ২০০২ সালে মহসিন কলেজের একাদশ শ্রেণীতে অধ্যয়নকালীন কলেজ বার্ষিকীতে প্রকাশের জন্য ১টি কবিতা, ১টি রম্য গল্প এবং ১টি প্রবন্ধ লিখেছিলাম নিতান্তই ঝোঁকের বশে। সেখান থেকেই কবিতাটি বন্ধুদের জন্য। লেখাটা যেহেতু ৫ বছর আগের এবং আমি অনেক অপরিপক্ব ছিলাম, আশা করি পাঠকরা সেভাবেই এটাকে বিবেচনা করবেন।)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

