সারা সকাল কটকা পয়েন্টে ঘুরাঘুরি করে দুপুর নাগাদ আমরা হিরণ পয়েন্টের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। এরমধ্যে চলছে খাওয়া দাওয়া, গল্প, গান বিভিন্ন কর্মকান্ড। আমাদের সাথে থাকা বয়ষ্ক বণরক্ষীকে প্রশ্ন করলাম শেষ কবে বাঘ দেখেছেন তার উত্তর ছিল " তিন বছর ধরে মামাকে (বাঘ) দেখেন না"।
হিরণ পয়েন্টের কাছাকাছি একটা খালের ভিতর আমরা ঢুকলাম, যখন ঢুকলাম তখন আমি থ' খেয়ে গেলাম আমাদের সবার অবস্থা দেখে। একটু আগেও আমি চিন্তা করছিলাম সবাই যদি চুপ থাকত তাহলে আরো ভাল লাগত, কিন্তু কেউ চুপ হচ্ছে না, কিন্তু যেই মাত্র খালে প্রবেশ করলাম তখন শুধুমাত্র ক্যামেরার ক্লিক ছাড়া আর কোন শব্দ পেলাম না। কাউকে বলে দিতে হলোনা চুপ হওয়ার জন্য, কোন এক যাদুর ছোয়ায় সবাই চুপ হয়ে সুন্দরবনের রুপ দেখতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। আমরা ভাটার করনে বেশীদুর যেতে পারিনি তাই একটা হতাশা ছিল সবার মধ্যে। সবার অনুরোধে আমাদের লঞ্চটি পারের কাছাকাছি নিয়ে যাওয় হলো, লঞ্চের লোকজন ও বনরক্ষী নিচে নামতে নিষেধ করলেন, কারন প্রচন্ড কাদা, নামলে প্রায় হাটু পর্যন্ত কাদায় তলিয়ে যাবে। কিন্তু আইয়ুব ভাই এই কথা কানে নেন নাই এবং বলে উঠলেন সুন্দরবন এলাম আর আমার পায়ের চিন্হ থাকবে না তা কি হয়? যেই কথা সেই কাজ, তিনি লাফ দিয়ে নেমে পড়লেন এবং হাটু পর্যন্ত কাদার নিচে। কয়েকজন মিলে তাকে টেনে তুললাম। অদ্ভুৎ মজার লোক ছিলেন আইয়ুব ভাই, সব সময় কিছু না কিছু করে সবাই কে মাতিয়ে রাখতেন। সুন্দরবন থেকে ফিরার কিছুদিন পর র্হাট এ্যাটক এ মারা জান আইয়ুব ভাই।
প্রায় সন্ধ্যা নাগাদ আমরা হিরণ পয়েন্টে পৌছাই, সেদিন আবার আমাদের এক বন্ধুর বিবাহ বার্ষিকী। তারা আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন যে সুন্দরবনে তারা তাদের বিবাহ বার্ষিকী উৎজাপন করবেন এবং ঐ অনুযায়ী তারা তাদের সাথে করে মিষ্টি জাতীয় খাদ্য ও ফল নিয়ে এসেছিলেন। হিরণ পয়েন্টের রেষ্ট হাউজে আমরা কিছুক্ষনের বিরতি নেই এবং বিবাহ বার্ষিকী উৎজাপন করি। সব কিছু করে আমরা সন্ধ্যা পর হিরণ পয়েন্ট থেকে মঙ্গলার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই। কিছুদুর আসার পর হঠাৎ করে লঞ্চের চালক ও বণরক্ষীরা আমারদের আয়োজকদের ডেকে পাঠান। আমরা দেরী না করে তারাতারি তাদের সাথে দেখা করি। তখন তার আমাদের বলেন যে আমাদের পিছে ডাকাতের নৌকা পিছু নিচ্ছে এবং তারা প্রায় আধা মাইল পিছনে আছে। তখন আমরা তাদের বললাম আরো জোরে লঞ্চ চালানোর জন্য, আর ঐদিকে, মানে লঞ্চের ডেকে পুরোদমে চলছে গান, আড্ডা, আরো কতকিছু। আমরা কাউকে কিছু বুজতে দেই নাই, সময়ের কিছু আগে সবাইকে রাতের খাবার খেয়ে নিতে বললাম, এবং খাওয়া শেষে সবাই আবার আগের মতই আনন্দে মেতে উঠল। আর এইদিকে আমাদের টেনশন ডাকাত না আমাদের ধরে ফেলে, অবশেষে আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা নিরাপদেই নির্ধারিত সময়ের আগেই রাত ১২.৩০ মিনিতে মঙ্গলায় এসে পৌছাই। রাতে আমরা সবাই লঞ্চে ঘুমাই এবং প্ল্যান মত সকাল ৮টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হব।
সকালে ঘুম থেকে উঠে শুনি মঙ্গলা ফেরীঘাটে গন্ডগলের জন্য আমাদের নির্ধারিত বাস ঘাটে আসতে পারেনি। শুরু হলো আরএক নতুন টেনশন, বাস কি ভাবে ম্যানেজ করা যায়, কখন রওয়ানা দিব এইসব, তো আমরা সবাই কে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মঙ্গলা ঘুরে দেখতে বলে বাস খোজা শুরু করলাম এবং পেয়েও গেলাম খুব তাড়াতাড়ি, তবে আমাদের বাগেরহাট হয়ে মাওয়া ঘাট দিয়ে ঘুরে ঢাকা ঢুকতে হবে। আমরা তাতেই রাজি হয়ে গেলাম। দুপুরের খাওয়া দাওয়া সেরে আমরা দুপুর ২.৩০শে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম এবং রাত ২.৩০মি. এ ঢাকা এসে পৌছাই।
আল্লাহর কাছে অশেষ শুকরিয়া যে আমরা সবাই নিরাপদে ঢাকাই এসে পৌছাই।
আমরা এখনো এখানে সেখানে ঘুরতে যাই কিন্তু ঐ রকম মজা আর পাই না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


